শিরোনাম
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্কলার অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাকৃবির আব্দুস সামাদ
বাকৃবি প্রতিনিধিঃ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্কলার অ্যাওয়ার্ড-২০২২’ পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো আব্দুস সামাদ। সম্প্রতি তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মো আব্দুস সামাদের হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কৃষি বিজ্ঞান অধিক্ষেত্রে দেশের মধ্যে নির্বাচিত ২ জনের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের মো আব্দুস সামাদ এই সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে ৩ লাখ টাকা, সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়।
পদক প্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করে মো আব্দুস সামাদ বলেন, ‘ আমি এই অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের মধ্যে একজন হতে পেরে নিজেকে খুব গর্বিত মনে করছি। এটা সত্যিই অনেক আনন্দের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ অনুভূতি সত্যি অসাধারণ আর শ্রেষ্ঠ অর্জন বলে আমি মনে করি। এই অ্যাওয়ার্ড শুধু একটি প্রাপ্তি নয় এটি এটি অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি ও অনুপ্রেরণা। শুধু তাই নয় এই অ্যাওয়ার্ড যেমন সকলকে অনুপ্রেরণা দিবে, তেমনি শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কে আরও উদ্যমী করে তুলবে। পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর শিক্ষা ও গবেষণা ভাবনা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানলাভ করতে পারবে।’
উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শিক্ষা ও গবেষণা ভাবনায় পরবর্তী প্রজন্মকে উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উদ্যোগে কৃষি বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, কলা ও মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন, চিকিৎসা বিজ্ঞানসহ মোট ১৬টি অধিক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ সকল সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত ২২ মেধাবী শিক্ষার্থীকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্কলার অ্যাওয়ার্ড-২০২২’ প্রদান করা হয়।
রাবিতে ফিশারীজ গ্রাজুয়েটদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, রাবি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত নতুন প্রজ্ঞাপনের ষষ্ঠ অধ্যায়ের ২০ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখিত নীতিমালা বাতিল করে ফিশারিজ গ্রাজুয়েটদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন করার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ফিশারীজ সমিতি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে তারা এই মানববন্ধন করে।
এতে উপস্থিত বক্তাগন উক্ত খসড়া বিধিমালা বাতিল করে মাছের যাবতীয় চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপত্র মৎস্যবিদদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জোড় দাবি করেন। বক্তারা আরো দাবি করেন, ফিশারিজ গ্রাজুয়েটদের ন্যায্য অধিকার দ্রুত সময়ে ফিরিয়ে না দিলে পরবর্তীতে অনশন, ঘেরাও, অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এসময় আন্তর্জাতিক সংস্থা "ফুড ফর দ্যা হাংরি" এর মৎস্য কর্মকর্তা জনাব আবুল কাশেম বলেন,যারা যে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তারাই শুধু সেবিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন অন্য কেউ নয়। নইলে মৎস্য ক্ষেত্রে যে বিপর্যায় নেমে আসবে তার দায় দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।
এসময় ফিশারীজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, যখন কোনো চিকিৎসা পত্র যেই প্রাণীর উপর লেখা হয় তার ফিজিওলজি, এনাটমি, এগুলোর উপর একটা ব্যাসিক জ্ঞান থাকতে হয়। সেটা ফিশারিজ গ্রাজুয়েট ছাড়া ভেটেনারি গ্র্যাজুয়েটদের এটি থাকার কথা না এবং কি কারনে একই মন্ত্রণালয়ের দুইটি অধিদপ্তর কার্যক্রম একটি অধিদপ্তরের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে সেটি আমাদের বোধগম্য নয়। তাই আমরা আশা করবো একই যেহেতু মন্ত্রণালয় তাই এই খসড়া আইনটি পাশ না করে। হঠাৎ করে একটি আইন করে ফিশারিজ গ্র্যাজুয়েটদের থামিয়ে দেওয়ার জন্যে যে ষড়যন্ত্রমূলক আইনটি করা হচ্ছে সেটি কোনক্রমেই বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না। যদি আইনটি বাস্তবায়ন হয় তাহলে মৎস্য সেক্টরের আর কোনো উন্নয়ন হবে না।
মানববন্ধনে ফিশারীজ বিভাগের সভাপতি ড. মো. মুনজুরুল আলম বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৎস্যবন্ধন নীতির সঠিক প্রয়োগ এবং মৎস্য গ্যাজুয়েটদের নিরলস পরিশ্রমে যখন মৎস্য খাত দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই মৎস্য ও মৎস্যপণ্য ( পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ ) বিধিমালা ২০২৩ প্রণয়ন হতে যাচ্ছে। সেখানে মৎস্য খাতের সাথে সাংঘর্ষিক কয়েকটি বিধি যুক্ত হয়েছে যা সকলকে চরম হতাশায় নিমজ্জিত করেছে। ফিশারীজ বিভাগকে ক্ষুন্ন করার জন্য এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যারা এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদের প্রতি দাবি তারা যেন এটা থেকে বিরত থাকেন। নয়তো কঠোর আন্দোলন করা হবে।
ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ জিসানের সঞ্চালনায় উক্ত কর্মসূচিগুলোতে আরও উপস্থিত ছিলেন মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের প্রফেসর মোজতাফিজুর রহমানসহ শিক্ষকবৃন্দ, বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সাবেক ও বর্তমান ফিশারীজ গ্রাজুয়েটসহ প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।
অভিজ্ঞতা ছাড়াই ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, বেতন ৪০ হাজার
বেসরকারি ব্যাংক উরি ব্যাংক সম্প্রতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের বাংলাদেশ শাখায় লোকবল নিয়োগ দেবে বলে বিজ্ঞপ্তি দেয়। আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
পদের নাম : অফিসার গ্রেড-২।
পদের সংখ্যা : নির্ধারিত নয়।
আবেদন যোগ্যতা : আগ্রহী প্রার্থীকে কমপক্ষে স্নাতক পাস করতে হবে।
বয়স: প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ২৫-৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
অভিজ্ঞতা: কম্পিউটার চালনায় দক্ষতা থাকতে হবে। ইন্টারপারসোনাল স্কিল থাকতে হবে। চাপ সামলে কাজের আগ্রহ থাকতে হবে। তবে কোরিয়ান ভাষায় পারদর্শী হলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
কর্মস্থল: চুড়ান্ত নিয়োগের পর বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে কাজের আগ্রহ থাকতে হবে।
বেতন ও সুযোগ সুবিধা : মাসিক বেতন ৪০০০০। সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসারে অন্যান্য সুবিধা প্রদান করা হবে।
আবেদনের শেষ তারিখ : ২২ জুন,২০২৩
আবেদন করবেন যেভাবে : আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করতে ক্লিক করুন এখানে।
মেস মালিক কর্তৃক শিক্ষার্থী নির্যাতন থানায় জিডি
যবিপ্রবি প্রতিনিধি: মেস মালিক ও তার স্ত্রীর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কয়েকজন ছাত্রী। ভুক্তভোগী ছাত্রীদের দাবি অনুমতি বিহীন গভীর রাতে রুমে পুরুষ মানুষ প্রবেশ, মনগড়া বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্বেচ্ছাচারীতা করে আসছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটস্থ 'বিশ্বাস' মেসের মালিক মো. রবিউল ইসলাম (৫৫) ও তার স্ত্রী তানিয়া বেগম। কিন্তু আজ ১৪ জুন (বুধবার) বাড়িওয়ালা শিক্ষার্থীদের নোংরা ভাষায় গালাগালি সহ একপর্যায়ে মারধর করলে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীসহ সবার সামনে আসে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ঐ মেসের মালিক ও তার স্ত্রীর নামে যশোর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।
জিডির তথ্য মতে, 'যশোর কোতয়ালী মডেল থানাধীন আমবটতলা বাজার সংলগ্ন বিশ্বাস মেসে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ভাড়া থাকে। ইং ১৪/০৬/২০২৩ তারিখ বিকাল অনুমান ০৫.০০ ঘটিকার সময় বিবাদীদ্বয়ের (রবিউল ইসলাম ও তানিয়া বেগম) সাথে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সাথে ভাড়া নিয়া তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে বিবাদীদ্বয় ছাত্রীদের উপর ক্ষিপ্ত আমার সহপাঠী তামান্নাকে (ছদ্মনাম) মারপিট করে। আমি (সামিউল) চিৎকারের আওয়াজ পেয়ে নিচতলা যেয়ে বিবাদীদ্বয়ের নিকট ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আমাকে মারপিট করে এবং আমাকে ও আমার সহপাঠীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিতে থাকে।'
একপর্যায়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি তাজুল ইসলাম বাড়ির মালিক, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে বিবদমান বাকি সমস্যাগুলো সমাধান করেন। পরবর্তীতে ছাত্রীরা নিরাপত্তার আশঙ্কা করলে পুলিশ প্রশাসন ছাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানের আশ্বাস দেন।
মেসের ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বলেন, 'মেস মালিক ও তার স্ত্রী বিভিন্ন সময় মেসের ছাত্রীদের মানসিক নির্যাতন করে আসছে। কছুদিন পরপর মেসের সিট ভাড়া সহ বিভিন্ন জিনিসের ভাড়া বৃদ্ধি করে। অসামাঞ্জস্য বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণ করে। বিদ্যুৎ বিলের কাগজ দেখতে চাইলে তাদের নোংরা ভাষায় কথা শোনায়। কেউ মেস ছেড়ে দিতে চাইলে বলে ৬ মাসের টাকা দেয়ে যেতে হবে।'
ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, 'মেস মালিক সময়ের অসময়ে মেয়েদের রুমে চেলে আসেন। যার ফলে আমারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগী। মেসের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা ও ভালো না, যেকোন সময়ে বাড়িওয়ালা সহ বাহিরের লোক মেসের ভিতর প্রবেশ করে। কোন সমস্যা নিয়ে অভিযোগ দিতে গেলে উল্টো আমাদের নোংরা ভাষায় কথা শোনায়।'
তবে এসব অস্বীকার করেছেন বাড়িওয়ালা রবিউল ইসলাম ও তার স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মো. সাদিদ হোসাইন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটস্থ 'বিশ্বাস' মেসে ছাত্রীদের সাথে বাড়িওয়ালার বাকবিতন্ডা খবর পেয়ে মেসে যায়। এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে জাবি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মানববন্ধন
জাবি প্রতিনিধিঃ নির্দলীয় নিরপক্ষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জাতীয়তাবাদী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরাম।
বুধবার( ১৪ জুন) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মাবববন্ধনে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল আলম সেলিমের সঞ্চালনায় বক্তারা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, সরকারের লাগামহীন দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ জানান।
মানববন্ধনে অফিসার সমিতির সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান বাবুল বলেন, একটা বিষয় আজ নিশ্চিত৷ এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। তারা বিনাভোটে ১৫৫ সিট পেয়ে গেছে৷ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী প্রার্থীও তাদের হাতে লাঞ্চিত হয়েছে। এ দেশের মানুষ তার অধিকার চায়। সারা বাংলাদেশ আজ নির্দলীয় সরকারের দাবিতে জেগে উঠেছে৷ একটা গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সারা বিশ্ব মাথা উচু করে দাঁড়াবে। ভোটাধিকারের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের মানুষ একাত্ম হয়েছে।
শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন বলেন, আমরা বেশি কিছু চাই না। আমরা চাই জনগণ স্বাধীনভাবে কেন্দ্রে গিয়ে বাধাহীনভাবে ভোট দিক। আমেরিকার নতুন ভিসানীতিতে বলা হয়েছে সমাবেশে বাধা দিলে, ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দিলে ভিসা দিবে না। আমাদের দেশে কি এমন পরিস্থিতি বিদ্যামন যে কারণে আমেরিকা বাধ্য হলো? সরকার প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে৷ পঞ্চদশ সংশোধনীতে বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলেছিলেন, আগামী ২টি নির্বাভন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে আপ্রে৷ পূর্নাঙ্গ রায় প্রকাশের আগেই একজনের ইচ্ছার কারণে তা বাতিল করা হলো। স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করার অধিকার দিন।'
গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল বলেন, এ সরকারের অধীনে যে নির্বাচনগুলো সেগুলো কতটা ফেয়ার ছিল। ২০১৪, ২০১৮ সালে যে নির্বাচন হয়েছে তা ক্যাডারবাহিনী দিয়ে হয়েছে। যে ব্যবস্থায় চারটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে সে ব্যবস্থা ফিরিয়া আনতে হবে। সরকার সবগুলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ রাখতে চাইলে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে৷ দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব।
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম বলেন, 'বর্তমান শাসক দল বাংলাদেশকে একটি কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। আমরা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করছি কারণ তারা নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের দলীয় প্লাটফর্মে পরিণত করেছে৷ নির্বাচনী এলাকাকে নিজেদের পছন্দমতো ক্রমানুযায়ী সাজিয়েছে। নির্বাচন কমিশনে এমন কোন ব্যক্তি নেই যারা নিরপেক্ষভাবে একটি নির্বাচন এদেশে উপহার দিতে পেরেছে। আজ আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোও ক্রমান্বয়ে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।'
দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, 'জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট-সিন্ডিকেটে কবে কোন ক্যাটাগরিতে নির্বাচন হয়েছে তা দলিল দস্তাবেজ খুঁজতে হবে। নিজের অধীনে নির্বাচনের জন্য আমরা এখনো উপযুক্ত হইনি। এ নির্বাচন বন্ধ করার জন্য ইইউ পার্লামেন্ট মেম্বাররা কথা বলেছে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কথা বলেছে৷ এটা এখন বিশ্বসংকট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সরকার দেশের শিক্ষাখাতে এবারের বরাদ্দ ২.০৮ থেকে ১ এ নামিয়ে এনেছে। আমরা বলছি না রাতারাতি পাল্টে ফেলতে হবে। তবে এখন থেকেই জনগণের এ দাবিকে মেনে নিতে হবে।'
সংগঠনের আহ্বায়ক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ কামরুল আহছান বলেন, 'আপনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত করেছেন। কিন্তু উদাহরণ স্থাপন করতে পারতেন। অথচ বিগত কিয়েকটি নির্বাচনে আপনারা আস্থা হারিয়েছেন। যেখানে আপনারা প্রভাব সৃষ্টি করতে পারছেন সেখানে নির্বাচন দিচ্ছে। কিন্তু যেখানে পারছেন না সেখানে দিচ্ছেন না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাকসু নির্বাচন, সিন্ডিকেট নির্বাচন আস্তে আস্তে ধ্বংস করা হয়েছে৷এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে না পারলে মুক্তি নেই।'
এসময় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরামের শতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য