শিরোনাম
রফিকুল মাদানীর অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সালমান রহমান পল্লব ও তার দলবলের বিরুদ্ধে এক নারীকে হেনস্থা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছেন ইসলামী বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী।
বুধবার (৭ মে) বিকেলে তার ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই অভিযোগ করেন। পরে রাত ৮টায় তিনি এ বিষয়ে পূর্বধলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। পরে এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ করে এই বক্তা তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘আমি স্তব্ধ, বাকরুদ্ধ —বলার মতো কোনো ভাষা নেই। এসব কথার কারণে আওয়ামী লীগের লোকজন হয়তো হাসাহাসি করবে, কিন্তু বাস্তবতা তো এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।
আমার এক চাচাতো ভাই তার ভাতিজিকে নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিল। সে নিজে প্রাইভেটকারচালক, আর মেয়েটি পেছনের সিটে শুয়ে ছিল। মেয়েটি বিবাহিত। পথে পূর্বধলা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক পল্লব ও তার দলবল মিলে শ্যামগঞ্জ বাজারে রাতে ২০-২৫ জনের একটি দল গাড়ি থামিয়ে টেনে হিঁচড়ে মেয়েটিকে নামিয়ে শ্লীলতাহানি করে। তারা মেয়েটিকে চড়থাপ্পড় মারে এবং জোরপূর্বক নিয়ে যায়।
আমার ভাই তাদের থামাতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। মেয়েটিকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় যোগাযোগ করি। পূর্বধলা থানার ওসি ঘটনাস্থলে গেলেও, আমি ফোনে থাকার সময়ও দেখেছি, ওসির সামনে আমার ভাইকে হুমকি ও গালাগালি করা হচ্ছে এবং আঘাত করা হয়েছে।
আমি পল্লবসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার উপযুক্ত বিচার দাবি করছি। একই সঙ্গে, যিনি নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, সেই পূর্বধলা থানার ওসিকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। মাগরিবের পরে আমি সাংবাদিক সম্মেলন করব।’
ভুক্তভোগী ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই নারী গতকাল রাতে তার মামার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথিমধ্যে শ্যামগঞ্জ এলাকায় সালমান রহমান পল্লব ও তার দলবল তাদের আটক করে হেনস্তা করে। পরে থানা পুলিশ গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলেও পল্লব পুলিশের সামনেই ওই নারীর স্বজনদের ওপর আক্রমণ করে।
দলীয়শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে পল্লবকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সালমান রহমান পল্লবকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে এখনো কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ করেনি। কেউ লিখিত অভিযোগ করলে তখন এই বিষয়ে আমি বলতে পারব। তার আগে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না। রফিকুল ইসলাম মাদানী আপনার পদত্যাগ চেয়েছেন, এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তার অধিকার, তিনি এটা দাবি করতেই পারেন।
দেশ ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ৯ মাস পর দেশ ছাড়লেন ওই সরকারের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। বুধবার দিবাগত রাত ৩টা ৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তিনি দেশ ছাড়েন।
বৃহস্পতিবার (০৮ মে) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল একটি সূত্র তার দেশ ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, এদিন রাত ৩টা ৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের টিজি ৩৪০ নম্বর ফ্লাইটে ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন আবদুল হামিদ। ফ্লাইটে সাবেক এই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তার ঘনিষ্ট কেউ ছিলেন না বলে জানা গেছে।
সূত্রটি জানিয়েছে, গত রাত ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান আবদুল হামিদ। সেখানে যাওয়ার পর ইমিগ্রেশনে প্রয়োজনীয় যাচাইবাছাই শেষে দেশ ছাড়ার সবুজ সংকেত পান তিনি।
জানা গেছে, আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। গত ১৪ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ সদর থানায় এ মামলাটি করা হয়। মামলার বিবরণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নামও উল্লেখ রয়েছে।
উল্লেখ্য, আবদুল হামিদ আওয়ামী লীগের সময় ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পাক-ভারত সংঘাত
সীমান্তের জেলাগুলোতে পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পুলিশ সুপারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।
বুধবার (৭ মে) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ পুলিশ বার্ষিক শ্যুটিং প্রতিযোগিতা ২০২৪-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
আইজিপি বলেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের নিরাপত্তা যেন বিঘ্নিত না হয়, কোনো জঙ্গি বা সন্ত্রাসী যেন আমাদের দেশে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সীমান্ত জেলাগুলোর পুলিশ সুপারদের সতর্ক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের সীমান্তবর্তী জেলা ৩০টি এবং মিয়ানমারের সঙ্গে তিনটি। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের নিরাপত্তা যেন বিঘ্নিত না হয় সেজন্য সীমান্তবর্তী জেলার পুলিশ সুপারদের আগেই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব যেন এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।
এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বাংলাদেশ পুলিশ বার্ষিক শ্যুটিং প্রতিযোগিতা এবং আইজিপি কাপ-২০২৪ এর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। রানার্স আপ হয়েছে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)।
পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা ৫ থেকে ৭ মে পর্যন্ত এ প্রতিযোগিতায় ছয়টি ইভেন্টে অংশ নেন।
প্রতিযোগিতায় .১৭৭ এয়ার রাইফেল ওপেন সাইট ১০ মিটার (পুরুষ) ইভেন্টে প্রথম হয়েছেন এসবিতে সংযুক্ত নায়েক তানজীব হোসেন খন্দকার, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন এসবির এএসআই (নিরস্ত্র) মো. মনিরুল ইসলাম ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন ফেনী জেলার এএসআই (নিরস্ত্র) এবিএসএম হাসান।
একই ইভেন্টে নারীদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন এসবির নারী কনস্টেবল তানিয়া আক্তার, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন এসবির নারী কনস্টেবল নীলা খাতুন ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন এসবির নারী কনস্টেবল নীলা আক্তার।
.২২ বোর রাইফেল ওপেন সাইট ৫০ মিটার (পুরুষ) ইভেন্টে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসিদ ফরহাদ, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন এসবির কনস্টেবল শাকিল আহমেদ ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন এসবিতে সংযুক্ত নায়েক তানজীব হোসেন খন্দকার। একই ইভেন্টে নারীদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন এসবির এএসআই (নিরস্ত্র) ইসমত আরা, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন এসবির নারী কনস্টেবল আমেনা আক্তার ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন এসবির এএসআই (নিরস্ত্র) নীলিমা আক্তার।
আরও পড়ুন
.২২ বোর পিস্তল/রিভলভার ২৫ মিটার (পুরুষ) ইভেন্টে প্রথম হয়েছেন সারদা, রাজশাহীর পুলিশ সুপার শেখ মো. আব্দুল্লাহ বিন কালাম, দ্বিতীয় হয়েছেন র্যাবের সার্জেন্ট জুবায়ের ও তৃতীয় হয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহেদ আহমেদ। একই ইভেন্টে নারীদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন এসবির নারী কনস্টেবল রুনা আক্তার, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন একই ইউনিটের নারী কনস্টেবল নীলা খাতুন এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন এসবির এএসআই (নিরস্ত্র) ইসমত আরা।
প্রতিযোগিতায় ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট (পুরুষ) হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন এসবিতে সংযুক্ত নায়েক তানজীব হোসেন খন্দকার এবং ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট (নারী) হওয়ার গৌরব অর্জন করেন এসবির নারী কনস্টেবল রুনা আক্তার।
এ সময় বাংলাদেশ পুলিশ ক্লাবের সভাপতি ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দিন শেষে পাক-ভারত যুদ্ধ কারো জন্যই কল্যাণকর নয় : জামায়াত আমির
সম্প্রতি কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুদ্ধাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে ভারত-পাকিস্তানের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি হামলার খবরও এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, হামলা-পাল্টা হামলার মতো ঘটনা কারো জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। দিন শেষে যুদ্ধ কারো জন্যেই কল্যাণকর নয়।
বুধবার (৭ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ কথা বলেন তিনি।
সম্প্রতি কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতের ঘটনার গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক তদন্ত হওয়া উচিত বলেও মনে করেন জামায়াত আমির।
ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’দেশের মধ্যে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, ইতোমধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে। তা কারো জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।
তিনি বলেন, এ ঘটনার গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক তদন্ত হওয়া উচিত এবং উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। দিন শেষে যুদ্ধ কারো জন্যেই কল্যাণকর নয়। কাশ্মিরবাসীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান আন্তরিকভাবে কামনা করি।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ভারত। রাতের আঁধারে চালানো এ হামলায় কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হয়েছেন। এমনই দাবি করেছে ভারত।
পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে লজ্জাজনক বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই দেশের মধ্যে চলমান সংকট প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন
অন্যদিকে এ হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একইসঙ্গে উভয় দেশকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স, এএফপি ও সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরসহ পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি জায়গায় ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় গভীর হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রতিবেশী দেশ চীন। এ দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
চীন দুই দেশেরই প্রতিবেশী এবং পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র। পাকিস্তানে ভারতের সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় হতাশা প্রকাশ করে চীন জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
খালেদা জিয়ার জন্য বানানো কারাগারে এখন থাকবেন আ.লীগ নেতারা
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর বেগম খালেদা জিয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল বিশেষ কারাগার। তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পাল্টে যাওয়ায় সেই কারাগারে এখন বন্দি থাকবেন আওয়ামী লীগের নেতারা।
জানা গেছে, খালেদা জিয়াকে ওই কারাগারে স্থানান্তরের জন্য প্রস্তুতিও নিয়েছিল কারা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু করোনা মহামারি শুরুর পর ২০২০ সালে তিনি মুক্তি পান। এরপর কয়েক দফায় তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। একের পর এক মামলায় খালাস পান খালেদা জিয়া। আর জেলে ফেরেননি তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকার খালেদা জিয়ার জন্য তৈরি করা সেই বিশেষ কারাগার নতুনভাবে চালু করছে। ১৫ মে থেকে সেখানে বন্দি স্থানান্তরের কথা রয়েছে। কারাগারটিতে রাখা হবে আওয়ামী লীগের গ্রেপ্তার হওয়া মন্ত্রী, এমপি ও ভিআইপিদের।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ কারাগার চালুর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। ইতোমধ্যে কারা কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র জেল সুপার হিসেবে মোহাম্মদ তাইফুদ্দিন ও জেলার হিসেবে শাখাওয়াত হোসেন দায়িত্ব নিয়েছেন। সিসিটিভি, জ্যামারসহ সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করা হচ্ছে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া প্রভাবশালী নেতাদের এই কারাগারে স্থানান্তর করা হবে। বর্তমানে গ্রেপ্তার হওয়া ভিআইপির সংখ্যা ১৪৬ জন।
কারাগারে যাচ্ছেন যারা
উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মন্ত্রী শাজাহান খান, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, সাধন চন্দ্র মজুমদার, জুনায়েদ আহমেদ পলক, আরিফ খান জয়সহ আরও অনেকে।
এছাড়াও আছেন পুলিশের সাবেক এসপি সাদেক খান, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তা তানভীর সালেহ ইমন, বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. সোহাইল, সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং সাবেক সচিব শাহ কামাল।
আরও রয়েছেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ডা. এনামুর রহমান, ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু সুর চৌধুরী, দীপংকর তালুকদার, চিফ হুইপ আসম ফিরোজ, হাজি সেলিমের ছেলে সাবেক এমপি সোলায়মান সেলিম, শমসের মবিন চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে সাফি মোদাচ্ছের খান জ্যোতি, মহিউদ্দিন ফারুকী, কামরুল ইসলাম খান পোটন, পুলিশ কর্মকর্তা শাহেন শাহ এবং তানজিল আহমেদ।
আরও পড়ুন
এছাড়াও বিশেষ কারাগারে স্থানান্তরের তালিকায় রয়েছেন আরও একঝাঁক ভিআইপি বন্দি- সাবেক মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিব ও এমপিরা। তাদের মধ্যে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমামের ছেলে ও সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সোবহান মিয়া (গোলাপ), কাজী জাফরউল্লাহ, আহম্মদ হোসাইন, শাহে আলম ও হাজি মোহাম্মদ সেলিম। রয়েছেন সাবেক হুইপ মাহবুব আরা গিনি, বিতর্কিত এমপি আব্দুর রহমান বদি এবং উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ও ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।
এই তালিকায় আরও আছেন- সাবেক মন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, আমিনুল ইসলাম খান, নজিবুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, মেজবাহ উদ্দিন, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম, মোস্তাফা কামাল উদ্দিন, আসাদুজ্জামান নূর, হেলালুদ্দিন আহমেদ, টিপু মুনশি, জ্যাকব, মাহবুব আলী, ফরহাদ হোসেন, ইমরান আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও কামাল আহমেদ মজুমদার।
এছাড়া রয়েছেন জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন, আবুল কালাম আজাদ, ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, আমির হোসেন আমু, আব্দুস শহীদ, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শহিদুজ্জামান সরকার, ইসমাইল হোসেন, ডা. দীপু মনি, সাবেক আইজিপি মো. শহিদুল হক, ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন, গোলাম দস্তগীর গাজী, রমেশ চন্দ্র সেন, এবং সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চন্দন কুমার ধর ওরফে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। তালিকার আরও আছেন একরামুল করিম চৌধুরী, কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, মেজর (অব.) শাহজাহান ওমর, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এবং আব্দুস সালাম মুর্শেদী।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য