শিরোনাম
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল তেলআবিব
ইসরায়েলের রাজধানী তেলআবিবের হাবিমা স্কোয়ারে শনিবার (৬ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় রাতে হাজারো সরকারিবিরোধী বিক্ষোভকারী সমবেত হন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ৭ অক্টোবরের হামলার পরবর্তী সরকারের নানা পদক্ষেপ নিয়ে জবাবদিহি এড়াতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রোববার (৭ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। খবর টাইমস অব ইসরায়েল।
আন্দোলনকারীদের দাবি, নিজেই তদন্ত কমিটির সদস্য বাছাই করতে চাইছেন নেতানিয়াহু। এটি করা হলে তদন্ত সুষ্ঠু হবে না বলে মত ইসলায়েলিদের।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায় হামাস। এতে নিহত হয় কমপক্ষে ১২শ' ইসরায়েলি। ইসরায়েলের পাল্টা সেনা আক্রমণে প্রাণ হারান গাজার ৭০ হাজার বেসামরিক ফিলিস্তিনি।
বিক্ষোভে অংশ নেয় বিভিন্ন স্বতন্ত্র কর্মী দল। এছাড়াও সরকারের বিচারব্যবস্থা দুর্বল করার প্রচেষ্টা ও অন্যান্য পুরনো রাজনৈতিক ইস্যুও বিক্ষোভে তুলে ধরা হয়।
হংকংয়ে আবাসিক কমপ্লেক্সে আগুনে মৃত্যু বেড়ে ১৩
হংকংয়ের তাই পো জেলায় একটি ৩১ তলা আবাসিক কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) স্থানীয় সময় বেলা পৌনে তিনটার দিকে শুরু হওয়া এই আগুনে আরও অনেকে আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
হংকং ফায়ার সার্ভিস বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তা চৌ উইং-ইন রাত সোয়া আটটার দিকে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা অগ্নিকাণ্ডস্থল থেকে মোট ২৮ জনকে উদ্ধার করেছি। এর মধ্যে ৯ জনকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজন মারা গেছেন।’ এ নিয়ে মোট মৃত্যু ১৩ জনে পৌঁছেছে।
আগুনের সূত্রপাত হয় তাই পোর ওয়াং ফুক কোর্ট নামের আবাসিক কমপ্লেক্সে। আটটি ব্লকে গঠিত এই কমপ্লেক্সে প্রায় দুই হাজার ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রথমে ভবনগুলোর বাইরে নির্মাণকাজের জন্য ব্যবহৃত বাঁশের মাচায় আগুন লাগে। দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে অন্তত তিনটি টাওয়ারে। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, উঁচু ভবনগুলো থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উঠছে।
কর্তৃপক্ষ এই অগ্নিকাণ্ডকে ‘নম্বর থ্রি অ্যালার্ম’ বা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে ঘোষণা করেছে। আগুন নেভাতে কয়েকশ ফায়ারফাইটার কাজ করছে। পাশের একটি মহাসড়কের অংশবিশেষ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস বিভাগ ভবনের বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরে থাকতে, দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে এবং শান্ত থাকতে পরামর্শ দিয়েছে। সাধারণ মানুষকে ওই এলাকায় যাতায়াত না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মাসেই হংকংয়ের কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক জেলার একটি ভবনের মাচায় আগুন লেগে অন্তত চারজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। হংকংয়ে উঁচু ভবনগুলোতে বাঁশের মাচা ব্যবহার এখনো ব্যাপক, যা আগুন ছড়িয়ে পড়ার বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মিয়ানমার
মিয়ানমার উপকূলে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।রোববার (২৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের দাওয়েই শহর থেকে ২৬৭ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে আন্দামান সাগরে। কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, মিয়ানমারের পাশাপাশি ভূমিকম্পের প্রভাব প্রতিবেশী থাইল্যান্ডেও অনুভূত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ভূমিকম্পের কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উত্তর মালুকু প্রদেশের হালমাহেরা এলাকায় ৫ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। রোববার (২৩ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূতাত্ত্বিক সংস্থা (বিএমকেজি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।
তবে এখন পর্যন্ত সংস্থাটি ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর নিশ্চিত করেনি।
ভিয়েতনামে ভূমিধস-বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৯০
ভিয়েতনামে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আরও ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে রোববার (২৩ নভেম্বর) দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, অক্টোবরের শেষ থেকে দক্ষিণ-মধ্য ভিয়েতনামে অবিরাম বর্ষণ চলছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে মধ্যাঞ্চলের কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১,৯০০ মিলিমিটার (প্রায় ৭৫ ইঞ্চি) ছাড়িয়ে গেছে। ফলে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যসহ বেশ কয়েকটি এলাকা একাধিকবার বন্যার কবলে পড়েছে।
দেশটির মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১৬ নভেম্বর থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাহাড়ি ডাক লাক প্রদেশ। এখানে এখন পর্যন্ত ৬০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। হাজার হাজার বাড়িঘর প্লাবিত হয়ে গেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহে গিয়া লাই ও ডাক লাক প্রদেশে উদ্ধারকারীরা নৌকা ব্যবহার করে ছাদের ওপর আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করেছেন। অনেক স্থানে জানালা ভেঙে ও ছাদ ফুটো করে লোকজনকে বের করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীকে ব্যাপকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে।
বিন দিন প্রদেশের উপকূলীয় শহর কুই নহোনের একটি হাসপাতালে পানি ঢুকে পড়ায় চিকিৎসক ও রোগীরা তিন দিন শুধু তাৎক্ষণিক নুডলস ও পানি খেয়ে টিকে ছিলেন। পরে উদ্ধারকারীরা সেখানে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেন।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) ভোরে ডাক লাক প্রদেশের বুয়েন হো শহরে বা নদীর পানির উচ্চতা ১৯৯৩ সালের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। খান হোয়া প্রদেশের কাই নদীও নতুন রেকর্ড স্পর্শ করেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে এবং প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বা নষ্ট হয়ে গেছে।
সরকারের প্রাথমিক হিসাবে, এই বন্যায় অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ দশমিক ৯৮ ট্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং বা ৩৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগে ভিয়েতনামে ২৭৯ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন এবং মোট ক্ষতি হয়েছে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিয়েতনামে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে সাধারণত ভারী বৃষ্টিপাত হলেও মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের চরম আবহাওয়া এখন আরও ঘন ঘন এবং ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
লেবাননে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১৩
দক্ষিণ লেবাননের একটি ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের বিমান হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।
রাষ্ট্রীয় লেবানন নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মঙ্গলবার শরণার্থী শিবিরের এক মসজিদের পার্কিংয়ে ড্রোন হামলা চালানো হয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা হামাসের সশস্ত্র সদস্যদের লক্ষ্য করে আঘাত করেছে, যারা শরণার্থী শিবিরের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কার্যক্রম চালাচ্ছিল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি মুখপাত্র অ্যাভিচে আদ্রাঈ একটি বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা উত্তর সীমান্তে কোনো ধরনের হুমকি মেনে নেব না। যে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী সেখানে সক্রিয় থাকলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। লেবাননে হামাসের ঘাঁটি গড়ে ওঠা ঠেকাতে এবং যারা আমাদের নিরাপত্তাকে হুমকি দেয় তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোরভাবে অভিযান চালিয়ে যাব।’
হামাস এই দাবিকে অস্বীকার করে এটিকে “মনগড়া” বলে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে, তাদের লেবাননের শরণার্থী শিবিরে কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য