শিরোনাম
বেনজীরের পাসপোর্টেও নজিরবিহীন জালিয়াতি!
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ নিজের পাসপোর্ট করতে নজিরবিহীন জালিয়াতি করেছেন। পুলিশ পরিচয় আড়াল করে পাসপোর্টে নিজেকে ‘বেসরকারি চাকরিজীবী’ পরিচয় দিয়ে নিয়েছেন সাধারণ পাসপোর্ট। সরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে নীল রঙের অফিশিয়াল পাসপোর্ট করেননি তিনি। সুযোগ থাকার পরও নেননি ‘লাল পাসপোর্ট’।
সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের আলোচিত দুই ভাই হারিস আহমেদ ও তোফায়েল আহমেদ জোসেফ যে প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট করেছিলেন, ঠিক সেই একই কায়দায় পাসপোর্ট নেন বেনজীর।
চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য একটি গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা গেছে।
জানা যায়, বেনজীর তার পুরনো হাতে লেখা পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করেন ২০১০ সালের ১১ই অক্টোবর। রহস্যজনক কারণে নীল রঙের অফিশিয়াল পাসপোর্ট না নিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট নেন তিনি। আবেদন ফরমে পেশা হিসাবে লেখেন ‘প্রাইভেট সার্ভিস’।
নথি ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১০ সালের ১৪ই অক্টোবর বেনজীরকে নবায়নকৃত এমআরপি (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) দেওয়া হয় (নম্বর এএ১০৭৩২৫২)। মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ছিল ২০১৫ সালের ১৩ই অক্টোবর। মেয়াদপূর্তির আগেই ২০১৪ সালে ফের তিনি পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করেন। কিন্তু এবারও যথারীতি নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী বলে পরিচয় দেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেনজীর তখন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার। এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও তিনি অফিশিয়াল পাসপোর্ট নেননি। তার দ্বিতীয় দফায় নবায়নকৃত পাসপোর্টের মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (পাসপোর্ট নম্বর বিসি ০১১১০৭০)। পরে ২০১৬ সালে তিনি ফের পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন জমা দেন। এ সময় তিনি ছিলেন র্যাব মহাপরিচালক। এবারও যথারীতি তিনি বেসরকারি পাসপোর্টের আবেদন করেন। তখনই ধরা পড়ে তার তথ্য গোপন ও জালিয়াতির ঘটনা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বেনজীর নিজে পাসপোর্ট অফিসে হাজির হননি। আবেদন ফরম নিয়ে আসেন তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা। কিন্তু র্যাব মহাপরিচালকের বেসরকারি পাসপোর্ট দেখে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালকের নজরে আনা হলে বেনজীরের আবেদনপত্র আটকে যায়। তখন বেনজীরকে বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দাখিল করতে বলা হয়। কিন্তু এনওসি জমা না দিয়ে পাসপোর্ট নবায়নের চাপ দেন বেনজীর।
সূত্র জানায়, সন্দেহজনক বিবেচনায় বেনজীরের বেসরকারি সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণের পক্ষে যথাযথ ব্যাখ্যা চেয়ে র্যাব সদর দপ্তরে চিঠি দেয় পাসপোর্ট অধিদপ্তর। কিন্তু এতে কাজ হয়নি। ২০১৬ সালের ১৫ই ডিসেম্বর র্যাব সদর দপ্তর থেকে তার উদ্দেশ্য হাসিলের পক্ষে চিঠি দেওয়া হয়। র্যাব সদর দপ্তরের তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) আব্দুল জলিল মন্ডল অবিলম্বে তার পাসপোর্ট প্রতিস্থাপনের অনুরোধ করে চিঠি দেন। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেনজীরকে পাসপোর্ট দিতে বাধ্য হয় পাসপোর্ট অধিদপ্তর (ডিআইপি)। যার নম্বর বিএম০৮২৮১৪১।
যে কারণে বেনজীর লাল পাসপোর্ট নেননি
২০২০ সালে ৩০তম আইজিপি হিসাবে পুলিশবাহিনীর প্রধান পদে দায়িত্ব নেন বেনজীর। নিয়মানুযায়ী সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা হিসাবে তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার কথা। কিন্তু তিনি মর্যাদাপূর্ণ লাল পাসপোর্টও নেননি। আইজিপি হয়েও তিনি ফের বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করেন। কিন্তু ততদিনে দেশে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ায় বেনজীরের আবেদন নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।
সূত্র জানায়, এ সময় বেনজীর আহমেদ আশ্রয় নেন নজিরবিহীন প্রতারণার। চলাচলে অক্ষম হিসাবে গুরুতর অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে ডিআইপির মোবাইল ইউনিট চেয়ে পাঠান। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তার বাসায় গিয়ে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ নেওয়াসহ সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন। অতিগোপনে করা হয় এসব কাজ। ২০২০ সালের ৪ই মার্চ তার আবেদনপত্র জমা হয়ে যায়। ১লা জুন বেনজীরের নামে ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা হয় (নম্বর বি০০০০২০৯৫)। একই প্রক্রিয়ায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের দুই ভাই হারিস আহমেদ ও তোফায়েল আহমেদ জোসেফের পাসপোর্ট করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিথ্যা তথ্যে পাসপোর্ট দেওয়া ছাড়াও বেনজীরের পাসপোর্টে আরও কয়েকটি বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। যেমন: সরকারি চাকরিজীবীদের ৫ বছরের বেশি মেয়াদের পাসপোর্ট দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও তাকে দেওয়া হয়েছে ১০ বছর মেয়াদি। এছাড়া আইজিপির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তার নামে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর আগে বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানানোর কথা থাকলেও তা মানা হয়নি।
পাসপোর্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মানুযায়ী যে কোনো সরকারি চাকরিজীবী চাইলে অফিশিয়াল পাসপোর্টের বদলে সাধারণ পাসপোর্ট নিতে পারেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। পেশা হিসাবে সরকারি চাকরিজীবী কথাটি উল্লেখ করতে হয়। সরকারি চাকরি করে কোনোভাবেই বেসরকারি চাকরি বা অন্য কোনো পেশা উল্লেখ করার সুযোগ নেই। এছাড়া পুলিশ প্রধানের মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে ‘বেসরকারি চাকরিজীবী’ পরিচয়ে পাসপোর্ট নেওয়া রীতিমতো বেআইনি এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।
সূত্র বলছে, সরকারি চাকরি করেও নানা কারণে অনেকে সাধারণ পাসপোর্ট নিয়ে থাকেন। এর একটি বড় কারণ ভিন্ন কোনো দেশের নাগরিকত্ব নেওয়ার সুবিধা নেওয়া। কারণ, সরকারি পাসপোর্ট থাকলে অন্য কোনো দেশে বসবাস বা নাগরিকত্ব গ্রহণ বেশ জটিল। এছাড়া অফিশিয়াল পাসপোর্টধারীদের দেশের বাইরে যেতে হলেও বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে বহির্গমনসংক্রান্ত অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু বেসরকারি পাসপোর্টে এসব জটিলতা কম। তাছাড়া সাধারণ পাসপোর্টে বিদেশ গমন অনেকটা বাধাহীন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাসপোর্ট কর্মকর্তা বলেন, আইজিপি হয়েও বেনজীরের মর্যাদাপূর্ণ কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নেওয়া অস্বাভাবিক। এর ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। হয়তো ইতোমধ্যে তিনি ভিন্ন কোনো দেশের নাগরিকত্ব নিয়েছেন। এ কারণে ইচ্ছা থাকলেও তিনি লাল পাসপোর্ট গ্রহণ করতে পারেননি। এছাড়া যে কোনো সময় দেশ ত্যাগের সুযোগ খোলা রাখতে হয়তো তিনি সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়াকে নিরাপদ মনে করেছেন।
এ প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এটা ন্যক্কারজনক প্রতারণা ও জালিয়াতি। যারা জালিয়াতিপূর্ণ পাসপোর্ট ইস্যু করেছে, তারাও দায় এড়াতে পারেন না। তারা তো বেনজীর আহমেদকে চেনেন না, এমন নয়। কাজেই দুপক্ষের যোগসাজশেই এটা হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, জালিয়াতিসহ বহুমাত্রিক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রক হিসাবে পাওয়া বিশেষজ্ঞ নলেজ তিনি অপরাধ সংঘটনের কাজে ব্যবহার করেছেন। সরকারি কর্মকর্তারা পূর্বানুমোদন ছাড়া বিদেশে যেতে পারেন না। এটা এড়ানোর জন্য সরকারি চাকরির তথ্য গোপন করে পাসপোর্ট নেওয়াটা একটা কারণ। অন্য কারণ হচ্ছে- বেসরকারি চাকরিজীবী হিসাবে তিনি যতটা সহজে বিদেশে ভ্রমণ, বিনিয়োগ ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাবেন, সরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে অফিশিয়াল পাসপোর্ট করলে সেই সুযোগ পাবেন না। কাজেই ভয়াবহ ধরনের অপরাধের পরিকল্পনা যে তার শুরু থেকেই ছিল, এটা তারই পরিচায়ক।
প্রেমের জেরে ৪ টুকরো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সৌরভ!
চাচাতো বোনের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করায় চাচার হাতে প্রাণ হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে ময়মনসিংহের সুতিয়া নদী থেকে উদ্ধার মৃত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৌরভ। তার চাচা ইলিয়াসকে খুঁজছে পুলিশ।
জানা গেছে, গত মে মাসে পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে আপন চাচা ইলিয়াসের মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন সৌরভ। তবে তার চাচা কোনভাবেই এই বিয়ে মেনে নেননি। বিভিন্ন সময় ইলিয়াস সৌরভের বাবা ইউসুফকে বিভিন্ন রকম হুমকি দেন। অবস্থা বেগতিক দেখে বিষয়টি পরিবারের অনেককেই জানিয়েছেন ইউসুফ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সৌরভের এলাকা সম্পর্কিত দাদা লুৎফর রহমান বলেন, ‘ সৌরভের বাবা ইউসুফ কয়েক দিন আগে আমার কাছে পরামর্শ চায় কী করা যায়। ইউসুফ থানায় ইলিয়াসের নামে জিডি করবে কি না, এ পরামর্শও চায়। কিন্তু নিজের ভাইয়ের বিরুদ্ধে জিডি করতে আমি নিরুৎসাহিত করি।’
তিনি আরও জানান, ‘এর মধ্যে ইলিয়াসের মেয়ে সৌরভের কাছ থেকে কানাডায় চলে গেছে বলে আমাকে জানায় ভাতিজা ইউসুফ। এ ঘটনা নিয়েও বেশ উদ্বিগ্ন ছিল সৌরভের বাবা। এ অবস্থায় শনিবার রাত ৯টার দিকে আমাকে ফোন করে জানায়, সৌরভ সন্ধ্যার দিকে বের হয়ে আর বাসায় ফিরে আসেনি। এখন তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরে রোববার বিকেলে গ্রামের বাড়ি থেকে জানানো হয় নিখোঁজ সৌরভের লাশ পাওয়া গেছে।’
ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের ওসি ফারুক আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা অনেকাংশে নিশ্চিত যে পারিবারিক কারণে সৌরভকে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা সৌরভের চাচা ইলিয়াসকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছি। তিনি পলাতক রয়েছেন। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করতে পারব।’
এদিকে, এ ঘটনার পর নিহত সৌরভ রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) শিক্ষার্থী বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল পুলিশ। তবে নিহতের বড় বোন ফারজানা আক্তার পপি জানিয়েছে, তার ভাই বর্তমানে রাজধানীর প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা করছিলেন।
চাঁদাবাজির অভিযোগ: গণপিটুনি খেলেন ঢাবি হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি
রাজধানীর পলাশী বাজারে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে দোকানিদের গণপিটুনির শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান এবং তার সহযোগী শহিদুল ইসলাম। রোববার রাত ১১টার দিকে পলাশী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, চাঁদাবাজিতে বাঁধা দেওয়ায় চাপাতি দিয়ে নজরুল এবং মাহবুব নামে দুই ব্যবসায়ীকে মারতে গেলে দোকানিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা ও তার সহযোগীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে চকবাজার থানায় তাদের নিয়ে যাওয়া হয়।
দোকানিরা জানান, প্রায় প্রত্যেকদিন চাঁদাবাজি করতে আসে সলিমুল্লাহ হল ছাত্রলীগের এই সাবেক সভাপতি ও তার সহযোগী শহিদুল। এর আগে পলাশী বাজারের কলা বিক্রেতা দেলোয়ার থেকে এক হাজার টাকা এবং কনফেকশনারি দোকানের মালিক সানাউল্লাহ থেকে টাকা চাঁদা নেয়। এছাড়া প্রত্যেকদিন তারা এ বাজারে চাঁদাবাজি করে বলে জানান একাধিক দোকান মালিক।
পলাশী দোকান মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক বলেন, রাত ১১টার দিকে এসে এই ছাত্রলীগ নেতা আমাদের দোকানিদের থেকে চাঁদা দাবি করে। তাকে বাধা দিলে তিনি নজরুল নামে এক ব্যবসায়ী মারধর করে এবং চাপাতি দিয়ে কোপাতে যান, পরে ওই ব্যবসায়ী পালিয়ে গেলে আমাকে চাপাতি দিয়ে মারতে আসে। আশেপাশে থাকা দোকানিরা আমাকে উদ্ধার করে এবং তাদের ধরে ফেলে। তারপর সবাই মিলে গণপিটুনি দেয়। পরে আমরা পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে নিয়ে যায়।
আরেক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, চাঁদা চাইতে আসলে আমরা তাকে বাধা দিই। তাতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথম আমাকে ঘুসি মারেন এবং পরবর্তীতে চাপাতি নিয়ে আসে কিন্তু আমি সরে যাই। তাদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। নিয়মিত অত্যাচার এবং চাঁদাবাজি করেন তারা।
পলাশী বাজারের আরেক ব্যবসায়ী ইকবাল আহমেদ বলেন, এরা দুজন নিয়মিত চাঁদাবাজি করতে আসেন বাজারে। আমরা ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারি না। আজকে মারতে আসলে আমরা সবাই ধরে তাদের গণপিটুনি দিই এবং পুলিশের হাতে তুলে দিই। আমরা এই চাঁদাবাজদের হাত থেকে মুক্তি চাই।
ঢাবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাকসুদুর রহমান বলেন, একজন সাবেক শিক্ষার্থীকে মার্কেটে চাঁদাবাজির অভিযোগে ধরে রেখেছে বলে আমরা শুনেছি। তাকে পুলিশে দিয়েছে সেটা মাত্র শুনলাম। যেহেতু সে হলে থাকে তাহলে সেটা হল প্রশাসন দেখবে। বর্তমানে সে যেহেতু আমাদের শিক্ষার্থী না, তাই আমাদের এখানে কোনো দায় নেই। ফলে বিধি অনুযায়ী তাকে কোনো শাস্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিতে পারবে না। সরকারের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হবে।
মেহেদীর হলে থাকার প্রসঙ্গে সলিমুল্লা মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল রউফ মামুন বলেন, সে অবৈধভাবে হলে থাকে। আমরা তাকে আগে চিহ্নিত করতে পারলে আগেই হল থেকে বের করে দিতাম। এখন একজন সাবেক ছাত্রের দায় তো বিশ্ববিদ্যালয় বা হল নেবে না।
ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে সলিমুল্লাহ হল থেকে মাদক এবং নারীসহ আটক হন এই নেতা। সে সময় হল প্রশাসন তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের হাতে তুলে দেয়। এর আগে ২০১৪ সালে সংগঠনের শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিকে পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় ছাত্রলীগ। মদের বারে মারামারি করার কারণেই তাকে অব্যাহতি দেয় সংগঠনটি।
ইবিতে ফের র্যাগিংয়ের ঘটনায় ৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
ইবি প্রতিনিধি : গত ৭ ফেব্রুয়ারী ইবির লালন শাহ হলের ১৩৬ নং কক্ষে আল ফিকহ এন্ড লিগাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থী অপু মিয়াকে রাতভর র্যাগিং সংক্রান্ত ঘটনায় ৩ জনকে ১ বছর (২ সেমিস্টার) করে সাময়িক বহিষ্কার এবং ২ জনকে শর্তসাপেক্ষে সতর্কীকরণ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসানের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে সাময়িক বহিষ্কারাদেশের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এতে বলা হয়, লালন শাহ হলের ১৩৬ নম্বর কক্ষে আল-ফিকহ এন্ড লিগাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অপু মিয়ার সাথে র্যাগিং সংক্রান্ত ঘটনার যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির ১৩ তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো: সাগর প্রামানিক(২০২১-২২), একই বিভাগের শিক্ষার্থী মো: উজ্জ্বল এবং শারিরীক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুদাসসির খান কাফি(২০২১-২২) কে ০১ বছর তথা দুই সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হলো।
এছাড়াও অর্থনীতি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাসিম আহমেদ মাসুম ও আইসিটি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিসনো আল আসনাওয়ী কে সতর্কীকরণ করা হলো এবং ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে।
এ ঘটনায় ইবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসান বলেন, শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশে বহিষ্কার করা হয়েছে সাময়িকভাবে। তবে তাদেরকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। যদি তারা যৌক্তিক কিছু পেশ করে নিজেদের নির্দোশ প্রমাণ করতে পারে তবে অভিযোগ থেকে খালাশ পাবে৷
আইন প্রশাসক অধ্যাপক আনিচুর রহমান বলেন, কারণ দর্শনের নোটিশ দেয়া হয়েছে। তারপর বিষয়টি সিন্ডিকেট যাবে, তখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী কোন শিক্ষার্থী যদি অনৈতিক ও অপরাধ কার্যকলাপে জড়িত হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট কোড অফ কন্টাক্ট ফলো করে পার্ট - ১ এর ৪ ও ৫ এবং পার্ট ২ এর ৮ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়।
হিজড়াদের হামলায় চোখ হারালেন পুলিশের এসআই
রাজধানীর রমনার পরীবাগ এলাকায় হিজড়াদের হামলায় পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। আহত এসআইয়ের নাম মো. মোজাহিদ।
শনিবার (১ জুন) রাত সাড়ে তিনটায় এ ঘটনা ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৪ হিজড়াকে আটক করেছে পুলিশ।
থানা সূত্রে জানা গেছে, রমনা থানার এসআই মোজাহিদসহ পুলিশের একটি দল পরিবাগ এলাকায় ডিউটি করছিল। এ সময় হিজড়াদের একটি দল ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। সেখানে পুলিশ উপস্থিতি হলে হিজড়ারা পুলিশের ওপর হামলা করে। একপর্যায়ে পুলিশকে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর একটি ইট এসআই মোজাহিদের চোখে গিয়ে পড়ে। এতে মুজাহিদের চোখের চশমার কাচ ভেদ করে চোখ মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এতে তার একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়।
ঘটনার পর এসআই মোজাহিদকে শেরেবাংলা নগর চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার চোখের অপারেশন হয়েছে। আরও কয়েকটি অপারেশন লাগবে বলে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য