শিরোনাম
ইসরাইল সফরে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি
সম্প্রতি অধিকৃত পশ্চিম তীরকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে তেল আবিবের নিবন্ধনের প্রস্তাব অনুমোদনের পর ভারতসহ বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশ ইসরাইলের নিন্দা জানিয়েছিল। আর এর মধ্যেই নরেন্দ্র মোদির তেল আবিরের সফরের বিষয়টি সামনে এল।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইল সরকারের আগ্রাসন সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তিখাতে ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। যদিও কয়েক দশক ধরে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সমর্থন দিয়ে আসছে নয়াদিল্লি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের হামলার পর থেকে একাধিক পশ্চিমা নেতা নেতানিয়াহুর সাথে ইসরাইলে গিয়ে সাক্ষাৎ করলেও মোদির সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জেরুজালেমে এক অনুষ্ঠানে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী সপ্তাহে ইসরাইল সফর করবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের জোটকে শক্তিশালী করতে কাজ করছি। আগামী সপ্তাহে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু নরেন্দ্র মোদি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী—একটি বিশাল বৈশ্বিক শক্তির নেতা—ইসরাইল সফর করবেন।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরে দুই দেশ নিরাপত্তা সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করতে পারে বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
আগামী কয়েক বছরে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির সফর ঘিরে দুই দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ না করলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইসরাইল ভারতকে সর্বাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে।
ভোরে আফগানিস্তানে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান
আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। সম্প্রতি পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় হামলার জেরে আফগানিস্তানে ওই চালানো হয়েছে।
পাকিস্তানের এ হামলার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি তালেবান সরকার। তবে আফগান সূত্র সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে জানিয়েছে, তাদের দুটি প্রদেশ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।
সূত্রটি বলেছেন, তাদের পাকতিকা প্রদেশের একটি মাদ্রাসায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। অপর হামলা হয়েছে নানগারহার প্রদেশে।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক্সে এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের সেনাবাহিনী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও এর সহযোগী সংগঠনের সাতটি গোপন আস্তানা ও ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে।
এছাড়া ইসলামিক স্টেট সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের ক্যাম্পেও হামলা চালানো হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাক মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য আছে রাজধানী ইসলামাবাদের মসজিদে হামলাসহ সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলা আফগানিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র নেতা ও তাদের সহযোগীদের নির্দেশনায় হয়েছে।
এদিকে শনিবার রাতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার বান্নু বিভাগে আত্মঘাতী হামলায় এক লেফটেনেন্ট কর্নেলসহ দুই সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। এর কিছুক্ষণ পরই আফগানিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।
এর আগে গত সোমবার বাজাউরে অস্ত্রধারীর সহায়তায় এক আত্মঘাতী হামলাকারী নিরাপত্তা চৌকির কাছে গিয়ে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ১১ সেনা ও এক শিশু নিহত হয়। আফগানিস্তানের এক নাগরিক এ হামলা চালায় বলে দাবি করে পাকিস্তান।
তারও আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতীয় হামলায় ৩১ জন নিহত হন।
শনিবারের মধ্যে ইরানে হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আলোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উচ্চপর্যায়ের জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী চাইলে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) থেকেই সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রস্তুত থাকবে। তবে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
হোয়াইট হাউজ এখনও উত্তেজনা বাড়ানোর ঝুঁকি এবং সংযম দেখানোর রাজনৈতিক ও সামরিক পরিণতি- দুই দিকই বিবেচনা করে দেখছে। তাই আলোচনা চলবে ও সিদ্ধান্তে ‘পরিবর্তন’ ঘটতে পারে। তবে চলতি বছরের মার্চের মধ্যে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের সব বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থান নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান যদি পাল্টা হামলা চালায়, তাহলে পরবর্তী ৩ দিনে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে কিছু সামরিক কর্মীকে সাময়িকভাবে সরিয়ে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করলে ইরানের প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
একাধিক কর্মকর্তা জানান, এমন স্থানান্তর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের আগে নিয়মমাফিক করা হয়। এর মানে এই নয় যে ইরানে হামলা আসন্ন।
পেন্টাগনেরমুখপাত্র জানান, এ বিষয়ে দেওয়ার মতো কোনো তথ্য নেই।
সূত্রগুলো বলছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রায় ২ সপ্তাহ পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাথে বৈঠকের জন্য ইসরায়েল সফর করবেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউজের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘ইরানে হামলার পক্ষে ‘অনেক কারণ ও যুক্তি’ আছে, তবে কূটনীতিই প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ।’
সম্ভাব্য হামলা ইসরায়েলের সাথে সমন্বিত হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি।
লেভিট বলেন, ‘জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একটি অত্যন্ত সফল অভিযান চালিয়েছিল। ইরানের উচিত হবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আসা।’
ট্রাম্প এরই মধ্যে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও তার সাথে আরও কয়েকটি যুদ্ধজাহাজের বহর ইরানের কাছাকাছি মোতায়েন করেছেন। আরেকটি রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে। বুধবার পর্যন্ত ফোর্ড পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলে অবস্থান করছিল।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে ওই রণতরীকে সমুদ্রতলের তলায় ডুবে থাকা অবস্থায় দেখানো হয়েছে।
তিনি এক্সে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারবার বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দিকে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। অবশ্যই, যুদ্ধজাহাজ বিপজ্জনক অস্ত্র। কিন্তু এর চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র, যা ওই যুদ্ধজাহাজকে সাগরের তলানিতে পাঠাতে পারে।
মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে মধ্যস্থতাপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। বৈঠক কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে বুধবার লেভিট জানান, ‘অন্য কিছু বিষয়ে আমরা এখনও অনেক দূরে অবস্থান করছি।’
তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, ইরান আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও কিছু বিস্তারিত প্রস্তাব নিয়ে ফিরে আসবে। প্রেসিডেন্ট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পরবর্তী বৈঠকের জন্য কোনো তারিখ এখনও ঠিক হয়নি।’
গেল বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সাথে মিলে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৪ সালের চুক্তি থেকে সরে আসায় ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে নেয়। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানায়, ইরান তখন ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতা পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছিল, যা অস্ত্রে রুপান্তরের খুব কাছাকাছি।
সংস্থাটি বলে, বিশ্বে একমাত্র দেশ হিসেবে ইরানই এত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধকরণ চালিয়েছে, যার হাতে পারমাণবিক বোমা নেই।
সূত্র : সিবিএস।
৭০ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যার কথা স্বীকার করল ইসরায়েল
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজারের মতো ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে মেনে নিয়েছে ইসরায়েল।
গতকাল শুক্রবার জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আল জাজিরার এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
এর আগে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নিহতের সংখ্যার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল ইসরায়েল। যদিও জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরেই গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নথিভুক্ত নিহতের সংখ্যা নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে। তবে এদিকে ইসরায়েল দাবি করে আসছিল, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের দেয়া তথ্য বিশ্বাসযোগ্য নয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিহতদের নাম ও বয়স প্রকাশ করে থাকে। সর্বশেষ হিসেবে তারা জানিয়েছে, মোট নিহতের সংখ্যা ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অক্টোবরে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ৪৮০ জনের বেশি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, আরও বহু মানুষ গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধাদের আলাদা করে চিহ্নিত করা না হলেও অধিকাংশ নিহত নারী ও শিশু বলে উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ের বরাত দিয়ে ইসরায়েলের ওয়াইনেট নিউজ ওয়েবসাইটসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানায়, সামরিক বাহিনীও প্রায় একই ধরনের একটি হিসেব মেনে নিয়েছে।
ওয়াইনেটকে এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধে প্রায় ৭০ হাজার গাজাবাসী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নিখোঁজ ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত নন। (হতাহতদের মধ্যে) কারা সন্ত্রাসী ছিলেন আর কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন না—এটি নির্ধারণে আমরা এখন কাজ করছি।’
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, ‘এই বিষয়ে যেকোনো তথ্য বা প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিক ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।’
ট্রাম্পের অনুরোধে ইউক্রেনে হামলায় বিরতি দিলো রাশিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধকে সম্মান জানিয়ে ইউক্রেনে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা স্থগিত করেছে রাশিয়া। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই বিরতি চলবে।
গতকাল ৩০ জানুয়ারি এক ব্রিফিংয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর ক্রেমলিনের মুখপাত্র ও প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা আশা করছি এই বিরতি (যুদ্ধাবসান) আলোচনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে।”
এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য জানাননি পেসকভ। ইউক্রেনের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে কি না কিংবা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইউক্রেনও হামলায় বিরতি দেবে কি না— এসব প্রশ্নেরও কোনো উত্তর দেননি তিনি।
গত ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, “ইউক্রেনে আগামী এক সপ্তাহ কোনো হামলা চালাবে না রুশ বাহিনী। কারণ সেখানে মারাত্মক শীত পড়েছে…আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিয়েভ ও অন্যান্য শহরে হামলা বন্ধের জন্য তাকে আহ্বান জানিয়েছিলাম এবং তিনি তাতে রাজী হয়েছেন। আমাদের আলোচনা ছিল খুবই চমৎকার।”
আগের দিন বুধবার ইউক্রেনের জনৈক এমপি অ্যালেক্সেই গোনচারেঙ্কো সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছিলেন, ইউক্রেনের বিদ্যুৎখাতে হামলা বন্ধের ব্যাপারে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইউক্রেনে এখন তীব্র ঠাণ্ডা চলছে। বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় গড় তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কিন্তু সামনের রোববার থেকে এই তাপমাত্রা আরও কমে মাইনাস ১৩ ডিগ্রিতে নেমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউক্রেনের আবহাওয়া দপ্তর।
ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা না করা এবং ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য কিয়েভের তদবিরের জেরে কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েন চলার পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশে শুরু হওয়া সেই অভিযান এখনও চলছে।
অভিযানে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ও সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবারহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করেও হামলা করছে রুশ সেনারা। সর্বশেষ গত ২৬ জানুয়ারি রাতভর রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ স্থাপনাগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রুশ বাহিনী। এতে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে ইউক্রেনের ১ হাজার ৩৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনসহ ১২ লক্ষাধিক বাড়িঘর।
বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের বিদ্যুৎমন্ত্রী ডেনিস শ্মিগাল জানিয়েছেন, সরকার বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে, তবে এখনও ১০ লাখের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে।
সূত্র : আরটি
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য