ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

দুঃসময়ে ইরানের পাশে রাশিয়া, ইসরায়েলকে কড়া বার্তা

অনলাইন ডেস্ক
১৩ জুন, ২০২৫ ২৩:১৪
অনলাইন ডেস্ক
দুঃসময়ে ইরানের পাশে রাশিয়া, ইসরায়েলকে কড়া বার্তা

ইরানে হামলা অগ্রহণযোগ্য ও উসকানিমূলক- এ কথা জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কো বলেছে, ইসরায়েলের এই হামলা বিনাদোষে হয়েছে এবং এটা জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘন করেছে। সে সাথে পশ্চিমা দেশগুলোকেও দোষারোপ করেছে যে, তারা ইরানে বিদ্বেষ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। খবর রয়টার্স।

রাশিয়া বলেছে, ইরানে হামলা চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ও উত্তেজনা আরও বাড়াচ্ছে ইসরায়েল। অপর দিকে, ইরানে পরমাণু কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও সমাধানে ওয়াশিংটন ও মস্কো যে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে, তা ব্যাহত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে ক্রেমলিন।

এদিকে ইসরায়েল শুক্রবার (১৩ জুন) দাবি করেছে যে, তারা ইরানে পারমাণিবিক স্থাপনা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা ও সামরিক কমান্ড কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে- যা তাদের ভাষায়, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে নিবৃত্ত রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকব জানিয়েছেন যে, রাশিয়া এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও নিন্দা জানাচ্ছে। পুতিনও রাশিয়ার পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার (এসভার) সাথে ঘন ঘন কথা বলছেন ও বাস্তব তথ্য সংগ্রহ করছেন।

রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগে ইরানে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হ্রাস ও তা বেসামরিক পরমাণু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছে, যা ওয়াশিংটন ও তেহরানে আস্থা সৃষ্টি করার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, রাশিয়া ও ইরান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। জানুয়ারিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ২০ বছর মেয়াদে কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে মস্কো চাইছে না যে, মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িত হোক এবং সেই চুক্তিতে পারস্পরিক আত্মরক্ষার অঙ্গীকারও অন্তর্ভুক্ত নেই।

প্রেসিডেন্ট পুতিনের উদ্যোগে প্রকাশিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিস্তারিত বিবৃতিতে ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলোর আচরণের নিন্দা জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যে বলপ্রয়োগ হয়েছে- তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। নির্দোষ মানুষ, শান্তির শহর ও পরমাণু স্থাপনায় হামলা মানবতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ, বলেছে রাশিয়া।

মস্কো বিশ্বাস করে যে, ইরানে পরমাণু কর্মসূচিতে পশ্চিমা সন্দেহ ও আতঙ্ক নিরসন করার একমাত্র পথ হলো কূটনীতি ও আলোচনা। আমরা সবাইকে আত্মসংযম প্রদর্শন করার ও মধ্যপ্রাচ্যকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে এগোতে না দেওয়ার আহ্বান জানাই, বলেছে রাশিয়া।

একই সাথে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্মরণ করিয়েছে যে, রোববার (১৫ জুন) ওমানে ওয়াশিংটন ও ইরানে অপর পরমাণু আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৩ জুন) ভোররাতে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালায়। ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামের এই অভিযানে ইরানের পরমাণু স্থাপনা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা এবং সামরিক কমান্ড কেন্দ্রগুলো লক্ষ্যবস্তু ছিল।

এদিকে, ইরানে ইসরায়েলি হামলার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে। শুক্রবার ভোরে তেহরানে হামলার ঘটনায় এরই মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সৌদি আরব, তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

জানা গেছে, ইরানে পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসরায়েল বছরের পর বছর ধরে কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানে একটা ড্রোন ঘাঁটি তৈরি ও নির্ভুল অস্ত্র ব্যবস্থা ও কমান্ডো পাচার।

ইসরায়েলের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা টাইমস অফ ইসরায়েলকে বলেন, মোসাদ এজেন্টরা তেহরানের কাছে সেই ঘাঁটি স্থাপন করেছিলেন।

ড্রোনগুলো রাতারাতি সক্রিয় করা হয়, এর পর পরই ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ভূমিতে স্থাপন করা ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোতে আঘাত হানে। এর ফলেই ইরান তাৎক্ষণিক পাল্টা হামলা চালাতে পারবে না এবং তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই ধ্বংস হয়ে যায়।

ইরানে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৮ জন নিহত ও আহত হয়েছেন ৩২৯ জন। দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড পরিচালিত নিউজ এজেন্সি ফার্সের বরাতে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাস্তবে হামলায় নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বেশি।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ইরান-ইসরাইল সংঘাত: কোন দেশ কার পক্ষে?

    অনলাইন ডেস্ক
    ১৩ জুন, ২০২৫ ১৯:৪৬
    অনলাইন ডেস্ক
    ইরান-ইসরাইল সংঘাত: কোন দেশ কার পক্ষে?

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ইসরাইলকে সমর্থন জানিয়েছে। রাশিয়া, লেবাননসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইরানের পক্ষ নিয়েছে। 

    এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে এগুলো বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। 

    ইরানের হামলায় ক্ষুব্ধ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। ইরানকে ‘কঠিন পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে পেন্টাগন। তেহরানকে মোকাবিলায় তেল আবিবকে পূর্ণ সমর্থনের পাশাপাশি ইসরাইলের প্রতিরক্ষা নিশ্চিতে প্রত্যক্ষ সহায়তার কথা জানিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। 

    ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। একইসঙ্গে, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রশংসা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।

    তিনি বলেন, 

    ইরানের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আমরা উদ্বিগ্ন, যে কারণে নিন্দা জানাচ্ছি। এটা ভালো খবর যে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গঠিত ইসরাইলের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে বেসামরকি নাগরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

    এছাড়া ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কঠোর সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্য, স্পেন, ইউরোপীয় কমিশনও। 

    এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও ইসরাইলকে সমর্থন জানিয়ে ইরানের হামলার সমালোচনা করেছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন জাপানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট শিগেরু ইশিবা। 

    এদিকে, ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলায় সমর্থন জানিয়েছে রাশিয়া। তেহরানের এ হামলা নেতানিয়াহু সরকারের ক্রমাগত অপরাধ ও ইসমাইল হানিয়াকে হত্যার প্রতিক্রিয়া ছিল বলে উল্লেখ করেছে মস্কো। একইসঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্যে বাইডেন প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে বলেও সমালোচনা করেছে রাশিয়া।

    এছাড়াও, লেবানন, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও গাজাবাসী তেহরানকে সমর্থন জানিয়েছে। তবে, বরাবরের মতোই চুপ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বাকি মুসলিম দেশগুলো। 

    উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে অনেকদিন ধরেই ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সবর বিশ্ব রাজনীতি। তেহরান-মস্কো সত্যিই কি ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে?- এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মঙ্গলবার রাতে ইসরাইলি ভুখণ্ড লক্ষ্য করে প্রায় ২০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে ইরান। এ ঘটনা টনক নাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্ব নেতাদের। 

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও আইআরজিসির নতুন প্রধান নিযুক্ত

      অনলাইন ডেস্ক
      ১৩ জুন, ২০২৫ ১৭:৫৩
      অনলাইন ডেস্ক
      ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও আইআরজিসির নতুন প্রধান নিযুক্ত
      ছবির বামে ইরানের নতুন সেনাপ্রধান আবদুর রহিম মুসাভি এবং ডানে নতুন আইআরজিসি প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর।

      তেহরানে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান হোসেইন বাকেরি এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি। তাদের মৃত্যুর পর গুরুত্বপূর্ণ এসব পদে দুই র্শীষ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। 

      এর মধ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভিকে নতুন সেনাপ্রধান এবং আইআরজিসির স্থল বাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুরকে আইআরজিসির নতুন কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

      শুক্রবার (১৩ জুন) পৃথক ডিক্রিতে এই দুই কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে দেশটির দুই র্শীষ বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেন আয়াতুল্লাহ খামেনি।

      ডিক্রিতে ইসরায়েলের হামলায় নিহত মেজর জেনারেল বাকেরির ও মেজর জেনারেল সালামির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং নতুন কমান্ডারের যোগ্যতা এবং মূল্যবান অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। এছাড়া ইসরায়েলের হামলার জবাব দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি এবং সক্ষমতা ক্রমাগত বৃদ্ধির জন্য নতুন কমান্ডারের জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

      এর আগে শুক্রবার ভোরের দিকে রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোর ওপর হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল। এর মধ্যে তেহরানের বিভিন্ন আবাসিক ভবন লক্ষ্য করা হয়। এতে অনেক সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারান এবং দেশটির উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হন। 

      নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান হোসেইন বাকেরি, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি, খাতামু আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের কমান্ডার মেজর জেনারেল গোলাম আলি রশিদ এবং দুই পারমাণবিক বিজ্ঞানী মোহাম্মাদ মাহদি তেহরাঞ্চি ও ফেরিদুন আব্বাসি উল্লেখযোগ্য।

      এদিকে ইরানজুড়ে সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোর ওপর ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলার জবাবে ইসরায়েলের দিকে প্রায় ১০০টি ড্রোন ছুঁড়েছে তেহরান। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, ইসরায়েলের দিকে ছোঁড়া সব ইরানি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে।

      সূত্র: তাসনিম নিউজ 

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        যতদিন প্রয়োজন ততদিনই ইরানে হামলা অব্যাহত রাখব: নেতানিয়াহু

        অনলাইন ডেস্ক
        ১৩ জুন, ২০২৫ ১৪:৩৫
        অনলাইন ডেস্ক
        যতদিন প্রয়োজন ততদিনই ইরানে হামলা অব্যাহত রাখব: নেতানিয়াহু

        ইরানের রাজধানী তেহরান এবং আশপাশের এলাকায় অবস্থিত পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রাতভর চালানো এই হামলায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি ও রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান জেনারেল হোসেইন সালামিসহ আরও অনেকেই নিহত হয়েছেন।

        তবে এই হামলা এখানেই শেষ নয়। যতদিন প্রয়োজন হবে, ততদিন ইসরায়েল আক্রমণ অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবার (১৩ জুন) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

        প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, “এই হামলা ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে।”

        বিবিসি বলছে, রাজধানী তেহরান থেকে ২২৫ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর নাতাঞ্জে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। এটিকে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মূল এলাকা হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

        তিনি আরও বলেন, “ইরানি বোমা বানানোর সঙ্গে জড়িত” বিজ্ঞানীরা তাদের নিশানায় রয়েছেন। নেতানিয়াহুর ভাষায়, “যতদিন প্রয়োজন, ততদিন এ আক্রমণ অব্যাহত থাকবে।”

        এদিকে ইরানে হামলার পরপরই নিজ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে ইসরায়েলি সরকার। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই ইসরায়েলের ওপর পাল্টা হামলা” চালাতে পারে ইরান।

        এছাড়া ইরানের ওপর যখন হামলা চালানো হয় ইসরায়েলের মানুষ তখন ঘুমাচ্ছিলেন। জেরুজালেমে অবস্থানরত একজন বিবিসি সংবাদদাতা জানিয়েছেন, সাইরেনের বিকট শব্দে এবং মোবাইলে জরুরি সতর্কবার্তা পেয়ে তারা জেগে ওঠেন।

        অন্যদিকে সিএনএন বলছে, শুক্রবার ভোরে ইরানে হামলা চালানোর পর সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক আক্রমণের আশঙ্কায় ইসরায়েল সরকার নাগরিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

        ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল রাফি মিলো বলেন, “এই অভিযান চলাকালে আমরা দেশে ব্যাপক সতর্কতা সংকেত বা সাইরেন বাজতে দেখতে পারি। তাই প্রত্যেক নাগরিককে অনুরোধ করছি— নিজ নিজ অবস্থান থেকে দ্রুত ও যথাসম্ভব সুরক্ষিতভাবে আশ্রয় নিতে।”

        তিনি আরও বলেন, “আপনার বাসাবাড়িতে বা যে স্থানে আছেন, সেখানে যদি সুরক্ষিত কক্ষ, বাংকার বা হোম ফ্রন্ট কমান্ড অনুমোদিত নিরাপদ স্থান থাকে, তাহলে সেগুলোতে আশ্রয় নিন। তা না হলে অন্তত ভবনের সিঁড়িঘরে বা ভেতরের কোনও কক্ষে অবস্থান করুন।”

        ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী ও সরকার আগেই মনে করছিল, ইরানের পাল্টা হামলা যে কোনও সময় শুরু হতে পারে। তাই নাগরিকদের জন্য আগে-ভাগেই এই নির্দেশনা জারি করা হয়।

        মন্তব্য

        ইরান-ইসরাইল: সামরিক শক্তিতে কে এগিয়ে?

        অনলাইন ডেস্ক
        ১৩ জুন, ২০২৫ ১৪:৭
        অনলাইন ডেস্ক
        ইরান-ইসরাইল: সামরিক শক্তিতে কে এগিয়ে?

        তেহরানে এবং আশপাশের এলাকায় অবস্থিত ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে দুই শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। জবাবে শতাধিক ড্রোন দিয়ে তেল আবিবে হামলা চালিয়েছে তেহরানও।

        পালটা-পালটি এ হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বের নজর এখন ইরান ও ইসরাইলের দিকে।  দুদেশের এই হামলা-পালটা হামলাকে ঘিরে আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কাও করছেন অনেকে। 

        কারণ সক্ষমতার দিক থেকে তুলনা করলে দেখা যায় দুটি দেশই সামরিক দিক থেকে বেশ শক্তিশালী। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে ইসরাইলের তুলনায় এক ধাপ পিছিয়ে ইরান। তবে দুটি দেশই বিশ্বের সামরিক শক্তিধর শীর্ষ ২০ টি দেশের মধ্যে অবস্থান করছে।

        সামরিক শক্তির তুলনা

        প্রতিরক্ষা খাতে ইরান ও ইসরাইল- দুই দেশই প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। তবে বাৎসরিক সামরিক বাজেটে ইরানের তুলনায় ইসরাইলের ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি।  ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাজেট হলো ২৪৪০ কোটি ডলার। অন্যদিকে ইরানের বাজেট ৯৯৫ কোটি ডলার। এই র্যাংকিংয়ের ১৪৫ দেশের মধ্যে ইরান ১৬তম অবস্থানে আর ইসরাইল ১৫ তম অবস্থানে রয়েছে।

        নিয়মিত সৈন্য

        গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার জানাচ্ছে, সৈন্য সংখ্যার হিসেবে ইসরাইলের চেয়ে বহু এগিয়ে আছে ইরান। ইরানের নিয়মিত সেনা আছে যেখানে ১১ লাখ ৮০ হাজার সেখানে ইসরাইলের সৈন্য ৬ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে ইরানের রিজার্ভ সৈন্য সংখ্যা সাড়ে তিন লাখ আর ইসরাইলের রিজার্ভ সেনা আছে ৪ লাখ ৬৫ হাজার।

        যুদ্ধ বিমান

        ইরানের মোট সামরিক বিমানের সংখ্যা ৫৫১টি আর ইসরাইলের আছে ৬১২টি। এর মধ্যে ইরানের যুদ্ধ বিমান আছে ১৮৬টি আর ইসরাইলের  যুদ্ধবিমান আছে ২৪১টি।

        ইরানের অ্যাটাকিং বিমান সংখ্যা ২৩টি যেখানে ইসরাইলের আছে ৩৯টি।

        ইরানের পরিবহণ বিমান আছে ৮৬টি ইসরাইলের আছে ১২টি।

        ইরানের প্রশিক্ষণ বিমান ১০২টি আর ইসরাইলের আছে ১৫৫টি।

        হেলিকপ্টার

        গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ইরানের হেলিকপ্টার আছে ১২৯টি আর ইসরাইলের ১৪৬টি।

        ৪৮টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার নিয়ে ইরানের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে ইসরাইল।  ইরানের অ্যাটক হেলিকপ্টারের সংখ্যা ১৩টি।

        ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান

        গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্যানুযায়ী, ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানের দিক থেকে ইসরাইলের চেয়েএগিয়ে আছে ইরান।  ইসরাইলের ট্যাংক আছে ১৩৭০টি আর ইরানের ১৯৯৬টি। সাঁজোয়া যান আছে ইরানের ৬৫ হাজার ৭৬৫টি আর ইসরাইলের আছে ৪৩ হাজার ৪০৩টি।

        এছাড়া আর্টিলারি সক্ষমতায় এগিয়ে ইরান; তাদের রকেট আর্টিলারি এমএলআরএস এর সংখ্যা ৭৭৫টি এবং সেলফ প্রপেলড আর্টিলারির সংখ্যা ৫৮০টি।

        অন্যদিকে ইসরাইলের এ দিক থেকে সেফল প্রপেলড আর্টিলারির সংখ্যা ৬৫০টি এবং এমএলআরএস বা রকেট আর্টিলারির সংখ্যা ১৫০টি।

        নৌ শক্তি

        গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার বলছে, নৌবাহিনীর শক্তির দিক থেকে এগিয়ে আছে ইরান।

        দেশটির ১০১টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে যেখানে ৭টি ফ্রিগেট এবং ২১টি টহল জাহাজ আর ইসরাইলের যুদ্ধজাহাজ সংখ্যা ৬৭টি।

        এর মধ্যে টহল জাহাজ আছে ৪৫টি এবং ইসরাইলের কোনো ফ্রিগেট নেই। সাবমেরিনের দিক থেকেও ইরান শক্তিশালী। দেশটির সাবমেরিন আছে ১৯টি যেখানে ইসরাইলের সাবমেরিন আছে ৫টি।

        পারমাণবিক শক্তি

        সুইডেন-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)'র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শুরুতে বিশ্বের নয়টি দেশের কাছে প্রায় ১২ হাজার ৫১২টি পারমাণবিক অস্ত্র আছে।

        দেশগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া এবং ইসরাইল। এই তালিকায় ইরানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র কখনোই ছিল না।

        কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার দাবি করেছে যে ইরান তাদের ইউরেনিয়ামের মজুদ দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে। ইরান দাবি করে তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।

        এদিকে গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেনি যে কোন দেশের হাতে কতটি এ ধরনের অস্ত্র রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, পারমাণবিক অস্ত্র ক্ষমতার বিষয়টি তারা তাদের রিপোর্টে বিবেচনায় নেয়নি।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত