ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

শেখ হাসিনাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক
১৬ জুন, ২০২৫ ১৩:৪
অনলাইন ডেস্ক
শেখ হাসিনাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ

জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে হাজির হতে দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২৪ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

এসময় মামলার আরেক আসামি সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

গত ১ জুন জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। মামলার অপর দুই আসামি হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী মামুন। একইসঙ্গে এই মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

সেদিন আদালতে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়ে শোনান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আব্দুস সোবহান তরফদার, মিজানুল ইসলাম। যা সব গণমাধ্যমে সম্প্রচার করা যায়।

এর আগে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান অভিযুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।

গত ১২ মে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। তদন্ত প্রতিবেদনে জুলাই গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে শেখ হাসিনার নাম উঠে এসেছে।

এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত ২০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত চিফ প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর দুই মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি, হত্যার নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঠেকাতে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বিচারে হত্যা চালায়। প্রায় দেড় হাজার মানুষ প্রাণ হারায় এই আন্দোলনে।

মন্তব্য

যশোরে কুয়েতফেরত যুবককে জবাই করে হত্যা, আটক ৩

অনলাইন ডেস্ক
১৫ জুন, ২০২৫ ১১:৩৬
অনলাইন ডেস্ক
যশোরে কুয়েতফেরত যুবককে জবাই করে হত্যা, আটক ৩

যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের নাউলি গ্রামে হাসান শেখ (৩০) নামে কুয়েতফেরত এক যুবককে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। আজ রোববার সকালে নাউলি গ্রামের একটি মাছের ঘেরপাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত হাসান শেখ ওই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি দীর্ঘ আট বছর কুয়েতে প্রবাসজীবন কাটিয়ে আড়াই মাস আগে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে দুই মাস আগে বিয়ে করেন। তার বড় ভাই মুন্না জানান, শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত হাসান বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন। রোববার ভোরে গ্রামের বাসিন্দা তবিবুর রহমান নিজ ঘেরপাড়ে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসীকে খবর দেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাগর, জামিল ও চঞ্চল নামে তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) শুভ্র প্রকাশ দাস বলেন, প্রবাসফেরত এক যুবকের জবাইকৃত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    কেরানীগঞ্জের মাদারীপুরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি এলাকাবাসীর

    থানা প্রতিনিধি
    ১৩ জুন, ২০২৫ ২১:৫৩
    থানা প্রতিনিধি
    কেরানীগঞ্জের মাদারীপুরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি এলাকাবাসীর

    ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন মাদারীপুর এলাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে মাদকের অবাধ ব্যবসা। মাদারীপুর জামে মসজিদের পশ্চিম পাশের রাস্তা ও আশপাশের এলাকায় সংঘবদ্ধ একটি চক্র প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে চরম উৎকণ্ঠা ও নিরাপত্তাহীনতা।

    অভিযোগ অনুযায়ী, পিলার নম্বর বরিশুর ২৩ ও ২৪ এবং ব্রাহ্মণকিত্তা ১ ও ২ নম্বর এলাকার আশেপাশে প্রতিদিন মাদক কেনাবেচা হচ্ছে। এতে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছেন স্থানীয়ভাবে পরিচিত একাধিক ব্যক্তি। তাদের মধ্যে অন্যতম শামসুদ্দিনের ছেলে আলম, যিনি ব্রাহ্মণকিত্তা ১ পিলারের পাশে বসবাস করেন। আরও জড়িত রয়েছেন খোয়েজনগরের রবিন (সালাউদ্দিনের ছেলে), ড্রাইভারের ছেলে মাহবুব, পটকাজোরের হাকিমের ছেলে অপু এবং সোলায়মান, যিনি মাদারীপুরের জুম্মনের ভাই হিসেবে পরিচিত।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন অসংখ্য মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী এই এলাকায় এসে জড়ো হয়। পাশাপাশি, মাদারীপুর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পরিত্যক্ত এক বাড়ি—যা আগে মফিজ সাহেবের মালিকানায় ছিল এবং বর্তমানে টুনু সাহেবের ছেলে গাফফার দখল করে রেখেছে—সেই স্থানে মাদক ব্যবসার পরিকল্পনা ও টাকার ভাগ-বাটোয়ারা হয় বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।

    এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা সেলিম রেজা বলেন, “এই এলাকায় মাদক সমস্যা এখন মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন যদি এখনই পদক্ষেপ না নেয়, তবে ভবিষ্যতে এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।”

    স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “শুধু মাদক না, এর ফলে এলাকায় চুরি, দস্যুতা, ছিনতাই বেড়ে গেছে। আমরা কেউই নিরাপদ নই। দিনের পর দিন এই অবস্থা চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।”

    অপর এক গণ্যমান্য ব্যক্তি আবু বকর বলেন, “আমরা একাধিকবার স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নিয়েছি, কিন্তু মাদক চক্র এতটাই শক্তিশালী যে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। এখন একমাত্র ভরসা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ।”

    এ প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রাইসুল ইসলাম বলেন,“এই এলাকাটি একসময় শান্তিপূর্ণ ছিল। এখন সন্ধ্যার পর রাস্তায় বের হওয়াটাও আতঙ্কের বিষয়। প্রতিদিন নতুন মুখ, মাদকসেবী, অপরাধীদের আনাগোনা। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।”

    অভিযোগে নাম উল্লেখ থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকেই ফোনে পাওয়া যায়নি।

    এদিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হব।

    রাইজিং ক্যাম্পাস/আরকেএস

    মন্তব্য

    টাকা আত্মসাত করতে অন্তঃসত্বা ছোট বোনকে হত্যা: গ্রেপ্তার-২

    জেলা প্রতিনিধি
    ১৩ জুন, ২০২৫ ১৫:২৬
    জেলা প্রতিনিধি
    টাকা আত্মসাত করতে অন্তঃসত্বা ছোট বোনকে হত্যা: গ্রেপ্তার-২

    নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় জমি বিক্রির টাকা আত্মসাত করতে অন্তঃসত্বা ছোট বোনকে হত্যার ঘটনার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১।

    শুক্রবার (১৩ জুন) দুপুর পৌনে ১টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু। এর আগে,গতকাল বুধবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে সাতক্ষীরা জেলার সদর উপজেলার কুকরাইলের মোড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।  

    গ্রেপ্তার মাকছুদা আক্তার মালা (৩২) উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের পূর্ব চরমজিদ গ্রামের মো.হোসেনের স্ত্রী ও জাহানারা বেগম (৫৫) একই গ্রামের কেরামত আলীর মেয়ে।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,ভিকটিম হালিমা খাতুন এজাহারনামীয় ১নং আসামি মো.হোসেনের (৪৯) ছোট বোন। ভিকটিম তার বড় ভাইয়ের থেকে পৈত্রিক বাড়ির সম্পত্তি ক্রয় করে লিখিত স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ধাপে ধাপে টাকা পরিশোধ করে। গত ৫ মে বড় ভাইয়ের কথামতো ভিকটিম লিখিত স্ট্যাম্পটি ফেরত নেওয়ার জন্য ভাইয়ের ভাড়া বাসায় যায়। সেখানে বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে বড় ভাই হোসেন,জাহানারা বেগম ও মালা পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমের প্রদত্ত টাকাগুলো আত্মসাতের জন্য ভিকটিমের হাত-পা ধরে রেখে মাথার বাম পাশে, চোখ, নাক ও বাম গালের উপর ইট দিয়ে গুরুতর জখম করে। ভিকটিমের শৌরচিৎকারে আশপাশের লোকজন ভিকটিমকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।   প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার করে। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ৯ মে রাত ১০টার দিকে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গর্ভের শিশুসহ মৃত্যুবরণ করে।

    র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু আরও বলেন, পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবার বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাতক্ষীরা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
     

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      সন্ধান মিলেছে সাবেক এমপি আনারের বিলাসবহুল গাড়ির

      অনলাইন ডেস্ক
      ১০ জুন, ২০২৫ ১১:২৯
      অনলাইন ডেস্ক
      সন্ধান মিলেছে সাবেক এমপি আনারের বিলাসবহুল গাড়ির

      কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনের সামনের একটি বহুতল ভবনের পার্কিং জোনে একটি ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ির সন্ধান মিলেছে। কয়েক কোটি টাকা মূল্যের গাড়িটি কলকাতায় নিহত ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনারের বলে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।

      সোমবার (৯ জুন) রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাড়িটির সন্ধান মিললে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে যান।

      কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের আটতলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন সাফিনা টাওয়ারের গ্যারেজে ল্যান্ড ক্রুজার গাড়িটি পাওয়া যায়। গাড়ি থেকে গাড়ির কাগজপত্র, সংসদ সদস্য ও সিআইপি স্টিকার উদ্ধার করেছে পুলিশ।

      কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) স্বপন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে রাতেই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। এ সময় গাড়ি থেকে কাগজপত্র, সংসদ সদস্য ও সিআইপি স্টিকার উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটি ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের। পরে গাড়িটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।

      স্থানীয়রা জানায়, আমরা গাড়িটির খবর জানতে পেরে বিষয়টি পুলিশকে জানাই। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গাড়িটি উদ্ধার করে। পুলিশ গাড়ি থেকে গাড়ির কাগজপত্র, সংসদ সদস্য ও সিআইপি স্টিকার উদ্ধার করেছে। গাড়িটি ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

      তারা আরও জানায়, কাগজপত্রে তার নামও রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। গাড়িটি বেশ কয়েকমাস ধরে এ বহুতল ভবনের গ্যারেজে রাখা ছিল। জেনুইন লিফ কোম্পানি নামে একটা সিগারেট কোম্পানির লোকজন গাড়িটা রেখেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক।

      স্থানীয় বাসিন্দা আমিরুল বলেন, প্রথমে আমরা জানতে পারি গাড়িটি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের, যা রাখা আছে পুলিশ লাইনের সামনে অবস্থিত সাফিনা টাওয়ারের গ্যারেজে। পরে পুলিশে এসে গাড়ি থেকে গাড়ির কাগজপত্র উদ্ধার করে।

      তিনি আরও বলেন, এ গাড়ির চালক কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগার আলীর গাড়ির ড্রাইভার ছিল। সেই পুলিশকে কাগজপত্র ও স্টিকার বের করে দেয় । বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানাচ্ছি। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

      সাফিনা টাওয়ারের কেয়ারটেকার আলমগীর হোসেন বলেন, জেনুইন লিফ কোম্পানি নামের সিগারেট কোম্পানি ভবনের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলা ভাড়া নিয়েছে। এখানে কোম্পানির কাজে ফরেনাররা আসে এবং থাকে।

      নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভবনের নিরাপত্তা প্রহরী জানায়, ওনারা গাড়ি এনে রাখেন। আমি তো জানি না যে গাড়িটা কার। আজকে শুনছি গাড়িটা এক সাবেক এমপির। সিগারেট কোম্পানির অফিসের স্যাররা এ গাড়িটি রেখেছেন বেশ কয়েক মাস আগে। গাড়িটা বাইরে বের করা হয় না। তবে মাঝেমধ্যে স্টার্ট দেওয়া হয়। চালক শান্ত মাঝে মাঝে গাড়িটি স্টার্ট দেন।

      গাড়িটির চালক শান্ত বলেন, আগে আমি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগার আলীর গাড়ি চালাতাম। বর্তমানে আমি জেনুইন লিফ কোম্পানির গাড়িচালক হিসেবে চাকরি করছি। কোম্পানির জিএম স্যার বেলাল ও সিইও জাহিদ স্যারের গাড়ি চালাই। তাদের হুকুমে আমি গাড়ি চালু করেছি। গাড়ির মালিক কে তা আমি জানি না। বেলাল এবং জাহিদ স্যার সব কিছু জানেন। তাদের হুকুমে গাড়ি স্টার্ট দিয়েছি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

      কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মোশাররফ হোসেন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

      উল্লেখ্য, গত বছরের ১৬ মে থেকে ভারতে অবস্থানকালে তৎকালীন এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তিনি। ২২ মে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে ঝিনাইদহের সাবেক এমপি আনারের মরদেহ ভারতীয় পুলিশ উদ্ধার করতে না পারলেও। পড়ে সেখানকার পুলিশ জানায়, এমপি আনারকে হত্যার পর টুকরো টুকরো করা হয়। মরদেহের অংশ বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেয় খুনিরা।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য
        সর্বশেষ সংবাদ
          সর্বাধিক পঠিত