শিরোনাম
উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনে ববি শিক্ষার্থীরা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিনের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার (১২ই মে) রাত সাড়ে নয়টার দিকে আমরণ অনশনে বসেছেন একদল শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রান্ডফ্লোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। আজ রাত ১১টার থেকে অনশনে বসবে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের পক্ষে সুজয় বিশ্বাস শুভ বলেন, "আমরা বিশ্ববিদ্যালয়টির আচার্য, শিক্ষা উপদেষ্টা এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কর্মকর্তাদের যথেষ্ট সময় দিয়েছি। আমরা বারবার তাদের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা শিক্ষার্থীদের আকুতি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন।"
তিনি আরও বলেন, "এই মুহূর্তে থেকে আমরা ঘোষণা করছি, যতক্ষণ পর্যন্ত এই উপাচার্যকে অপসারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আমরণ অনশনে থাকবে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই অনশন থেকে উঠব না।"
প্রো-ভিসিকে পরীক্ষার কমিটি করায় ৩মাস আঁটকে আছে ফাইল
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সমাজকর্ম বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষের ১ম সেমিস্টার পরীক্ষা ভিসি অধ্যাপক ড শূচিতা শরমিন এর একটি সাক্ষরের জন্য ৩ মাস ধরে আটকে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সব ক্লাস শেষ হওয়ার পরও শুধুমাত্র ভিসির একটি স্বাক্ষর না থাকায় পরীক্ষাটি সঠিক সময়ে নিতে পারে নি সমাজকর্ম বিভাগ। যদিও একাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ১৫ এপ্রিল নির্ধারিত ছিলো। তবে প্রশাসনিক জটিলতায় তা আটকে পড়েছে। যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী সমাজকর্ম বিভাগের একটি কোর্সে পড়িয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, যিনি কোর্সটি পড়ান, সেই শিক্ষকই ওই কোর্সের প্রথম পরীক্ষক হন। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ফাইলে অধ্যাপক রব্বানীকেই প্রথম পরীক্ষক করে প্রস্তাব পাঠানো হয়। তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিন এতে আপত্তি জানান এবং প্রোভিসিকে পরীক্ষা কমিটি থেকে বাদ দিতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে তিনি কোনো লিখিত নির্দেশনা না দিলেও, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যানকে মৌখিকভাবে জানান। কিন্তু লিখিত নির্দেশনা না থাকায় বিভাগের চেয়ারম্যান বিষয়টি পরিষ্কার করতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে একটি লিখিত চিঠি পাঠান, যেখানে ফাইলের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রো-ভিসিকে পরীক্ষা কমিটি থেকে বাদ না দেওয়ায় উপাচার্য ওই ফাইলে স্বাক্ষর করেননি। এর ফলে প্রায় তিন মাস ধরে ফাইলটি উপাচার্য দপ্তরে আটকে আছে, যার কারণে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কার্যক্রমও পিছিয়ে পড়েছে।
সমাজকর্ম বিভাগের দুজন শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা সব ক্লাস ও সংশ্লিষ্ট বিষয় শেষ করে বসে আছে শুধু পরীক্ষা নেয়ার অপেক্ষায় । চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ২৬ তারিখে চিঠি দেয়া হয়েছে । সর্বশেষ চিঠির অগ্রগতি জানতে চেয়ে এপ্রিলের ২৯ তারিখে চিঠি দেয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। পরীক্ষা ১৫ই এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা ছিলো । কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার কারনে শিক্ষার্থীদেরকে অনেক পিছিয়ে পড়তে হবে বলে জানান তারা ।
সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান অসীম কুমার নন্দী জানান, আমরা যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে চিঠি দিয়েছে। আমাকে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো প্রোভিসি ক্লাস নেয় কিনা। তবে তাকে সরানোর জন্য লিখিত কোনো চিঠি পাই নি । এ বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সাথে আমার কয়েকবার কথা হয়েছে।
সদ্য সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন বলেন,
আরও পড়ুন
"আমরা একসাথে তখন উপাচার্য ম্যামের কাছে কয়েকটি ফাইল পাঠিয়েছিলাম। কিছুদিন পর তিনি সেগুলো সংশোধনের জন্য ফেরত দেন, আর আমি তা সংশোধন করে পুনরায় জমা দিই। একদিন ভিসি ম্যাম আমাকে ডেকে বলেন, একটি কোর্সে প্রথম পরীক্ষক হিসেবে প্রোভিসি স্যারকে রাখা হয়েছে, যা নিয়ম অনুযায়ী ঠিক নয়। তিনি বলেন, সরকার আমাদের কিছু নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছে, যার ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না। আমি তখন বলি, 'ম্যাম, আমি বিষয়টি জানতাম না। একটু চেয়ারম্যান স্যারের সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছি।' এরপর আমি চেয়ারম্যান স্যারের সঙ্গে আলোচনা করি এবং জানতে চাই এটি কি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায় কিনা। তিনি তখন আগের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ছাদেকুল আরেফিনের উদাহরণ টেনে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। শেষে আমি যখন ভিসি ম্যামকে বিষয়টি জানাই, তিনি বলেন, 'যদি কোনো বিকল্প থাকে তাহলে চেয়ারম্যানকে বলেন, প্রোভিসিকে পরিবর্তন করে আমাকে নতুন ফাইল পাঠাতে।'"
এ বিষয় জানতে চাইলে ভিসি ড.শূচিতা শরমিন বলেন, আমি কোনো বিষয় নিয়েই আর কথা বলতে চাই না। এ বলেই তিনি ফোন কেটে দেন । তবে ফোন করা হলে কোনো সাড়া মেলেনি।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অচল: দক্ষিণবঙ্গ অচলের ঘোষণা
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিনের পদত্যাগের দাবিতে আগামীকাল (মঙ্গলবার) দক্ষিণবঙ্গ অচল করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
সোমবার (১২ই মে) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রান্ডফ্লোরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই অবরোধের ঘোষণা আসে।
বিক্ষোভকালে শিক্ষার্থীরা বলেন, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আজ ২৮তম দিনে তারা ব্লকেড কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, বারবার রাষ্ট্রপক্ষকে জানানোর পরেও কোনো সাড়া মেলেনি। শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, যদি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ হয়, তার জন্য কর্তৃপক্ষই দায়ী থাকবে। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানান, আগামীকাল দুপুর ১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে যদি উপাচার্য শূচিতা শরমিনকে অপসারণ করা না হয়, তবে তারা দক্ষিণবঙ্গ অচল করে দেবেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সুজয় বিশ্বাস শুভ বলেন, "আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন মেনে নিয়ে উপাচার্যকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের কথায় কোনো কর্ণপাত করেননি। আগামীকাল ২টার মধ্যে যদি উপাচার্য পদত্যাগ না করেন, তাহলে আমরা দক্ষিণবঙ্গ অচল করে দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছি।"
আরও পড়ুন
আরেক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, "আন্দোলনের ২৮তম দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আগামীকাল থেকে ব্লকেড কর্মসূচিতে যাচ্ছি।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, "আমরা শিক্ষার্থীদের সকল যৌক্তিক আন্দোলনের সাথে একাত্মতা পোষণ করছি।"
কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, "এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী উপাচার্যের স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে কেউই ভালো নেই। এই ফ্যাসিস্ট মনোভাবের স্বৈরাচারী ভিসি যদি বহাল থাকেন, তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়ে যাবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষার স্বার্থে আমরা শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে তাদের পাশে আছি।"
যবিপ্রবি ডিবেট ক্লাবের পঞ্চম কার্যনির্বাহী পরিষদের কমিটি গঠিত
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ডিবেট ক্লাবের পঞ্চম কার্যনির্বাহী পরিষদের কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে একই শিক্ষাবর্ষের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বাপ্পি নির্বাচিত হয়েছেন।
সোমবার (১২ মে) দুপুর তিনটায় ক্লাবটির সহকারী নির্বাচন কমিশনার সাবেক সাধারণ সম্পাদক নওশীন জাহান জেরিন এবং সাবেক সভাপতি আইমান ফাইয়াজ আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি ঘোষণা করেন।
নবগঠিত কমিটির সভাপতি মোতালেব হোসাইন বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির প্রত্যেক সদস্য তাঁদের মেধা, মনন এবং একাগ্রতা দিয়ে ক্লাবকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। যবিপ্রবি ডিবেট ক্লাবের যাত্রা কেবল যুক্তিবাদী চিন্তার চর্চা নয়—এটি নেতৃত্ব, মূল্যবোধ এবং ক্যাম্পাসে বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ক্লাবটি যেভাবে সম্মান ও সৌহার্দ্যের পরিবেশে বিকশিত হয়েছে, আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যয়ী যে ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। সাবেক নেতৃবৃন্দের মূল্যবান অভিজ্ঞতা ও উপদেষ্টা পরিষদের দিকনির্দেশনা আমাদের চলার পথকে আরও মসৃণ করবে।”
আরও পড়ুন
নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসাইন বলেন, “যবিপ্রবি ডিবেট ক্লাব শুধুমাত্র তর্কের মঞ্চ নয়, এটি চিন্তা, যুক্তি ও নেতৃত্ব গড়ে তোলার একটি প্ল্যাটফর্ম। এই যাত্রায় সবাই একসাথে মিলে আমরা আরও সুন্দরভাবে কাজ করবো।”
নবগঠিত কমিটি সম্পর্কে বিদায়ী সভাপতি আইমান ফাইয়াজ বলেন, “যবিপ্রবি ডিবেট ক্লাব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করেছে। এই কার্যনির্বাহী পরিষদ তারুণ্যনির্ভর ও অত্যন্ত ভালো হয়েছে। আশা করছি তারা ক্লাবের উন্নয়নের ধারা বজায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বৃদ্ধি করবে।”
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- সহ-সভাপতি পদে শাহবাজ আহমেদ রিকি (অ্যাডমিন), মোঃ আতিকুর রহমান (ডিবেট), ফারহানা ইয়াসমিন সুলতানা (পাবলিকেশনস)। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে লুবনা ইয়াসমিন জেনি (অ্যাডমিন), ফারিয়া বিনতে ফারুক(ডিবেট) এবং আব্দুল্লাহ হীল মারুফ(পাবলিকেশনস), অর্থ সম্পাদক পারভেজ নাবিউল ইসলাম, সহকারী অর্থ সম্পাদক জালিস মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আশিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মোছাঃ শর্মিলি আক্তার, যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক ফাহামিদ রহমান সিয়াম, অফিস সেক্রেটারি আল শাহারিয়া রাফিদ, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট রিফাত রায়হান, কর্পোরেট অ্যান্ড এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স মোঃ আবু রায়হান, হেড অফ আইটি মোস্তাফিজুর রহমান, সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল উইং এস. এম. নাজমুস সাকিব, হেড অফ ডিবেট অ্যান্ড ওয়ার্কশপ আসিফ আলভী, হেড অফ হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট মোহাম্মদ রাকিব হাওলাদার, হেড অফ কনটেন্ট ক্রিয়েশন অ্যান্ড ব্র্যান্ডিং মোঃ আশরাফুল হক।
এছাড়া ইকুইটি প্যানেলের সদস্যরা হলেন- সায়মা রহমান তৃষা ও মেহেদী হাসান, এক্সিকিউটিভ মেম্বার মোঃ আব্দুল্লাহ ও মাইশা ফাহমিদা বিভা।
৫ম কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোঃ রাফিউল হাসান। সহযোগী নির্বাচন কমিশনার বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক আসিফ আব্দুল্লাহ, সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সদ্য বিদায়ী কমিটির সভাপতি আইমান ফাইয়াজ ও সাধারণ সম্পাদক নওশীন জাহান জেরিন।
জবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হুঁশিয়ারি
বাজেট না বাড়লে যমুনা অভিমুখে লংমার্চ
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কর্তৃক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাৎসরিক বাজেট বাড়ানো না হলে ‘লং মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১২ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বরে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সমাবেশে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ছাত্র শিবির, ছাত্রদল, ছাত্র পরিষদসহ বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সম্মতিক্রমে এই ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহতাব হোসেন লিমন।
তিনি বলেন, আগামীকাল আমাদের একটি প্রতিনিধিদল ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিতে যাবে। যদি দাবি মেনে না নেওয়া হয়, তবে আগামী বুধবার আমরা যমুনা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করব।
জবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রায়হান হাসান রাব্বি বলেন, আবাসন ভাতা ও যৌক্তিক দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।
শাখা ছাত্র শিবিরের সভাপতি আসাদুল ইসলাম বলেন, আজ জবির সব শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আমাদের দাবি উপেক্ষা করলে সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আমরা অতীতেও পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকব। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সমাবেশে অংশ নিয়ে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. বিলাল হোসেন বলেন, সৃষ্টির শুরু থেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্যের শিকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ৯০০ কোটি টাকা বাজেট পায়, সেখানে জবি পায় মাত্র ১৫০ কোটি টাকা। ইউজিসি সবসময় বাজেট ১০ শতাংশের বেশি বাড়ানো যাবে না, এই যুক্তি দেয়। আমরা এই বৈষম্যের অবসান চাই।
আরও পড়ুন
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক। অতীতে বারবার অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘ট্যাগ’ দিয়ে দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলে ও আবাসন সুবিধা পেলেও জবি এখনো বঞ্চিত। দাবি পূরণ না হলে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকেও কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন বলেন, আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পাশে ছিলাম। দ্বিতীয় ক্যাম্পাস সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণেই সফল হয়েছে।
সমাবেশে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও অংশ নেন সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংবাদিক সংগঠন এবং ছাত্র সংগঠনের নেতারা।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য