শিরোনাম
রাসায়নিকের ঝুঁকি কমাতে ঢাকায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা
বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের উদ্যোগে ঢাকায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘সামাজিক এবং আচরণগত পরিবর্তন যোগাযোগ (এসবিসিসি) কৌশল ও প্রচার অভিযান উন্নয়ন কর্মশালা’।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার গুলশানে ন্যাসেন্ট গার্ডেনিয়া স্যুটস হোটেলে এ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়।
ক্যাব ইন্টারন্যাশনাল (ক্যাবি) কর্তৃক প্ল্যান্টওয়াইজ প্লাস কর্মসূচির আওতায় ‘পেস্টিসাইড প্রকল্প’-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়। এ কর্মশালার উদ্দেশ্য হলো কীটনাশক ব্যবহারের ঝুঁকি হ্রাস, সমন্বিত বালাই দমন (আইপিএম) প্রসার এবং কৃষি সম্প্রদায়ে নারীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ক্যাবি বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. সালেহ আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএই মহাপরিচালক মো. সাইফুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএআরসি-এর প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের সদস্য পরিচালক ড. মো. সাইফুল্লাহ, ডিএই-এর ফিল্ড সার্ভিস উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল।
কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা এসবিসিসি কৌশলের কাঠামো, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, অডিয়েন্স অ্যানালাইসিস ও অংশগ্রহণমূলক গ্রুপ ওয়ার্কে অংশ নিচ্ছেন। কর্মশালার সেশন পরিচালনা করছেন ক্যাবির এশিয়া অঞ্চলের ডেভেলপমেন্ট কমিউনিকেশন ম্যানেজার আজমত আব্বাস, ড. দিলরুবা শারমিন এবং বিল ওকাকা। আগামীকাল (সোমবার) সমাপনী অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম দিনের কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মো. সাইফুল্লাহ বলেন, জ্ঞান ও কর্মের মধ্যে ফাঁক পূরণে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। বিশেষ করে সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নীতি-আধারিত প্রচারণার মাধ্যমে পেস্টিসাইড ব্যবহারের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল পেস্টিসাইড বেশি ব্যবহার করলে উদ্ভিদ রোগমুক্ত হবে—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এছাড়া তিনি কৃষকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে গুড এগ্রিকালচার প্র্যাকটিস ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি মো. সাইফুল আলম তাঁর বক্তব্যে এসবিসিসি-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, এসবিসিসি নিরাপদ পেস্টিসাইড ব্যবহার এবং সমন্বিত কীটনাশক ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) প্রচারের মাধ্যমে কৃষকদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যদিও খাদ্যের অভাব নেই, নিরাপদ খাদ্যের অভাব রয়েছে। ২০৫০ সালের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ক্যাবি এবং বিআরসি এই উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতা করছে।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে কম্বাইন্ড ডিগ্রি অপরিহার্য
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেছেন, দেশের প্রেক্ষাপটে প্রাণিসম্পদের উন্নয়নের জন্য কম্বাইন্ড ডিগ্রি (বিএসসি ইন ভেট সায়েন্স এন্ড এএইচ) অপরিহার্য। আমরা শিক্ষক হিসেবে চাইব, শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এবং দেশের স্বার্থে কল্যাণকর সেই ডিগ্রি হোক। প্রাণিসম্পদ সেক্টরের সাথে সম্পর্কিত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কম্বাইন্ড ডিগ্রির বিষয়ে স্পষ্ট চাহিদা রয়েছে। আমরা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো মতামত দিইনি, ব্যক্তিগত স্বার্থেও নয়। এতে করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়ও আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা এগিয়ে যেতে পারবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে ভেটেরিনারি অনুষদের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. বাহানুর রহমান আরও বলেন, এই ডিগ্রি মূলত ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যতের জন্য। বর্তমানে অধিকাংশ শিক্ষার্থী কম্বাইন্ড ডিগ্রির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে দুই অনুষদে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সবকিছু বিবেচনা করেই আমরা কম্বাইন্ড ডিগ্রির পক্ষে মতামত দিয়েছি। বর্তমান বাস্তবতায় একজন ভেটেরিনারি সায়েন্স গ্র্যাজুয়েটের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস দেওয়ার সক্ষমতা থাকা জরুরি। সরকারি চাকরিতে প্রবেশ বা ডিএলএস (ডিপার্টমেন্ট অব লাইভস্টক)-এ যোগ দিতে হলে এই ডিগ্রি আবশ্যক। তাই বাকৃবিতে যদি কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালু হয়, তবে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও তা অনুসরণ করবে ।
কম্বাইন্ড ডিগ্রি হলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা যারা ডিভিএম (ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন) ডিগ্রির জন্য ভর্তি হয়েছে তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর ভেটেরিনারিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯৮ শতাংশ দেশীয় এবং ২ শতাংশ বিদেশি। এত বিপুল সংখ্যক দেশীয় গ্রাজুয়েটের চাকরির বাজার নিশ্চিত করাই আমাদের প্রথম দায়িত্ব। শুধুমাত্র বিদেশি শিক্ষার্থীদের উপর অনুষদ টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। নেপালের শিক্ষার্থীদের তাদের দেশের নিবন্ধন পেতে কোনো সমস্যা নেই। মালয়েশিয়ান শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তাদের দেশীয় নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য যাচাই চলছে। এ বিষয়ে মাননীয় ভিসির সাথে আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই একটি টিম মালয়েশিয়া গিয়ে তাদের ভেটেরিনারি কাউন্সিলের সাথে বৈঠক করবে। বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের জন্য বাকৃবিতে ইতোমধ্যে একটি আন্তর্জাতিক সেল গঠন করা হয়েছে, যা তাদের সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ডিন ও প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মকবুল হোসেন বলেন, ১৯৬৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ভেটেরিনারি শিক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। সে সময় বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিমেল হাজবেন্ডারি ডিগ্রিকে ভেঙে আলাদা করে ডিভিএম (ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন) এবং বিএসসি ইন অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি করা হয়। মূলত এটি ছিল একটি পাঁচ বছরের প্রকল্প, যা পর্যালোচনা করার কথা ছিল। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে একই প্রক্রিয়া চালু হলেও পর্যালোচনার পর তারা আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে তা আর সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ১৯৮০-এর দশক থেকে সরকার বিষয়টি উপলব্ধি করে একাধিক কমিটি গঠন করে— এনাম কমিটি, শামসুল হক বারি কমিটি ও এরশাদুল হক কমিটি। এসব কমিটি বারবারই একটি ইন্টিগ্রেটেড বা কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর সুপারিশ করেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিষয়টি বাস্তবায়ন হয়নি। সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো এ বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিল থেকেও প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব আলম বলেন, ১৯৬১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত যেসব অ্যানিম্যাল হাজবেন্ড্রি গ্র্যাজুয়েট মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন, তাদের পক্ষ থেকেই কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবি উঠেছে। যদি শুধু ভেটেরিনারিরা এই দাবি তুলতেন, তাহলে একপক্ষের দাবি বলা যেত। মাঠের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে গ্র্যাজুয়েটরা শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো জানাচ্ছেন, আর শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারছেন কম্বাইন্ড ডিগ্রির যৌক্তিকতা ও গুরুত্ব। তাই তারা আন্দোলন করছে। আসলে দেশের জন্য এই ডিগ্রির প্রয়োজনীয়তা এখন আর অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে চাই যারা উচ্চতর পর্যায়ে নিজেদের বিকশিত করতে পারবে। এজন্য আমাদের বন্ধুপ্রতিম অনুষদগুলোকে অনুরোধ করব, দেশের ও শিক্ষার্থীদের প্রেক্ষাপটে একটি সুন্দর সিদ্ধান্ত নিতে। যাতে আমরা দেশের লাইফস্টাইলকে উন্নতির পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারি এবং বিদেশেও আমাদের লাইভস্টক পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হই।
অনুষ্ঠানে ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা. ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, কোনো দেশের কাউন্সিল কোনো ডিগ্রিকে রেজিষ্ট্রেশন দেওয়ার সময় নাম নয়, বরং পাঠ্যক্রমের সময় ও বিষয়বস্তু বিবেচনা করে। বর্তমানে আমাদের ডিভিএম ডিগ্রিতে কিছু ঘাটতি রয়েছে। এছাড়াও আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি ফার্ম বা পোল্ট্রি ফার্মে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে তারা পূর্ণাঙ্গ ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে ফিল্ডে প্রতিষ্ঠিত হতে পারছে না। এ কারণে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলও ভবিষ্যতে এ ডিগ্রিকে স্বীকৃতি নাও দিতে পারে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর পর দেশের প্রাণি সম্পদের উন্নতি হয়েছে বলে তারা বক্তৃতা দেন। তাহলে বাকৃবিতে চালু হলে কেন প্রাণি সম্পদের ক্ষতি হবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর লক্ষ্যে গত ২৭ জুলাই থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীরা। ৩০ জুলাই থেকে একটানা তালাবদ্ধ রয়েছে অনুষদটি। অন্যদিকে একই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা। গত ২৫ আগস্ট থেকে অনুষদে তালা ঝুলিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন তারা।
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে ময়মনসিংহের ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ময়মনসিংহ জেলার ব্যাংক কর্মকর্তাদের নিয়ে `মানি লন্ডারিং প্রিভেনশন এবং কমব্যাটিং ফাইন্যান্সিং অফ টেরোরিজম' শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং পূবালী ব্যাংক পিএলসি।
পূবালী ব্যাংক ময়মনসিংহ অঞ্চলের ডিজিএম ও রিজিওনাল ম্যানেজার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএফআইইউ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ডেপুটি হেড মো. আমির উদ্দীন।
রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএফআইইউ-এর অতিরিক্ত পরিচালক মো. ইমতিয়াজ হারুণ ও মো. আসাদুজ্জামান খান এবং সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পূবালী ব্যাংকের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং বিভাগের প্রধান মো. ফয়সাল আহমেদ। কর্মশালায় ময়মনসিংহ জেলার ৪৫ টি ব্যাংকের ১০৯ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় মানি লন্ডারিংয়ের ধারণা, ব্যাংকারদের ভূমিকা এবং এটি প্রতিরোধের উপায় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি অর্থনৈতিক লেনদেন সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পূবালী ব্যাংকের ময়মনসিংহ অঞ্চলের ডিজিএম মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকারদের দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে মানি লন্ডারিং জড়িত। তাই সচেতনতা ও সতর্কতা সবার জন্য অপরিহার্য। অবৈধ লেনদেন বন্ধ করতে হলে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় রিপোর্ট করতে হবে। দেশের সুষ্ঠু ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য এটি আমাদের দায়িত্ব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএফআইইউ-এর ডেপুটি হেড মো. আমির উদ্দীন বলেন, আমাদের অনেকেই নিরাপদ আর্থিক লেনদেনের খুঁটিনাটি জানি না। একসময় দেশের আর্থিক খাত ভয়াবহ সংকটে ছিল। মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে গিয়েছিল, ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। তবে আগস্টের পর ব্যাংকারদের কার্যকর পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখন আর কোনো প্রভাবশালী মহলের অযাচিত হস্তক্ষেপ নেই। আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সাহসী ভূমিকার ফলে আমরা আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। একসময় যেখানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নেমে এসেছিল ১৬ বিলিয়ন ডলারে, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ বিলিয়ন ডলারে।
কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে বাকৃবির প্রশাসনিক ভবনে তালা, অবরুদ্ধ উপাচার্য
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কম্বাইন্ড ডিগ্রির (বিএসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাজবেন্ড্রি) দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগান। এতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে টানা সাতদিন ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বাকৃবির পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীরা। এবার তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরাও।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে বুধবার দুপুর সাড়ে ৩টায় পশুপালন অনুষদের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় তারা স্লোগান দেন 'আমার সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই', `দাবি একটাই, কম্বাইন্ড ডিগ্রি চাই', `এক পেশা, এক ডিগ্রি, এক দাবি', কম্বাইন্ড! কম্বাইন্ড!'
পশুপালন অনুষদের ৫০১ জন শিক্ষার্থী কম্বাইন্ড ডিগ্রির পক্ষে স্বাক্ষরসংবলিত একটি তালিকা উপাচার্যের কাছে জমা দেন। একই দাবিতে পৃথকভাবে মিছিল করেছে ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরাও। পরবর্তীতে দুই অনুষদের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে একত্রিত হয়ে একযোগে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে ভেটেরিনারি অনুষদের পক্ষ থেকে অনুষদের ডিন বরাবর লিখিত স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়।
বিকেল ৪টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আলোচনায় উপাচার্য বলেন, “আমি এককভাবে সম্মিলিত ডিগ্রি চালুর সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। এ বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'
তবে আলোচনায় আশানুরূপ অগ্রগতি না থাকায় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন। এসময় উপাচার্যের কার্যালয়ে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একটি বৈঠক চলছিল। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দেন।
আন্দোলনকারী এক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের এই যৌক্তিক আন্দোলনের সাথে ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরাও যুক্ত হয়েছেন। আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা এবং পেশাগত মর্যাদার স্বার্থেই আমরা এক হয়েছি। শিক্ষকরা আমাদের দাবি শুনেছেন, আগামীকাল আলোচনা হবে—সেখানে আশানুরূপ সিদ্ধান্ত না এলে আন্দোলন আরও বেগবান হবে।
এ বিষয়ে বাকৃবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, “পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীদের কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবির প্রেক্ষিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ফ্যাকাল্টি মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আলোচনায় বসবেন এবং দাবিগুলো উপস্থাপন করা হবে। সবদিক বিবেচনায় রেখে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বাকৃবিতে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালিত
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটি।
দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন করিডোর থেকে বিজয় শোভাযাত্রার মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়।
বিজয় র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের করিডোর প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড মো. আসাদুজ্জামান সরকার, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড মো. সাইফুল্লাহসহ প্রক্টরিয়াল টিমের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও দপ্তরের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ বিজয় শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
শোভাযাত্রা শেষে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া। তিনি বলেন, “আজ এদেশের সংগ্রামী জনতার বিজয়ের দিন। আমরা বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি সেই সকল শহীদদের, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে জীবন দিয়েছেন। আমরা তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী চেতনা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দেশ গঠনের যে প্রয়াস ছিল, তা ১৯৭৫-এর পরে বাধাগ্রস্ত হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আমরা আবার সেই জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ দেখতে পাই। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, দমন-পীড়ন থেকে মুক্তির যে আকাঙ্ক্ষা জনগণের ভেতরে ছিল, তা বাস্তবায়িত হয় এই দিনে। এই দিন আমাদের কাছে শুধু একটি তারিখ নয়, বরং এটি প্রতিরোধ, সাহস ও গণতন্ত্রের বিজয়ের প্রতীক।
তিনি সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ফ্যাসিস্টরা যাতে আর কখনও এদেশের মাটিতে শিকড় গাড়তে না পারে, সেই শপথ আমরা আজ গ্রহণ করছি। ফ্যাসিস্টবিরোধী যেকোনো আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।”
র্যালি শেষে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে শিশু-কিশোর কাউন্সিলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী। এতে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
প্রতিযোগীদের চিত্রকর্মে ফুটে ওঠে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আলোচিত মুহূর্ত, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ১৫ জনকে পুরস্কৃত করা হবে।
চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড জি এম মুজিবর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. শহীদুল হক ও শিশু-কিশোর কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক সামছুল আলম।
এরপর দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ ও সকল উপসনালয়ে শহীদদের আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত, জাতীয় সংহতি ও অগ্রগতি কামনা করে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
এছাড়াও সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং সংঘের আয়োজনে গণঅভ্যুত্থান বিষয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠিত হবে। এরপর একে একে জুলাই আন্দোলনের উপর নির্মিত ডকুমেন্টারি ও ভিডিও প্রদর্শনী প্রতিযোগিতা এবং চিত্রাঙ্কন, ডিবেটিং ও ভিডিও প্রদর্শনী প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরনীর আয়োজন করা হয়েছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য