ঢাকা, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
 
শিরোনাম

উপাধ্যক্ষের কক্ষে ডেকে শিক্ষার্থীর সাথে ধস্তাধস্তির অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৯ অক্টোবর, ২০২৫ ২০:৩৬
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
উপাধ্যক্ষের কক্ষে ডেকে শিক্ষার্থীর সাথে ধস্তাধস্তির অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

রাজশাহী কলেজের উপাধ্যক্ষের কক্ষে কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসের একজন শিক্ষার্থীকে ডেকে সেই শিক্ষার্থীর সাথে ছাত্রদলের ধস্তাধস্তির অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে। বুধবার (৮ অক্টোবর) কলেজ প্রশাসনের উপস্থিতিতেই কলেজ শাখার ছাত্রদলের আহবায়ক ও তার অনুসারীদের আচরণে কলেজজুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়।

কলেজ হোস্টেলের এফ ব্লকের শিক্ষার্থী ভুক্তভোগী রুহুল জানান, তার নামে অফিশিয়ালভাবে হোস্টেলের সিট বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তাকে বারবার সিট ছাড়ার জন্য ছাত্রদল থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। গত ৮ অক্টোবর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগ তুলে উপাধ্যক্ষের কক্ষে ডাকা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলী, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইব্রাহিম আলী, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর ড. সেরাজ উদ্দিন, ছাত্রদল সভাপতি আবিরসহ অনেকে।

রুহুলের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিল বাবদ টাকা চাওয়ার বিষয়টিকে ‘চাঁদাবাজি’ বানিয়ে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়। উপাধ্যক্ষের রুমে প্রবেশ করেই ছাত্রদল সভাপতি আবির ও তার সহযোগীরা তাকে মারতে তেড়ে আসে। স্যাররা উপস্থিত না থাকলে হয়তো আজ আমি মার খেতাম বলেন রুহুল।

রাজশাহী কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ইব্রাহিম আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার কক্ষে এমন ঘটনা ঘটবে, কল্পনাও করিনি। আমরা শিক্ষকরা বসে থাকা অবস্থায় ছাত্রদলের কর্মীরা এক শিক্ষার্থীকে মারতে উদ্যত হয়। আমরা তাকে রক্ষা করেছি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।

তবে কলেজ শাখার ছাত্রদলের আহবায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থী চাঁদা দাবি করেছিল তাই তাকে ডাকা হয়। সেখানে সে উচ্চস্বরে কথা বললে আমরা প্রতিবাদ করি কিন্তু মারামারি হয়নি।

শিক্ষকদের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নেতার নেতৃত্বে উপাধ্যক্ষের রুমে এভাবে সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া কলেজের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষের উপস্থিতিতে এমন দুঃসাহস দেখানো আমাদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক। এটা স্পষ্টভাবে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার অবমাননা।

ঘটনার পর কলেজ প্রশাসন বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। তবে শিক্ষকরা বলছেন, শুধুমাত্র তদন্ত নয়, এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক সংগঠন শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদা নষ্ট করতে না পারে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের দৌড়ঝাপে এগিয়ে ছাত্রলীগের ডজনখানেক প্রার্থী

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ৮ অক্টোবর, ২০২৫ ১৭:৩৩
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের দৌড়ঝাপে এগিয়ে ছাত্রলীগের ডজনখানেক প্রার্থী

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৮ই অক্টোবর (বুধবার)। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে ২১৬ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ডজনখানেক ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীও আছেন বলে জানা গেছে।

    শিক্ষক নিয়োগে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আবেদনের পর থেকেই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের মাঝে চলছে তুমুল সমালোচনা। অনেকেই মনে করছেন ছাত্রলীগকে পুনর্বাসন করতে বিভাগের একদল শিক্ষক কাজ করছেন। তবে ৫ই আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনে গণহত্যাকারী সংগঠন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এমন কাউকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিলে মেনে নিবেন না বিভাগের জুলাই - আগস্ট বিপ্লবের চেতনাধারী শিক্ষার্থীরা।

    আওয়ামী রাজনীতির জড়িত এমন প্রার্থীরা হলেন।
    ১) ইতিহাস বিভাগের ২০০৭-০৮ সেশনের শিক্ষার্থী মো. কামরুজ্জামান। তিনি ২০২১ সালে রাবির সাবেক উপাচার্য ড. আব্দুস সোবহানের সময় এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ প্রাপ্ত ১৩৭ জনের মধ্যে যে ৯ জন প্রভাষক হিসেবে পেয়েছিলেন তার মধ্যে একজন হলেন ইতিহাস বিভাগের কামরুজ্জামান।
    ২) সমাপ্তি আক্তার জুই। তিনি রাবির বেগম রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।
    ৩) আব্দুল্লাহ আল আমিন রাব্বি। তিনি রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
    ৪) খালিদ হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
    ৫) কবির হাসান। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তার গবেষণার বিষয়: ১৯৫০ এর দশকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের রাজনৈতিক বিকাশ একটি ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ। তার গবেষণার  তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন রাবির ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম।
    ৬) আহম্মেদ সাগর। তিনি বর্তমানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। রাবির সৈয়দ আমীর আলী হল শাখা ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন।
    ৭) সুরুজ উদ্দিন। তিনি রাবির নবাব আব্দুল লতিফ হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও রাজশাহী জেলা শাখা সেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।

    ৮) রাহেনা আক্তার। শিক্ষক এবং সদস্য, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী প্রগতীশিল শিক্ষক সমাজ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
    ৯) মার্জিয়া মুনমুন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করেন। তিনিও আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত এবং ২০১৭ সালে উপাচার্য মিজানউদ্দিনের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হোন। এছাড়াও তার স্বামী হেলাল উদ্দিন রাবি শিক্ষক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতীশিল শিক্ষক সমিতির সদস্য এবং ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক। 
    ১০) আরমানুজ্জামান। তিনি ২০২৪ ফ্যাসিস্ট সরকারের ডামি নির্বাচনে শিরিন শারমিন চৌধুরীর ইলেকশন ক্যাম্পেইনার ছিলেন।
    ১১) সুভা ইস্তা তরি। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন।

    এ বিষয়ে ইতিহাস বিভাগের ২০০৮-০৯ সেশনের সাবেক শিক্ষার্থী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা জানতে পেরেছি আগামীকাল (বুধবার) ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়োগে আবেদন করেছেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত অনেক প্রার্থী। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্ত এখনো শুকায়নি। এ সকল শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানি করে যদি কোন মহল মেধাবী প্রার্থীদের বাদ দিয়ে এসব প্রার্থীদের নিয়োগে সহায়তা করে তাহলে ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীরা কোনভাবেই মেনে নিবেনা।

    ইতিহাস বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদ বাদশা বলেন, ইতিহাস বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে আবেদন করেছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এমন অনেক প্রার্থী। তারা শিক্ষক হবার জন্য  বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শেরেজ্জামানকে বলেন, যারা আবেদন করেছে সবাই আমার শিক্ষার্থী। কে ছাত্রলীগ, কে ছাত্রদল, কে শিবির করে সেটা আমি দেখবো না। সবাই ইতিহাসের ছাত্র কিনা সেটাই আমার কাছে  বিবেচনার বিষয়।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, শিক্ষক নিয়োগে সবাই প্রার্থী হিসেবে আবেদন করতে পারে। এখানে ছাত্রলীগ, ছাত্রশিবির, ছাত্রদল সবাই আবেদন করেছে। আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখবো যারা মেধাবী তারাই নিয়োগ পাবে।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      পবিপ্রবিতে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, নেপথ্যে কর্মকর্তা জুয়েল

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ৭ অক্টোবর, ২০২৫ ১৭:৪৫
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      পবিপ্রবিতে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, নেপথ্যে কর্মকর্তা জুয়েল

      পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৩-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সাইদুর রহমান জুয়েল।

      জানা যায়, ২০২৩ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রথম ধাপের পরীক্ষা বরিশাল, রংপুর ও সিলেট বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল বিভাগের পরীক্ষা আয়োজনের জন্য পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে একটি কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পরীক্ষাটিতে পবিপ্রবির কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে তিন হাজার চাকরিপ্রত্যাশী প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন।

      কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সাইদুর রহমান জুয়েলের নেতৃত্বে গুটিকয়েক কর্মকর্তা কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে কিছু পরীক্ষার্থীকে অনৈতিক সুবিধা দেন। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ১০টা থেকে ১১টা। এ সময় জুয়েল তার দায়িত্বে থাকা পরীক্ষার হল থেকে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে বাইরে পাঠিয়ে দেন। বাইরে থাকা অপর কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মাধব চন্দ্র শীলের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র সমাধান করে অল্প সময়ের মধ্যেই তা আবার কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

      অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পরীক্ষার দিন সাইদুর রহমান জুয়েলের পূর্বনির্ধারিত দায়িত্ব ছিল কেন্দ্র-২ (প্রশাসনিক), যা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনের চতুর্থ তলার করিডোরে ৪০০ নম্বর কক্ষ হিসেবে নির্ধারিত ছিল। এ সত্ত্বেও জুয়েল তার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের স্বার্থে ড. শফিকের নেতৃত্বাধীন একাডেমিক কেন্দ্রে চলে যান। কেন্দ্র-২-এ সাইদুর জুয়েলের স্থলে তার নাম কেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পাপড়ি হাজরাকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।

      জানা যায়, সাইদুর রহমান জুয়েলের যোগসাজশে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ে কর্মরত ডেপুটি রেজিস্ট্রার মাধব চন্দ্র শীল আরও কয়েকজনকে নিয়ে নিকটস্থ বগা ইউনিয়নের একটি স্কুলে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে অবস্থান করেন। দিনটি শুক্রবার হওয়ায় স্কুলটি বন্ধ ছিল। এ সময় সাইদুর রহমান জুয়েলের পাঠানো প্রশ্নপত্রটি সমাধান করে পুনরায় পাঠানো হয়। স্কুলে অবস্থান করার কারণে মাধব হলের দায়িত্বে অনুপস্থিত ছিলেন। টিএসসি ভবনের কনফারেন্স রুমের পরিদর্শক হাজিরা সিট তথা সংশ্লিষ্ট নথি বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার অনুপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

      সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির হাতে আসা বেশ কিছু স্ক্রিনশটে এই প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায়, পরীক্ষার দিন সকাল ১০টা ১ মিনিটে সাইদুর রহমান জুয়েলের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে এক ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়। প্রশ্নপত্রটি ছিল ‘সুরমা’ সেটের, যার সেট কোড ছিল ৩৬৭১। ফিরতি বার্তায় প্রশ্নের উত্তরসম্বলিত একটি ছবিও পাঠানো হয়।

      তবে এবারই প্রথম নয়, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েলের বিরুদ্ধে এর আগেও দুর্নীতির বড় বড় অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দেওয়া অবৈধ নিয়োগ বাস্তবায়নে আওয়ামীপন্থী এই কর্মকর্তার ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাধাদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত শিক্ষক ড. সন্তোষের সঙ্গে যোগসাজশে সে সময় বিপুল অঙ্কের নিয়োগ বাণিজ্য করেন সাইদুর জুয়েল। একই সঙ্গে তার আপন ভাইকে সেকশন অফিসার পদে ঐ নিয়োগে পদায়ন করা হয়।

      সে সময় এই নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জুয়েলের প্ররোচনায় ড. সন্তোষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের নিয়ম বহির্ভূতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সাংবাদিক সমিতির সভাপতিকে বিভিন্নভাবে হুমকিও দেন জুয়েল। পরবর্তীতে নিয়োগটির বৈধতা না থাকায় ও বাণিজ্যের অভিযোগে তা স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

      অনুসন্ধানে জানা যায়, ছাত্রাবস্থায় সাইদুর জুয়েল ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। ২০০৬ সালের মার্চ মাসে গঠিত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটিতে তিনি ছিলেন ১৪ নম্বর সদস্য। অভিযোগ আছে, এত দুর্নীতির পরও বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে তাকে কোনো ধরনের বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি।

      অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সাইদুর রহমান জুয়েলকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে প্রশ্ন ফাঁসের মতো অভিযোগ অবান্তর ও অসত্য। আমি কেন প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে বাইরে পাঠাবো? আমি এসব কাজের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই।”

      পরীক্ষার আগ মুহূর্তে কেন্দ্র কেন পরিবর্তন করলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পরীক্ষার কেন্দ্র তো আমি পরিবর্তন করিনি; কর্তৃপক্ষ কেন্দ্র পরিবর্তন করে আমাকে অন্য হলে পাঠিয়ে দিয়েছে।”

      এ সময় প্রতিবেদকের হাতে থাকা প্রমাণাদির বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “ক্যাম্পাসে অনেক রাজনীতি চলে; এগুলো রাজনৈতিক উসকানি হতে পারে।”

      অপর অভিযুক্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার মাধব চন্দ্র শীলকে অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “আমি এগুলোর সঙ্গে জড়িত নই। আমি অসুস্থ ছিলাম, তাই ওই দিন আমি ডিউটিতেই যাইনি। তাহলে আমি এগুলো সমাধান করে পাঠাবো কীভাবে? এসব অভিযোগ সত্য নয়।”

      পটুয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার উম্মে সালমা লাইজু প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে বলেন, “প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় প্রথমত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায় রয়েছে। তৎকালীন জেলা প্রশাসক মহোদয় সার্বিক বিষয়টি তদারকি করেছেন। এমনকি মন্ত্রণালয় থেকেও কেন্দ্রে লোকবল নিয়োজিত ছিল। এরকম একটি ঘটনার পর তৎকালীন জেলা কমিটির উপরও দায় বর্তায়।”

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে ‘নিপীড়নবিরোধী দিবস’ পালনের ঘোষণা শিবিরের

        অনলাইন ডেস্ক
        ৬ অক্টোবর, ২০২৫ ৪:২২
        অনলাইন ডেস্ক
        আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে ‘নিপীড়নবিরোধী দিবস’ পালনের ঘোষণা শিবিরের

        বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র শহীদ আবরার ফাহাদের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় ‘নিপীড়নবিরোধী দিবস’ ঘোষণা ও তা যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

        রোববার (৫ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

        বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে ‘ছাত্রশিবির আখ্যায়িত’ করে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। শহীদ আবরার ফাহাদের অপরাধ ছিল- সত্যের পক্ষে ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলা। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ক্যাম্পাসে আধিপত্য কায়েমের লক্ষ্যে ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অন্তত ছয় হাজার শিক্ষার্থী। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতায় ছাত্রসমাজ এমন নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র ভবিষ্যতে আর কোনো দিন দেখতে চায় না।

        এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এ দিনটিকে ‘নিপীড়নবিরোধী দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জাতীয় নিপীড়নবিরোধী দিবস’ ঘোষণা ও পালনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

        কর্মসূচিসমূহ

        ১. শাখাভিত্তিক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান।

        ২. ক্যাম্পাসে নিপীড়নবিরোধী সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা।

        ৩. ফ্যাসিবাদী আমলে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া।

        ৪. ক্যাম্পাসে নিপীড়ন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্লাটফর্মে লেখালেখি করা।

        কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে ছাত্রশিবিরের মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয়, শহর ও জেলা শাখাকে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আহ্বান জানান শিবির নেতৃবৃন্দ।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন টুকুর নামে চাঁদা দাবি, থানায় জিডি

          অনলাইন ডেস্ক
          ৩ অক্টোবর, ২০২৫ ১৬:১৯
          অনলাইন ডেস্ক
          বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন টুকুর নামে চাঁদা দাবি, থানায় জিডি

          বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নাম ব্যবহার করে কে বা কারা টাঙ্গাইলের কান্দাপাড়ার জনৈক জালাল উদ্দিন চাকলাদারের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেছে। চাঁদা পরিশোধের জন্য ওই ব্যক্তিকে ৫ ঘণ্টার আলটিমেটামও দেওয়া হয়, নয়তো তার বিভিন্ন অনৈতিক কাজের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে মব সৃষ্টির মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।এ বিষয়টি জানতে পেরে সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি জিডি করেছেন।

          ভুক্তভোগী জালাল উদ্দিন চাকলাদার জানান, গত রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে অজ্ঞাত এক একটি বিদেশি ফোন (নম্বর +৯১৮৬০৩৪০ ১২৫৮) থেকে তার ব্যক্তিগত হোয়াটস অ্যাপ নম্বরে ম্যাসেজ পাঠিয়ে নিজেকে সালাউদ্দিন টুকুর লোক বলে পরিচয় দেয়। পরে ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। ৫ ঘণ্টার মধ্যে দাবি করা টাকা পরিশোধ না করলে ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি সংবাদ সম্মেলন করবে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুক্তভোগীর বিভিন্ন অনৈতিক কাজের ভুয়া স্ক্রিনশট ভাইরাল করে তাকে হয়রানি করবে বলে জানায়। অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি হুমকি দিয়ে বলে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা দিতে না পারলে মব সৃষ্টি করে তাকে লাঞ্ছিত করা হবে। সালাউদ্দিন টুকুর নির্দেশেই সে যোগাযোগ করেছে বলে জানায়।

          পরবর্তীতে জালাল উদ্দিন চাকলাদার পুরো বিষয়টি সালাউদ্দিন টুকুকে অবগত করেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগীকে আইনের আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় এই নেতা নিজেও ভবিষ্যতে তার নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, অর্থ দাবি, সামাজিক ও রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডের আশঙ্কার কথা জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি জিডি নথিভুক্ত করেন ( জিডি নং: ৬০৯)।

          এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আমাদের সময়কে বলেন, শুধু আমার একার নামেই নয়। বিএনপির অনেক কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতার নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থন্বেষী মহল চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মতো অপরাধ করছে বা অপরাধ করার পাঁয়তারা করছে। অথচ আমরা এসবের কিছুই জানি না। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমরা মোটেও জড়িত নই।

          তিনি বলেন, আমাদের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ দখলদারদের জায়গা বিএনপি হবে না। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে এদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত