শিরোনাম
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
নৈয়ায়িক জাতীয় বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন যবিপ্রবি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ডিবেটিং ক্লাব নৈয়ায়িক আয়োজিত দুই দিনব্যাপী জাতীয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ‘চতুর্থ নৈয়ায়িক ন্যাশনালস্ ২০২৫’ এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ডিবেটিং ক্লাব।
শনিবার (২৩ আগস্ট) প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ডে যবিপ্রবির দল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) ডিবেটিং ক্লাবকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।
আয়োজক সূত্র জানায়, এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮টি দল অংশ নেয়।সেখান থেকে সেরা দল হিসাবে কোয়ারর্টার ফাইনাল থেকে সেমি ফাইনাল ও সেমিফাইনাল থেকে ফাইনালে যায় যবিপ্রবি।
ফাইনাল পর্বের বিতর্কের বিষয় ছিল ‘এই সংসদ, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন ভঙ্গের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের চাইতে রাজনৈতিক দলগুলোকে বেশি দায়ী মনে করে।’
প্রস্তাবনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে যুক্তিতর্কেরলড়াইয়ে যবিপ্রবি ডিবেটিং ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হয়।চ্যাম্পিয়ন দলে ছিলেন নাঈম জামান, শাহরিয়ার কবির ও আসিফ আলভি। ডিবেটর অব ফাইনাল নির্বাচিত হন বিইউপি ডিবেটিং ক্লাবের লিমন।প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হন রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ডিবেট ফোরামের ফাহিম।
প্রতিযোগিতা শেষে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম।
এ সময় তিনি বলেন, বিতর্ক হচ্ছে আত্ম-উন্নয়নের এক উৎকৃষ্ট ক্ষেত্র। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিবেটিং ক্লাবে যুক্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বহুমাত্রিকভাবে দক্ষ করে তুলতে পারে। এটি শুধু একাডেমিক ক্ষেত্রেই নয়, ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনেও তাদের জন্য মূল্যবান অভিজ্ঞতা তৈরি করে। নৈয়ায়িকের এ আয়োজন প্রাণবন্ত এবং অনুপ্রেরণাদায়ী হয়েছে।
বিতর্ক চর্চার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রস্তুত করছে- এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক, কবি ও সাংবাদিক আব্দুল হাই শিকদার।
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশ গঠনে তরুণ বিতার্কিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করতে পারে।
মুক্তচিন্তার আলোচনার মধ্য দিয়েই আগামী দিনের শ্রেষ্ঠ নাগরিক তৈরি হবে। এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তিনি জুলাই আন্দোলনে শহিদ মীর মুগ্ধ, আবু সাঈদ, আনাছসহ সকল শহিদকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ খান, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত ও টিআইবির ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর জাফর সাদিক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নৈয়ায়িক সভাপতি হিজবুল্লাহ তামিম। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক খালিদ হোসেন। এ সময় অংশগ্রহণকারী দলের প্রতিনিধি, প্রতিযোগিতার বিচারক ও নৈয়ায়িকের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দায়সারাভাবে ‘জুলাই দিবস’ পালন গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের, ক্ষোভ প্রকাশ শিক্ষার্থীদের
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ দায়সারা কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করেছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) প্রশাসন। এতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
গতকাল মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে রচনা প্রতিযোগিতা, কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল, কেন্দ্রীয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা এবং বিকেলে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। তবে এই সাধারণ আয়োজনেও মসজিদে দোয়া শেষে তাবারক না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থী ফিরে যান। অন্যান্য সাধারণ দিবসের মতোই ছিল ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের’ আয়োজন। ছিল না কোনো আকর্ষণীয় বা স্বতঃস্ফূর্ত কর্মসূচি। এছাড়াও ছিল না কোনো ভোজ, আনন্দ র্যালি বা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী।
যেখানে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আনন্দ র্যালি, ভোজ, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, ‘জুলাই কর্ণধার’ উদ্বোধন, ‘রিমেম্বারিং জুলাই আন্দোলন’সহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে, সেখানে গোবিপ্রবি প্রশাসন ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও সমন্বয়ক মোহাম্মদ হাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন,“জুলাইকে পকেটে ভরেছে এই ধইঞ্চা প্রশাসন!! প্রশাসনে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু সৎ প্রশাসক ও শিক্ষক থাকলেও তাঁরা এই ভাই কোরামের জন্য কাজ করতে পারছেন না। আলোচনা সভা আর দোয়া দিয়েই জুলাই বিপ্লব উদযাপন শেষ করেছে প্রশাসন। অথচ এই জুলাই আন্দোলন গোবিপ্রবির ১০ হাজার শিক্ষার্থীর। অনেক ঘাম, রক্ত, সময় আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই বিপ্লব গোপালগঞ্জে এবং সারা বাংলাদেশে সংগঠিত হয়েছে।
এই প্রশাসনকে আমি ‘ধইঞ্চা’ বলছি, কারণ উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা এখানে চামড়াহীন, মেরুদণ্ডহীন কিছু শিক্ষকের সিন্ডিকেট থেকে বের হয়ে বড় পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারেননি। এই শিক্ষকরা আবার নিজেদের পদ টিকিয়ে রাখতে কথিত কিছু তেলবাজ নেতাদের হাতের মুঠোয় রেখে দেন—যাদের মাধ্যমে নৈতিক ও যুক্তিসংগত আন্দোলনগুলোকেও দমন করা হয় গভীর রাতের ‘পকেট চাঙ্গা’র মাধ্যমে। অবশ্যই কিছু পরিশ্রমী ও ত্যাগী নেতাও আছেন, তবে তাঁরা মাঝেমধ্যে উপেক্ষিত হন এবং পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয় তাঁদের। অথচ এই বিপ্লব সবার। একজন রাজনৈতিক ছাত্রনেতার মতো একজন সাধারণ শিক্ষার্থীরও সমান প্রাধান্য পাওয়া উচিত, কারণ এই আন্দোলনে সবাই অংশ নিয়েছে।
এই শিক্ষকরা আবার ঐসব তেলবাজ নেতাদের ‘আব্বা’ ডাকতেও দ্বিধা করেন না, কারণ তাঁরা নিজেদের মেরুদণ্ডহীনতা প্রকাশ করতে চান না। জুলাই বিপ্লবের সময় তাঁরা ছাত্রদের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেননি বা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেননি! অথচ এখন তাঁরা পদ আর সুবিধা রক্ষার্থে ভিসি-প্রোভিসিদের পা চাটতেও দ্বিধা করেন না।”
তিনি আরও লেখেন,“এই জুলাই বিপ্লবকে প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা যেত। আয়োজন করা যেত বড় পরিসরের একটি ফেস্ট—যেখানে স্টুডেন্ট টোকেন মানি সিস্টেম চালু করা যেত। প্রতিটি বিভাগের চেয়ারম্যানরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে র্যালিতে অংশগ্রহণ করতে পারতেন। কিন্তু এই ধইঞ্চা প্রশাসন চামড়াহীন, মেরুদণ্ডহীন কিছু শিক্ষকের সিন্ডিকেট থেকে বের হতে পারেনি। বাঁচুক জুলাই, বাঁচুক প্রিয় গোবিপ্রবি।”
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জুলাই ছাত্র আন্দোলন’-এ সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী সমন্বয়ক আল মাহমুদ বলেন,“আমি আলোচনা সভায় বলেছিলাম—আজ আমাদের একটি বড় স্থানে অনুষ্ঠান আয়োজন করার কথা ছিল, যেখানে সকলে অংশ নিতে পারতো। কিন্তু দেখা গেল অনেকেই আসনের অভাবে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান শুনেছে। এই দিনটি প্রশাসন চাইলে আরও জাঁকজমকভাবে উদযাপন করতে পারতো। দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়েই ফেস্ট হয়েছে, কিন্তু আমাদের শিক্ষার্থীদের চাওয়া থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন,“কিছুদিন আগে কালার ফেস্ট হয়েছিল, সেখানে অনেক ঝামেলা হয়েছে ও মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। সাম্প্রতিক এমন ঘটনার পর আমরা আর ঝুঁকি নিতে চাইনি।”
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে পাবিপ্রবিতে বিজয় র্যালি অনুষ্ঠিত
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিজয় র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়ালের নেতৃত্বে প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি বিজয় র্যালি বের হয়। বিজয় র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অতিক্রম করে কনভেনশন হলে গিয়ে শেষ হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: নজরুল ইসলাম, কোষাধক্ষ্য অধ্যাপক ড. মো: শামীম আহসান, রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম ও জুলাই অভ্যুত্থান বর্ষপূর্তির বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. মো: কামরুজ্জামান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
বিজয় র্যালিতে শিক্ষার্থীরা জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন শ্লোগান দেন। এসময় শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ভেসে ওঠে- ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই, ওবায়দুল কাদেরের ফাঁসি চাই, সাদ্দামের ফাঁসি চাই, ইনানের ফাঁসি চাই। এছাড়াও বিজয় র্যালিতে শিক্ষার্থীরা, কথায় কথায় বাংলা ছাড়, বাংলা কি তোর বাপ দাদার? পালাইছে রে পালাইছে, খুনি হাসিনা পালাইছে ইত্যাদি শ্লোগান দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল বলেন, আপনারা সবাই জানেন জুলাই আগস্টের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাসব্যাপী নানান কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজকে আমাদের প্রথমেই ছিল বিজয় র্যালি, এরপরে আছে শিশুদের নিয়ে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, তারপরে আলোচনা সভা এবং সবশেষে সংস্কৃতি অনুষ্ঠান।
এসময় তিনি আরো বলেন, আপনারা জানেন গতবছরের এই দিনে স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পলানের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছিল। সেই যাত্রাকে আমরা অব্যাহত রাখার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি একটি সমৃদ্ধশালী ও কর্মমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের ছেলে- মেয়েরা যারা বিগত দিনগুলোতে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে তারা ভবিষ্যতেও বাংলাদেশকে একটি উৎপাদনশীল রাষ্ট্র হিসেবে গঠনে সর্বদা ভুমিকা রাখবে।
পাবিপ্রবিতে বিয়ের প্রলোভনে ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কার
যৌন হয়রানির অভিযোগে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) এক শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঐ শিক্ষকের নাম সুব্রত কুমার বিশ্বাস। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গত ২৬ জুলাই (শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম রিজেন্ট বোর্ডে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে আজ জানা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুব্রত কুমার বিশ্বাসের সাথে সমাজকর্ম বিভাগের স্নাতোকোত্তরের এক ছাত্রীর সাথে দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এক পর্যায়ে বিয়ের আশ্বাসে তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। কিন্তু পরবর্তীতে সুব্রত ঐ ছাত্রীকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর সুব্রত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঐ ছাত্রী বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে যৌন হয়রানির অভিযোগ দেন। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে এ অভিযোগ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। সেই কমিটি ৯ অক্টোবর ঐ শিক্ষককে সকল একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে রেজিস্ট্রারের কাছে চিঠি দেন।
এরপর এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল উচ্চতর তদন্ত করেন। তদন্তে তারা এ অভিযোগের সত্যতা পান। এরপর তারা ‘উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন বিরোধ নীতিমাল, ২০০৮’ অনুযায়ী সুব্রত কুমার বিশ্বাসকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করেন।
এ বিষয়ে জানার জন্য সুব্রত কুমার বিশ্বাসের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আবদুল আওয়াল বলেন, ‘রিজেন্ট বোর্ডে এক জন শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বহিষ্কারের যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটা আইন অনুযায়ী হয়েছে।’
গোবিপ্রবিতে মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) অধ্যয়নরত মেধাবী ও অসচ্ছল ১,০৯১ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের মুক্তমঞ্চে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের আয়োজনে এ বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রত্যেক সেমিস্টারে প্রথম থেকে পঞ্চম মেধাক্রমে থাকা ৮০০ জন শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি এবং ২৯১ জন অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমউদ্দীন খান। তিনি বলেন, “মেধার স্বীকৃতি দিতে পারায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যে বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত, তার অনেকটাই অনুপস্থিত। অতীতে ব্যক্তিস্বার্থে পরিচালিত কর্মকাণ্ডেই আজকের সংকট তৈরি হয়েছে। ইউজিসি চেষ্টা করছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন প্রকৃত অর্থেই ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ হয়ে ওঠে। যাতে যোগ্য শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ পায়।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান প্রশাসনের প্রতি আমার প্রত্যাশা থাকবে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় নিয়ে যাবে। ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাদ দিয়ে নতুন জ্ঞান সৃষ্টির দিকে মনোযোগী হতে হবে। আমরা হাজারো লাশের ভার বহন করছি—এই বাস্তবতা ভুলে গেলে চলবে না।”
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, “আমরা পাহাড়সম সমস্যা থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি। আজ ২১ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হলো। এর আগে ভাইস-চ্যান্সেলর’স অ্যাওয়ার্ডে ১০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। স্বনির্ভর কর্মসূচিতে ১০০ শিক্ষার্থী যুক্ত রয়েছে, যেখানে প্রতি মাসে দুই লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।”
তিনি ইউজিসির সদস্য ড. তানজিমউদ্দীন খানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের দুটি বিভাগ ‘হিট প্রজেক্ট’ প্রাপ্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন, অডিটোরিয়াম নির্মাণ ও সড়ক উন্নয়নে সহায়তা করলে বিশ্ববিদ্যালয়টি বি-গ্রেড থেকে এ-গ্রেডে উন্নীত হবে।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাইয়ের শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে অতিথিদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য