ঢাকা, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ২৮ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

অবৈধ বাস-লেগুনা স্ট্যান্ড ও ফুটপাত উচ্ছেদে বিতর্ক কাম্য নয়: জবি শিক্ষক সমিতি

অনলাইন ডেস্ক
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১২:৩০
অনলাইন ডেস্ক
অবৈধ বাস-লেগুনা স্ট্যান্ড ও ফুটপাত উচ্ছেদে বিতর্ক কাম্য নয়: জবি শিক্ষক সমিতি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও রাজধানীর বাহাদুর শাহ পার্ক সংলগ্ন এলাকা থেকে অবৈধ বাস-লেগুনা স্ট্যান্ড এবং ফুটপাতের দোকানপাট উচ্ছেদ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। যারই পরিপ্রেক্ষিতে জবি শিক্ষক সমিতির প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন এই মন্তব্য করেন।

রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষক সমিতির দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহের মধ্যেই গত ৮ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ, বাস মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কার্যকর সমাধান আসেনি।

চলতি মাসের শুরুতে এক ছাত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে ৭ সেপ্টেম্বর ডিসি ট্রাফিকসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। সেখানে বাস মালিক সমিতির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে রায়সাহেব বাজার মোড় থেকে বাস চলাচল বন্ধ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বিষয়টি কেবল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, বরং আশপাশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। এ উদ্দেশ্যে ১০ সেপ্টেম্বর এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে ৯ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষক সমিতির মতে, সাময়িক অসুবিধা থাকলেও অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ শিক্ষার্থীদের জীবনরক্ষা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, যানজট নিরসন, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ হ্রাস এবং অবৈধ লেনদেন ও মাদক ব্যবসা বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া অটো রিকশার গতি নিয়ন্ত্রণ, ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণ এবং বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশেপাশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই চলমান এইসব বিতর্ক সমীচীন নয়।অযাচিত প্রশ্ন তুলে এ উদ্যোগকে বিতর্কিত করা কারও জন্যই কাম্য নয়। বৃহত্তর স্বার্থে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।"

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    সাদেক ও আবিদকে নিয়ে ব্যঙ্গ

    সেই ভিডিয়োকাণ্ডে ক্ষমা চেয়ে সংবাদ সম্মেলনে ইবি ছাত্রশিবির কর্মীরা

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৯:৪
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    সেই ভিডিয়োকাণ্ডে ক্ষমা চেয়ে সংবাদ সম্মেলনে ইবি ছাত্রশিবির কর্মীরা

    সম্প্রতি ডাকসুর ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলামের জুলাই আন্দোলনে বলা ‘প্লিজ, কেউ কাউকে ছেড়ে যাইয়েন না’ অংশটি নিয়ে ব্যঙ্গ করার অভিযোগ উঠেছে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের কর্মীদের বিরুদ্ধে। তারা হলেন— ওমর ফারুক (ইইই ২০-২১ সেশন), নাহিদ হাসান (আল কুরআন ২০-২১), নাইমুর রহমান (অর্থনীতি ২১-২২), সোহান (সমাজ কল্যাণ ১৭-১৮), রোকনুজ্জামান রোকন (মার্কেটিং ১৯-২০), মোজাম্মেল (দাওয়াহ ২১-২২), আবদুল্লাহ নুর মিনহাজ (আল হাদিস ২০-২১)। তবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ক্ষমা চেয়েছে তারা।

    শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস কর্নারে আনীত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৬ সেকেন্ডের ভিডিয়োর শেষের ১২ সেকেন্ড কেটে অনলাইনে অতিরঞ্জিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা এবং আমাদের জুলাইয়ের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে বলে দাবি করেন ছাত্রশিবির কর্মীরা। একই সাথে ‘এটা শুধু আবিদ কিংবা সাদিককে দুঃখ দেয়নি বরং সকল জুলাই যোদ্ধাকে ব্যথিত করেছে’ মর্মে স্বীকারোক্তি দিয়ে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তারা।

    সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায় আমরা নিজেদের বন্ধুদের মাঝে ডাকসু নির্বাচনের প্রচারণা নিয়ে নিজেদের রুমে মজার ছলে আলোচনা করছিলাম। এতে সাদিক কায়েম ভাই এবং আবিদুল ভাই উভয়কেই নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে ডাকসু নির্বাচনের সময় সাদিক কায়েম ভাইকে নিয়ে ব্যবহৃত বাক্য "তুমিও জানো, আমিও জানি-সাদিক কায়েম পাকিস্তানি” এবং ডাকসু প্রচারণায় ব্যবহৃত আবিদ ভাইয়ের বাক্য "প্লিজ, আপনারা কেউ কাউকে ছেড়ে যাইয়েন না" বলা হয়। আমাদের কথা চলাকালীন আমাদের মধ্য থেকেই একজন মজার ছলে ভিডিও ধারণ করে এবং ডাকসু নির্বাচনের ফলাফলের পূর্বে অনলাইনে প্রকাশ করে ফেলে।

    তবে আমরা দেখতে পাই- ২৬ সেকেন্ডের ভিডিয়োর শেষের ১২ সেকেন্ড কেটে অনলাইনে অতিরঞ্জিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে এবং আমাদের জুলাইয়ের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে। অথচ এটি নিয়ে ভিডিয়ো তৈরি করা এবং জুলাইয়ে আবিদ ভাইয়ের কৃতিত্বকে হেয় করা বা জুলাই আন্দোলনের স্লোগানকে অবজ্ঞা করা আমাদের কোনো উদ্দেশ্যই ছিল না। বরং আমরা ডাকসু নির্বাচনের প্রচারণাকালীন কিছু বক্তব্য নিয়ে বন্ধুদের মাঝে কথা বলছিলাম।
    এছাড়াও আমরা সবাই জুলাইয়ের আন্দোলনে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণ করেছি। আর আবিদ ভাইয়ের জুলাইয়ের অবদান এবং তার আর্তনাদ "প্লিজ, কেউ কাউকে ছেড়ে যাইয়েন না” সেই কঠিন মুহূর্তে অসংখ্য শিক্ষার্থীর আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও আন্দোলনে প্রাণ-সঞ্চার করেছিল বলে আমরা বিশ্বাস করি। তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি, পূর্ণাঙ্গ ভিডিয়োটি প্রকাশ না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিয়োর কিছু অংশ প্রকাশ করাই বিভ্রান্তির মূল কারণ।

    তারা আরও বলেন, মজার ছলে করা আমাদের এই বিষয়টি এভাবে আমাদের জুলাই সহযোদ্ধাদের ব্যথিত করবে- তা আমরা ভাবতে পারিনি, যেহেতু জুলাইয়ের কৃতিত্ব নিয়ে আমরা কোনো রকম কটাক্ষ করিনি। এরপরও বিভ্রান্তির কারণে, বিষয়টি আমাদের যেসব জুলাই যোদ্ধাদের ব্যথিত করেছে, তাদের কাছে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ করছি।

    সংবাদ সম্মেলনে শিবির কর্মীরা বলেন, এখানে কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে আমরা ভিডিয়ো তৈরি করিনি। পুরো ভিডিয়ো পাবলিশ না করে কেন ১২ সেকেন্ড পাবলিশ করা হলো এতে বোঝা যায় এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে করা হয়েছে। দুঃখ প্রকাশ করেছি কারণ যেহেতু আমাদের কোনো উদ্দেশ্য ছিলো না কিন্তু তারপরও একটা ঘটনা ঘটেছে বলে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

    আমরা জুলাইকে ধারণ করি। আমরা কোনোভাবে জুলাইকে কটাক্ষ করতে পারি না। আবিদ ভাই এর স্লোগান তখন সবার মাঝে প্রাণের সঞ্চার করেছিল। আমরা তাকে কোনোভাবে হেয় করতে পারি না। এখানে আবিদ ভাইকে নিয়ে মক করা হয়নি। আমাদের সেই উদ্দেশ্যও ছিলো না। কাউকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে ব্যঙ্গ করা হয়নি।

    আবিদ ভাইকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য মেসেজ করেছি, মেসেজ ডেলিভারি হয়েছে কিন্তু এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করছি আমরা জুলাইকে ব্যঙ্গ করে ভিডিয়ো তৈরি করিনি বরং ডাকসু নির্বাচনের সময় তাদের কথার এপ্রোচকে মজার ছলে উপস্থাপন করেছি। যেহেতু এটা অপ্রত্যাশিত ভাবে ঘটনাটি ঘটেছে আমাদের ইচ্ছে ছিলো না কাউকে ইঙ্গিত করে ভিডিয়ো করা, আমরা সকলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

    এটা শুধু আবিদ ভাই কিংবা সাদিক ভাইকে দুঃখ দেয়নি বরং সকল জুলাই যোদ্ধাকে ব্যথিত করেছে। সেজন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ডাকসু নির্বাচনে প্রচারণার সময় মেঘমল্লার বসু এবং আবিদ ভাই যে এপ্রোচে কথা বলেছিলেন আমরা শুধু সেটা প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি। জুলাই আন্দোলনে কারো ন্যূনতম অবদান থাকলে তাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নাই। সবার অবদানকে স্বীকার করতে হবে। কিন্তু আমাদের কেন জুলাই আন্দোলনের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে এটা আমাদের মনে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডাকসুর ফল ঘোষণার রাতে অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের নাইমুর রহমান নামে এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিয়ো পোস্ট করেন। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সেটি ভাইরাল হলে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সমাজকল্যাণ বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সোহান হাসান সাকিব নামে এক শিক্ষার্থী ও ওমর ফারুক নামে আরেক শিক্ষার্থী ক্ষমা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দেন।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, উপাচার্যসহ আহত ১৪

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৩:০
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, উপাচার্যসহ আহত ১৪

      বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস এবং মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষে উভয় বিভাগের উপাচার্যসহ  অন্তত ১৪ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৩ জনকে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হন।

      ঘটনার সূত্রপাত: শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলা রোডে নবনির্মিত বিটাক ভবনের কাছে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টটিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ১২ ব্যাচের একদল শিক্ষার্থী নবনির্মিত বিটাক ভবনের মাঠে মার্কেটিং বিভাগের ১০ম ব্যাচের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর সাথে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতন্ড জড়ায়। এসময় ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা মার্কেটিং বিভাগের ঐ সিনিয়রকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে। সিনিয়র বিষয়টি তাদের ব্যাচের গ্রুপে জানালে কয়েকজন বিষয়টি জানতে মাঠে গেলে তাদেরকেও মারা হয়। ঘটনাস্থলে  মার্কেটিং বিভাগের তিন শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে দুজনকে শেরে বাংলা মেডিকেল হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়।

      জানা যায়  বিকাল সাড়ে ৫টায় ঘটনার সূত্রপাত ঘটলেও দুপক্ষের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি শান্ত করার চেষ্টা করে কিন্তু পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার  মদদে একপক্ষ আরেক পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

      এই ঘটনার পর মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে জড়ো হতে শুরু করে। অন্যদিকে, অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিটাক ভবনের কাছে একত্রিত হয়। পরে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিটাক ভবনের দিকে গেলে দুই দলের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষের ফলে ক্যাম্পাসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

      সংঘর্ষ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসময় তাকেও ইটপাটকেলের আঘাত আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সহকারী প্রক্টর আলমগির হোসেন এবং প্রক্টর ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল দুই বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

      আহত মার্কেটিং বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোস্তাক আহম্মেদ জানান," আমরা গ্রুপে একটা মেসেজ দেখে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি আমার ফয়সালকে মারধর করতেছে। এসময় ছাড়াতে গেলে আমাকেও ঘিরে ধরে। পরে আমি জুতা রেখে ঐখান থেকে দৌড়ে দিয়ে ছুটে আসি।

      একাউন্টটিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা মিমাংসায় বসার জন্য প্রস্তুত। তবে এ ঘটনায় তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

      এ বিষয়ে প্রক্টর ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, উভয় পক্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তারা দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের শান্ত করেছেন এবং আগামীকাল তাদের নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবেন। তবে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরিয়াল বডির উদাসীনতাকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        সংবাদ প্রকাশের জেরে মব তৈরি করে সাংবাদিককে হেনস্তা

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১২:২
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        সংবাদ প্রকাশের জেরে মব তৈরি করে সাংবাদিককে হেনস্তা

        সংবাদ প্রকাশের জেরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি)  সাংবাদিকদের উপর মব তৈরি করে হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের ৩০৫ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। আইন অমান্য করে এমন মব তৈরি করাকে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

        ভুক্তভোগী সাংবাদিক হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল কুমিল্লা নিউজ-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি বি. এম. ফয়সাল এবং একই কক্ষে অবস্থানরত মানবকন্ঠের সাংবাদিক জুবায়ের রহমান ও খোলা কাগজ'র হাছিবুল ইসলাম সবুজ। এসময় সেখানে উপস্থিত রূপালী বাংলাদেশের সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম ও দৈনিক কুমিল্লার ক্যাম্পাস সাংবাদিক মাসুম।

        প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজের সূত্রে জানা যায়, সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিজয় ২৪ হলের ৩০৫ রুমে এসে দরজায় ধাক্কা দিয়ে ফয়সালকে হুমকি দিতে শুরু করেন কয়েকজন। এরপর ২০-২৫ জন এসে মব তৈরি করার চেষ্টা করে। তখন মানবকন্ঠের সাংবাদিক জুবায়ের হোসেন বেড থেকে উঠে তারা কেন এসেছেন প্রশ্ন করেন। এসময় মব সৃষ্টিকারীরা ভুক্তভোগী ফয়সালকে বের করে আনার নির্দেশ দেয় এবং সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে আসেন। এসময় প্রতিবাদ করলে তারা সাংবাদিকদের ধাক্কা দিয়ে ফয়সালকে মারতে তেড়ে আসে এবং সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। এসময় সেখানে রূপালী বাংলাদেশ'র সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম  উপস্থিত হতে গেলে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম পলাশ সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ধর ধর বলে গলা চেপে ধরে।

        জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অর্থনীতি বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অন্তু দাস নিয়ম ভেঙে বিজয়-২৪ হলের ৩১২ নম্বর কক্ষে বহিরাগত এক নারী (যাকে ‘খালা’ পরিচয়ে এনেছিলেন) এবং আরও দুজন পুরুষ নিয়ে আসেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে অন্তু দাস সাংবাদিকদের ‘বাড়াবাড়ি না করতে’ বলেন। তিনি দাবি করেন, হলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলামের অনুমতি নিয়েছিলেন। তবে ওই কর্মকর্তা জানান, তিনি কোনো অনুমতি দেননি এবং বিষয়টি তার জানা নেই।

        বিশ্ববিদ্যালয় হল প্রভোস্ট সূত্রে জানা যায়, হলে আইন অনুযায়ী বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে।  ঐ ঘটনার পর হল প্রভোস্ট আবারও একটি বিজ্ঞপ্তি দেন। সেখানে বলা হয় হলের কোনো শিক্ষার্থীদের গেস্ট (পুরুষ-মহিলা) হলের ভিতরে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত করা হয়েছে। বিশেষ কারণবশত, হল প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে বিবেচনা করা যেতে পারে।'

        হলে বহিরাগত প্রবেশে নিয়ে "কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বিজয়-২৪ হল কক্ষে বহিরাগত নারী-পুরুষ; শিক্ষার্থীরা বিব্রত" শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের জের ধরে রাত ১২টার দিকে প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী ফয়সালের কক্ষে গিয়ে মব তৈরি করে হামলার চেষ্টা চালায় এবং উপস্থিত অন্যান্য সাংবাদিকদের হেনস্তার চেষ্টা করে।

        মব তৈরি করে হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের মোহাম্মদ হাসান ও মোহাম্মদ ফয়সাল, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী তন্ময় সরকার, নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রান্তিক অঙ্গন দাশ, আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম পলাশ, বাংলা বিভাগের জয় ঘোষ ও রকিবুল ইসলাম জিসান, গণিত বিভাগের ফারহান, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আরেফিন তাজবীহ, ইংরেজি বিভাগের কাজী তাহসিন ও রুহিত পাল এবং মার্কেটিং বিভাগের সাজিদসহ অনেকে।

        ভুক্তভোগী সাংবাদিক বি. এম. ফয়সাল বলেন, "আমি রুমে বসে পড়ছিলাম। হঠাৎ হলের বর্ধিত অংশ থেকে প্রায় ২০-২৫ জন আমার নাম ধরে ‘ধর ধর’ বলে মব তৈরি করে রুমে প্রবেশ করে। তখন আমার রুমমেট জুবায়ের ভাই বাধা দিতে গেলে তার ওপর আক্রমণাত্মক আচরণ করে। পরে আরো কিছু শিক্ষার্থী মবের উদ্দেশ্যে সেখানে উপস্থিত হয়।  

        সাংবাদিকের হাতে আসা ভিডিও ও মেসেঞ্জার গ্রুপের ছবিতে দেখা যায়, নৃবিজ্ঞান বিভাগের তন্ময় সরকার মব তৈরি করার জন্য উসকে দেয়। তিনি মেসেঞ্জার গ্রুপে লিখেন, "১৫ ব্যাচের সবাই উপরে আয় ১৮ এত্ত সাহস কেমনে পায়।" এর পর হলের কিছু শিক্ষার্থীের নিয়ে মব করার উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীর কক্ষে চলে যান। প্রতিবেদকের হাতে থাকা  ভিডিওতে দেখা যায়, তন্ময় ও প্রান্তিক সরকার ভুক্তভোগীদের সাথে উচ্চবাচ্য করেন এবং মারতে এগিয়ে আসেন।"

        এসব বিষয়ে জানতে তন্ময় সরকারকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, জুনিয়র যদি বেয়াদবি করে তখন আমি কী বসে থাকবো? আমি গ্রুপে মেসেজ দিয়েছি সবাইকে আসার জন্য। আর আমি সেখানে মব কন্ট্রোল করার জন্যই গিয়েছি।

        সাংবাদিককে ধর ধর বলে তার গলা চেপে ধরার বিষয়ে জানতে একাধিক কল দেওয়া হলেও জহিরুল ইসলাম পলাশ কল ধরেননি।

        আরেকটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল ভুক্তভোগী সাংবাদিককে মারার উদ্দেশ্যে তার কক্ষে প্রবেশ করেন। এসময় কক্ষের অন্য সাংবাদিকরা তাকে বাধা দিলে তাদের সাথে উচ্চবাচ্যে কথা বলা শুরু করেন।

        তবে অভিযুক্ত অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমি ঐ রুমে যাইনি এবং কিছু করিনি। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম।"

        মব তৈরি করে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট ড. মাহমুদুল হাসান খান বিষয়টি এড়িয়ে যান।

        এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও বিধি অমান্য করে সাংবাদিকদের উপর মব তৈরি করা ও হেনস্তা করার ঘটনাকে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মনে করছেন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।

        বিজয় ২৪ হলের শিক্ষার্থী নাঈম ভূঁইয়া বলেন, 'সাংবাদিক যদি যদি কোনো ধরনের ভুল করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল অ্যাকশন নেয়া টাই ঠিক। কোনোভাবেই মব লিঞ্চিং করা ঠিক নয়, এটা অন্যায়। এছাড়াও 'মা-খালা যাইহোক অনুমতি ব্যাতীত হলে প্রবেশ করানো ঠিক হয়নি।'

        গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান বলেন, কোনো সাংবাদিক যদি মিথ্যা তথ্য বা কোনো কিছুকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে তাহলে সংশ্লিষ্ট পত্রিকায় প্রতিবাদ লিপি পাঠানো যায়। যদি তাতেও না হয় প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করা যায় ও আইনি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। কাউকে বিচার বহির্ভূতভাবে শাস্তি দেয়া যায় না


        বিশ্ববিদ্যালয় উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশ করবেই। তবে যদি সাংবাদিক মিথ্যা তথ্য ছড়ায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তা না করে সাংবাদিককে হেনস্তা কিংবা মব তৈরি করে হামলা করা কোনো ভাবেই কাম্য নয়।

        উল্লেখ্য, বিজয়-২৪ হলে গতমাসে চুরির ঘটনা ঘটেছে। হলের ৪২৩ নম্বর কক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দুইটি ল্যাপটপ, দুইটি মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা চুরি হয়েছে। এরআগেও গত দুই বছরে তিনবার চুরির ঘটনা ঘটে।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          বরিশালে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে আহত ১৫

          অনলাইন ডেস্ক
          ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৭:১০
          অনলাইন ডেস্ক
          বরিশালে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে আহত ১৫

          বরিশালের মুলাদীতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

          বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুলাদী সরকারি কলেজ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

          ছাত্রশিবিরে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলাকালে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা বাঁধা দেয়। এর প্রতিবাদ করেন ছাত্রশিবির নেতারা। পরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উপজেলা ও কলেজ ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ছাত্রশিবিরের ওপর হামলা করলে সংঘর্ষ হয়।

          উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. হামীম হোসেন জানান, সংঘর্ষে কলেজ ছাত্রশিবির সভাপতি আব্দুল্লাহ ইসলামসহ কমপক্ষে ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

          তবে ছাত্রশিবিরের ওপর হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ঢালী। তার দাবি, ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের ৪-৫ নেতাকর্মীকে কলেজ থেকে বের করে দেওয়ায় চেষ্টা ও তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করলে দুইপক্ষের হাতাহাতি হয়। পরে বিষয়টি সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। এতে ছাত্রদলের ৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

          ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় মুলাদী সরকারি কলেজ ও খাদ্যগুদাম সড়ক এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বেলা ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

          উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. হামীম হোসেন জানান, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর মুলাদী সরকারি কলেজে নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য নবীনবরণের প্রস্তুতি নেয় কলেজ ছাত্রশিবির। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কলেজ ছাত্রশিবির সভাপতি আব্দুল্লাহ ইসলাম নেতাকর্মী নিয়ে কলেজ চত্বরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ওই সময় কলেজ ছাত্রদল সভাপতি রিফাত মল্লিক তাদের বাঁধা দেন এবং কলেজ শিবির সভাপতি আব্দুল্লাকে ছাত্রলীগের ছায়াতলে থাকা গুপ্তকর্মী আখ্যা দিয়ে তাদের কর্মসূচি পালন করতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে কলেজ শাখা ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে কথার কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। সংবাদ পেয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব জুলফিকার আহমেদ বিল্লালসহ ছাত্রদলে নেতাকর্মীরা কলেজে ঢুকে ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এ সময় কলেজ ছাত্রশিবির সভাপতি আব্দুল্লাহ ইসলাম, সেক্রেটারি জাহিদ হোসেন মান্না, উপজেলা ছাত্রশিবির দাওয়া সম্পাদক মো. রাকিব হোসেন, কলেজ ছাত্রশিবির কর্মী শারাফত সরদার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি বায়জিদ হোসেনসহ কমপক্ষে ১০জন আহত হন।

          কলেজের শিক্ষার্থীরা আহতদের উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় আব্দুল্লাহ, মান্না, রাকিব ও শারাফতকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন চিকিৎসকেরা।

          উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ঢালী বলেন, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা কলেজ ছাত্রদল সভাপতি রিফাত মল্লিকসহ ৪-৫ জনকে কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করেন। এতে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করলে দুইপক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি ইয়ামিন হোসেনসহ কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

          এ ব্যাপারে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, কলেজ ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সংবাদ পেয়ে পুলিশ কলেজ চত্বর ও খাদ্যগুদাম সড়কে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত