শিরোনাম
জাল সনদে এমপির স্ত্রীকে নিয়োগ, পিরোজপুরে কলেজ অধ্যক্ষ কারাগারে
পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর সদর, ইন্দুরকানী, নাজিরপুর) আসনের সাবেক এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়ালের স্ত্রীর ভুয়া সনদপত্রের মাধ্যমে একটি কলেজে প্রভাষক পদে চাকরি নিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাতের মামলায় ওই কলেজের অধ্যক্ষ ঠাকুর চাঁদ মজুমদারকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরে পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিচারক মো. মজিবুর রহমান জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী আহসানুল কবীর বাদল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুয়া সনদ ব্যবহার করে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মহিলা কলেজে প্রভাষক পদে চাকুরি বাগিয়ে নেওয়া ও সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়াল (৬৮), তার স্ত্রী লায়লা পারভীন (৬২) এবং কলেজটির অধ্যক্ষ ঠাকুর চাঁদ মজুমদারের (৫৫) বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক পিরোজপুরের উপ-সহকারী পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন সম্রাটের দায়ের করা মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা সদরে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মহিলা কলেজটিতে ২০১৩ সালে পাস কোর্স চালু হয়। কলেজটি এমপিওভুক্ত না হলেও ২০১৮ সালে সরকারিকরণ করা হয়। আসামি লায়লা পারভীনের স্বামী সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়াল গভর্ণিং বডির সভাপতি এবং লায়লা পারভীন নিজে দাতা সদস্য হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষাগত যোগ্যতার ভুয়া সনদপত্র ব্যবহার করে ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে নিয়োগ লাভ করেন। স্বামী আউয়ালের প্রভাব এবং কলেজের অধ্যক্ষ ঠাকুর চাঁদের সহযোগিতায় ভুয়া সনদ পত্র দিয়ে লায়লা পারভীন কলেজটিতে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ লাভ করে নাজিরপুর সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে ৮ আগস্ট ২০১৮ থেকে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৪০৬ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় দুদক ওই মামলা করে। জালসনদ সৃজন, চাকরি দেওয়া ও সরকারি টাকা আত্মসাতে সহযোগিতা করায় লায়লা পারভীনের স্বামী একেএমএ আউয়াল ও ওই কলেজের অধ্যক্ষ ঠাকুর চাঁদ মজুমদারকে ও আসামি করা হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আহসানুল কবীর বাদল বলেন, অধ্যক্ষ ঠাকুর চাঁদ হাইকোর্ট থেকে শর্ত সাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিলে তার মেয়াদ সোমবার শেষ হলে শর্তানুযায়ী তিনি পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করলে আদালত তার আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।
পাবিপ্রবিতে বিয়ের প্রলোভনে ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কার
যৌন হয়রানির অভিযোগে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) এক শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঐ শিক্ষকের নাম সুব্রত কুমার বিশ্বাস। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গত ২৬ জুলাই (শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম রিজেন্ট বোর্ডে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে আজ জানা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুব্রত কুমার বিশ্বাসের সাথে সমাজকর্ম বিভাগের স্নাতোকোত্তরের এক ছাত্রীর সাথে দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এক পর্যায়ে বিয়ের আশ্বাসে তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। কিন্তু পরবর্তীতে সুব্রত ঐ ছাত্রীকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর সুব্রত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঐ ছাত্রী বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে যৌন হয়রানির অভিযোগ দেন। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে এ অভিযোগ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। সেই কমিটি ৯ অক্টোবর ঐ শিক্ষককে সকল একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে রেজিস্ট্রারের কাছে চিঠি দেন।
এরপর এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল উচ্চতর তদন্ত করেন। তদন্তে তারা এ অভিযোগের সত্যতা পান। এরপর তারা ‘উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন বিরোধ নীতিমাল, ২০০৮’ অনুযায়ী সুব্রত কুমার বিশ্বাসকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করেন।
এ বিষয়ে জানার জন্য সুব্রত কুমার বিশ্বাসের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আবদুল আওয়াল বলেন, ‘রিজেন্ট বোর্ডে এক জন শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বহিষ্কারের যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটা আইন অনুযায়ী হয়েছে।’
গলায় ফাঁস দিয়ে চবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের(চবি) লামিয়া নামে এক ছাত্রী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
আজ সোমবার (১ নভেম্বর) ভোরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সিয়াম প্লেস ভবনে এ ঘটনা ঘটে। লামিয়া অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন বলেন, আমরা এসে দেখি লাস তাদের পরিবার নামিয়ে ফেলেছে। তারা জানায় জানালার গ্রিলের সাথে ঝুলে সে আত্মহত্যা করে। পরে পুলিশের মাধ্যমে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় পাঠাই।
রিসার্চ মেথডোলজি ক্লাস নেবেন গবেষণা প্রবন্ধ জালিয়াতিতে অভিযুক্ত শিক্ষক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাহাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে গবেষণা প্রবন্ধ জালিয়াতির অভিযোগ আনেন তাঁরই সহকর্মী ও আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোরশেদুল ইসলাম। এ নিয়ে গত বছরের ২৪ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও জমা হয়নি প্রতিবেদন।
নিয়মানুযায়ী তাকে দেওয়া হয়নি কোনো অব্যাহতি। বরং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে তাকে রিসার্চ মেথডোলজি ক্লাস নেওয়ার সুযোগ দিয়ে করা হয়েছে সম্মানিত। এতে চরম ক্ষুব্ধ প্রকাশ করেছেন বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকেরা।
অধ্যাপক সাহাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো—তিনি ২০১২ সালের ৮ আগস্টে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদায়নের জন্য আবেদন করেন। আবেদনপত্রে তিনি তিনটি প্রকাশনার কথা উল্লেখ করেন। যার মধ্যে একটি বাংলা প্রকাশনা আছে। ইংরেজিতে লেখা দুটি প্রকাশনা হলো 'দ্য আনহোলি ডিলে অব দ্য লাস্ট কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট: বাংলাদেশ ইজ অন দ্য ভার্জ অব আ কনস্টিটিউশনাল ক্রাইসিস (The Unholy Delay of the Last Caretaker Government: Bangladesh is on the Verge of a Constitutional Crisis) এবং কনফ্লিক্ট অব লজ অ্যান্ড ইটস ইমপ্যাক্ট অন চাইল্ড লেবার ইস্যুজ: বাংলাদেশ পার্সপেক্টিভ (Conflict of Laws and it's Impact on Child Labour Issues: Bangladesh Perspective)।
প্রকৃতপক্ষে অন্য লেখকের এবং তা তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের নামে প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরই সহকর্মী অধ্যাপক মোরশেদুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, উল্লিখিত প্রকাশনাগুলোতে প্লেজিয়ারিজমের হার যথাক্রমে ৬৪ শতাংশ ও ৭৬ শতাংশ।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, পুনরায় ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারিতে ড. সাহাল উদ্দিন অধ্যাপক পদে পদায়নের জন্য যে ছয়টি প্রকাশনা তার নিজের বলে দাবি করেছেন, সেগুলোর সবই অন্যের কাজ থেকে চুরি করে প্রকাশিত বলে প্রমাণিত হয়েছে। প্রকাশনাগুলো হলো 'পলিসি অ্যান্ড প্র্যাকটিস অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি ল': বাংলাদেশ পার্সপেকটিভ (Policy and Practice of Intellectual Property Law: Bangladesh Perspective), ইন্টারন্যাশনাল লিগ্যাল অবলিগেশন্স অব বাংলাদেশ ইন আর্বিট্রারি অ্যারেস্ট, রিম্যান্ড অ্যান্ড টর্চার: এ ক্রিটিকাল অ্যানালাইসিস (International Legal Obligations of Bangladesh in Arbitrary Arrest, Remand and Torture A Critical Analysis), রোল অব ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন ইন কমব্যাটিং টেরোরিজম ইন দ্য এয়ার স্পেস: এ লিগ্যাল স্ট্যাডি উইথ রিলেভ্যান্ট ইন্টারন্যাশনাল ইনস্ট্রুমেন্টস (Role of International Civil Aviation Organization in Combating Terrorism in the air Space: A Legal Study with Relevant International Instruments)।
রেকগনিশন অব লেবার রাইটস ইন বাংলাদেশ: ক্রিটিকাল স্ট্যাডি উইথ স্পেশাল রেফারেন্স টু দ্য স্ট্যান্ডার্ড অব আইএলও (Recognition of Labour Rights in Bangladesh: Critical Study with Special Reference to the Standard of ILO), চাইল্ড লেবার লজ অ্যান্ড পলিসিস ইন হোম অ্যান্ড অ্যাব্রড: ইশুজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস উইথ স্পেশাল রেফারেন্স টু বাংলাদেশ (Child Labour Laws and Policies in Home and Abroad: Issues and Challenges with Special Reference to Bangladesh), ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিসপিউট সেটলমেন্ট মেকানিজম অ্যান্ড ইটস ইফেক্টিভনেস বাংলাদেশ পার্সপেকটিভ (Industrial Dispute Settlement Mechanism and its Effectiveness: Bangladesh Perspective),
উপর্যুক্ত প্রকাশনাগুলোতে চৌর্যবৃত্তির হার উল্লেখ করে অধ্যাপক মোরশেদুল বলেন, উপর্যুক্ত প্রকাশনাগুলোতে চৌর্যবৃত্তির হার যথাক্রমে ৯৩ শতাংশ, ৮৫ শতাংশ, ৬৬ শতাংশ, ৬৪ শতাংশ, ৫৬ শতাংশ ও ৩৭ শতাংশ।
আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সালমা আক্তার খানম বলেন, নরমালি কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে প্রমাণ সাপেক্ষে তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে কেন অধ্যাপক সাহালকে অব্যাহতি দেওয়া হলো না এটা আমার জানা নেই। আমরা যখন জেনেছিলাম ক্লাস দেওয়ার বিষয়ে আমরা তখন এর বিরোধিতা করেছিলাম। উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে বলেছিলাম এটা দেওয়া ঠিক হবে না। তারপরও তারা দিয়েছেন। আমরা এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ।
আইন বিভাগের আরেক অধ্যাপক ড. মো. মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রকাশনা জালিয়াতির অভিযোগ আছে, তাকে কীভাবে রিসার্চ ম্যাথেডলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ক্লাস দেওয়া হয়? তার তো গবেষণা নিয়ে কোনো জ্ঞানই নাই, তাহলে তিনি কীভাবে শিক্ষার্থীদের শেখাবেন? তিনি জানলে কি জালিয়াতি করতেন? ঘটনাটা একজন মূর্খকে শিক্ষিত মানুষদের পড়ানোর দায়িত্ব দেওয়ার মতো হয়ে গেল। এটা বাস্তবতা বর্জিত।
ক্লাস পাওয়ার বিষয়ে অধ্যাপক সাহাল উদ্দিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, প্রশাসন থেকে আমি কোনো চিঠি পায়নি। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। যে অভিযোগ করছে তার বিরুদ্ধে নিউজ করেন, সে ঠিকমতো ক্লাস নেয় না, শিক্ষার্থীদের নাম্বার দেয় না। তার জন্য শিক্ষার্থীরা সাফার করছে।
তবে তদন্ত কমিটি গঠিত হওয়ার বিষয়টা স্বীকার করেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি চলমান। তবে এখনো তদন্ত কমিটির সকল কাগজপত্র আমি পাইনি। এগুলো সামনের সপ্তাহে দেওয়ার কথা আছে। যদি সামনের সপ্তাহে দেয় তাহলে আমরা দ্রুতই তদন্ত শেষ করব।
তদন্ত কমিটির স্বার্থে অব্যাহতি না দেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, কেউ যদি প্রশাসনিক বা একাডেমিক দুর্নীতি করে সেক্ষেত্রে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগটা প্রকাশনা জালিয়াতির এটা ব্যক্তিগত একটা বিষয়। যার জন্য তাকে সিন্ডিকেট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।
তিনি আরো বলেন, সেখানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এর জন্য প্রশাসন দায়ী না। ওই বিভাগ থেকে সুপারিশ করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিভাগের শিক্ষকরা যে তালিকা দিয়েছিল সেখানে তার নাম ছিল না। তিনি আগেও সেখানে ক্লাস নিয়েছেন।
চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের টাকায় নেতাদের কালো থাবা!
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় চা শ্রমিকদের জন্য সরকার কর্তৃক জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পটির আওতায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা করে বিকাশের মাধ্যমে ৭ হাজার চা শ্রমিকের মাঝে অর্থ বিতরণ করার কথা হলেও অনেক প্রকৃত শ্রমিক এই সহায়তা পাননি, বরং একাধিক ক্ষেত্রে এক পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে টাকা উত্তোলনের ঘটনা সামনে উঠে এসেছে।
জানা গেছে, উপজেলার ২২টি চা বাগানের পঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করে সমাজসেবা অফিসে তালিকা জমা দেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, ওই তালিকায় অনেকেই তাদের পরিবারের স্বামী, স্ত্রী, সন্তান, এমনকি আত্মীয়স্বজনদের নাম সযুক্ত করেছেন। আবার প্রকৃত অনেক শ্রমিকের নাম ও বিকাশ নম্বর তালিকায় থাকা সত্ত্বেও তারা কোনো টাকা এখন ও পাননি।
শ্রমিকদের অভিযোগ, তালিকায় থাকা সত্ত্বেও অনেকের বিকাশ নম্বর পরিবর্তন করে অন্যদের নম্বরে টাকা পাঠানো হয়েছে। এমনকি এক ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে পঞ্চায়েত নেতার ছেলের বিকাশে টাকা পাঠানোরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ চা শ্রমিকরা রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। একই দিন শমশেরনগর বাগানের নারী শ্রমিক সবিতা রেলী বাগানের নেতা গোপাল কানুর বিরুদ্ধে থানায় টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন।
শ্রমিক গোপাল গোয়ালা, রিশু বাগতি, নিলু রাজভর, জগদীশ বাউরী, বাবুল রেলী জানান, ‘‘আমাদের ভোটার আইডি নিয়ে দুর্নীতি পরায়ণ কিছু নেতা টাকা আত্মসাৎ করেছে। আমরা ইউএনও স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’’
শ্রমিক রামাকান্ত যাদব বলেন,“তালিকায় আমার নাম ও আইডি নম্বর থাকা সত্ত্বেও আমি টাকা পাইনি। বিকাশ নম্বর আমার নয়।’’ শ্রমিক পারতালি তেলেঙ্গা, দুলাল শীল, প্রিতী পালসহ আরও অনেকেই একই অভিযোগ তুলেন।
ভজনটিলার শ্রমিক শিমুল লোহার জানান, “আমার মোবাইলে অন্যের নামে টাকা আসে। পাশের বাড়ির জয়প্রকাশ রাজভর এসে টাকা তুলে এবং আমাকে ২ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা নিয়ে যায়।” ছবি লোহার বলেন, “আমার আইডির নামে ও টাকা ঢুকে নির্মল ছত্রির বিকাশে। পরে সে আমাকে ৪ হাজার টাকা দেয়।”
অনুসন্ধানের তথ্যনুসারে জানা যায়, উপকারভোগী তালিকায় শমশেরনগর চা বাগানের নেতা নির্মল দাস পাইনকা, তার স্ত্রী, মেয়ে, ভাইয়ের স্ত্রী ও কন্যাদের নাম রয়েছে।
একইভাবে পঞ্চায়েত সম্পাদক শ্রীকান্ত কানুর স্ত্রী, ভাই-বোন ও আত্মীয়দের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
জবাবে শ্রীকান্ত কানু বলেন, “তালিকা অনেকে দিয়েছেন। যার নাম্বার তার নাম্বারে টাকা এসেছে। আমার পরিবারে দু’জনের নাম এসেছে, ভাইয়েরা আলাদা পরিবার।”
চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালী ইউনিয়ন কমিটির সম্পাদক নির্মল দাস বলেন, “আমি অসুস্থ ছিলাম, তাই তালিকায় নাম দেওয়া হয়েছে। আমি দুঃখিত।”
কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউসুফ মিয়া বলেন,‘‘অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন,‘‘এরকম ঘটনা ঘটতে পারে, সে কারণে আগেই সতর্ক করেছিলাম। সমাজসেবা অফিসারকে অবহিত করেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আস্বস্ত করেন।’’
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য