শিরোনাম
ইবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘ শিক্ষার্থীকে ক্রস ফায়ারের হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসী নাটকের চেষ্টাসহ নানা অভিযোগ’
শিক্ষার্থীকে ক্রস ফায়ারের হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসী নাটকের চেষ্টা, নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও জঙ্গী কারখানা আখ্যা দিয়ে ইসলামি মক্তব বন্ধ, জুলাই অভ্যুত্থানবিরোধী কর্মকাণ্ড ও আন্দোলনকারীদের বিপক্ষে নানা চক্রান্তের অভিযোগ রয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমানের বিরুদ্ধে। তিনি ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক।
ক্যাম্পাস সূত্রে, ঝিনাইদহের শৈলকূপায় ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন উর-রশীদ আসকারির গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ড. মাহবুবের মদদপুষ্ট হয়ে মাসুদ নামে এক শিক্ষার্থীকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেয় পুলিশ। এর আগে, ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি একই স্থানে মাসুদসহ বেশকিছু শিক্ষার্থী ডাকাতের কবলে পড়ে। পরে ২৮ জানুয়ারি মাসুদসহ বাকি শিক্ষার্থীদের প্রক্টর অফিসে ডাকেন মাহবুব। প্রক্টর অফিস থেকে তাদেরকে শৈলকুপা থানায় পাঠানো হয়।
তবে মাসুদোর ভাষ্যমতে, থানা থেকে বাকি শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়া হলেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, তার কল হিস্ট্রিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন শিবির সেক্রেটারি শাহজালালের কল হিস্ট্রি ছিল। তাই তাকে না ছেড়ে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে ক্রসফায়ারের নাটক সাজানো হয়। এসময় আসকারীর গাড়িবহরে হামলার পিছনে শিবিরের তৎকালীন সভাপতি হাদিউজ্জামান ও সেক্রেটারি শাহজালালের হাত ছিল বলে তার সঙ্গে জোরাজোরি করা হয়। এসময় তিনি মিথ্যা সাক্ষী দিতে রাজি না হওয়ায় পার্শ্ববর্তী ‘চড়িয়ার বিল’ এলাকায় নিয়ে ক্রসফায়ারের হুমকি দেয় পুলিশ।
এছাড়া আওয়ামী লীগের আমলে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে ড. মাহবুবের বিরুদ্ধে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুব ও ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল আমিনের চাকুরী বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি অডিও ফাঁস হয়। ড. মাহবুব ওই অডিওতে আব্দুল হালিম নামের এক নিয়োগপ্রার্থীকে ভাইভার পর ডেকে ব্রেইনওয়াশ করতে বলেন ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল আমিনকে। এই অডিওতে ড. মাহবুবকে বলতে শোনা যায়, ‘ও (হালিম) চালাকি করতেছে, এখন যদি ওর ব্রেইনওয়াশ না করে দেই তাহলে বিরাট সর্বনাশ হয়ে যাবে।’ তবে তার বিরুদ্ধে বারবার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ থাকলেও কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের শিশু সন্তানদের মানসম্মত ধর্মীয় শিক্ষাদানের জন্য ২০১২ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মক্তব চালু করা হয়। পরবর্তীতে ইসলামী ওই মক্তবকে জঙ্গী কারখানা আখ্যা দিয়ে কয়েক দফা পুলিশি তল্লাশি চালিয়ে মাহবুব বন্ধ করে দেন বলে জানান অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান শেখ। তিনি মক্তবটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
এছাড়া ২০১৬ সালের শেষের দিকে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদা খাতুনকে জঙ্গী ট্যাগ দিয়ে প্রক্টরের কার্যালয়ে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ভূক্তভোগী মাহমুদা জানান, নিজেদের ধারণার উপর ভিত্তি করে প্রক্টর তার অফিসে ডেকে আমাকে জঙ্গী ট্যাগ দিয়ে প্রায় চল্লিশ মিনিট আমাকে হেনস্তা করা হয়। আমার নেকাব খুলে ছবি তোলা হয় এবং হিজাব খুলতে জোরাজুরি করা হয়। আমি হিজাব খুলতে রাজি না হওয়ায় আমার বাবাকে ফোন করে আমাকে বাসায় নিয়ে যেতে বলেন প্রক্টর।
এদিকে জুলাই গনঅভূত্থানে ছাত্রজনতার প্রতি হাসিনার হত্যাকান্ডের সময়ে তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে মিছিলের নেতৃত্ব দেন ড. মাহবুব। এ ভূমিকার ফলে তার বিরুদ্ধে কেন আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে তাকে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানকে ৫ বার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এদিকে ড. মাহবুবের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের বিচার চেয়ে রবিবার (২৪ আগস্ট) বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। এসময় তার বিচার ও বহিষ্কার দাবি করেন শিবিরের নেতাকর্মীরা।
এসময় ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদেরকে যিনি নাটক সাঁজিয়ে জঙ্গী সাঁজানোর চেষ্টা করে এবং ক্রসফায়ারের মুখোমুখি করেন, তিনি কখনো শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থাকার যোগ্যাতা রাখে না। ইবিতে হেন কোন অপকর্ম নেই যা তিনি করেননি কিন্তু এখনো তিনি বহাল তবিয়তে আছেন, যা জুলাই শহীদদের প্রতি বেঈমানী। অতিসত্বর তাকে বিচারের আওতায় এনে বহিষ্কার করা হোক।
শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী পুলিশ অফিসারকে মাদক পাচারে সম্পৃক্ততার অভিযোগে প্রত্যাহার
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতিতে ৪৮ বোতল ফেনসিডিলসহ পুলিশের তিন সোর্স আটক হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই কামাল হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রবিউল আলম খান।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে লোহাগাড়া থানা থেকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। তিনি চলতি বছরের ২২ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার হিসেবে জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতুর কাছ থেকে পুরস্কার পেয়েছিলেন।
লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত এসআই কামালকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি বাজার এলাকায় তিনজনকে ফেনসিডিল পাচারের সময় স্থানীয়রা আটক করে। পরে তাদের সেনাবাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪৮ বোতল ফেনসিডিল ও পাচারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।
আটককৃতরা হলেন—উপজেলার আমিরাবাদ ৭নং ওয়ার্ডের সুখছড়ি এলাকার রমিজ উদ্দিন (৩৫), লোহাগাড়া সদরের হোসেন আলী মাতব্বর বাড়ির নাজিম উদ্দিন (৪৫) এবং মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার তাজুল ইসলাম (৪৯)।
এদের মধ্যে রমিজ উদ্দিনের দাবি, তারা তিনজন পুলিশের সোর্স। এসআই কামাল তাদের জব্দকৃত ফেনসিডিলগুলো দিয়েছেন। এসব ফেনসিডিল পাশের পার্বত্য লামা উপজেলার আজিজ নগরে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেছিলেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, এসআই কামাল তাদের পেছনের একটি প্রাইভেটকারে ছিলেন। ওই গাড়ীর পেছনে ইয়াবা ছিল বলেও দাবি করেন আটক হওয়া ব্যক্তিরা। সামনের গাড়ি আটকের সঙ্গে সঙ্গে তিনি পেছনের গাড়ি থেকে পালিয়ে যান বলে দাবি আটক সোর্সদের।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্র-জনতা জানায়, লোহাগড়ার থানা পুলিশের সদস্যরা মাদকদ্রব্য উদ্ধার করলেও তা আদালতে জমা না দিয়ে পাচার করে এমন অভিযোগ তারা আগেও শুনেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি বিশ্বস্ত সূত্রে তারা জানতে পারেন, এসআই কামাল হোসেন তার ব্যক্তিগত সোর্সদের ব্যবহার করে লোহাগাড়া থানা এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক কক্সবাজারে পাচার করবেন। এরপর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার শিক্ষার্থীদের বিষয়টি যাচাই করতে অনুরোধ জানানো হয়। বিকেল ৪টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত টানা ৮ ঘণ্টা চুনতি বাজার এলাকায় অবস্থান করে ছাত্ররা এসআই কামালের সোর্সদের মাদকসহ (ফেনসিডিল) আটক করতে সক্ষম হন।
বিমানের চাকা চুরি করে অন্য এয়ারলাইনসে বিক্রি!
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চুরি যাওয়া ১০ চাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়েছে। এসব চাকা চুরি করে একটি চক্র তা বেসরকারি অন্য এয়ারলাইনসের কাছে বিক্রি করছে বলে দাবি করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল (কেপিআইভুক্ত) এলাকায় চুরির ঘটনায় স্থাপনাটির ‘ভঙ্গুর’ নিরাপত্তাব্যবস্থাটি সামনে এসেছে। এটিও খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।
বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) এ বি এম রওশন কবীর বলেন, ‘নিলামে ওঠানোর জন্য বিমানের অব্যবহৃত টায়ার রাখা ছিল। সেখান থেকে ১০টি টায়ার বিমানের দুই সদস্য একটি এয়ারলাইনসের কাছে বিক্রি করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এখন পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে জড়িতরা চিহ্নিত হবে।
রবিবার এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। এরই মধ্যে বিমানের জড়িত দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’
বিমান চলাচল বিশ্লেষক ও বিমানের সাবেক বোর্ড সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘বিমানবন্দরের মতো কেপিআইভুক্ত এলাকায় ১০টি চাকা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নেওয়ার ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। বিমানের দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামোর সুযোগ নিচ্ছেন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা।
এত চাকা নিতে গেলেও তো ধরা পড়া উচিত ছিল। বিমানবন্দরে যেসব পুরনো উড়োজাহাজ পার্ক করে রাখা আছে, সেখান থেকেও নিয়মিত যন্ত্রাংশ চুরি হচ্ছে, যা খুবই উদ্বেগজনক। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যারা জড়িত, তারা উৎসাহ পায়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এই দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না।’
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শনিবার।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্সের পাশে থাকা ‘অকশন শেডে’ রাখা বিমানের ১০টি ‘আনসার্ভিসেবল টায়ার’ (অকেজো চাকা) খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে গত সোমবার (১৮ আগস্ট) বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিমানের সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মোশারেফ হোসেন। জিডিতে সরাসরি ‘চুরি’র অভিযোগ না এনে তিনি উল্লেখ করেছেন যে চাকাগুলো ‘খুঁজে পাওয়া যায়নি’।
জিডিতে বলা হয়, ‘১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১০টি আনসার্ভিসেবল টায়ার বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্সের পাশে থাকা অকশন শেডে খুঁজে পাওয়া যায়নি। চাকার সন্ধান না পাওয়ায় বিমানের ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট সুপারভাইজার আরমান হোসেন ও স্টোর হেলপার সামসুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যায়, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলামের কাছে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে। আর এটি ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষকে’ না জানিয়ে করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
বিমানবন্দর থানার ওসি তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘উড়োজাহাজের টায়ারের বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে। তবে চুরির কোনো ঘটনা নয়, মূলত একজন আরেকজনকে চাকাগুলো ব্যবহার করতে দিয়েছে। একটি এয়ারলাইনসের সঙ্গে এক্সচেঞ্জ করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি।’
তবে নষ্ট বা ব্যবহার উপযোগী নয়—এই চাকা কোনো এয়ারলাইনসের নেওয়ার প্রশ্নই আসে না বলে জানিয়েছেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ব্যবহার অনুপযোগী চাকা ইউএস-বাংলার লাগবে কেন? প্রত্যেকটি চাকার একটি লাইফটাইম থেকে। তা শেষ হওয়ার পর সেটা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যায়। এরপর সেটা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। বিমানের চেয়ে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজের সংখ্যা বেশি। ব্যবহার অনুপযোগী টায়ার আমরা আবর্জনা হিসেবে ট্রাকে ভরে বাইরে পাঠিয়ে দিই।’
বিমানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, একেকটি উড়োজাহাজের চাকার দাম পাঁচ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই হিসাবে ১০টি চাকার মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় কোটি টাকা।
প্রশ্ন উঠেছে, অব্যবহৃত হলেও এত মূল্যবান সম্পদ কিভাবে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে গেল? সাধারণত ব্যবহৃত বা অকেজো মালপত্র নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়, যার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো রকম নিয়ম-কানুন মানা হয়নি, যা একটি বড় আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।
চাকা ‘চুরির’ অভিযোগ সামনে আসার পর চার সদস্যের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিমান। এই কমিটি শুধু চাকা গায়েব হওয়ার ঘটনাই নয়, গত ১ জুলাই থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সব কারিগরি সমস্যার বিস্তারিত পর্যালোচনা করবে।
বিমান চলাচল খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিমানের একের পর এক এই ঘটনাগুলো দেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনসের প্রতি আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। চাকা ‘চুরি’ ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
/তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ
সাতক্ষীরায় শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুর রহমানকে বিদ্যালয় থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দেওয়ার ঘটনায় বল্লী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইসলাম কবিরাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৮ আগস্ট) রাতে বল্লী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগে একই দিন দুপুরে বিদ্যালয়ের ফটকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা জড়িত বিএনপি –ছাত্রদল নেতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানান এবং ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষক শফিকুর রহমান বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, “শিক্ষকের দেওয়া মামলায় সোমবার রাতে বল্লী ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (১৬ আগস্ট) সকালে ক্লাস শেষে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় এক ছাত্রীকে নিয়ে দীর্ঘ ৩৭ মিনিট শিক্ষক শফিকুর রহমান অবস্থান করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম, বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের সঠিক প্রতিকার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ জনতা ও ইউপি সদস্যসহ বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা সহকারী শিক্ষক শফিকুর রহমানকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন।
২১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নোবিপ্রবি সহকারী প্রভোস্টদের ‘গায়েবি’ প্রশাসন
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আবাসিক হলগুলোর প্রশাসনিক কাঠামোতে সহকারী প্রভোস্টদের ভূমিকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে পাঁচটি হল রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি ছাত্রী ও দুটি ছাত্রদের জন্য। প্রতিটি হলে একজন প্রভোস্ট এবং সম্মিলিতভাবে ৫০ জন সহকারী প্রভোস্ট দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, হলগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে এই সহকারী প্রভোস্টরা নিয়োজিত হন। তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে রুম বরাদ্দ, আবাসিক তালিকা প্রস্তুত, আবাসন–সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি, শৃঙ্খলা রক্ষা, স্বাস্থ্য ও ডাইনিং ব্যবস্থার তদারকি, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা। এ লক্ষ্যে প্রতি মাসে সহকারী প্রভোস্টদের সম্মানী বাবদ প্রশাসনের খরচ হয় প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
প্রতি মাসে এই ৫০ জন প্রভোস্টের সম্মানী বাবদ প্রায় ১.৭৫ লক্ষ টাকা খরচ হলেও, শিক্ষার্থীরা কোনো সুফল পাচ্ছেন না। এই অব্যবস্থাপনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি হলে রুটিন ভিত্তিক দায়িত্ব বন্টন করা থাকলেও তা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। গুটিকয়েক সহকারী প্রভোস্ট ছাড়া বাকিদের দেখা মেলে না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক সহকারী প্রভোস্ট নিয়োগ পাওয়ার পর এখনো হলে পরিদর্শনে পর্যন্ত আসেননি।
হল প্রশাসনের এই উদাসীনতা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী জানান, "আমার একটি গুরুত্বপূর্ণ দরখাস্ত স্বাক্ষরের জন্য হল অফিসে জমা দেওয়ার পর প্রায় চার মাস লেগেছে। বারবার যোগাযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। প্রভোস্টরা শুধু আশ্বাস দেন, কিন্তু কাজে কোনো গতি নেই।"
২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী উম্মে কুলসুম বলেন, "হলের কোনো সমস্যা নিয়ে সহকারী প্রভোস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা দ্রুত সাড়া দেন না। জরুরি সময়ে তাদের পাওয়া যায় না, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে।"
আরেক শিক্ষার্থী মুজতবা ফয়সাল নাঈম বলেন হল নানা সমস্যায় জর্জরিত, “আমরা উনাদেরকে বেশিরভাগ সময়েই নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে দেখিনা। যেকারনে হলের ডাইনিং ও পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন সমস্যাগুলো যেমন কতৃপক্ষ এড্রেস করতে ব্যর্থ হন, শিক্ষার্থীরা সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতে গেলেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পান না।”
তবে শিক্ষার্থীরা স্বীকার করেছেন, কিছু হল প্রশাসন তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় এবং পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন—যা একটি আশার আলো দেখায়।
এদিকে প্রতি বছর সহকারী প্রভোস্টদের পেছনে সম্মানী বাবদ ব্যয় করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। প্রতি মাসে এই খাতে খরচ হয় প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা, যা বছরে দাঁড়ায় ২১ লক্ষ টাকা। এত টাকা খরচ করেও শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা পূরণ না হওয়ায় নিয়োগের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, সহকারী প্রভোস্টদের নিয়মিত হলে উপস্থিত থাকা এবং দায়িত্ব পালন করা জরুরি, কারণ এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে, তেমনি বাড়বে প্রশাসনের প্রতি তাদের আস্থা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “শুধু নিয়োগ আর সম্মানি দিয়ে দায়িত্ব শেষ হয় না, এই পদগুলোর ফলপ্রসূতা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের দায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করেও যদি কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে সেটি শুধু শিক্ষার্থীদের হতাশ করে না, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।”
এই বিষয়ে নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজুয়ানুল হক বলেন, “প্রভোস্ট বডি সংস্কারের কাজ চলছে। কতজন সদস্য প্রয়োজন তা নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার প্রতিবেদন আগামী সপ্তাহে পাওয়া যাবে। এরপর সেই অনুযায়ী কমিটিগুলোকে নতুন করে সাজানো হবে। প্রভোস্ট বডি সংস্কারের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সংখ্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং কাজে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের অগ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য