শিরোনাম
মাভাবিপ্রবিতে 'মার্চ ফর মাকসু' কর্মসূচি
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
আজ সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ারুল আজীম আখন্দ বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের বছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। এটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি চরম অবহেলা এবং শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষার প্রতি অবজ্ঞা।”
শিক্ষার্থীরা তাদের তিন দফা দাবি তুলে ধরেন:
১. বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জন্য একটি স্বচ্ছ গঠনতন্ত্র প্রণয়ন।
২. একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রকাশ।
৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন।
পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তুষার আহমেদ বলেন, "মাকসু আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, আমরা যে কোনো মূল্যে আমাদের অধিকার আদায়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রশাসনকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখার জন্যে ছাত্র সংসদের বিকল্প কিছু নেই এই মুহূর্তে। আমরা এই বিষয়ে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করছি। প্রয়োজনে আমরা যেকোনো উপায়ে আমাদের অধিকার আদায় করে নিবো।"
আইসিটি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র শিক্ষালাভের স্থান নয়—বরং তা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলারও ভিত্তি হিসাবে কাজ করে।ক্যাম্পাসের নেতৃত্ব ও গণতন্ত্র বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমগুলির মধ্যে একটি হল ’ছাত্র সংসদ’। শিক্ষার্থীদের দ্বারা নির্বাচিত এই সংসদ তরুণদের জন্য একটি কণ্ঠস্বর এবং একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে, যেখানে তারা তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারে।
সর্বপরি ছাত্র সংসদ হল প্রতিটি শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ বিকাশের একটি সহযোগী মঞ্চ যা শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের কথা বলে, ন্যায্য আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নির্ধারনে রাখে সক্রিয় ভূমিকা। তাই প্রসাশনের কাছে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।"
সিপিএস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী আক্তারুজ্জামান সাজু বলেন, "গণঅভ্যুত্থানের বছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠার কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি, কার্যত তারা গণঅভ্যুত্থানরে আকাঙ্খা কে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়েছে যা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমরা আজকে " জুলাইয়ে ইশতেহার, মাকসু আমার অধিকার " স্লোগানে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠার দাবিতে স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। আমরা বলেছি আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করে। অন্যাথায় আমরা কঠোর কর্মসূচি দিব।"
উল্লেখ্য, এ কর্মসূচির আয়োজন করে মাভাবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ।
পবিপ্রবিতে আবারও শ্রমিকের মৃত্যু: প্রশাসনের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতা
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) আবারও নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত শ্রমিকের নাম তানজিল (২০)। শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে শিক্ষক ডরমিটরি ভবনে কাজ করার সময় তিনি পড়ে যান।
এক মাসের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় শ্রমিক মৃত্যু। গত এক বছরে প্রাণ গেছে তিনজনের। কিন্তু তারপরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
নির্মাণস্থলে শ্রমিকদের কোনো সেফটি গিয়ার দেওয়া হচ্ছে না। শিশু শ্রমিক দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো, মাদক সেবন ও মারামারির মতো ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন চুপ। প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা বারবার দায় চাপাচ্ছেন ঠিকাদারের ওপর। নিহতের পরিবারকে সামান্য টাকা দিয়ে চুপ করানোর চেষ্টা, মামলা না করতে চাপ—এসব যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
এই বিষয় নিয়ে আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের ৭ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী নুরুন্নবী সোহান বলেন, পবিপ্রবিতে একের পর এক শ্রমিক দুর্ঘটনায় নিহত হচ্ছেন, কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। সেফটি ব্যবস্থার অভাবে জীবন ঝুঁকিতে কাজ করছেন শ্রমজীবীরা। অথচ সরকারি গেজেট অনুযায়ী জুলাই বিপ্লবে শহীদ ৮৪৪ জনের মধ্যে ২৮৪ জনই ছিলেন শ্রমজীবী মানুষ। এই অবদান সত্ত্বেও তাদের প্রতি অবহেলা নির্মম ও অমানবিক। তাদের অধিকারের কথা বা ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবি কেউ তোলে না। অবিলম্বে শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ ও নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
অপর এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিবার কেউ মারা যায়, কিছু টাকা দেওয়া হয়, তারপর সব আগের মতো চলতে থাকে। এটা কি কোনো সমাধান?” ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ঠিকাদার আমীর বিল্ডার্স-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. দোয়েল হক বলেন,“শ্রমিকেরা তো বাড়ি থেকে মাদক নিয়ে আসে না। তারা এখান থেকেই কোথাও না কোথাও থেকে তা সংগ্রহ করে। এ বিষয়ে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম রয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সার্বক্ষণিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছি।”
প্রকৌশল বিভাগের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার মো. ইউনুস শরীফ বলেন, “নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে আমরা বারবার বলেছি।”
প্রকল্প পরিচালক মো. ওবায়দুল ইসলাম জানান, “নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম এ বিষয় বলেন, "আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছি, এবং আমাদের পিডি (প্রকল্প পরিচালক) এ বিষয়ে কাজ করছেন। পূর্বেও নিরাপত্তা নিশ্চিতে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।" কেন পূর্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি—জানতে চাইলে তিনি বলেন, " আমরা চাইলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কিছু করতে পারি না, এটা আমাদের আইনের মধ্যে নেই। " শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানে না—এটা কি বিশ্ববিদ্যালয়ের গাফিলতি বা দুর্বলতা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এটা আমাদের বিষয় নয়, এটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।"
জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে মাভাবিপ্রবিতে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত
টাংগাইলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) "জুলাই শহিদ দিবস" উপলক্ষে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ১৬ জুলাই (বুধবার) ২০২৫ইং সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সেমিনার কক্ষে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ। বক্তব্যে তিনি বলেন , "আমরা আজ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি সেইসব শহীদদের, যারা এক অন্যায়-অবিচার আর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে গিয়ে জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ আজও আমাদের জাতীয় বিবেককে নাড়া দেয়, আমাদের দায়িত্বশীলতা স্মরণ করিয়ে দেয়। শিক্ষাঙ্গন সবসময়ই ছিল প্রতিবাদ-প্রতিরোধ আর মুক্ত চিন্তার উৎসভূমি। আমাদের তরুণরাই বারবার প্রমাণ করেছে, অন্যায়ের কাছে মাথা নত নয় — বরং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার হওয়াই তাদের চেতনা। ২০২৪ সালের সেই আন্দোলনে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল, যা আমাদের গৌরবময় ইতিহাসের অংশ। আমরা তাঁদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।"
মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন বলেন, " শিক্ষাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছিল বিগত সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে জোর করে মিছিলে নিয়ে যেতো। সারারাত গেস্ট রুমে দাঁড় করিয়ে রাখতো। বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পরিবেশ আমাদের দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় না এবং পরিবেশও নেই। শিক্ষার বাজেট কমিয়ে দিলেও কোন ছাত্র, শিক্ষক ও ভাইস-চ্যান্সেলর কেউ কোন প্রতিবাদ করেনি। আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না। কারণ হলো সরকার তাদের পছন্দের ভিসি ও প্রো-ভিসি নিয়োগ দেন এবং তাদের মাধ্যমে তাদের পছন্দের ব্যক্তিকেই শিক্ষ নিয়োগ দেন। তাদের যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেয়া হয় না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আদর্শ বাস্তবায়ন হবে তখনই হবে যখন দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। স্বপ্নবাজ শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে তাহলেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উদ্দ্যেশ্য বাস্তবায়ন হবে।"
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুলাই শহিদ দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো. দেলোয়ার জাহান মলয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহিদ মারুফের মা, যিনি শহিদ পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর সন্তানের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, "আমার সন্তান যে উদ্দেশ্যে প্রাণ দিয়েছে সে উদ্দেশ্য যেন বাস্তবায়ন হয় সরকারের নিকট আমি সেই দাবি জানাচ্ছি।"
এছাড়া বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ মতিউর রহমান, বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ. কে.এম. মহিউদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ ইমাম হোসেন। আন্দোলনকারি ও আহত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মনিরুল ইসলাম ও আশরাফুল আলম হৃদয়। আলোচনা শেষে শহীদের মায়ের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আলোচনা সভার মূল উদ্দেশ্য হলো জুলাইয়ের শহিদদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা এবং নতুন প্রজন্মের সামনে তাঁদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরা, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেই আদর্শে অনুপ্রাণিত হতে পারে।
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
উৎসবমুখর পরিবেশে রাবিপ্রবি দিবস ২০২৫ উদযাপন
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৫’।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকাল ৯ টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে দিবসটি উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান। এসময় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় ও পায়রা উড়ানো হয়।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবার জন্য দোয়া করা হয়। দোয়া শেষে প্রশাসনিক ভবন-১ এর সম্মুখ থেকে আনন্দ র্যালী বের করা হয়। আনন্দ র্যালী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে প্রশাসনিক ভবন-১ এর সম্মুখে দিবসটি উপলক্ষে কেক কাটা হয়।
এসময় উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের স্লোগান ‘রাবিপ্রবি দিবসের অঙ্গীকার, সেশনজট মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আমার অধিকার। এসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে সেশনজট মুক্ত করতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীসহ সকলকে যথাযথভাবে কাজ করার আহবান জানান। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট নিরসনে, প্রয়োজনে আগামী তিন মাসে অতিরিক্ত ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু এই মুহূর্তে আমাদের শিক্ষক সংকট অনেকটাই নিরসন হয়েছে তাই আমরা আশা করছি বিশ্ববিদ্যালয় অতি দ্রুত সেশনজট মুক্ত হবে। তিনি সেশনজট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার মনস্তত্বে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার আহবান জানান।
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষ-২ এ ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, উচ্চ শিক্ষা বিষয়ক সেমিনার, মেমোরী শোকেজিং প্রতিযোগিতা ও স্পিরিট অব দ্য ডে অনুষ্ঠিত হয়।
দুপুরে একাডেমিক ভবন-১ এ বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পিঠা নিয়ে ফুড ফেসটিভ্যালের আয়োজন করা হয়। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
সবশেষে বিকেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরষ্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১’ (৩৯নং আইন, ১৫ জুলাই ২০০১ সাল) দ্বারা রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি একনেক সভায় রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুমোদন দেয় হয়। ২০১৫ সালের ৯ নভেম্বর ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়।
আন্তর্জাতিক সম্মেলনে স্বশরীরের নেই কোনো আন্তর্জাতিক বক্তা
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) ২৪ মে ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন (ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন টেক্সটাইল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং -ICTSE 2025) নিয়ে শিক্ষার্থী ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাশন ইনোভেশন ও টেকসই পোশাক উৎপাদন নিয়ে আলোচনা করা।
অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার Society of Fashion and Textile Industry-এর সভাপতি অধ্যাপক কিউ হি লি এবং Konkuk University-এর অধ্যাপক জুনসিয়োক কোহ।
এছাড়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (UGC) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম. এ ফায়েজ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম।
তবে, এই সম্মেলনে আন্তর্জাতিক বক্তাদের শারীরিক উপস্থিতি ছিল না। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে দুইজন অনলাইনে যুক্ত হলেও, সরাসরি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি অনেকের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে।
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (AIUB) থেকে আগত এক অংশগ্রহণকারী জানান, আন্তর্জাতিক কনফারেন্স কিন্তু আন্তর্জাতিক মান মনে হয়নি। সেশনগুলো ভালো হয়েছে, কিন্তু সরাসরি হলে আরও ইন্টারঅ্যাকটিভ হতে পারতো, আমাদের জন্য আরও ভালো হতো। এছাড়া ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টরা যদি থাকতো, তারা ইন্ডাস্ট্রিতে কিভাবে গবেষণা ও উন্নয়ন করছে তা আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারতো। অতিথি ও বিচারকদের ক্ষেত্রে এক্সটার্নাল এক্সপার্টদের আরও উপস্থিতি আশা করেছিলাম।
সম্মেলনের প্রচার-প্রচারণা যথাযথভাবে না হওয়ায় অনেক বুটেক্স শিক্ষার্থীই অনুষ্ঠান সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পোস্টার বা ব্যানারের অভাব এবং সামাজিক মাধ্যমে পর্যাপ্ত তথ্যের অনুপস্থিতি এই ঘাটতির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে নিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবকেরা পর্যাপ্ত নির্দেশনা ও সমন্বয়ের অভাবে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। তাদের মধ্যে অনুষ্ঠানের সম্পূর্ণ সময়সূচি এবং বিভিন্ন সেগমেন্টের স্থান নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা যায়। অনেক সময় দেখা গিয়েছে বিচারকরা চলে এসেছেন কিন্তু স্বেচ্ছাসেবকেরা পরে এসে উপস্থিত হয়েছেন।
আরও পড়ুন
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তাকেও এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি অনুষ্ঠানটির সময়সূচি বা বিস্তারিত কিছুই জানতেন না। জনসংযোগ কর্মকর্তার কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভেন্টগুলোর প্রচার, মিডিয়া সমন্বয়, এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক যোগাযোগ রক্ষা করা। তাকে অবহিত না করায় এই দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হয়নি।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী একজন শিক্ষার্থী বলেন, ICTSE-2024 ও ICTSE-2025 এর অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি এবারের সম্মেলনে আন্তর্জাতিক উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল, তবে এটা বড় সমস্যা মনে হয়নি। আমার মতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্টতা খুব কম ছিল, যেটা উদ্বেগের বিষয়। কারণ আমার নিজের কথা বলতে গেলে— আমি গতবার অংশগ্রহণকারী ছিলাম না, কিন্তু প্রোগ্রামে উপস্থিত ছিলাম। সেখান থেকেই আগ্রহ সৃষ্টি হয় এবং এবার কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করি। কিন্তু এবার দর্শকসারিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা নগণ্য ছিল, যার প্রভাব আগামী কনফারেন্সে দেখা যেতে পারে। আবার অনুষ্ঠানের সময়সূচি এবং স্থান কিছুটা অস্পষ্ট ছিল, যেমন একটা প্রোগ্রামে আমি অডিটোরিয়ামে গিয়ে বসেছিলাম কিন্তু পরে শুনি ওই সেগমেন্ট আরেক জায়গায় হচ্ছে। যারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন, তারাও সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন না। এছাড়া এবারের সম্মেলনে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা গিয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সম্মেলনের পরিচালনা কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান খান বলেন, এই ধরনের ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে আমরা প্রথম। যেহেতু আমাদের ফ্যাকাল্টির প্রথমবার আয়োজন, তাই নানা প্রতিবন্ধকতা পার করতে হয়েছে। সামনে অন্য ফ্যাকাল্টি আয়োজন করবে, আশা করি আরও ভালো করে আয়োজন করবে। তবে আমাদের পক্ষ থেকে আমরা চেষ্টা করেছি, সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
উল্লেখ্য, এবারের কনফারেন্সে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৬০টি গবেষণাপত্র জমা পড়ে, যার মধ্যে ৩৬টি পেপার প্রেজেন্টেশনের জন্য বাছাই করা হয়। গত কনফারেন্সে যার সংখ্যা ছিল প্রায় ১০০টি এবং এসব গবেষণাপত্র এসেছিল ১৮টি দেশ থেকে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য