শিরোনাম
ক্যাম্পাসে নারীদের নিরাপত্তার দাবিতে বাকৃবিতে মানববন্ধন
গোপনে নারী সহপাঠীদের অপ্রীতিকর ও অপ্রস্তুত ছবি তুলে সিনিয়র ভাইকে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফুড টেকনোলজি ও গ্রামীণ শিল্প বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাত সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কে.আর মার্কেটের সামনে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সহপাঠীরা দাবি করেন, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে হবে। অভিযুক্ত দুইজন শরীফ ইসতিয়াক আকাশ আকাশ ও দেবশ্রী দত্ত রাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও ডিগ্রি বাতিল করতে হবে। কিন্তু অভিযুক্তরা দুই দিন আগে তাদের অপরাধ স্বীকার করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের পক্ষ থেকে কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন সহপাঠীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, আমরা কেবল রাত্রীর ফোন জব্দ করতে পেরেছি। তবে আকাশের ফোনে আরও ছবি, ডকুমেন্টস থাকতে পারে। কেননা তারা দুই বছর ধরে এসব করে আসছে। তাই আকাশের ফোন ও সকল যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত জব্দ করতে প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহণ করুক। যেহেতু অনলাইনের যুগ, সেহেতু নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার হুমকি থেকেই যায়।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, আমরা অভিযুক্তদের অতি দ্রুত জনসম্মুখে শাস্তি দাবি করছি। অপরাধীদের ছেড়ে দিলে, ভবিষ্যতে এরকম অপরাধ বৃদ্ধি পাবে। এগুলো একমাত্র বিকৃত মস্তিষ্কের ঘৃণিত কাজ। তাই এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নৈতিক শিক্ষা ও নৈতিকতা চর্চার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন শিক্ষার্থীরা।
বাকৃবির ২০ জন শিক্ষার্থী পেলেন জাপানের এনইএফ বৃত্তি
জাপানের নাগাও ন্যাচারাল এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশন (এনইএফ) কর্তৃক মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৃত্তি অর্জন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ২০ জন মেধাবী শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ ও ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে প্রায় ৪০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে কৃষি অনুষদের ৮ জন, ভেটেরিনারি অনুষদের ৪ জন, পশুপালন অনুষদের ৪ জন এবং মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, জাপানের নাগাও ন্যাচারাল এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশন (এনইএফ) কর্তৃক আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি, পশুপালন, ভেটেরিনারি সায়েন্স ও ফিশারিজ অনুষদের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল বা দুই সেমিস্টারের ভিত্তিতে ২০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। আমরা ফাউন্ডেশনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই, কারণ তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি দিয়েছে এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমি এই ২০ জন শিক্ষার্থীকে আহ্বান জানাই, তারা যেন ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করে। একই সঙ্গে তারা যেন এই বৃত্তির গুরুত্ব তুলে ধরে অন্য শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করে। যাতে ভবিষ্যতে আরও অনেকেই মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এমন বৃত্তির সুযোগ পেতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ ও ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে প্রায় ৪০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে কৃষি অনুষদের ৮ জন, ভেটেরিনারি অনুষদের ৪ জন, পশুপালন অনুষদের ৪ জন এবং মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, জাপানের নাগাও ন্যাচারাল এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশন (এনইএফ) কর্তৃক আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি, পশুপালন, ভেটেরিনারি সায়েন্স ও ফিশারিজ অনুষদের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল বা দুই সেমিস্টারের ভিত্তিতে ২০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। আমরা ফাউন্ডেশনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই, কারণ তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি দিয়েছে এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমি এই ২০ জন শিক্ষার্থীকে আহ্বান জানাই, তারা যেন ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করে। একই সঙ্গে তারা যেন এই বৃত্তির গুরুত্ব তুলে ধরে অন্য শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করে। যাতে ভবিষ্যতে আরও অনেকেই মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এমন বৃত্তির সুযোগ পেতে পারে।
উল্লেখ্য, নাগাও ন্যাচারাল এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশন (এনইএফ) জাপানের একটি বেসরকারি সংস্থা, যা ১৯৮৯ সালের নভেম্বরে নাগাও প্রতিষ্ঠা করেন। উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখতে এই সংস্থা কাজ করে আসছে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে এনইএফ দীর্ঘদিন ধরে তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করে আসছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের আরও চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এই বৃত্তির আওতাভুক্ত।
বাকৃবিতে বেগম খালেদা জিয়া হলের উদ্বোধন
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে নবনির্মিত ‘বেগম খালেদা জিয়া হল’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম ও ৬ষ্ঠ ছাত্রী হল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল। সোমবার রাতে নতুন হলের লাইব্রেরি কক্ষে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এর উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়াকে স্বাগত জানান। পরে হলের নামফলক উন্মোচন ও কেক কাটার মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়।
হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক, ডিন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, প্রভোস্ট পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা, কোষাধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. হুমায়ূন কবির, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম ও রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হাউস টিউটর, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নতুন হলের শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, হলটির একটি ব্লকের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রথম পর্যায়ে ৩৫০ জন ছাত্রীকে আবাসনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৪৪টি কক্ষ ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গভাবে নির্মাণ কাজ শেষ হলে হলটিতে ১,২০০ শিক্ষার্থী আবাসনের সুযোগ পাবে।
সভাপতির বক্তব্যে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাদের বলেন, এটি একটি অনন্য হল, তার নামের কারণেই। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ শতাংশ ছাত্রী পড়াশোনা করছে— যা মেয়েদের অগ্রযাত্রার প্রতীক। এই হলের পরিবেশে মনোযোগসহকারে পড়াশোনা করলে তোমরা আরও এগিয়ে যেতে পারবে, দেশের সেবায় ভূমিকা রাখতে পারবে— তাহলেই এই হলের নাম সার্থক হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া একটি অবিস্মরণীয় নাম, এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তার নামে এই হল উদ্বোধন করতে পেরে আমরা গর্বিত। এই হলের মনোরম পরিবেশ ও সৌন্দর্য অন্য হলগুলোর চেয়ে আলাদা। যারা এখানে সিট পেয়েছো, তারা সত্যিই ভাগ্যবান।’
উপাচার্য আরও বলেন, এই হলে কোনো হিটার চলবে না, শতভাগ ছাত্রীকে ডাইনিংয়ে খেতে হবে। কেউ পলিথিনে করে খাবার আনবে না। ডাইনিংয়ের খাবার ভালো না হলে আমরা পদক্ষেপ নেব। খুব শিগগিরই তোমাদের জন্য ব্যাডমিন্টন কোর্টের ব্যবস্থাও করা হবে।
রাসায়নিকের ঝুঁকি কমাতে ঢাকায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা
বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের উদ্যোগে ঢাকায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘সামাজিক এবং আচরণগত পরিবর্তন যোগাযোগ (এসবিসিসি) কৌশল ও প্রচার অভিযান উন্নয়ন কর্মশালা’।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার গুলশানে ন্যাসেন্ট গার্ডেনিয়া স্যুটস হোটেলে এ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়।
ক্যাব ইন্টারন্যাশনাল (ক্যাবি) কর্তৃক প্ল্যান্টওয়াইজ প্লাস কর্মসূচির আওতায় ‘পেস্টিসাইড প্রকল্প’-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়। এ কর্মশালার উদ্দেশ্য হলো কীটনাশক ব্যবহারের ঝুঁকি হ্রাস, সমন্বিত বালাই দমন (আইপিএম) প্রসার এবং কৃষি সম্প্রদায়ে নারীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ক্যাবি বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. সালেহ আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএই মহাপরিচালক মো. সাইফুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএআরসি-এর প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের সদস্য পরিচালক ড. মো. সাইফুল্লাহ, ডিএই-এর ফিল্ড সার্ভিস উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল।
কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা এসবিসিসি কৌশলের কাঠামো, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, অডিয়েন্স অ্যানালাইসিস ও অংশগ্রহণমূলক গ্রুপ ওয়ার্কে অংশ নিচ্ছেন। কর্মশালার সেশন পরিচালনা করছেন ক্যাবির এশিয়া অঞ্চলের ডেভেলপমেন্ট কমিউনিকেশন ম্যানেজার আজমত আব্বাস, ড. দিলরুবা শারমিন এবং বিল ওকাকা। আগামীকাল (সোমবার) সমাপনী অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম দিনের কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মো. সাইফুল্লাহ বলেন, জ্ঞান ও কর্মের মধ্যে ফাঁক পূরণে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। বিশেষ করে সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নীতি-আধারিত প্রচারণার মাধ্যমে পেস্টিসাইড ব্যবহারের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল পেস্টিসাইড বেশি ব্যবহার করলে উদ্ভিদ রোগমুক্ত হবে—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এছাড়া তিনি কৃষকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে গুড এগ্রিকালচার প্র্যাকটিস ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি মো. সাইফুল আলম তাঁর বক্তব্যে এসবিসিসি-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, এসবিসিসি নিরাপদ পেস্টিসাইড ব্যবহার এবং সমন্বিত কীটনাশক ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) প্রচারের মাধ্যমে কৃষকদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যদিও খাদ্যের অভাব নেই, নিরাপদ খাদ্যের অভাব রয়েছে। ২০৫০ সালের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ক্যাবি এবং বিআরসি এই উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতা করছে।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে কম্বাইন্ড ডিগ্রি অপরিহার্য
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেছেন, দেশের প্রেক্ষাপটে প্রাণিসম্পদের উন্নয়নের জন্য কম্বাইন্ড ডিগ্রি (বিএসসি ইন ভেট সায়েন্স এন্ড এএইচ) অপরিহার্য। আমরা শিক্ষক হিসেবে চাইব, শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এবং দেশের স্বার্থে কল্যাণকর সেই ডিগ্রি হোক। প্রাণিসম্পদ সেক্টরের সাথে সম্পর্কিত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কম্বাইন্ড ডিগ্রির বিষয়ে স্পষ্ট চাহিদা রয়েছে। আমরা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো মতামত দিইনি, ব্যক্তিগত স্বার্থেও নয়। এতে করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়ও আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা এগিয়ে যেতে পারবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে ভেটেরিনারি অনুষদের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. বাহানুর রহমান আরও বলেন, এই ডিগ্রি মূলত ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যতের জন্য। বর্তমানে অধিকাংশ শিক্ষার্থী কম্বাইন্ড ডিগ্রির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে দুই অনুষদে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সবকিছু বিবেচনা করেই আমরা কম্বাইন্ড ডিগ্রির পক্ষে মতামত দিয়েছি। বর্তমান বাস্তবতায় একজন ভেটেরিনারি সায়েন্স গ্র্যাজুয়েটের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস দেওয়ার সক্ষমতা থাকা জরুরি। সরকারি চাকরিতে প্রবেশ বা ডিএলএস (ডিপার্টমেন্ট অব লাইভস্টক)-এ যোগ দিতে হলে এই ডিগ্রি আবশ্যক। তাই বাকৃবিতে যদি কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালু হয়, তবে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও তা অনুসরণ করবে ।
কম্বাইন্ড ডিগ্রি হলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা যারা ডিভিএম (ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন) ডিগ্রির জন্য ভর্তি হয়েছে তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর ভেটেরিনারিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯৮ শতাংশ দেশীয় এবং ২ শতাংশ বিদেশি। এত বিপুল সংখ্যক দেশীয় গ্রাজুয়েটের চাকরির বাজার নিশ্চিত করাই আমাদের প্রথম দায়িত্ব। শুধুমাত্র বিদেশি শিক্ষার্থীদের উপর অনুষদ টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। নেপালের শিক্ষার্থীদের তাদের দেশের নিবন্ধন পেতে কোনো সমস্যা নেই। মালয়েশিয়ান শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তাদের দেশীয় নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য যাচাই চলছে। এ বিষয়ে মাননীয় ভিসির সাথে আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই একটি টিম মালয়েশিয়া গিয়ে তাদের ভেটেরিনারি কাউন্সিলের সাথে বৈঠক করবে। বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের জন্য বাকৃবিতে ইতোমধ্যে একটি আন্তর্জাতিক সেল গঠন করা হয়েছে, যা তাদের সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ডিন ও প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মকবুল হোসেন বলেন, ১৯৬৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ভেটেরিনারি শিক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। সে সময় বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিমেল হাজবেন্ডারি ডিগ্রিকে ভেঙে আলাদা করে ডিভিএম (ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন) এবং বিএসসি ইন অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি করা হয়। মূলত এটি ছিল একটি পাঁচ বছরের প্রকল্প, যা পর্যালোচনা করার কথা ছিল। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে একই প্রক্রিয়া চালু হলেও পর্যালোচনার পর তারা আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে তা আর সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ১৯৮০-এর দশক থেকে সরকার বিষয়টি উপলব্ধি করে একাধিক কমিটি গঠন করে— এনাম কমিটি, শামসুল হক বারি কমিটি ও এরশাদুল হক কমিটি। এসব কমিটি বারবারই একটি ইন্টিগ্রেটেড বা কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর সুপারিশ করেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিষয়টি বাস্তবায়ন হয়নি। সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো এ বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিল থেকেও প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব আলম বলেন, ১৯৬১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত যেসব অ্যানিম্যাল হাজবেন্ড্রি গ্র্যাজুয়েট মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন, তাদের পক্ষ থেকেই কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবি উঠেছে। যদি শুধু ভেটেরিনারিরা এই দাবি তুলতেন, তাহলে একপক্ষের দাবি বলা যেত। মাঠের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে গ্র্যাজুয়েটরা শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো জানাচ্ছেন, আর শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারছেন কম্বাইন্ড ডিগ্রির যৌক্তিকতা ও গুরুত্ব। তাই তারা আন্দোলন করছে। আসলে দেশের জন্য এই ডিগ্রির প্রয়োজনীয়তা এখন আর অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে চাই যারা উচ্চতর পর্যায়ে নিজেদের বিকশিত করতে পারবে। এজন্য আমাদের বন্ধুপ্রতিম অনুষদগুলোকে অনুরোধ করব, দেশের ও শিক্ষার্থীদের প্রেক্ষাপটে একটি সুন্দর সিদ্ধান্ত নিতে। যাতে আমরা দেশের লাইফস্টাইলকে উন্নতির পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারি এবং বিদেশেও আমাদের লাইভস্টক পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হই।
অনুষ্ঠানে ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা. ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, কোনো দেশের কাউন্সিল কোনো ডিগ্রিকে রেজিষ্ট্রেশন দেওয়ার সময় নাম নয়, বরং পাঠ্যক্রমের সময় ও বিষয়বস্তু বিবেচনা করে। বর্তমানে আমাদের ডিভিএম ডিগ্রিতে কিছু ঘাটতি রয়েছে। এছাড়াও আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি ফার্ম বা পোল্ট্রি ফার্মে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে তারা পূর্ণাঙ্গ ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে ফিল্ডে প্রতিষ্ঠিত হতে পারছে না। এ কারণে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলও ভবিষ্যতে এ ডিগ্রিকে স্বীকৃতি নাও দিতে পারে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর পর দেশের প্রাণি সম্পদের উন্নতি হয়েছে বলে তারা বক্তৃতা দেন। তাহলে বাকৃবিতে চালু হলে কেন প্রাণি সম্পদের ক্ষতি হবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর লক্ষ্যে গত ২৭ জুলাই থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীরা। ৩০ জুলাই থেকে একটানা তালাবদ্ধ রয়েছে অনুষদটি। অন্যদিকে একই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা। গত ২৫ আগস্ট থেকে অনুষদে তালা ঝুলিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন তারা।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য