The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪

মেয়ের সঙ্গে এইচএসসি দিচ্ছেন মা, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছা

মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণের পর এবার মেয়ের সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন নীলফামারীর ডিম’লার মারুফা আকতার। মেয়ে শাহী সিদ্দিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ও  মা মারুফা আকতার একই কলেজের বিএম শাখা থেকে পরীক্ষায় বসেছেন।

মা ও মেয়ে দুজন ডিমলা উপজেলার শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সরকারি মহাবিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী।

২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় একসঙ্গে অংশ নিয়ে মেয়ের চেয়ে ভালো ফলাফল করতে সক্ষম হন মারুফা আকতার। তিনি এসএসসিতে জিপিএ-৪.৬০ পেয়ে উত্তীর্ণ হলেও এবং তার মেয়ে শাহী সিদ্দিকা পেয়েছিলেন জিপিএ-৩।

পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে যে, মারুফা আক্তারের বাবার বাড়ি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা গ্রামে। তার বিয়ে হয় একই উপ’জেলার খালিশা চাপানি ইউনিয়নের পুন্যারঝার গ্রামের সাইদুল ইসলামের সঙ্গে। সাইদুল ইসলাম পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ে শাহী সিদ্দিকা সবার বড়। দ্বিতীয় ছেলে দশম শ্রেণিতে, তৃতীয় মেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

২০০৩ সালে দশম শ্রেণিতে পড়ালেখা করার সময় বিয়ে হয়ে যায় মারুফা আক্তারের। বিয়ের পর থেমে যায় তার লেখাপড়া। পরপর চার ছেলেমেয়েকে মানুষ করতে কেটে গেছে প্রায় ১৫ বছর। তবে লেখাপড়ার প্রতি মারুফ আক্তারের প্রবল ইচ্ছা থেকেই যায়। সেটিরই প্রতিফলন হিসেবে নিজের সুপ্ত ইচ্ছাশক্তির জোরে প্রথম পর্যায়ে নিজের মেয়ের সঙ্গে সম্পন্ন করেন মাধ্যমিক। এবার তিনি বসেছেন উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষায়।

নতুন করে পড়াশোনা শুরুর বিষয়ে জানতে চাইলে মারুফা আক্তার বলেন, নিজের ইচ্ছা ও স্বামী-সন্তানের অনুপ্রেরণায় নবম শ্রেণি থেকে আবার পড়াশোনা শুরু করেছিলাম। তিনি প্রথমে ভর্তি হন ছোটখাতা ফাজিল মাদ্রাসায়। সেই সময় তার মেয়েও ছিলো নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এরপর ২০২০ সালে মেয়ের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মা-মেয়ে এক সঙ্গে উত্তীর্ণ হন ।

মারুফা আকতার বলেন, সমাজের আর দশটা মানুষের মতো আমিও একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে যাতে নিজের পরিচয় দিতে পারি, সেজন্য আবার কষ্ট করে পড়াশোনা শুরু করেছি। ইচ্ছা আছে এইচএসসি পাস করে দেশের ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার।

এ বিষয়ে মারুফা আক্তারের স্বামী সাইদুল ইসলাম বলেন, আমি আমার স্ত্রীর ইচ্ছার মর্যাদা দিয়েছি। সে যতদূর পড়াশোনা করতে পারে, আমি চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করব।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.