ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

মেজর সিনহা হত্যা মামলা

ওসি প্রদীপ-লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড বহাল

অনলাইন ডেস্ক
২ জুন, ২০২৫ ১১:৪৪
অনলাইন ডেস্ক
ওসি প্রদীপ-লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড বহাল

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় পুলিশের বরখাস্ত ওসি প্রদীপ ও এসআই লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে অন্য ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও বহাল রাখা হয়েছে। 

রবিবার বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের বেঞ্চ এই রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) আবেদন মঞ্জুর ও দণ্ডিতদের আপিল খারিজ করে এই রায় দেওয়া হয়।

 যাবজ্জীবন বহাল রাখা হয়েছে— বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিত, বরখাস্ত কনস্টেবল সাগর দেব, দেহরক্ষী রুবেল শর্মা, পুলিশের সোর্স শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন। 

রায়ে খালাস প্রাপ্তরা হলেন— বরখাস্ত কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, বরখাস্ত এপিবিএনের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজাহান, বরখাস্ত কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহর। 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি মো. জেনারেল জসিম সরকার, মো আসাদ উদ্দিন।

আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান, মো. মনসুরুল হক চৌধুরী, মাহবুব শফিক, মো. শফিকুল ইসলাম রিপন, সারওয়ার আহমেদ, শুভ্রজিৎ ব্যানার্জি, শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম, এস এম মাহবুবুল ইসলাম, মো. আমিনুল ইসলাম, বশির আহমেদ, আকরাম উদ্দিন শ্যামল।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে নিহত হন সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় নিহত সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস ২০২০ সালের ৫ আগস্ট বাদী হয়ে কক্সবাজার আদালতে টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান করে নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলায় টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে করা হয় দুই নম্বর আসামি।

এ মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় র‌্যাবকে। ২০২০ সালের ১৩ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম ওসি প্রদীপসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে সাক্ষী করা হয় ৮৩ জনকে। একই দিন পুলিশের দায়ের করা মামলা তিনটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
২০২১ সালের ২৭ জুন আদালত ১৫ আসামির বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরুর আদেশ দেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালত।

কিন্তু করোনা মহামারির কারণে আদালতের বিচার কার্যক্রম স্থগিত থাকায় ধার্য দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়নি। পরে ২০২১ সালের ২৩ আগস্ট থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮৩ জনের মধ্যে ৬৫ জন এ মামলায় সাক্ষ্য দেন। ২০২২ সালের ৯ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মামলার উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর ৩১ জানুয়ারি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে বরখাস্ত ওসি প্রদীপ ও এসআই লিয়াকতকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আর ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়ে বাকিদের খালাস দেন বিচারিক আদালত।

কোনো মামলায় বিচারিক আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুসারে সে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত। বিচারিক আদালতের রায়ের সাত দিনের মাথায় ২০২২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার যাবতীয় নথিসহ ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়। আর বিচারিক আদালতের রায়ের দুই সপ্তাহের মাথায় খালাসের পাশাপাশি রায় বাতিল ও রদ চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন প্রদীপ-লিয়াকত। পরে যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশ পাওয়া দণ্ডিতরাও আপিল করেন। গত ২৩ এপ্রিল ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    নগদে আতিকের স্ত্রীর নিয়োগে অনিয়ম পেয়েছে দুদক

    অনলাইন ডেস্ক
    ১ জুন, ২০২৫ ১৭:৫৪
    অনলাইন ডেস্ক
    নগদে আতিকের স্ত্রীর নিয়োগে অনিয়ম পেয়েছে দুদক

    মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান নগদের দুর্নীতি অনুসন্ধানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আতিক মোর্শেদের স্ত্রীর নিয়োগে প্রাথমিকভাবে অনিয়মের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    রবিবার (১ জুন) সংস্থাটির কর্মকর্তারা নগদের গুলশান অফিসে অভিযান পরিচালনা করেন। পরে দুদকের সহকারী পরিচালক ইকরাম হোসেন জানান, নগদে অভিযান চালিয়ে প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তার স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে অসঙ্গতির তথ্য মিলেছে।

    এ ছাড়া নগদের গত দুই মাসের বিল ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

    এ দিকে গত ৩০ মে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আতিক মোর্শেদ ভুয়া বিল-ভাউচারে নগদ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন। পাশাপাশি ওই পোস্টে তার স্ত্রীর নগদে মেধা ও যোগ্যতার বলে চাকরি পেয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

    শনিবার (৩১ মে) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব লিখেন, আমার ব্যক্তিগত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট এবং স্বজন প্রীতির অভিযোগ এসেছে। কাজটা ঠিক হয়নি—এটা আমি বিনাবাক্যে স্বীকার করছি।

    তাকে প্রচণ্ডরকম বকাবকিও করেছি। উনার বউকে চাকরি দেওয়ার বিষয়টি আমি তদন্তের ব্যবস্থা করেছি, নির্দেশনা দিয়েছি।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      চাঁদাবাজির সময় সেনাবাহিনীর হাতে এনসিপি নেতা গ্রেফতার

      অনলাইন ডেস্ক
      ৩০ মে, ২০২৫ ১৫:১৬
      অনলাইন ডেস্ক
      চাঁদাবাজির সময় সেনাবাহিনীর হাতে এনসিপি নেতা গ্রেফতার

      দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সেনাকল্যাণ সংস্থার ট্রাক আটক করে চাঁদাবাজির সময় তারিকুল ইসলাম (৪০) নামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী।

      বৃহস্পতিবার (২৯ মে) দিবাগত রাতে পাবর্তীপুর উপজেলার মহেশপুর গ্রামের রসুলপুরে এলাকায় চাঁদাবাজির সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

      তারিকুল ইসলাম উপজেলার পশ্চিম রাজাবাসর গ্রামের মৃত মাহমুদুল সরকারের ছেলে। নিজেকে তিনি নিজেকে এনসিপির পার্বতীপুর উপজেলার মুখ্য সংগঠক দাবি করেন।

      থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির পরিত্যক্ত মালামাল (স্ক্র্যাব) টেন্ডারের মাধ্যমে পায় সেনাকল্যাণ সংস্থা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর টেন্ডারকৃত মালামালসহ দুটি ট্রাকে করে কয়লাখনি থেকে বের হলে রাত পৌনে ৮টার দিকে ট্রাকটি কয়লাখনি-মধ্যপাড়া সড়কের রসুলপুর নামক এলাকায় গতিরোধ করে তারিকুলসহ কয়েকজন চাঁদা দাবি করে। খবর পেয়ে পার্বতীপুরে দায়িত্বরত সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারিকুলকে গ্রেফতার করে। এ সময় পালিয়ে যান অন্যরা। পরে সেনাবাহিনী ও র‍্যাব-১৩-এর একটি দল তাকে পার্বতীপুর মডেল থানায় সোপর্দ করে।

      পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন  বলেন, এনসিপি নেতা তারেককে রাত ১০টার দিকে থানায় হস্তান্তর করেছে সেনাবাহিনী ও র‍্যাব-১৩। এই ঘটনায় রাতেই সেনাকল্যাণ সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতার হাত-পা ভেঙে দিলেন ছাত্রদল নেতা

        অনলাইন ডেস্ক
        ৩০ মে, ২০২৫ ১৩:৫০
        অনলাইন ডেস্ক
        চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতার হাত-পা ভেঙে দিলেন ছাত্রদল নেতা
        অভিযুক্ত সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. ফারুক (লাল বৃত্তে)। ছবি : সংগৃহীত

        নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চাঁদা না দেওয়ায় এক বিএনপি নেতাকে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে সাবেক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মো. ফারুক উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

        আর ভুক্তভোগী আব্দুল মতিন মুন্সী সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক।

        এদিকে বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বিকেলে মারধর ও হত্যার হুমকির ঘটনায় ছাত্রদল নেতা ফারুকসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আব্দুল মতিন মুন্সীর মেয়ে মহিতুন নেছা সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

        অভিযোগের বরাত দিয়ে মহিতুন নেছা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার বাবা আব্দুল মতিন মুন্সী উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকার হৈচৈ পার্ক নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। কয়েকদিন আগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য তার বাবার থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ফারুকসহ এলাকায় চিহ্নিত ১০-১২ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। এতে তিনি ২ লাখ টাকা চাঁদা দিলেও তাকে পুরো ১০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দিয়ে আসছিলেন।

        বুধবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় চর কিশোরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় তার বাবার কাছে পুনরায় চাঁদা দাবি করলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফারুকসহ তার বাহিনীর শহিদ, বাবু, রিমন, সোহাগ, মাসুদ, ফয়জল, মহিন এবং সাব্বির দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বাবাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম ও পা ও হাতের হাড় ভেঙ্গে পালিয়ে যায়। পরে তার ডাক-চিৎকার শুনে এলাকাবাসী উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়৷

        এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. ফারুক জানান, ‘আব্দুল মতিন একটি ছোট ছেলেকে বলাৎকার করার চেষ্টা করেছে। তাই তাকে এলাকাবাসী মারধর করেছে।’

        এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজুর রহমান জানান, মারধরের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। সঠিক তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

        মন্তব্য

        হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাগারে জবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনোয়ারা বেগম

        অনলাইন ডেস্ক
        ২৯ মে, ২০২৫ ২০:১৮
        অনলাইন ডেস্ক
        হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাগারে জবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনোয়ারা বেগম

        বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাচেষ্টা মামলায় মুক্তিযোদ্ধা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক এসএম আনোয়ারা বেগমের জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

        বৃহস্পতিবার (২৯ মে) শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান এ রায় দেন।

        এর আগে, বুধবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে আনোয়ারা বেগমকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে সূত্রাপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে থানায় নিয়ে আসে তাকে।

        পরে আজ তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার এসআই এ কে এম মাহমুদুল কবির মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে তাকে আটক রাখার আবেদন করেন। 

        তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, এজাহার নামীয় আসামি আনোয়ারা বেগম। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা যাচাই করা হচ্ছে। যদি তিনি জামিন পান, তাহলে তিনি চিরতরে পালিয়ে যাবেন। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।

        অপরদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী ওবাইদুল ইসলাম জামিন আবেদন করেন। শুনানিকে তিনি বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে আনোয়ারা বেগম জড়িত ছিলেন না এবং কেবল হয়রানির জন্যই তাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তাই মানবিক কারণে তাকে জামিন দেওয়া উচিত। এছাড়া রাষ্ট্র পক্ষে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। 

        উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ম্যাজিস্ট্রেট আসামিপক্ষের আবেদন খারিজ করে এ আদেশ দেন। পরে তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

        সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলার ৪৩ নম্বর আসামি আনোয়ারা বেগম।

        মামলার বাদী সুজন মোল্লা বলেন, এদের মতো দলকানা শিক্ষকদের জন্য স্বৈরাচারী আমলে শিক্ষক সমাজ কলঙ্কিত হয়েছে। উনি বলতেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যারা কাজ করে, তারা রাজাকার। আর যেহেতু ছাত্রদল-শিবির আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কাজ করে, তাই এরাও রাজাকার। এদেরকে গুলি করে মারা উচিত।

        সুজন আরও জানান, পিএসসির সদস্য থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগ ছাড়া তিনি কাউকে বিসিএসের জন্য উত্তীর্ণ করতেন না। উনার মতো আওয়ামী দোসরদের সঠিক বিচার দাবি করছি। কারণ উনারা ছাত্রলীগের মাফিয়াদের পুলিশ প্রশাসনে নিযুক্ত করেছেন এবং ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগকে টাকা দিয়ে ছাত্রদলসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন।

        জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সুজন মোল্লার চোখে গুলি লাগে। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগের ৯৪ জনসহ মোট ১৯৩ জনের বিরুদ্ধে তিনি মামলা দায়ের করেন। মামলায় শেখ হাসিনাকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। 

        এছাড়া, আওয়ামী লীগের বাকি উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক তথ্যমন্ত্রী আরাফাত রহমান ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত