শিরোনাম
ইসরাইল-ইরান সংঘাত,
রুশ জেনারেলের ঘোষণা ’তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু’
ভোররাতে এক ধ্বংসাত্মক সামরিক অভিযানে ইরানের বিভিন্ন পরমাণু ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামে এই অভিযানে ২০০টি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে তেহরানসহ অন্তত আটটি শহরে একযোগে হামলা চালানো হয়। শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে ইসরাইল ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি করে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
তেহরানসহ ৮ শহরে ইসরাইলের টার্গেটেড স্ট্রাইক
হামলার প্রথম ঢেউ বৃহস্পতিবার ভোররাতে শুরু হয়। লক্ষ্য করা হয় পরমাণু গবেষণাকেন্দ্র, সামরিক ঘাঁটি, ও বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট। ইরান দাবি করেছে, হামলায় তাদের বেশ কিছু সেনা নিহত ও বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া, ইরানের পাশে মুসলিম দেশগুলো
এই হামলার জবাবে বিশ্বের বহু মুসলিম দেশ ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপ, এশিয়া এবং ল্যাটিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ থেকেও তেহরানের প্রতি সমর্থন এসেছে।
রাশিয়ার উচ্চপদস্থ জেনারেলের সতর্কবার্তা: যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে
এই পরিস্থিতির মধ্যে রাশিয়ার মেজর জেনারেল আপ্তি আলাদিন এক টেলিগ্রাম পোস্টে দাবি করেন,
“তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।”
৫১ বছর বয়সী এই জেনারেল বর্তমানে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক রাজনৈতিক বিভাগের উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন,
“ইসরাইলের হামলা শুধু একটি আঞ্চলিক উত্তেজনা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক যুদ্ধের সূত্রপাত। এখনই ক্রেমলিনকে অন্তত ১০ লাখ নতুন সেনা প্রস্তুত রাখতে হবে।”
১০ লাখ সেনা প্রস্তুতির আহ্বান
জেনারেল আলাদিন তার বার্তায় আরও বলেন,
“যুদ্ধ একটি নতুন মোড় নিয়েছে। এটি শুধু সময়ের ব্যাপার কখন এটি ইউরোপ কিংবা এশিয়ার আরও অংশে ছড়িয়ে পড়বে। তাই এখনই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।”
বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম The Mirror বলছে, এই পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিকে এক নতুন দিশায় নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে পরাশক্তিরা সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের এই মাত্রা এবং ভাষ্য ১৯৩৯ সালের পর সর্বপ্রথম এতটা উদ্বেগজনক।
জানাল বিপ্লবী গার্ড
ইরানের হামলায় ইসরায়েলের যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে
দখলদার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে শনিবার মধ্যরাতে মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দখলদারদের মিলিটারি সেন্টার এবং বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, “নির্ভুল এবং স্মার্ট প্রযুক্তির সমন্বয়ে ইরানের বিরুদ্ধে কাজ করা ইসরায়েলের মিলিটারি সেন্টার এবং বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।”
আইআরজিসি জানিয়েছে, দখলদার ইসরায়েলের মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেন্টার লক্ষ্য করেও মিসাইল ছোড়া হয়েছে। এখানে মিসাইল ও অন্যান্য সামরিক উপকরণ তৈরি করে দখলদাররা। তারা বলেছে, ঘটনাস্থলের রিপোর্ট, স্যাটেলাইটের ছবি এবং গোয়েন্দা তথ্য থেকে তারা নিশ্চিত হয়েছে লক্ষ্যবস্তুগুলোতে মিসাইল আঘাত হেনেছে।
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, এই অভিযানটি চালানো হয়েছে শক্তিশালী এবং আক্রমণাত্মক উপায়ে। যেটিতে সমন্বয় করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সব শাখা। আর এই অভিযানের বার্তা হলো— ইরানের নিরাপত্তা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য রেডলাইন।
সূত্র: সিএনএন
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত : ফোনে কী কথা হলো নেতানিয়াহু-মোদির?
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার খবরে তিনি ‘উদ্বিগ্ন’।
তিনি বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কাছ থেকে তিনি একটি ফোন পেয়েছেন।
তিনি বলেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আমাকে ফোনে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। আমি এই ইস্যুতে ভারতের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি এবং জোর দিয়েছি যে এই অঞ্চলে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা জরুরি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক পোস্টে জানায়, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গত রাত থেকে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট বিশ্ব নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের অবহিত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর, ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। শিগগিরই তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন।
শুক্রবার ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে ইসরাইল বলেছে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে।
জবাবে ইসরায়েলেও ক্ষেপণাস্ত্র চালিয়েছে ইরান।
সূত্র : এনডিটিভি
ইরানি হামলার ভয়ে এক রাতে ৫ বার বাঙ্কারে ঢোকেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত
পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলার জেরে ইসরায়েলে শতশত মিসাইল ছুড়েছে ইরান। হামলা শুরু হলে বেসামরিক ইসরায়েলিরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। এসময় ইরানি হামলার ভয়ে ৫ বার বাঙ্কারে লুকানোর কথা স্বীকার করলেন তেলআবিবে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি।
শনিবার (১৪ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পোস্টে রাষ্ট্রদূত বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে ‘কঠিন’ একটি রাত কেটেছে। আমাকে পাঁচবার আশ্রয়কেন্দ্রে (বাংকারে) যেতে হয়েছে।
তিনি বলেন, আজ এখানে শাবাত (ইসরায়েলিদের বিশেষ দিন)। সবকিছু শান্ত থাকা উচিত। কিন্তু মনে হয় না থাকবে। সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ের কাছাকাছি থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে, আজ সকালে রাজধানী তেলআবিব ও জেরুজালেমে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইসরায়েলের ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়ে আহ্বান জানিয়েছে। এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকার কথা জানিয়েছে।
ইরানের হামলার ভয়ে দেশ ছেড়েছেন নেতানিয়াহু
ইরানে ভয়াবহ হামলা করেছে ইসরাইল। এতে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে তেহরান। এবার সেই ভয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে একটি অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি গণমাধ্যম। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে গ্রিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খবর ইরনা নিউজের।
ইসরাইলের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম নেতানিয়াহুর বিমানের একটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায়, দুটি যুদ্ধবিমান তার বিমানের সঙ্গে ছায়াসঙ্গীর মতো রয়েছে এবং সেটি ইসরাইল অধিকৃত অঞ্চল ছেড়ে অজ্ঞাত গন্তব্যে যাচ্ছে।
পরবর্তীতে চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, সেই বিমানটি গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে অবতরণ করেছে।
শুক্রবার ইসরাইল রাজধানী তেহরানসহ ইরানের একাধিক শহরে ব্যাপক সামরিক হামলা চালায়। এসব হামলায় ইরানের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরি, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর চিফ কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি, খাতাম আল-আনবিয়া সদর দফতরের কমান্ডার মেজর জেনারেল গোলামআলি রাশিদ।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের সামরিক বাহিনী প্রতিশোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ‘লক্ষ্যভিত্তিক হত্যা’ ও আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের হামলাকে ‘চমৎকার’ হিসেবে প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো একটা চুক্তির সুযোগ আছে, না হলে দেশের অস্তিত্বই শেষ হয়ে যাবে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরাইলকে কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও ছয়জন পারমাণবিক বিজ্ঞানী হত্যার ‘অপরাধের’ জবাবে ইসরাইলকে ‘কঠোর শাস্তি’ ভোগ করতে হবে।
দুইজন মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা এপি নিউজকে জানিয়েছেন, ইরানের ওপর ইসরাইলের হামলার পর এবং তেহরানের সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সম্পদ, বিশেষ করে যুদ্ধজাহাজ স্থানান্তর করছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য