শিরোনাম
দীর্ঘ ৩৪ বছর পর নবজীবন ফিরে পেল শহীদ মোজাম্মেল মিলনায়তন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ঐতিহাসিক শহীদ মোজাম্মেল মিলনায়তন দীর্ঘ ৩৪ বছর পর সংস্কার শেষে সমাবর্তন উপলক্ষে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (১৩ মে) মিলনায়তনটির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহিয়া আক্তার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খান এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন।
উপাচার্য বলেন, “শহীদ মোজাম্মেল মিলনায়তন কেবল একটি ভবন নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও গৌরবের প্রতীক। দীর্ঘ সময় পর এটি আবার চালু হওয়ায় আমরা আনন্দিত। প্রাথমিকভাবে এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে পরবর্তীতে আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী করে তুলব।”
১৯৭৮ সালে বিশিষ্ট স্থপতি মাজহারুল ইসলামের নকশায় নির্মিত হয় চবির কেন্দ্রীয় মিলনায়তন। ১৯৮৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী এটি পুনরায় উদ্বোধন করেন। পরে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী মোজাম্মেলের স্মরণে মিলনায়তনের নামকরণ করা হয় ‘শহীদ মোজাম্মেল মিলনায়তন’।
প্রায় এক হাজার আসনবিশিষ্ট এই মিলনায়তনটি এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত থাকায় মিলনায়তনটি অযত্ন-অবহেলায় ভুতুড়ে ভবনে পরিণত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মিলনায়তনটির পুনরায় চালু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন বলেন, “এই মিলনায়তন আমাদের সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র হয়ে উঠবে। এখন আমরা নিয়মিত নাটক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করতে পারব।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, মিলনায়তনটিকে ঘিরে নিয়মিত সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে মিলনায়তনের এ নবযাত্রা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আবু সাঈদকে মরণোত্তর শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দেওয়ার দাবি
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে মরণোত্তর শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ১৮তম নিবন্ধন ফলাফল প্রত্যাশী চাকরিপ্রার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার (১৩ মে) এনটিআরসিএতে পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, নিবেদন এই যে, আমরা ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন ভাইভা প্রার্থীগণ। আমাদের ভাইভা প্রায় শেষ। তাই ভাইভা শেষ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফলাফল এবং ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি যাতে দেওয়া হয় সেজন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তরুণ বেকার সমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। উল্লেখ্য যে, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন একটি ঐতিহাসিক শিক্ষক নিবন্ধন। কেননা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ ‘আবু সাঈদ’ স্কুল-২ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন (রোল নং-201256297)। তিনি বেঁচে থাকলে হয়ত ভাইভায় অংশগ্রহণ করতেন ও শিক্ষকতা পেশায় কর্মজীবন শুরু করতেন। এ নতুন বাংলাদেশে উনার অবদান অপরিসীম। আমরা ১৮তম নিবন্ধন প্রার্থীরা চাই, উনাকে সম্মানসূচক মরণোত্তর শিক্ষক নিবন্ধনের সনদ প্রদান করে ১৮তম নিবন্ধনকে চিরস্মরণীয় রাখতে।
চিঠিতে দাবি জানিয়ে আরো বলা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে রেজাল্ট ও ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, শহীদ ‘আবু সাঈদ’ কে সম্মান সূচক মরনোত্তর সনদ দেওয়া, অটো এমপিও চালু করা, সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থী পাশ করানো ও শিক্ষক নিবন্ধন সনদ প্রদান করা ও এনটিআরসিএ এর আইন ও পরিপত্র যথাযথ ভাবে পালন করা।
দাবি সমূহের সমন্বয়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে।
ছাত্রদল নেতাকে হুমকি দিয়ে মারধরের শিকার গোবিপ্রবি কার্মচারী
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ( গোবিপ্রবি) ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকে হুমকি দেওয়ায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের কর্মচারী ইয়াসিন শিকদারকে মারপিট করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুতের অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ১২ মে রাত ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউমার্কেট সংলগ্ন স্থানে সংঘটিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী থেকে জানা যায়, স্বাধীনতা দিবস হলের কর্মচারীর রাজীব ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সাথে তার ছবি আছে দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে হেডম নিয়ে খারাপ আচরণ করে। নিজের অনেক ক্ষমতা আছে শিক্ষার্থীরা তাই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্রদল কে পাত্তা দেয় না সহ বিভিন্ন কথা বলে। এই সকল কথা বলার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের কর্মচারী ইয়াসিন শিকদার ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বিদ্যুৎ কে ধমক দিয়ে চুপ কর বলে ধমক দেন। এরপর তারা দুইজন সেখান থেকে চলে যেয়ে রাতে ইয়াসিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসলে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা তাকে মারপিট করে।
শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের কর্মচারী ইয়াসিন শিকদার বলেন,"নিউ মার্কেটে আমার এক কলিগের সঙ্গে ঝামেলা হয়। পরবর্তীতে মিটমাট হয়ে যায়। আমি শুনে সেখানে যায় আমার সাথে দুইএকটা কথা কাটাকাটি না হতেই আমার উপর বিদ্যুতের ১৫-২০ জন অনুসারীরা হামলা করে আমার কান ফাটিয়ে দেয়। এর আগে আমার সঙ্গে কারো ঝামেলা ছিল না।"
আরও পড়ুন
ছাত্রদলের কেউ মারধর করেননি দাবি করে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বিদ্যুৎ বলেন, " সে বিভিন্ন সময় হেডম নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণ করে। সে বলে বেড়ায় গোপালগঞ্জে কেউ তাকে কিছু বলার সাহস নেই এই সময়েও। সে আজ হেডম দেখিয়ে খারাপ আচরণ করায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে মেরেছে। "
ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ বলেন, যতকিছুই তার ( ইয়াসিন শিকদার) সাথে আমাদের দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্ক। ঝামেলা মূলত তার সাথে নয় ঝামেলা ছিল তার এক কলিগের( কর্মচারী রাজিবের) সাথে। তিনি স্বাধীনতা দিবস হলের একজন কর্মচারী। তার কাছে বিএনপির মির্জা ফখরুলের ইসলামের সাথে উঠা একটা পিক ছিল। যা গোবিপ্রবির ছাত্রদলের সভাপতিকে দেখিয়ে বলে এসব জায়গায় যেতে হলে আমার সাথে যোগাযোগ করিস। এটা ছিল পূর্বের ঘটনা। আজ নিউমার্কেটে অন্য একটা বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হচ্ছিল তার কলিগ কর্মচারী রাজিবের সাথে। রাজিব মিমাংসা করে চলে যায়। এরপর তাকে আসার জন্য কল দেয়। কিন্তু তাকে নিষেধ করা স্বত্বেও আসে। আসার পর সে বড় বড় হেডম দেখাতে থাকে যা একটা পর্যায় দু একটা কথা কাটাকাটি হতেই একটু বেশি হেডম দেখিয়ে ভুক্তভোগী ( ইয়াসিন শিকদার) বলেন, ঔই বিদ্যুৎ তুই চেপে যা। এরপরই মূলত ঘটনাটি ঘটে।"
চবিতে পরীক্ষামূলক ভাবে ই-কার সেবা চালু
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে ইলেকট্রিক কার (ই-কার)।
মঙ্গলবার (১৩ মে) থেকে আগামী দুইদিন চবি ক্যাম্পাসে ৪টি ই-কার পরীক্ষামূলকভাবে চলবে বলে জানিয়েছেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, আজ থেকে আগামী দুইদিন চবি ক্যাম্পাসে পরীক্ষামূলকভাবে ই-কারগুলো চলবে। কার্যক্রম সফল হলে আগামী জুন মাস থেকে ২০টি ই-কার নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবা চালু করা হবে।
ড. কামাল আরও বলেন, ই-কারগুলো ঢাকা থেকে আজ ক্যাম্পাসে আনা হয়েছে। ই-কারের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরাই সিদ্ধান্ত নিবে তারা ই-কার চায় কিনা।
ইবিতে শিক্ষার্থীদের হাতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আটক
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কৃষিশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সায়মুম খান কে আটক করে পুলিশে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তার বিরুদ্ধে জুনিয়র শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (১২ মে) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট থেকে তাকে আটক করে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী খায়রুল ও তার বন্ধুরা। পরবর্তীতে তাকে নিকটস্থ ইবি থানায় সোপর্দ করা হয়।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সায়মুম গতবছরের ৫ জুন আনুমানিক রাত ০৭.১৩ মিনিটে টুরিজম বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিফাত সিদ্দিকের মাধ্যমে কল দিয়ে শেখ রাসেল হল বর্তমানে শহীদ আনাস হলে) ৪০৩ নাম্বার রুমে নিয়ে যায়। কথাবার্তার একপর্যায়ে সায়মুম ভুক্তভোগী খায়রুলকে ছাদে নিয়ে যায় এবং ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে সে খায়রুলকে বেপরোয়াভাবে মারধোর করে এবং ধাক্কা দিয়ে সিড়িতে ফেলে দেয়। এসময় খায়রুল হাতে পায়ে ব্যথা পায় এবং তার শরীরের বিভিন্নস্থানে রক্তক্ষরণ হয়।
আরও পড়ুন
এব্যাপারে ভুক্তভোগী খায়রুল বলেন, আমার বিভাগের ফ্রেন্ড ওর প্রেমিকা ছিল। আমার ফ্রেন্ড হওয়ার সুবাদে আমি ওর সাথে ঘুরতেছিলাম সেটা দেখে এই সায়মুম আমাকে ডেকে নেয়। এরপর আমাকে ছাদে নিয়ে ভীষণভাবে মারধর করে, লাথি দিয়ে নীচে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়। সেদিন আমি অনেক কষ্টে ওখান থেকে বেচে আসি। পরবর্তীতে এঘটনার বিচার চেয়ে প্রক্টর বরাবর লিখিত আবেদন দিলেও ছাত্রলীগের চাপে কোন বিচার হয়নি বলে জানায় সে।
এবিষয়ে ইবি থানার এসআই রাকিব বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে আমরা ভুক্তভোগীর অভিযোগপত্র পেয়েছি। ওসি স্যার একটি কাজে বাইরে থাকায় আমরা এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নেইনি। ওসি স্যার এসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবেন৷
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য