শিরোনাম
নোয়াখালীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে হামলা, ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি ভাঙচুর
নোয়াখালীর মাইজদী শহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে হামলা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নোয়াখালী জিলা স্কুলের সামনে এই হামলা ও ভাঙছুর ঘটনা ঘটে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১ টায় নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো.ফাহিম হাসান খানের নেতৃত্বে জেলা শহরের সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময়ে সড়কের পাশে অবৈধ ভাবে থাকা বিভিন্ন গাড়ি ডাম্পিং করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গাড়ির মালিক ও চালকরা মাইজদী প্রধান সড়ক অবরোধ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের একাধিক টিম উপস্থিত হয়ে দুপুর একটা দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীতে বাস, প্রাইভেট কার ও মাইক্রো চালকদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্টভাবে স্ট্যান্ডের জায়গা দেয়া হয়েছে। প্রাইভেটকার ও মাইক্রোচালকদের জন্য নোয়াখালী নতুন বাসস্ট্যান্ডের একটি অংশ নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা সেখানে তাদের গাড়ি না রেখে নোয়াখালী জিলা স্কুলের সামনের প্রধান সড়কের উপরে এলোমেলো ভাবে তাদের গাড়ি রাখেন। এতে সারা শহর জুড়ে যানজট তৈরি হয়। বিভিন্ন সময়ে তাদেরকে একাধিকবার এ বিষয়ে নিষেধ করা হলেও তারা তার তোয়াক্কা করছেন না।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এবার বাকৃবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হামলার পর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে আন্দোলনকারীদের উপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
রোববার (৩১ আগষ্ট) রাত পৌনে ৮ টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের আশেপাশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এসময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়।
এতে নারীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ সময় দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর অডিটোরিয়াম থেকে বের হয়ে আসেন শিক্ষকর।
বহিরাগতদের হামলা চলাকালে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।
বর্তমানে ক্যাম্পাস উত্তাল। ক্যাম্পাসে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের উপস্থিতি দেখা যায়নি। তবে কি নিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত তা এখনও জানা যায়নি।
এর আগে, কম্বাইন্ড ডিগ্রি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত আশানুরূপ না হওয়ায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপালন ও ভেটেরিনারি অনুষদের একক কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবি করা শিক্ষার্থীরা জরুরি সভায় উপাচার্যসহ উপস্থিত সকল শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের প্রায় ৬-৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার পর এক পর্যায়ে দ্বিতীয়বারের মতো একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এক পর্যায়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুফিদুল আলম এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। এরপর শিক্ষকরা বাহিরে আসার সাথে সাথে জেলা প্রশাসকের সামনেই বহিরাগতরা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায় এবং বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হামলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এসময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষকরা অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বাহিরে আসার সাথে সাথে একদল বহিরাগত আমাদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জেলা প্রশাসকের সামনেই হামলা চালায়। আমাদের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী এতে আহত হন।
গুলি করার ভিডিও দেখে ট্রাইব্যুনালে কাঁদলেন আবু সাঈদের বাবা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (২৭ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মইনুল করিম, প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যরা।
সূচনা বক্তব্য শেষে ট্রাইব্যুনালে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের দুটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এ সময় ছেলেকে গুলি করার দৃশ্য দেখে কাঁদেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। তিনি ছেলে হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দেবেন বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন সূত্র।
এদিন সকালে এ মামলার ছয় আসামিকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তারা হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।
ইবি অধ্যাপকের বহিষ্কার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী শাসনামলে সাজানো ক্রসফায়ার, তথাকথিত জঙ্গি নাটক, বিরোধী মতের দমন-পীড়ন এবং শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগে সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের বহিষ্কার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২৪ আগস্ট) বেলা ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়ামোড় থেকে ছাত্রশিবিরের আহ্বানে একটি মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা। এদের মধ্যে অধিকাংশ ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী ছিলেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান, অফিস সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফি, দপ্তর সম্পাদক সহ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এসময় মিছিলে ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার; ইসলামী ছাত্রশিবির, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ; আওয়ামীলীগের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না; মাহবুবের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না; মাহবুব জঙ্গি, হাসিনার সঙ্গী; প্রক্টর মাহবুবের কালো হাত, ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও; মাহবুবের বহিষ্কার, করতে হবে করতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘যারা শিক্ষার্থীদেরকে ক্রসফায়ার দেওয়ার জন্য পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে যায়, ছাত্রীদেরকে পর্দা করার জন্য জঙ্গি নাটক সাজায়, রুমে পিস্তল রেখে মামলা দেওয়ার চেষ্টা করে— তাদের দিয়ে ক্যাম্পাস কিভাবে নিরাপদ হয় আমার বুঝে আসে না। যদি এই সন্ত্রাসীদের বিচার না করেন তাহলে ক্যাম্পাসে আরও অঘটন ঘটে যেতে পারে। সব কিছুর পিছনে কলকাঠি তারাই নাড়ছে, ইবি প্রশাসন সেটা বুঝতে পারছে না।
মাহমুদুল বলেন, ‘তারা এখন বসে আছে, কাকে কিভাবে হত্যা করা যায়; কিভাবে ষড়যন্ত্র করা যায়, কাকে কিভাবে কট খাওয়ানো যায়, কাকে কিভাবে হেনস্থা করা যায় এসব কিছু নিয়েই আওয়ামী সরকারের একটা অংশ দিনরাত ব্যস্ততার সময় পার করছে।’
তিনি বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিষয়ে বলেন, ‘শিক্ষকরা ছাত্রদের সাথে যেন ছাত্রর মত আচরণ করে সেইটা আমরা দেখতে চাই। আমার বোনদেরকে নিঃসঙ্কোচে পর্দা করতে দিতে হবে সেই অধিকার আমরা দেখতে চাই। আমাদের ছাত্র ভাইদেরকে তাদের আদর্শ চর্চার অধিকার দিতে হবে। গত শাসন আমলে শুধু ছাত্রশিবির নির্যাতিত হয়েছে ব্যাপারটা এমন নয়, নির্যাতিত হয়েছে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র ইউনিয়ন সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী’
অধ্যাপক মাহবুবর রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তৎকালীন প্রক্টর মাহবুব ২০১৮ সালে কোটা আন্দোলনকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ছাত্রদের হুমকি দিয়েছিল— আন্দোলন বন্ধ না করলে তাদেরও গুম করে দেওয়া হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য এমন কোনো কাজ নেই যা সন্ত্রাসী মাহবুবরা করতে পারে না। দ্বীনি শিক্ষার জন্য মসজিদে একটা মক্তব ছিল সেটাও ‘জঙ্গির প্রশিক্ষণ’ নাটক সাজিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রক্টর মাহবুব। এ ধরনের সন্ত্রাসীদের কারণে ক্যাম্পাস অনিরাপদ। আমরা সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাসে চাই না।’
ইবি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে মাহমুদুল বলেন, ৫ আগস্টের আন্দোলনে বিরোধিতাকারীর নাম আসছে ১৯ জনের। নাম যাদের আসছে তারা তো চুনোপুঁটি, কিন্তু রাঘববোয়ালদের কেন ধরছেন না আপনারা। শুধু আওয়ামী শাসন আমলে এমন হয়েছে ব্যাপারটা এমন নয়, আমরা এখনো ফ্যাসিবাদের শ্বাস শুরু হতে দেখছি। মাহবুবকে বহিষ্কার করুন। আপনারা করতে না পারলে আমরা তাদেরকে বয়কট এর ঘোষণা করবো। আমরা প্রশাসনকে বলি— যদি মুরুদ থাকে তাদের বিরুদ্ধে একশন নিন, বহিষ্কার করুন। আর না হলে আপনার চলে যান, আপনাদের দরকার নেই।’
তিনি ইকসু নিয়ে বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে কয়েকটা ইস্যু নিয়ে কথা বলছে, ইকসু, সাজিদ আন্দোলন। আমরা দাবি জানাচ্ছি, মেহেরবানি করে ছাত্র সংসদ ইকসু চালু করুন। দাবি একটাই ছাত্র সংসদ ইকসু চাই। এখন আপনারা আন্দোলন করলে দিবেন না-কি ঠান্ডা মাথায় দিয়ে দিবেন সিদ্ধান্ত আপনাদের।’
সাজিদ হত্যার বিচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘আমার ভাই সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যার বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি কতটুকু আপনারাই (শিক্ষার্থী) দেখতে পাচ্ছেন। প্রশাসন এর কাছে আহ্বান জানাই যাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দ্রুত ফলো-আপ নিয়ে দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদেরকে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করুন।’
অভিযুক্ত ওই শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমানকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘ শিক্ষার্থীকে ক্রস ফায়ারের হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসী নাটকের চেষ্টাসহ নানা অভিযোগ’
শিক্ষার্থীকে ক্রস ফায়ারের হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসী নাটকের চেষ্টা, নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও জঙ্গী কারখানা আখ্যা দিয়ে ইসলামি মক্তব বন্ধ, জুলাই অভ্যুত্থানবিরোধী কর্মকাণ্ড ও আন্দোলনকারীদের বিপক্ষে নানা চক্রান্তের অভিযোগ রয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমানের বিরুদ্ধে। তিনি ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক।
ক্যাম্পাস সূত্রে, ঝিনাইদহের শৈলকূপায় ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন উর-রশীদ আসকারির গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ড. মাহবুবের মদদপুষ্ট হয়ে মাসুদ নামে এক শিক্ষার্থীকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেয় পুলিশ। এর আগে, ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি একই স্থানে মাসুদসহ বেশকিছু শিক্ষার্থী ডাকাতের কবলে পড়ে। পরে ২৮ জানুয়ারি মাসুদসহ বাকি শিক্ষার্থীদের প্রক্টর অফিসে ডাকেন মাহবুব। প্রক্টর অফিস থেকে তাদেরকে শৈলকুপা থানায় পাঠানো হয়।
তবে মাসুদোর ভাষ্যমতে, থানা থেকে বাকি শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়া হলেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, তার কল হিস্ট্রিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন শিবির সেক্রেটারি শাহজালালের কল হিস্ট্রি ছিল। তাই তাকে না ছেড়ে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে ক্রসফায়ারের নাটক সাজানো হয়। এসময় আসকারীর গাড়িবহরে হামলার পিছনে শিবিরের তৎকালীন সভাপতি হাদিউজ্জামান ও সেক্রেটারি শাহজালালের হাত ছিল বলে তার সঙ্গে জোরাজোরি করা হয়। এসময় তিনি মিথ্যা সাক্ষী দিতে রাজি না হওয়ায় পার্শ্ববর্তী ‘চড়িয়ার বিল’ এলাকায় নিয়ে ক্রসফায়ারের হুমকি দেয় পুলিশ।
এছাড়া আওয়ামী লীগের আমলে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে ড. মাহবুবের বিরুদ্ধে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুব ও ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল আমিনের চাকুরী বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি অডিও ফাঁস হয়। ড. মাহবুব ওই অডিওতে আব্দুল হালিম নামের এক নিয়োগপ্রার্থীকে ভাইভার পর ডেকে ব্রেইনওয়াশ করতে বলেন ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল আমিনকে। এই অডিওতে ড. মাহবুবকে বলতে শোনা যায়, ‘ও (হালিম) চালাকি করতেছে, এখন যদি ওর ব্রেইনওয়াশ না করে দেই তাহলে বিরাট সর্বনাশ হয়ে যাবে।’ তবে তার বিরুদ্ধে বারবার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ থাকলেও কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের শিশু সন্তানদের মানসম্মত ধর্মীয় শিক্ষাদানের জন্য ২০১২ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মক্তব চালু করা হয়। পরবর্তীতে ইসলামী ওই মক্তবকে জঙ্গী কারখানা আখ্যা দিয়ে কয়েক দফা পুলিশি তল্লাশি চালিয়ে মাহবুব বন্ধ করে দেন বলে জানান অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান শেখ। তিনি মক্তবটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
এছাড়া ২০১৬ সালের শেষের দিকে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদা খাতুনকে জঙ্গী ট্যাগ দিয়ে প্রক্টরের কার্যালয়ে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ভূক্তভোগী মাহমুদা জানান, নিজেদের ধারণার উপর ভিত্তি করে প্রক্টর তার অফিসে ডেকে আমাকে জঙ্গী ট্যাগ দিয়ে প্রায় চল্লিশ মিনিট আমাকে হেনস্তা করা হয়। আমার নেকাব খুলে ছবি তোলা হয় এবং হিজাব খুলতে জোরাজুরি করা হয়। আমি হিজাব খুলতে রাজি না হওয়ায় আমার বাবাকে ফোন করে আমাকে বাসায় নিয়ে যেতে বলেন প্রক্টর।
এদিকে জুলাই গনঅভূত্থানে ছাত্রজনতার প্রতি হাসিনার হত্যাকান্ডের সময়ে তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে মিছিলের নেতৃত্ব দেন ড. মাহবুব। এ ভূমিকার ফলে তার বিরুদ্ধে কেন আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে তাকে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানকে ৫ বার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এদিকে ড. মাহবুবের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের বিচার চেয়ে রবিবার (২৪ আগস্ট) বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। এসময় তার বিচার ও বহিষ্কার দাবি করেন শিবিরের নেতাকর্মীরা।
এসময় ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদেরকে যিনি নাটক সাঁজিয়ে জঙ্গী সাঁজানোর চেষ্টা করে এবং ক্রসফায়ারের মুখোমুখি করেন, তিনি কখনো শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থাকার যোগ্যাতা রাখে না। ইবিতে হেন কোন অপকর্ম নেই যা তিনি করেননি কিন্তু এখনো তিনি বহাল তবিয়তে আছেন, যা জুলাই শহীদদের প্রতি বেঈমানী। অতিসত্বর তাকে বিচারের আওতায় এনে বহিষ্কার করা হোক।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য