শিরোনাম
১২ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি
কক্সবাজারের টেকনাফে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় আবারও বাংলাদেশি ১২ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ভোরে সেন্টমার্টিনের ছেড়াদিয়া এলাকার পূর্বদিকে দুটি পৃথক ট্রলার থেকে তাদের ধরে নিয়ে যায়।
আটক জেলেদের মধ্যে রয়েছেন—সেন্টমার্টিনের মো. কবির, আব্দুর রহমান, মো. লেডু মিয়া, মো. রমিস আহমদ, আব্দুর রশিদ, মো. জিয়াউর রহমান, আমানুল্লাহ, ওসমান, আবু তাহের, আব্দুল্লাহ এবং শাহপরীর দ্বীপের মো. আলম। বকি একজনের পরিচয় জানা যায়নি।
সেন্টমার্টিনের জেলে আব্দুল গফুর জানান, ভোরে নুর আহমেদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারালে আরাকান আর্মি ট্রলারটির ছয় জেলেকে ধরে নিয়ে যায়। একই সময় মো. ইলিয়াসের আরেকটি ট্রলার থেকেও ছয় জেলেকে তুলে নেয় সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহেসান উদ্দিন বলেন, ‘দুটি ট্রলারসহ ১২ জেলে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।’
তিনি বলেন, ‘মাছ ধরতে গিয়ে যেন কেউ সমুদ্রসীমা অতিক্রম না করে—সেবিষয়ে জেলেদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।’
নির্বাচন ঘিরে মাঠে থাকবে ৯ দিনের বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে ৯ দিনের জন্য বিশেষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী মাঠে নামবে। এর মধ্যে নির্বাচনের আগে পাঁচ দিন, নির্বাচনের একদিন এবং নির্বাচনের পরে তিন দিন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে। তবে দেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী এই সময়সীমা সমন্বয় করা হতে পারে।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুর ২টায় পটুয়াখালী সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন মাঠে আছেন সেনাবাহিনীর ৩০ হাজার সদস্য। নির্বাচনের সময় প্রায় এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন থাকবেন। বিজিবির সদস্য থাকবেন প্রায় ৩৫ হাজার, নৌবাহিনী পাঁচ হাজার, কোস্টগার্ড চার হাজার, র্যাব প্রায় আট হাজার এবং আনসার বাহিনীর সদস্য থাকবেন সাড়ে পাঁচ লাখের মতো। নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় আনসার এবার বড় ভূমিকা পালন করবে। তাদের জন্য অস্ত্র এবং বডি ক্যামেরাও সরবরাহ করা হবে।’
নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সন্দেহের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন খুবই শান্তিপূর্ণভাবে হবে, এ নিয়ে সন্দেহের কিছু নেই।’
সরকার পরিবর্তনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের দেশে যে সরকার পতন হয়েছে তা কোনো তিনজনের কারণে হয়নি। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কারণেই সরকার পতন ঘটেছে। আপনারা দেখেছেন, কীভাবে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তাদের আত্মীয়স্বজনরা পালিয়েছে। এটি একজন বা দুজনের কারণে হয়নি, হয়েছে জনগণের ইচ্ছার কারণে।’
মতবিনিময় শেষে তিনি পটুয়াখালী পুলিশ লাইন্স ও কোস্টগার্ড স্টেশন পরিদর্শন করেন।
নিউ ইস্কাটনে ককটেল বিস্ফোরণ, পথচারী আহত
রাজধানীর নিউ ইস্কাটন রোডের ওয়াক্ফ ভবনের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। এ ঘটনায় আবদুল বাসির (৫০) নামে এক পথচারী আহত হয়েছেন।
রোববার (১৬ নভেম্বর) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
আবদুল বাসির একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি হেঁটে বাংলামোটরে অফিসে যাওয়ার সময় ককটেল বিস্ফোরণে আহত হন। তার পায়ে ও হাতে জখম হয়েছে।
জানতে চাইলে আবদুল বাসির বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে হেঁটে অফিসে যাচ্ছিলেন। ওয়াক্ফ ভবনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তার ধারণা, ওয়াক্ফ ভবনের সামনে দিয়ে যাওয়া উড়ালসড়কের ওপর থেকে ককটেল ছুড়ে মারা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা একটি মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণার নির্ধারিত দিন ছিল ১৩ নভেম্বর। সেদিনটিতে ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। গত ৭ নভেম্বর রাত থেকে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা শুরু হয়।
আগামীকাল সোমবার (১৭ নভেম্বর) এ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
এদিকে এই রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে অনলাইনে আবার কর্মসূচির কথা বলছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
আগারগাঁও ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এডিবি ভবনের কাছে ও রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে আগারগাঁওয়ের এডিবি ভবনের কাছে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পাশেই পুলিশ সদস্যরা ডিউটিরত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান। তিনি বলেন, এডিবি ভবনের সামনের রাস্তায় হঠাৎ একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পাশেই আমাদের পুলিশ ডিউটি করছিল। মোটরসাইকেলে এসে হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
অন্যদিকে, শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাত ১১টা ১০ মিনিটে বিমানবন্দর রেলস্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিমানবন্দর থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ পারভেজ বলেন, আজ রাতে বিমানবন্দর রেলস্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশ দেখছে। আমরা জেনেছি দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধ : শেখ হাসিনার মামলার রায় ১৭ নভেম্বর
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের রায়ের দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার রায় আগামী ১৭ নভেম্বর (সোমবার) ঘোষণা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বেলা ১২টা ৯ মিনিটে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন নির্ধারণ করেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদসহ অন্যরা।
গত ২৩ অক্টোবর এ মামলায় সমাপনী বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রধানমন্ত্রীসহ হেভিওয়েট নেতাদের যেভাবে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল; সেসব বর্ণনা ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন। পরে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর যুক্তি উপস্থাপনের কয়েকটি বিষয়ে জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এরপর তাদের কিছু কথার পাল্টা উত্তর দেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন। পরে রায়ের তারিখ ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। এর সপ্তাহখানেকের মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার রায় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জুলাই গণহত্যার প্রথম কোনো রায় শুনবে এ জাতি।
এ মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নামও রয়েছে। তবে রাজসাক্ষী হয়ে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। এজন্য যুক্তিতর্কে শেখ হাসিনা-কামালের চরম দণ্ড বা সর্বোচ্চ সাজা চাইলেও তার ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছে প্রসিকিউশন। মামুনের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদও তার অ্যাকুইটাল (খালাস) চেয়েছেন। সবমিলিয়ে সাবেক এই আইজিপির মুখে হাসি ফুটবে নাকি অন্য কিছু; তা জানা যাবে রায় ঘোষণার দিন।
শেখ হাসিনার এ মামলায় ৮৪ সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন ৫৪ জন। তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় চলতি বছরের ৩ আগস্ট। প্রথম সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বীভৎসতার চিত্র তুলে ধরেন খোকন চন্দ্র বর্মণ। ৮ অক্টোবর মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জেরার মাধ্যমে শেষ হয় সাক্ষ্যগ্রহণের ধাপ। এরপর প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীর যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয় ২৩ অক্টোবর।
এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার ও শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার। সাক্ষী করা হয়েছে ৮৪ জনকে। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য