শিরোনাম
মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় নিজের কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা সিতাব আলীকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৭ই জুন) রাতে উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের পূর্ব সিংগুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (১৮ই জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুলাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য। তিনি জানান, গত বছর সিতাব আলী ও তার স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর সন্তানরা বাবার সঙ্গে বসবাস করছিলো। এই সুযোগে সিতাব আলী দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়ের ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।
সম্প্রতি ভুক্তভোগী বিষয়টি তার মাকে জানালে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার রাতে অভিযোগের ভিত্তিতে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেনের সার্বিক নির্দেশনায় পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সিতাব আলীর বিরুদ্ধে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাকে মৌলভীবাজার বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
সাতক্ষীরায় সাবেক নারী এমপির বাসায় অভিযান: অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, ছেলে আটক
সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি রিফাত আমিনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। এ সময় তার ছোট ছেলে সাফায়েত সরোওয়ার রুমনকে আটক করা হয়।
রোববার ১৫ জুন দুপুরে সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর এলাকায় অবস্থিত রিফাত আমিনের নিজ বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযান চালান সাতক্ষীরা সেনা ক্যাম্পের একটি দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন মেজর ইফতেখার রহমান।
অভিযানের সময় সেনা সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন রুমন। এতে তিনি পায়ে আঘাত পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করা হয়।
সাতক্ষীরা সেনা ক্যাম্পের মেজর ইফতেখার রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ওই বাড়ি থেকে একটি রাইফেল, ৩০০ পিস ইয়াবা, বিদেশি মদ এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা গেছে, সাবেক এমপি রিফাত আমিন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে তার বড় ছেলের বাসায় অবস্থান করছেন। অভিযানের সময় বাড়িটিতে তার ছোট ছেলে রুমন একাই বসবাস করছিলেন। রুমন দীর্ঘদিন ধরেই মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানায় স্থানীয় সূত্র।
এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যমুনা সেতুর দুই প্রান্তে ৩০ কিলোমিটার যানজট
ঈদুল আজহার ছুটির শেষ দিনে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ ও অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর দুই প্রান্তে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট ও যানবাহনের ধীরগতি।
শনিবার (১৪ জুন) সকাল থেকে সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক এবং টাঙ্গাইল অংশের যমুনা সেতু থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটারজুড়ে এই যানজটের সৃষ্টি হয়।
সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতুর পশ্চিম গোল চত্বর থেকে শুরু করে কড্ডার মোড়, ঝাঐল ওভার ব্রিজ হয়ে নলকা মোড় এবং সীমান্ত বাজার পর্যন্ত ঢাকাগামী লেনে যানবাহনের এই দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
এর আগে, গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই এই লেনে যানবাহনের ধীরগতি ছিল। শনিবার ভোর থেকে তা বাড়তে বাড়তে তীব্র যানজটে রূপ নেয়। কোথাও থেমে থেমে, আবার কোথাও একেবারে স্থবির হয়ে পড়ে যান চলাচল।
অন্যদিকে টাঙ্গাইল অংশে, শুক্রবার দিবাগত থেকে যমুনা সেতু থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ, সঙ্গে সেতুর ওপর গাড়ি দুর্ঘটনা ও বিকল গাড়ির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন
যমুনা সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ রয়েছে। এর মধ্যে গভীর রাতে যমুনা সেতুর ওপর পিকআপ-ট্রাকের সংঘর্ষের জন্য যানবাহনের জটলা লাগে। এইজন্য মহাসড়কে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের ধীরগতি হয়। পুলিশ কাজ করছে, খুব দ্রুতই যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হবে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শরীফ বলেন, ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ রোডে যানবাহনের বেশ চাপ রয়েছে। ভোর থেকে শুরু করে এই যানবাহনের চাপে মহাসড়কে ধীরগতির সৃষ্টি হয়।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঈদে ঘরফেরা মানুষ বহনকারী যানবাহনের সংখ্যা প্রচুর বেড়ে যাওয়ায় এবং যমুনা সেতুতে টোল আদায়ে ধীর গতি থাকায় আজ সকাল থেকেই এ মহাসড়কে কখনো ধীরগতি আবার কখনো থেমে থেমে যানজট দেখা দিয়েছে।
এতে দুই প্রান্ত মিলিয়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটারজুড়ে যানজট ও ধীরগতির কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। ঈদের আনন্দের পরে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রাপথ হয়ে উঠেছে দীর্ঘ অপেক্ষার ও কষ্টের।
সরকারি কাজে অনিয়ম দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিক লাঞ্চিত; হুমকি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের গুহ রোড়ের পাশের ফুটপাতের কাজে অনিয়ম জানতে পেরে ফেসবুক লাইভে আসেন এক সাংবাদিক। সেখানে সেই সাংবাদিককে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে লাঞ্চিত করেছেন এক ঠিকাদার। এই ঘটনার ভিডিও চিত্র এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে। লাঞ্চিত হওয়ায় অই সাংবাদিকের হলেন কালবেলা পত্রিকার শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি ও শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক এসকে দাশ সুমন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড এর একটি ভিডিওতে দেখা যায় শহরের গুহরোডে রাস্তার পাশের ফুটপাতের উপর পুরাতন টাইলস ভেঙ্গে নতুন টাইলস লাগানোর কাজ চলছিলো। এসময় দুপুরে সেখানে যান এসকে দাশ সুমন। সেখানে তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে লাইভে এসে টাইলস বসানোর মসলা (সিমেন্ট ও বালু) হাতে নিয়ে দেখান যে বালুর পরিমান বেশী, সিমেন্ট কম। এসময় অই কাজের ঠিকাদার কুতুব উদ্দিন সেই জায়গায় উপস্থিত হয়ে এসকে দাশ সুমনকে অশ্লিল ভাষায় গালাগালি করতে দেখা যায়। পরে আরোও সাংবাদিকদের বিভিন্ন রকম বাজে ভাষার প্রয়োগ করেন এবং হুমকি ধামকি দেন। তবে হুমকি দাতা ঠিকাদার সাবেক কৃষিমন্ত্রীর বিগত ১৭ বছরের আস্ধথাভাজন পরিচয় বহন করে চলেছেন আওয়ামী দোষর। একপর্যায়ে দুইজনের ভিতর বাকবিতন্ডার পর্যায়ে ঠিকাদার সেখান থেকে চলে যান। আরেক ঠিকাদার ফয়সাল আহমেদ তিনি কিছু সময়ের মধ্যে এসে উপস্থিত হয় এবং তার ও মারমুখী আচরণ প্রয়োগ করা শুরু করেন।
এসময় উপস্থিত স্থানীয় লোকজন বলেন, এখানে আগের টাইলসই ভালো ছিলো। সেগুলো ভেঙে নতুন করে এভাবে নিম্ন মানের কাজ করা হচ্ছে। বালুর পরিমানই বেশী দিচ্ছে তারা। এগুলো কেউ দেখছে না।
এসকে দাশ সুমন বলেন, আমাকে সকাল থেকেই অনেক লোকজন ফোন করে বলছেন কাজে অনিয়ম হচ্ছে। তো আমি সেখানে গিয়ে প্রমান রাখার জন্য ফেসবুকে লাইভ করছিলাম। হঠাৎ করেই ঠিকাদার এখানে এসে আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল দিতে থাকে। অন্যান্য সাংবাদিকদেরও গালাগাল দিতে থাকে। আমি ভালো করে এখানে দেখেছি, এখানে অনেক অনিয়ম হচ্ছে। আমি এই বিষয়ে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এই বিষয়ে ঠিকাদার কুতুব উদ্দিন’কে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ ইসরাইল হোসেনকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি জানান,এ বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার প্রশাসক ইসলাম উদ্দিন বলেন, ফুটপাতের টাইলস বসানো নিয়ে যে অভিযোগ এসেছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি। সত্যতার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
হুমকি দাতা ঠিকাদার কুতুব উদ্দিন
নোয়াখালীতে মেয়েকে নিয়ে মায়ের আত্মহত্যা
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় চার বছরের শিশু কন্যাকে নিয়ে দুই রশিতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক নারী। এ সময় পুলিশ ঘর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) বিকেলে উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের দরবেশপুর গ্রামের মান্নানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, একই বাড়ির মো.রুবেলের স্ত্রী রাবেয়া বসরী রাহী (২৭) ও তার মেয়ে মাইশা (৪)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫ বছর আগে রুবেল রাহীকে বিয়ে করে। তিনি একটি মাংসের দোকানে চাকরি করেন। গত ১০ জুন রাহী তার বোনকে মুঠোফোনে কল দিয়ে নিজের মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। রাহীর অভিযোগ ছিল তার স্বামী জুয়া খেলে টাকা নষ্ট করে। তার অন্য দুই ভাই নতুন ঘর করলেও তার স্বামী কোন ঘর করতে পারেনি। সংসারের দিকে তেমন খেয়াল রাখেনা। রুবেল তার বোনেদের বেশি সহযোগিতা করত। এসব ঘটনার জের ধরে রাহী স্বামীর ওপর অভিমান করে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিহতের স্বামী কাজ থেকে বাড়ি ফিরেন। একপর্যায়ে দেখেন স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ তার শয়ন কক্ষের আঁড়ার সাথে দুটি রশিতে ঝুলছে। পরে তার শৌরচিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এসে পুলিশে খবর দেয়।
সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লন্ডন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে এটিকে আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। তবে ময়না তদন্তের প্রতিবদেন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য