ঢাকা, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৩ বৈশাখ ১৪৩৩
 
শিরোনাম

প্রতারণার মামলায় সাকিবের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ১২:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রতারণার মামলায় সাকিবের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

চেক প্রতারণার মামলায় ক্রিকেটার ও মাগুরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হকের আদালতে আইএফআইসি ব্যাংকের পক্ষে শাহিবুর রহমান বাদী হয়ে সাকিবসহ ৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ওইদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আসামিদের আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন, সাকিব আল হাসান অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেডের এমডি গাজী শাহাগীর হোসাইন, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইমদাদুল হক ও মালাইকা বেগম। এর মধ্যে আসামি ইমদাদুল হক ও মালাইকা বেগম আদালতে হাজিরা দেন। অপর আসামিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামি সাকিবের মালিকানাধীন অ্যাগ্রো ফার্ম ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় আইএফআইসি ব্যাংকের বনানী শাখা থেকে ঋণ গ্রহণ করে। তার বিপরীতে দুটি চেক ইস্যু করে সাকিবের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি। এরপর চেক উত্তোলন করতে গেলে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তা ডিজঅনার হয়। দুই চেকে টাকার পরিমাণ প্রায় চার কোটি পনেরো লাখ টাকা।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ভারতে দলিত কিশোরীকে ৫ বছর ধরে ৬৪ জন মিলে ধর্ষণের অভিযোগ

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ২০:৫৪
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ভারতে দলিত কিশোরীকে ৫ বছর ধরে ৬৪ জন মিলে ধর্ষণের অভিযোগ

    ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার বাসিন্দা এক ১৮ বছর বয়সী দলিত কিশোরীকে গত পাঁচ বছর ধরে ৬৪ জন পুরুষ যৌন নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বয়স যখন মাত্র ১৩ বছর ছিল, তখন থেকেই যৌন নিগ্রহের শিকার হতে শুরু করে।

    পুলিশ এখন পর্যন্ত ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশ হেফাজতে থাকায় তাদের কোনও বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। পুলিশ বলছে, অভিযুক্তদের বয়স ১৭ থেকে ৪৭ বছর পর্যন্ত এবং তাদের মধ্যে আছে ওই কিশোরীর প্রতিবেশী, তার খেলার প্রশিক্ষক এবং বাবার বন্ধুরাও। অভিযুক্তদের মধ্যে প্রথম নামটি ওই কিশোরীর প্রতিবেশী এবং তার ছোটবেলার বন্ধুর।

    এক সরকারি কর্মসূচির আওতায় কয়েকজন মনোবিদ ওই কিশোরীর বাড়িতে গিয়েছিলেন। তখনই পুরো ঘটনা জানা যায়। পতনমথিট্টা জেলার পুলিশ সুপার নন্দকুমার এস বিবিসিকে বলেছেন, এখন পর্যন্ত ১৮টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে দলিত শ্রেণির মানুষের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধ-রোধী আইন এবং শিশু-কিশোরদের ওপর যৌন নিগ্রহ রোধ আইনের মামলাও রয়েছে।

    পুলিশি তদন্ত এখনও চলছে। যে কারণে পরবর্তীতে আরও নতুন মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনা তদন্তে ২৫ সদস্যের একটি দল গঠন করেছে রাজ্য সরকার।

    • ছোটবেলার বন্ধুই প্রথম নির্যাতন চালায়: ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ মিনিট বলছে, ওই কিশোরী যখন ১৩ বছর বয়সী ছিল, তখনই প্রথমবার সে যৌন নিগ্রহের শিকার হয়। তার পাড়ার ছোটবেলার এক বন্ধুই তাকে প্রথম যৌন নিগ্রহ করে এবং সেই ঘটনার কিছু ছবিও তুলে রাখে সে। এই বন্ধুর নামই অভিযুক্তদের তালিকায় এক নম্বরে আছে।

    পতনমথিট্টা জেলার ক্রাইম ব্রাঞ্চের মুখপাত্র সঞ্জীব এম বিবিসিকে বলেন, ‘‘প্রথম অভিযুক্তের মোবাইলে যৌন নিগ্রহের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই ভিডিও দেখিয়েই সে কিশোরীকে ব্ল্যাকমেইল করে যৌন নিগ্রহ চালাত। আবার তার বন্ধুদের কাছেও নিয়ে যেত কিশোরীটিকে।’’

    পরবর্তীতে ওই কিশোরীর ১৬ বছর বয়সে সেই বন্ধুই আবারও যৌন নিগ্রহ করে। এবার সেই যৌন নিগ্রহের ভিডিও করে সেটা কয়েকজনের সঙ্গে শেয়ার করে দেয় ওই প্রতিবেশী। সেসব ব্যক্তিরা পরবর্তী কয়েক বছর ধরে যৌন নিগ্রহ চালাতে থাকে।

    • ক্রীড়া প্রশিক্ষকও যৌন নিগ্রহ চালায়: জেলা শিশু-কিশোর কল্যাণ কমিটির প্রধান ও আইনজীবী এন রাজীব বিবিসিকে বলেছেন, যৌন নিগ্রহের শিকার হওয়া ওই কিশোরী একজন অ্যাথলেট। খেলার জন্য নানা শিবিরে তাকে যেতে হতো। সেখানেও যৌন নিগ্রহের শিকার হতে হয় তাকে।

    পুলিশ বলছে, গত পাঁচ বছরে ওই কিশোরীকে অন্তত তিনবার গণ-ধর্ষণের অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, ওই কিশোরীর ছোটবেলার যে বন্ধু প্রথমবার তাকে যৌন নিগ্রহ করেছিল, সে অন্তত একবার গণ-ধর্ষণেও হাজির ছিল।

    অভিযোগ, ওই কিশোরী প্রথমবার গণ-ধর্ষণের শিকার হন তার বাড়ির পাশেই।

    সঞ্জীব এম বিবিসিকে বলেছেন, অভিযুক্তরা ওই কিশোরীর বাবার ফোন নম্বরে কল করত এবং সে তাদের সবার নম্বর ওই ফোনেই সেভ করে রেখেছিল। বাবার ফোনে আসা এরকম ৪০ জন অভিযুক্তের কল সে সেভ করে রেখেছিল। ওই ফোন থেকে তথ্য যোগাড় করেই পুলিশ এখন বাকি অভিযুক্তদের সন্ধান করছে।

    • যেভাবে ঘটনা জানা গেল: ওই কিশোরীর পরিবার অবশ্য গোটা ঘটনার কিছুই জানত না। গত মাসে যখন ওই কিশোরীর বাড়িতে কয়েকজন মনোবিদ যান, তখনই ব্যাপারটা জানা যায়। ওই মনোবিদরা শিশু-কিশোর কল্যাণ কমিটিকে জানায় ঘটনাটি।

    শিশু-কিশোর কল্যাণ কমিটির প্রধান ও আইনজীবী এন রাজীব বলছিলেন, কুটুম্বশ্রী স্নেহিতা নামের একটি সরকারি কর্মসূচির আওতায় কয়েকজন কাউন্সেলর বিস্তারিত পারিবারিক তথ্য যোগাড় করছিলেন। পরিবারগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে যে, নিজেদের সমস্যাগুলো কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

    ‘‘যৌন নিগ্রহের শিকার এই কিশোরী যখন তার স্কুলের কথা বলতে চাইছিল, তখন সে জেদ ধরে যে কোনও একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবে। ওই মনোবিদ-কাউন্সেলর সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’’

    তিনি বলেন, তার মানসিক কাউন্সেলিং করা হচ্ছে এখন। সে মনোবিদের সামনে মুখ খুলছে, ১৩ বছর বয়স থেকে কীভাবে সে যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছে, তা জানাচ্ছে। কিশোরীটি যখন তাদের সঙ্গে কথা বলছিল, তখন তার মা বাইরে অপেক্ষা করছিলেন।

    সাধারণত শিশু-কিশোর কল্যাণ কমিটিগুলো স্থানীয় থানায় এ ধরনের ঘটনার খবর জানিয়ে দেয়। তবে রাজীব বলেন, আমাদের মনে হয়েছিল যে এটা অনেক গুরুতর ঘটনা। তাই আমি সরাসরি জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। নিরাপত্তার খাতিরে একটি শিশু-কিশোর হোমে তাকে এবং তার মাকে রাখা হয়েছে।

    • নারী অধিকার সংগঠনগুলো কী বলছে? 

    নারী অধিকার সংগঠন সখীর আইনজীবী সন্ধ্যা জনার্দন পিল্লাই বিবিসিকে বলেছেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে শিশু-কিশোরীদের যৌন নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য শুধু আইন করা যথেষ্ট নয়।

    তার কথায়, ‘‘শিশু-কিশোরীদের নিরাপদে রাখার গোটা ব্যবস্থাতেই যে গলদ আছে, সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই ঘটনা। এছাড়াও যৌন নির্যাতনের শিকার কিশোরীটি গরীব এবং দলিত পরিবারের সদস্য। সামাজিক অবস্থানের দিক থেকে এই কিশোরী তাই সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে রয়েছে।’’

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      বাকৃবিতে চুরির ফুল দিয়ে ইসকন মন্দিরে পুজা: ৩ শিক্ষার্থীকে সাজা

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ১১:৩৬
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      বাকৃবিতে চুরির ফুল দিয়ে ইসকন মন্দিরে পুজা: ৩ শিক্ষার্থীকে সাজা

      বাকৃবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শহীদ নাজমুল আহসান হল থেকে ৩ বস্তা ফুল চুরির অভিযোগে ৩ শিক্ষার্থী শাস্তির মুখে পড়েছে। চুরি করা ফুলগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের পেছনে অবস্থিত ‘ভক্তি কুটির ইসকন মন্দিরে’ পুষ্পাঅভিষেক পুজার জন্য ব্যবহার করা হয়।

      সোমবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. কাজী কামরুল ইসলাম ইসকন মন্দিরে সরেজমিন গিয়ে হলের ফুল শনাক্ত করেন। এ সময় তিনি একজন শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করেন এবং প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

      পরে বাকি দুই অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে প্রক্টর অফিসে ডেকে আনা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং পরবর্তীতে এ ধরণের অপরাধ না করার অঙ্গীকার করে।

      এ বিষয়ে শহীদ নাজমুল আহসান হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. কাজী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে হলের গার্ডরা ফুল চুরির ঘটনা আমাকে জানায়। পরে খোঁজ নিতে গিয়ে ইসকন মন্দিরে চুরিকৃত ফুল শনাক্ত করি। সেখান থেকে একজন শিক্ষার্থীকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি। চুরির সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীরা হলের বাগান থেকে তিন বস্তা ফুল নিয়ে যায় এবং তা মন্দিরের পুজার কাজে ব্যবহার করে। একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান চুরি করা জিনিস দিয়ে করা যায় না।’

      এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধির ৭ নং ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শহীদ নাজমুল আহসান হলের একজন শিক্ষার্থীকে জরিমানা করা হয়। শহীদ শামসুল হক হলের অপর দুই শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব না থাকায় তাদের হল থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

      শামসুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘আমার হলের দুই শিক্ষার্থী জড়িত থাকায় তাৎক্ষণিক তাদের রুম তালাবদ্ধ করা হয়েছে এবং হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

      বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, “ধর্মীয় প্রার্থনা চুরি করা জিনিস দিয়ে হতে পারে না। অভিযুক্তরা পরিণত বয়সের শিক্ষার্থী। এটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        দেড় শ কোটি টাকা সন্দেহজনক লেনদেন, শেখ হাসিনার সহকারী লিকুর নামে ৪ মামলা

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ২১:৫০
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        দেড় শ কোটি টাকা সন্দেহজনক লেনদেন, শেখ হাসিনার সহকারী লিকুর নামে ৪ মামলা

        ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব–২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর নামে পৃথক চারটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব মামলায় লিকুর স্ত্রী, ভাই, ভাগনে, শ্যালক, ম্যানেজার ও কেয়ারটেকারসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

        মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এসব মামলায় লিকু ও তাঁর সংশ্লিষ্টরা ১৪৪ কোটি ৫৯ লাখ ১৩ হাজার ১০ টাকা সন্দেহজনক লেনদেন করেন। এ ছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ ১২ হাজার ৯৬ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

        আজ সোমবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা–১ এ সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আহসানুর কবীর পলাশ বাদী হয়ে দুটি, সহকারী পরিচালক মো. রাকিবুল হায়াত বাদী হয়ে একটি ও উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলামা মিন্টু বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।

        দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

        মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, শেখ হাসিনার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব লিকুকে প্রধান আসামি করে দুটি মামলা করা হয়েছে। একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ৫৫ লাখ ৩২ হাজার ৮৮০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অপর মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ৩৩টি ব্যাংক হিসাবে ১৪৪ কোটি টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে। লিকুসহ এই মামলায় ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

        মামলার অন্য আসামিরা হলেন– লিকুর স্ত্রী রহিমা আক্তার, শ্যালক শেখ মো. ইকরাম, লিকুর ভাই–গাজী মুস্তাফিজুর রহমান (দিপু), ভাগনে তানভীর আহম্মেদ, ব্যবসায়িক অংশীদার মো. লিয়াকত হোসেন সবুজ ও মো. কালু সেখ, লিকুর বাসার কেয়ারটেকার হামিম শেখ, তার ম্যানেজার মিন্টু রহমান ও মো. আরাফাত হোসেন।

        মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, স্ত্রী রহিমা আক্তার তাঁর ৯টি ব্যাংক হিসাবে ১২ কোটি ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৪৬ টাকা সন্দেহজনক লেনদেন করেন। একইভাবে শেখ মো. ইকরাম ব্যক্তিগত ও যৌথ নামে পরিচালিত ৩টি ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক ২১ কোটি ৫ লাখ ৭৩ হাজার ২৯৭ টাকা, গাজী মুস্তাফিজুর রহমান (দিপু) ব্যক্তিগত ও যৌথ নামে পরিচালিত ৪টি ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক ১৯ কোটি ৪৬ লাখ ১১ হাজার ৯৬৩ টাকা, তানভীর আহম্মেদ ১৯ কোটি ৮৮ রাখ ৭৯ হাজার ৩৫৪ টাকা, মো. লিয়াকত হোসেন (সবুজ) ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৬০ হাজার ২৬৩ টাকা, আসামি মো. কালু সেখ ব্যক্তিগত ও যৌথ নামে পরিচালিত ৩টি ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক ৫৬ কোটি ৫২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৪৯ ও লিকুর কেয়ারটেকার হামিম শেখ ৪টি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৩০ লাখ ৭৫ হাজার ২৭৭ টাকা লেনদেন করেন।

        এ ছাড়া, গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর স্ত্রী রহিমা আক্তারের বিরুদ্ধে ২৩ কোটি ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬৮ টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলায় লিকুকেও আসামি করা হয়েছে।

        লিকুর শ্যালক শেখ মো. ইকরামের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চতুর্থ মামলায় তাঁকেও (লিকু) আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় ইকরামের বিরুদ্ধে ১৪ কোটি ৭৫ লাখ ৭৯ হাজার ৩৪৮ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের চার অভিযান

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ১২ জানুয়ারি, ২০২৫ ১৯:২৮
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের চার অভিযান

          দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে আসা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের একাধিক টিম রবিবার (১২ জানুয়ারি) সারাদেশে ৪টি অভিযান পরিচালনা করে।

          👉অভিযান ০১: তিতাস গ্যাসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঢাকার সাভার এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-২ হতে আজ একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে দুদক টিম সাভারের তিতাস গ্যাস অফিস হতে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে। সাভারের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করে ১১০ টির অধিক অবৈধ গ্যাস সংযোগ পাওয়া যায় এবং তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় সে সকল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

          👉অভিযান ০২: তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, গাজীপুর -এর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুসের বিনিময়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা কার্যালয়, গাজীপুর হতে অপর একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট গাজীপুর সদরের উত্তর বিলাশপুর, চান্দনা চৌরাস্তা স্থানসমূহে অবৈধ গ্যাস সংযোগ পাওয়া যায়। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, গাজীপুর -এর সহযোগিতায় প্রায় ৪০টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। অধিকন্তু, অবৈধ সংযোগ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব‍্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিতাস কর্তৃপক্ষ জানানো হয় । অভিযানকালে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড গাজীপুর এর কর্মকর্তা কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলাসহ অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা রয়েছে মর্মে টিমের নিকট প্রতীয়মান হয়। এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

          👉অভিযান ০৩: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ -এর কর্মচারী ও শিক্ষকগণ কর্তৃক চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত ক্রয়, ভুয়া বিল-ভাউচার প্রস্তুত, কেনাকাটায় টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতসহ নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা কার্যালয়, গোপালগঞ্জ কর্তৃক একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আসবাবপত্র ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত বেঞ্চ ক্রয় ও নিম্নমানের মালামাল ক্রয়ের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২টি পানি শোধনাগার বন্ধ অবস্থায় রয়েছে, যার মধ্যে একটির যন্ত্রপাতি ও পাইপ নিম্নমানের পাওয়া যায়। অভিযানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগের শর্ত (বয়স ৩২ এর উপরে) ভঙ্গ করে নিয়োগ দেয়ার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়াও কফি হাউজ ও লেকপাড়ের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ না করেই পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত বিল দেওয়া, ৭-৮ বছর আগে কাজ শুরু করেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেইট নির্মাণ শেষ না করে আর্থিক অনিয়ম করা, ম্যুরাল নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ সাময়িক বরখাস্তকৃত উপপরিচালক কর্তৃক সিন্ডিকেট করে কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। অভিযানকালে সংগৃহীত সকল তথ্যাবলি বিস্তারিতভাবে যাচাই করে কমিশন বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

          👉অভিযান ০৪: শিক্ষা বোর্ডের অনিয়ম আড়াল করতে অডিট টিম কর্তৃক ঘুস লেনদেন ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা কার্যালয়, দিনাজপুর হতে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযোগে বর্ণিত ব্যাংক হিসাব বিবরণী পর্যালোচনা করে। প্রাথমিক পর্যালোচনায় ঘুস লেনদেনের সত্যতা রয়েছে মর্মে টিমের নিকট প্রতীয়মান হয়। কেনাকাটার বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়ে টিম বিভিন্ন রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত