শিরোনাম
গুলি করার ভিডিও দেখে ট্রাইব্যুনালে কাঁদলেন আবু সাঈদের বাবা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (২৭ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মইনুল করিম, প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যরা।
সূচনা বক্তব্য শেষে ট্রাইব্যুনালে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের দুটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এ সময় ছেলেকে গুলি করার দৃশ্য দেখে কাঁদেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। তিনি ছেলে হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দেবেন বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন সূত্র।
এদিন সকালে এ মামলার ছয় আসামিকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তারা হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।
ইবি অধ্যাপকের বহিষ্কার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী শাসনামলে সাজানো ক্রসফায়ার, তথাকথিত জঙ্গি নাটক, বিরোধী মতের দমন-পীড়ন এবং শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগে সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের বহিষ্কার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২৪ আগস্ট) বেলা ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়ামোড় থেকে ছাত্রশিবিরের আহ্বানে একটি মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা। এদের মধ্যে অধিকাংশ ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী ছিলেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান, অফিস সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফি, দপ্তর সম্পাদক সহ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এসময় মিছিলে ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার; ইসলামী ছাত্রশিবির, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ; আওয়ামীলীগের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না; মাহবুবের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না; মাহবুব জঙ্গি, হাসিনার সঙ্গী; প্রক্টর মাহবুবের কালো হাত, ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও; মাহবুবের বহিষ্কার, করতে হবে করতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘যারা শিক্ষার্থীদেরকে ক্রসফায়ার দেওয়ার জন্য পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে যায়, ছাত্রীদেরকে পর্দা করার জন্য জঙ্গি নাটক সাজায়, রুমে পিস্তল রেখে মামলা দেওয়ার চেষ্টা করে— তাদের দিয়ে ক্যাম্পাস কিভাবে নিরাপদ হয় আমার বুঝে আসে না। যদি এই সন্ত্রাসীদের বিচার না করেন তাহলে ক্যাম্পাসে আরও অঘটন ঘটে যেতে পারে। সব কিছুর পিছনে কলকাঠি তারাই নাড়ছে, ইবি প্রশাসন সেটা বুঝতে পারছে না।
মাহমুদুল বলেন, ‘তারা এখন বসে আছে, কাকে কিভাবে হত্যা করা যায়; কিভাবে ষড়যন্ত্র করা যায়, কাকে কিভাবে কট খাওয়ানো যায়, কাকে কিভাবে হেনস্থা করা যায় এসব কিছু নিয়েই আওয়ামী সরকারের একটা অংশ দিনরাত ব্যস্ততার সময় পার করছে।’
তিনি বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিষয়ে বলেন, ‘শিক্ষকরা ছাত্রদের সাথে যেন ছাত্রর মত আচরণ করে সেইটা আমরা দেখতে চাই। আমার বোনদেরকে নিঃসঙ্কোচে পর্দা করতে দিতে হবে সেই অধিকার আমরা দেখতে চাই। আমাদের ছাত্র ভাইদেরকে তাদের আদর্শ চর্চার অধিকার দিতে হবে। গত শাসন আমলে শুধু ছাত্রশিবির নির্যাতিত হয়েছে ব্যাপারটা এমন নয়, নির্যাতিত হয়েছে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র ইউনিয়ন সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী’
অধ্যাপক মাহবুবর রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তৎকালীন প্রক্টর মাহবুব ২০১৮ সালে কোটা আন্দোলনকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ছাত্রদের হুমকি দিয়েছিল— আন্দোলন বন্ধ না করলে তাদেরও গুম করে দেওয়া হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য এমন কোনো কাজ নেই যা সন্ত্রাসী মাহবুবরা করতে পারে না। দ্বীনি শিক্ষার জন্য মসজিদে একটা মক্তব ছিল সেটাও ‘জঙ্গির প্রশিক্ষণ’ নাটক সাজিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রক্টর মাহবুব। এ ধরনের সন্ত্রাসীদের কারণে ক্যাম্পাস অনিরাপদ। আমরা সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাসে চাই না।’
ইবি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে মাহমুদুল বলেন, ৫ আগস্টের আন্দোলনে বিরোধিতাকারীর নাম আসছে ১৯ জনের। নাম যাদের আসছে তারা তো চুনোপুঁটি, কিন্তু রাঘববোয়ালদের কেন ধরছেন না আপনারা। শুধু আওয়ামী শাসন আমলে এমন হয়েছে ব্যাপারটা এমন নয়, আমরা এখনো ফ্যাসিবাদের শ্বাস শুরু হতে দেখছি। মাহবুবকে বহিষ্কার করুন। আপনারা করতে না পারলে আমরা তাদেরকে বয়কট এর ঘোষণা করবো। আমরা প্রশাসনকে বলি— যদি মুরুদ থাকে তাদের বিরুদ্ধে একশন নিন, বহিষ্কার করুন। আর না হলে আপনার চলে যান, আপনাদের দরকার নেই।’
তিনি ইকসু নিয়ে বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে কয়েকটা ইস্যু নিয়ে কথা বলছে, ইকসু, সাজিদ আন্দোলন। আমরা দাবি জানাচ্ছি, মেহেরবানি করে ছাত্র সংসদ ইকসু চালু করুন। দাবি একটাই ছাত্র সংসদ ইকসু চাই। এখন আপনারা আন্দোলন করলে দিবেন না-কি ঠান্ডা মাথায় দিয়ে দিবেন সিদ্ধান্ত আপনাদের।’
সাজিদ হত্যার বিচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘আমার ভাই সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যার বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি কতটুকু আপনারাই (শিক্ষার্থী) দেখতে পাচ্ছেন। প্রশাসন এর কাছে আহ্বান জানাই যাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দ্রুত ফলো-আপ নিয়ে দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদেরকে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করুন।’
অভিযুক্ত ওই শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমানকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘ শিক্ষার্থীকে ক্রস ফায়ারের হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসী নাটকের চেষ্টাসহ নানা অভিযোগ’
শিক্ষার্থীকে ক্রস ফায়ারের হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসী নাটকের চেষ্টা, নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও জঙ্গী কারখানা আখ্যা দিয়ে ইসলামি মক্তব বন্ধ, জুলাই অভ্যুত্থানবিরোধী কর্মকাণ্ড ও আন্দোলনকারীদের বিপক্ষে নানা চক্রান্তের অভিযোগ রয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমানের বিরুদ্ধে। তিনি ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক।
ক্যাম্পাস সূত্রে, ঝিনাইদহের শৈলকূপায় ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন উর-রশীদ আসকারির গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ড. মাহবুবের মদদপুষ্ট হয়ে মাসুদ নামে এক শিক্ষার্থীকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেয় পুলিশ। এর আগে, ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি একই স্থানে মাসুদসহ বেশকিছু শিক্ষার্থী ডাকাতের কবলে পড়ে। পরে ২৮ জানুয়ারি মাসুদসহ বাকি শিক্ষার্থীদের প্রক্টর অফিসে ডাকেন মাহবুব। প্রক্টর অফিস থেকে তাদেরকে শৈলকুপা থানায় পাঠানো হয়।
তবে মাসুদোর ভাষ্যমতে, থানা থেকে বাকি শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়া হলেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, তার কল হিস্ট্রিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন শিবির সেক্রেটারি শাহজালালের কল হিস্ট্রি ছিল। তাই তাকে না ছেড়ে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে ক্রসফায়ারের নাটক সাজানো হয়। এসময় আসকারীর গাড়িবহরে হামলার পিছনে শিবিরের তৎকালীন সভাপতি হাদিউজ্জামান ও সেক্রেটারি শাহজালালের হাত ছিল বলে তার সঙ্গে জোরাজোরি করা হয়। এসময় তিনি মিথ্যা সাক্ষী দিতে রাজি না হওয়ায় পার্শ্ববর্তী ‘চড়িয়ার বিল’ এলাকায় নিয়ে ক্রসফায়ারের হুমকি দেয় পুলিশ।
এছাড়া আওয়ামী লীগের আমলে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে ড. মাহবুবের বিরুদ্ধে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুব ও ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল আমিনের চাকুরী বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি অডিও ফাঁস হয়। ড. মাহবুব ওই অডিওতে আব্দুল হালিম নামের এক নিয়োগপ্রার্থীকে ভাইভার পর ডেকে ব্রেইনওয়াশ করতে বলেন ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল আমিনকে। এই অডিওতে ড. মাহবুবকে বলতে শোনা যায়, ‘ও (হালিম) চালাকি করতেছে, এখন যদি ওর ব্রেইনওয়াশ না করে দেই তাহলে বিরাট সর্বনাশ হয়ে যাবে।’ তবে তার বিরুদ্ধে বারবার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ থাকলেও কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের শিশু সন্তানদের মানসম্মত ধর্মীয় শিক্ষাদানের জন্য ২০১২ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মক্তব চালু করা হয়। পরবর্তীতে ইসলামী ওই মক্তবকে জঙ্গী কারখানা আখ্যা দিয়ে কয়েক দফা পুলিশি তল্লাশি চালিয়ে মাহবুব বন্ধ করে দেন বলে জানান অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান শেখ। তিনি মক্তবটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
এছাড়া ২০১৬ সালের শেষের দিকে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদা খাতুনকে জঙ্গী ট্যাগ দিয়ে প্রক্টরের কার্যালয়ে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ভূক্তভোগী মাহমুদা জানান, নিজেদের ধারণার উপর ভিত্তি করে প্রক্টর তার অফিসে ডেকে আমাকে জঙ্গী ট্যাগ দিয়ে প্রায় চল্লিশ মিনিট আমাকে হেনস্তা করা হয়। আমার নেকাব খুলে ছবি তোলা হয় এবং হিজাব খুলতে জোরাজুরি করা হয়। আমি হিজাব খুলতে রাজি না হওয়ায় আমার বাবাকে ফোন করে আমাকে বাসায় নিয়ে যেতে বলেন প্রক্টর।
এদিকে জুলাই গনঅভূত্থানে ছাত্রজনতার প্রতি হাসিনার হত্যাকান্ডের সময়ে তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে মিছিলের নেতৃত্ব দেন ড. মাহবুব। এ ভূমিকার ফলে তার বিরুদ্ধে কেন আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে তাকে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানকে ৫ বার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এদিকে ড. মাহবুবের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের বিচার চেয়ে রবিবার (২৪ আগস্ট) বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। এসময় তার বিচার ও বহিষ্কার দাবি করেন শিবিরের নেতাকর্মীরা।
এসময় ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদেরকে যিনি নাটক সাঁজিয়ে জঙ্গী সাঁজানোর চেষ্টা করে এবং ক্রসফায়ারের মুখোমুখি করেন, তিনি কখনো শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থাকার যোগ্যাতা রাখে না। ইবিতে হেন কোন অপকর্ম নেই যা তিনি করেননি কিন্তু এখনো তিনি বহাল তবিয়তে আছেন, যা জুলাই শহীদদের প্রতি বেঈমানী। অতিসত্বর তাকে বিচারের আওতায় এনে বহিষ্কার করা হোক।
শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী পুলিশ অফিসারকে মাদক পাচারে সম্পৃক্ততার অভিযোগে প্রত্যাহার
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতিতে ৪৮ বোতল ফেনসিডিলসহ পুলিশের তিন সোর্স আটক হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই কামাল হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রবিউল আলম খান।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে লোহাগাড়া থানা থেকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। তিনি চলতি বছরের ২২ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার হিসেবে জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতুর কাছ থেকে পুরস্কার পেয়েছিলেন।
লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত এসআই কামালকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি বাজার এলাকায় তিনজনকে ফেনসিডিল পাচারের সময় স্থানীয়রা আটক করে। পরে তাদের সেনাবাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪৮ বোতল ফেনসিডিল ও পাচারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।
আটককৃতরা হলেন—উপজেলার আমিরাবাদ ৭নং ওয়ার্ডের সুখছড়ি এলাকার রমিজ উদ্দিন (৩৫), লোহাগাড়া সদরের হোসেন আলী মাতব্বর বাড়ির নাজিম উদ্দিন (৪৫) এবং মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার তাজুল ইসলাম (৪৯)।
এদের মধ্যে রমিজ উদ্দিনের দাবি, তারা তিনজন পুলিশের সোর্স। এসআই কামাল তাদের জব্দকৃত ফেনসিডিলগুলো দিয়েছেন। এসব ফেনসিডিল পাশের পার্বত্য লামা উপজেলার আজিজ নগরে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেছিলেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, এসআই কামাল তাদের পেছনের একটি প্রাইভেটকারে ছিলেন। ওই গাড়ীর পেছনে ইয়াবা ছিল বলেও দাবি করেন আটক হওয়া ব্যক্তিরা। সামনের গাড়ি আটকের সঙ্গে সঙ্গে তিনি পেছনের গাড়ি থেকে পালিয়ে যান বলে দাবি আটক সোর্সদের।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্র-জনতা জানায়, লোহাগড়ার থানা পুলিশের সদস্যরা মাদকদ্রব্য উদ্ধার করলেও তা আদালতে জমা না দিয়ে পাচার করে এমন অভিযোগ তারা আগেও শুনেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি বিশ্বস্ত সূত্রে তারা জানতে পারেন, এসআই কামাল হোসেন তার ব্যক্তিগত সোর্সদের ব্যবহার করে লোহাগাড়া থানা এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক কক্সবাজারে পাচার করবেন। এরপর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার শিক্ষার্থীদের বিষয়টি যাচাই করতে অনুরোধ জানানো হয়। বিকেল ৪টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত টানা ৮ ঘণ্টা চুনতি বাজার এলাকায় অবস্থান করে ছাত্ররা এসআই কামালের সোর্সদের মাদকসহ (ফেনসিডিল) আটক করতে সক্ষম হন।
বিমানের চাকা চুরি করে অন্য এয়ারলাইনসে বিক্রি!
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চুরি যাওয়া ১০ চাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়েছে। এসব চাকা চুরি করে একটি চক্র তা বেসরকারি অন্য এয়ারলাইনসের কাছে বিক্রি করছে বলে দাবি করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল (কেপিআইভুক্ত) এলাকায় চুরির ঘটনায় স্থাপনাটির ‘ভঙ্গুর’ নিরাপত্তাব্যবস্থাটি সামনে এসেছে। এটিও খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।
বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) এ বি এম রওশন কবীর বলেন, ‘নিলামে ওঠানোর জন্য বিমানের অব্যবহৃত টায়ার রাখা ছিল। সেখান থেকে ১০টি টায়ার বিমানের দুই সদস্য একটি এয়ারলাইনসের কাছে বিক্রি করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এখন পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে জড়িতরা চিহ্নিত হবে।
রবিবার এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। এরই মধ্যে বিমানের জড়িত দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’
বিমান চলাচল বিশ্লেষক ও বিমানের সাবেক বোর্ড সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘বিমানবন্দরের মতো কেপিআইভুক্ত এলাকায় ১০টি চাকা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নেওয়ার ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। বিমানের দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামোর সুযোগ নিচ্ছেন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা।
এত চাকা নিতে গেলেও তো ধরা পড়া উচিত ছিল। বিমানবন্দরে যেসব পুরনো উড়োজাহাজ পার্ক করে রাখা আছে, সেখান থেকেও নিয়মিত যন্ত্রাংশ চুরি হচ্ছে, যা খুবই উদ্বেগজনক। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যারা জড়িত, তারা উৎসাহ পায়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এই দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না।’
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শনিবার।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্সের পাশে থাকা ‘অকশন শেডে’ রাখা বিমানের ১০টি ‘আনসার্ভিসেবল টায়ার’ (অকেজো চাকা) খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে গত সোমবার (১৮ আগস্ট) বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিমানের সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মোশারেফ হোসেন। জিডিতে সরাসরি ‘চুরি’র অভিযোগ না এনে তিনি উল্লেখ করেছেন যে চাকাগুলো ‘খুঁজে পাওয়া যায়নি’।
জিডিতে বলা হয়, ‘১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১০টি আনসার্ভিসেবল টায়ার বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্সের পাশে থাকা অকশন শেডে খুঁজে পাওয়া যায়নি। চাকার সন্ধান না পাওয়ায় বিমানের ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট সুপারভাইজার আরমান হোসেন ও স্টোর হেলপার সামসুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যায়, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলামের কাছে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে। আর এটি ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষকে’ না জানিয়ে করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
বিমানবন্দর থানার ওসি তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘উড়োজাহাজের টায়ারের বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে। তবে চুরির কোনো ঘটনা নয়, মূলত একজন আরেকজনকে চাকাগুলো ব্যবহার করতে দিয়েছে। একটি এয়ারলাইনসের সঙ্গে এক্সচেঞ্জ করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি।’
তবে নষ্ট বা ব্যবহার উপযোগী নয়—এই চাকা কোনো এয়ারলাইনসের নেওয়ার প্রশ্নই আসে না বলে জানিয়েছেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ব্যবহার অনুপযোগী চাকা ইউএস-বাংলার লাগবে কেন? প্রত্যেকটি চাকার একটি লাইফটাইম থেকে। তা শেষ হওয়ার পর সেটা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যায়। এরপর সেটা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। বিমানের চেয়ে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজের সংখ্যা বেশি। ব্যবহার অনুপযোগী টায়ার আমরা আবর্জনা হিসেবে ট্রাকে ভরে বাইরে পাঠিয়ে দিই।’
বিমানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, একেকটি উড়োজাহাজের চাকার দাম পাঁচ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই হিসাবে ১০টি চাকার মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় কোটি টাকা।
প্রশ্ন উঠেছে, অব্যবহৃত হলেও এত মূল্যবান সম্পদ কিভাবে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে গেল? সাধারণত ব্যবহৃত বা অকেজো মালপত্র নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়, যার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো রকম নিয়ম-কানুন মানা হয়নি, যা একটি বড় আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।
চাকা ‘চুরির’ অভিযোগ সামনে আসার পর চার সদস্যের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিমান। এই কমিটি শুধু চাকা গায়েব হওয়ার ঘটনাই নয়, গত ১ জুলাই থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সব কারিগরি সমস্যার বিস্তারিত পর্যালোচনা করবে।
বিমান চলাচল খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিমানের একের পর এক এই ঘটনাগুলো দেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনসের প্রতি আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। চাকা ‘চুরি’ ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
/তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য