শিরোনাম
কুলাউড়ায় প্রবাসীর স্ত্রী’র ঝু'লন্ত লা'শ উ'দ্ধা'র
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নে সোমবার (২১শে জুলাই) বিকেলে লুবনা আক্তার (২৮) নামক এক প্রবাসীর স্ত্রী'র ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত গৃহবধু উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের ভাট্টুত গ্রামের বাসিন্দা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী মধু মিয়ার স্ত্রী তিনি ২ ছেলে সন্তানের জননী।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, সোমবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে বারোটায় ঘরের ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন গৃহবধু লুবনা আক্তার। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দারা জানতে পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মোক্তাদির মনুকে খবর দেন। তিনি ওই গৃহবধুর বাড়িতে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে কুলাউড়া থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পারিবারিক ও স্বামীর সাথে কলহের জের ধরে এই আত্মহত্যা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বাংলাফ্যাক্ট : ভারতের পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ২০২১ সালে এক নারীকে লাঞ্ছিত করার ভিডিওকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের ঘটনা বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।
বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানিয়েছে, ‘নারী নির্যাতনের ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের।’
তারা আরো জানায়, এক নারীকে মারধরের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, এটি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামলে বাংলাদেশের ঘটনা।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনায় ২০২১ সালের ভিডিও।
আলোচিত দাবিটি যাচাইয়ে ভিডিওটির কিছু কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কামারহাটি এলাকায় একটি ক্লাবের ভেতরে তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতার সহযোগীরা ওই নারীকে লাঞ্ছিত করে। পরে ঘটনাটির ভিডিও প্রকাশিত হয়। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সূত্রে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, ঘটনাটি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আড়িয়াদহ তালতলা স্পোর্টিং ক্লাবে ঘটেছিল এবং সেসময় এ ঘটনায় জড়িত দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া ভারতের নিউজ ১৮, ইটিভি ভারত, ইন্ডিয়া টিভিসহ একাধিক গণমাধ্যমেও একই ঘটনার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে জানায় বাংলাফ্যাক্ট।
পশ্চিমবঙ্গে নারীকে মারধরের পুরনো ভিডিও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামলে বাংলাদেশের বলে ইন্টারনেটে প্রচার করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর বলে প্রমাণ পেয়েছে বাংলাফ্যাক্ট।
বাংলাদেশে চলমান গুজব, ভুয়া খবর, অপতথ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাফ্যাক্ট।
‘৮ দিন পর পর্তুগালের ফ্লাইট, আমি ফাইসা গেছি’
পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও কংক্রিটের টুকরা দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যার ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই আসামি তারেক রহমান রবিন ও টিটন গাজী। তবে দুজনেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
শনিবার (১২ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ গিয়াসের আদালতে তারা জবানবন্দি দেন।
আদালতে জবানবন্দি দেওয়া অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার রবিন বলেছেন, তিনি ফেঁসে গেছেন। আর টিটন বলেছেন, ব্যবসায়ী মো. সোহাগ ওরফে লাল চাঁদকে তিনি কোনো ‘আঘাত’ করেননি বা অন্য কাউকে মারধরের নির্দেশও দেননি।
দুই দিনের রিমান্ড শেষে রবিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন জীবন। রবিন এ ঘটনায় পুলিশের করা অস্ত্র মামলার আসামি।
ঢাকার মহানগর হাকিম হাসিব উল্লাহ গিয়াস রবিনের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত থেকে বেরিয়ে আসার সময় রবিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না। আমি দোষী, সারা বাংলাদেশের মানুষ মানুষ জেনে গেছে। আর আট দিন পর আমার পর্তুগালের ফ্লাইট। বিদেশ যাওয়ার জন্য ২২ লাখ টাকা এ বাবদ খরচ হয়েছে।
তার কাছ থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রবিন।
ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কারও সঙ্গে ‘সম্পর্ক নেই’ জানিয়ে রবিন বলেন, ‘আমি ফাইসা গেছি। ঘটনাস্থলে ছিলাম না। সন্দেহের কারণে আমাকে গ্রেপ্তার করেছে। আমার জীবনটা শেষ। আম্মু অসুস্থ হয়ে পড়েছে, ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে। আর কিছু বলতে চাই না।’
এদিন আদালতে রিমান্ডের শুনানির সময় টিটন গাজী বলেছেন, ‘আমি ওই ঘটনার সময় কেবল দাঁড়িয়ে ছিলাম। একজনের ফোন পেয়ে সেখানে যাই। আমি আঘাত করিনি।’
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা টিটন গাজীকে সামনে ডেকে আনেন বিচারক। তার আইনজীবী আছেন কি না, তা জানতে চান। টিটন জানান, তার কোনো আইনজীবী নেই।
এরপর তার কোনো বক্তব্য আছে কি না জানতে চাইলে টিটন গাজী আদালতকে বলেন, ‘যে ভিডিওটা ভাইরাল হয়েছে, মনোযোগ সহকারে দেখবেন। আমি কোনো আঘাত বা মারধর করিনি।
ভিডিওতে দেখবেন, আমি পেস্ট কালারের গেঞ্জি পরা। আমার এ ঘটনায় কোনো ভূমিকা ছিল না। আমি কাউকে মারার হুকুম দিইনি। শুধু দাঁড়িয়ে ছিলাম।’
পরে আদালত টিটনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ৯ জুলাই বিকালে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে প্রকাশ্যে কংক্রিটের টুকরা দিয়ে শরীর ও মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয় ভাঙারি ও পুরনো তারের ব্যবসায়ী মো. সোহাগ ওরফে লাল চাঁদকে। পরে লাশের ওপর উঠে কয়েকজন লাফায়।
এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার শুরু হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের পাঁচজনকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছে বিএনপি।
এ ঘটনায় চাঁদ সোহাগের বড় বোন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। আর পুলিশ বাদী হয়ে করেছে অস্ত্র মামলা।
ঘটনার পর এখন পর্যন্ত পুলিশ ও র্যাব অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে পাঠিয়েছিলেন আদালত। তারা হলেন, মাহমুদুল হাসান মহিন ও তারেক রহমান রবিন। রিমান্ড শেষে রবিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
চাঁদাবাজি নয়, ভাঙারি দোকান দখল দ্বন্দ্বেই মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড: ডিএমপি
রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় প্রকাশ্যে ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগকে (৩৯) নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ড চাঁদাবাজির কারণে নয়, বরং ভাঙারির একটি দোকানের মালিকানা ও আয়-ব্যয় নিয়ে বিরোধের ফলাফল।
শনিবার (১২ জুলাই) লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন এক ব্রিফিংয়ে বলেন, দোকানের দখল ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বই এই হত্যার মূল কারণ। এখনও পর্যন্ত চাঁদাবাজির কোনো প্রমাণ মেলেনি।
তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পাঁচ সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার ১ নম্বর আসামি মাহিনসহ অন্যান্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ডিসি জসীম উদ্দিন যোগ করেন, প্রাথমিকভাবে এটি একটি ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব। তবে অন্য কোনো প্ররোচনা বা রাজনৈতিক যোগসূত্র আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কোনো পক্ষপাত করা হবে না।
উল্লেখ্য, ৯ জুলাই মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে সোহাগকে নৃসংশভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোড়ন তোলে। ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
নিহতের বোন কোতোয়ালি থানায় হত্যার মামলা করেছেন। এতে ১৯ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে এবং ১০-১৫ অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, হত্যাকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে সোহাগকে টার্গেট করেছিল। আটককৃতদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। শীঘ্রই আদালতে আটককৃতদের রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
বিবিসি অনুসন্ধান
বিক্ষোভ দমনে নির্বিচারে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা
জুলাই অভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতি অস্ত্র ব্যবহার ও নির্বিচারে গুলি চালাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—এমনটাই উঠে এসেছে তার একটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপে। এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে বিবিসি আই।
গত মার্চে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এই অডিও রেকর্ডিংয়ে হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, গত ১৮ জুলাই তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের’ নির্দেশ দেন এবং বলেন, ‘যেখানেই পাবে, গুলি করবে’।
এই ফোনালাপটি ২০২৫ সালের মার্চ মাসে অনলাইনে ফাঁস হয় এবং পরে তা যাচাই করে বিবিসি ও বাংলাদেশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
তদন্তকারীরা বলছেন, এই রেকর্ডিং-ই এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ, যা তাকে সরাসরি গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে তুলে ধরে।
ইতোমধ্যেই এই রেকর্ডিংকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচারকার্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
১৮ জুলাই ২০২৪ সালে ঢাকা গণভবনে অবস্থানকালে একজন অজ্ঞাত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপটি হয় বলে নিশ্চিত করেছে বিবিসি।
সেই সময়টিতে রাজধানীজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছিল এবং পুলিশ বাহিনীর হাতে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছিল।
ফোনালাপে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঘটনাস্থলে যারা যাবে, lethal weapon (প্রাণঘাতী অস্ত্র) নিয়ে যাবে। যেখানেই পাবে, shoot (গুলি) করবে।’
অডিও বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইয়ারশট’ এবং বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানায়, এতে কোনো ধরনের সম্পাদনা বা কৃত্রিমতা পাওয়া যায়নি এবং এটি খুব সম্ভবত কোনো কক্ষে ফোনালাপটি স্পিকারে চালিয়ে রেকর্ড করা হয়েছিল।
ব্রিটিশ মানবাধিকার আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান বিবিসিকে বলেন, ‘এই রেকর্ডিংগুলো শেখ হাসিনার ভূমিকা প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ। এটি পরিষ্কার, নির্ভরযোগ্য ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’ তিনি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছেন।
বিপরীতে আওয়ামী লীগ দলীয় এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, ‘বিবিসি যে রেকর্ডিংয়ের কথা বলছে, তার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। এমনকি যদি তা সত্যিও হয়, সেটি ছিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের একটি বৈধ প্রচেষ্টা।’
দলটি দাবি করেছে, ‘আমাদের নেতারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোন হত্যা নির্দেশ দেননি। সরকারি সিদ্ধান্তগুলো ছিল অনুপাতিক, সৎ ও জানমালের ক্ষতি রোধে নেওয়া পদক্ষেপ।’
বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, গত বছরের জুলাই-আগস্টের ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬০ জন পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ মুখপাত্র বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে কিছু সদস্য অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে জড়িয়ে পড়েছিল। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে।’
শেখ হাসিনার বিচার শুরু হয়েছে গত মাসে। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যার নির্দেশ, বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও উসকানির অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার তার প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানালেও এখন পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। আন্তর্জাতিক আইনজীবী ক্যাডম্যানের মতে, হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা কম।
আওয়ামী লীগ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘প্রধানমন্ত্রী বা দলের কোনো ঊর্ধ্বতন নেতাই বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেননি।’ দলটি জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনও প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিবিসি সেনাবাহিনীর কাছে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ জানালেও কোনো সাড়া মেলেনি।
শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশ এখন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে রয়েছে, যার নেতৃত্বে আছেন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগ ওই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য