ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

কেরানীগঞ্জের মাদারীপুরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি এলাকাবাসীর

থানা প্রতিনিধি
১৩ জুন, ২০২৫ ২১:৫৩
থানা প্রতিনিধি
কেরানীগঞ্জের মাদারীপুরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি এলাকাবাসীর

ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন মাদারীপুর এলাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে মাদকের অবাধ ব্যবসা। মাদারীপুর জামে মসজিদের পশ্চিম পাশের রাস্তা ও আশপাশের এলাকায় সংঘবদ্ধ একটি চক্র প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে চরম উৎকণ্ঠা ও নিরাপত্তাহীনতা।

অভিযোগ অনুযায়ী, পিলার নম্বর বরিশুর ২৩ ও ২৪ এবং ব্রাহ্মণকিত্তা ১ ও ২ নম্বর এলাকার আশেপাশে প্রতিদিন মাদক কেনাবেচা হচ্ছে। এতে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছেন স্থানীয়ভাবে পরিচিত একাধিক ব্যক্তি। তাদের মধ্যে অন্যতম শামসুদ্দিনের ছেলে আলম, যিনি ব্রাহ্মণকিত্তা ১ পিলারের পাশে বসবাস করেন। আরও জড়িত রয়েছেন খোয়েজনগরের রবিন (সালাউদ্দিনের ছেলে), ড্রাইভারের ছেলে মাহবুব, পটকাজোরের হাকিমের ছেলে অপু এবং সোলায়মান, যিনি মাদারীপুরের জুম্মনের ভাই হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন অসংখ্য মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী এই এলাকায় এসে জড়ো হয়। পাশাপাশি, মাদারীপুর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পরিত্যক্ত এক বাড়ি—যা আগে মফিজ সাহেবের মালিকানায় ছিল এবং বর্তমানে টুনু সাহেবের ছেলে গাফফার দখল করে রেখেছে—সেই স্থানে মাদক ব্যবসার পরিকল্পনা ও টাকার ভাগ-বাটোয়ারা হয় বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা সেলিম রেজা বলেন, “এই এলাকায় মাদক সমস্যা এখন মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন যদি এখনই পদক্ষেপ না নেয়, তবে ভবিষ্যতে এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।”

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “শুধু মাদক না, এর ফলে এলাকায় চুরি, দস্যুতা, ছিনতাই বেড়ে গেছে। আমরা কেউই নিরাপদ নই। দিনের পর দিন এই অবস্থা চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।”

অপর এক গণ্যমান্য ব্যক্তি আবু বকর বলেন, “আমরা একাধিকবার স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নিয়েছি, কিন্তু মাদক চক্র এতটাই শক্তিশালী যে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। এখন একমাত্র ভরসা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ।”

এ প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রাইসুল ইসলাম বলেন,“এই এলাকাটি একসময় শান্তিপূর্ণ ছিল। এখন সন্ধ্যার পর রাস্তায় বের হওয়াটাও আতঙ্কের বিষয়। প্রতিদিন নতুন মুখ, মাদকসেবী, অপরাধীদের আনাগোনা। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।”

অভিযোগে নাম উল্লেখ থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকেই ফোনে পাওয়া যায়নি।

এদিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হব।

রাইজিং ক্যাম্পাস/আরকেএস

মন্তব্য

টাকা আত্মসাত করতে অন্তঃসত্বা ছোট বোনকে হত্যা: গ্রেপ্তার-২

জেলা প্রতিনিধি
১৩ জুন, ২০২৫ ১৫:২৬
জেলা প্রতিনিধি
টাকা আত্মসাত করতে অন্তঃসত্বা ছোট বোনকে হত্যা: গ্রেপ্তার-২

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় জমি বিক্রির টাকা আত্মসাত করতে অন্তঃসত্বা ছোট বোনকে হত্যার ঘটনার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১।

শুক্রবার (১৩ জুন) দুপুর পৌনে ১টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু। এর আগে,গতকাল বুধবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে সাতক্ষীরা জেলার সদর উপজেলার কুকরাইলের মোড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।  

গ্রেপ্তার মাকছুদা আক্তার মালা (৩২) উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের পূর্ব চরমজিদ গ্রামের মো.হোসেনের স্ত্রী ও জাহানারা বেগম (৫৫) একই গ্রামের কেরামত আলীর মেয়ে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,ভিকটিম হালিমা খাতুন এজাহারনামীয় ১নং আসামি মো.হোসেনের (৪৯) ছোট বোন। ভিকটিম তার বড় ভাইয়ের থেকে পৈত্রিক বাড়ির সম্পত্তি ক্রয় করে লিখিত স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ধাপে ধাপে টাকা পরিশোধ করে। গত ৫ মে বড় ভাইয়ের কথামতো ভিকটিম লিখিত স্ট্যাম্পটি ফেরত নেওয়ার জন্য ভাইয়ের ভাড়া বাসায় যায়। সেখানে বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে বড় ভাই হোসেন,জাহানারা বেগম ও মালা পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমের প্রদত্ত টাকাগুলো আত্মসাতের জন্য ভিকটিমের হাত-পা ধরে রেখে মাথার বাম পাশে, চোখ, নাক ও বাম গালের উপর ইট দিয়ে গুরুতর জখম করে। ভিকটিমের শৌরচিৎকারে আশপাশের লোকজন ভিকটিমকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।   প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার করে। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ৯ মে রাত ১০টার দিকে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গর্ভের শিশুসহ মৃত্যুবরণ করে।

র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু আরও বলেন, পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবার বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাতক্ষীরা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
 

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    সন্ধান মিলেছে সাবেক এমপি আনারের বিলাসবহুল গাড়ির

    অনলাইন ডেস্ক
    ১০ জুন, ২০২৫ ১১:২৯
    অনলাইন ডেস্ক
    সন্ধান মিলেছে সাবেক এমপি আনারের বিলাসবহুল গাড়ির

    কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনের সামনের একটি বহুতল ভবনের পার্কিং জোনে একটি ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ির সন্ধান মিলেছে। কয়েক কোটি টাকা মূল্যের গাড়িটি কলকাতায় নিহত ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনারের বলে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।

    সোমবার (৯ জুন) রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাড়িটির সন্ধান মিললে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে যান।

    কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের আটতলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন সাফিনা টাওয়ারের গ্যারেজে ল্যান্ড ক্রুজার গাড়িটি পাওয়া যায়। গাড়ি থেকে গাড়ির কাগজপত্র, সংসদ সদস্য ও সিআইপি স্টিকার উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) স্বপন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে রাতেই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। এ সময় গাড়ি থেকে কাগজপত্র, সংসদ সদস্য ও সিআইপি স্টিকার উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটি ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের। পরে গাড়িটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।

    স্থানীয়রা জানায়, আমরা গাড়িটির খবর জানতে পেরে বিষয়টি পুলিশকে জানাই। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গাড়িটি উদ্ধার করে। পুলিশ গাড়ি থেকে গাড়ির কাগজপত্র, সংসদ সদস্য ও সিআইপি স্টিকার উদ্ধার করেছে। গাড়িটি ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তারা আরও জানায়, কাগজপত্রে তার নামও রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। গাড়িটি বেশ কয়েকমাস ধরে এ বহুতল ভবনের গ্যারেজে রাখা ছিল। জেনুইন লিফ কোম্পানি নামে একটা সিগারেট কোম্পানির লোকজন গাড়িটা রেখেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক।

    স্থানীয় বাসিন্দা আমিরুল বলেন, প্রথমে আমরা জানতে পারি গাড়িটি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের, যা রাখা আছে পুলিশ লাইনের সামনে অবস্থিত সাফিনা টাওয়ারের গ্যারেজে। পরে পুলিশে এসে গাড়ি থেকে গাড়ির কাগজপত্র উদ্ধার করে।

    তিনি আরও বলেন, এ গাড়ির চালক কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগার আলীর গাড়ির ড্রাইভার ছিল। সেই পুলিশকে কাগজপত্র ও স্টিকার বের করে দেয় । বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানাচ্ছি। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

    সাফিনা টাওয়ারের কেয়ারটেকার আলমগীর হোসেন বলেন, জেনুইন লিফ কোম্পানি নামের সিগারেট কোম্পানি ভবনের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলা ভাড়া নিয়েছে। এখানে কোম্পানির কাজে ফরেনাররা আসে এবং থাকে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভবনের নিরাপত্তা প্রহরী জানায়, ওনারা গাড়ি এনে রাখেন। আমি তো জানি না যে গাড়িটা কার। আজকে শুনছি গাড়িটা এক সাবেক এমপির। সিগারেট কোম্পানির অফিসের স্যাররা এ গাড়িটি রেখেছেন বেশ কয়েক মাস আগে। গাড়িটা বাইরে বের করা হয় না। তবে মাঝেমধ্যে স্টার্ট দেওয়া হয়। চালক শান্ত মাঝে মাঝে গাড়িটি স্টার্ট দেন।

    গাড়িটির চালক শান্ত বলেন, আগে আমি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগার আলীর গাড়ি চালাতাম। বর্তমানে আমি জেনুইন লিফ কোম্পানির গাড়িচালক হিসেবে চাকরি করছি। কোম্পানির জিএম স্যার বেলাল ও সিইও জাহিদ স্যারের গাড়ি চালাই। তাদের হুকুমে আমি গাড়ি চালু করেছি। গাড়ির মালিক কে তা আমি জানি না। বেলাল এবং জাহিদ স্যার সব কিছু জানেন। তাদের হুকুমে গাড়ি স্টার্ট দিয়েছি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

    কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মোশাররফ হোসেন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ১৬ মে থেকে ভারতে অবস্থানকালে তৎকালীন এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তিনি। ২২ মে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে ঝিনাইদহের সাবেক এমপি আনারের মরদেহ ভারতীয় পুলিশ উদ্ধার করতে না পারলেও। পড়ে সেখানকার পুলিশ জানায়, এমপি আনারকে হত্যার পর টুকরো টুকরো করা হয়। মরদেহের অংশ বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেয় খুনিরা।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      মেজর সিনহা হত্যা মামলা

      ওসি প্রদীপ-লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড বহাল

      অনলাইন ডেস্ক
      ২ জুন, ২০২৫ ১১:৪৪
      অনলাইন ডেস্ক
      ওসি প্রদীপ-লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড বহাল

      সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় পুলিশের বরখাস্ত ওসি প্রদীপ ও এসআই লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে অন্য ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও বহাল রাখা হয়েছে। 

      রবিবার বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের বেঞ্চ এই রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) আবেদন মঞ্জুর ও দণ্ডিতদের আপিল খারিজ করে এই রায় দেওয়া হয়।

       যাবজ্জীবন বহাল রাখা হয়েছে— বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিত, বরখাস্ত কনস্টেবল সাগর দেব, দেহরক্ষী রুবেল শর্মা, পুলিশের সোর্স শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন। 

      রায়ে খালাস প্রাপ্তরা হলেন— বরখাস্ত কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, বরখাস্ত এপিবিএনের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজাহান, বরখাস্ত কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহর। 

      আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি মো. জেনারেল জসিম সরকার, মো আসাদ উদ্দিন।

      আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান, মো. মনসুরুল হক চৌধুরী, মাহবুব শফিক, মো. শফিকুল ইসলাম রিপন, সারওয়ার আহমেদ, শুভ্রজিৎ ব্যানার্জি, শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম, এস এম মাহবুবুল ইসলাম, মো. আমিনুল ইসলাম, বশির আহমেদ, আকরাম উদ্দিন শ্যামল।
      ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে নিহত হন সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় নিহত সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস ২০২০ সালের ৫ আগস্ট বাদী হয়ে কক্সবাজার আদালতে টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান করে নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলায় টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে করা হয় দুই নম্বর আসামি।

      এ মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় র‌্যাবকে। ২০২০ সালের ১৩ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম ওসি প্রদীপসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে সাক্ষী করা হয় ৮৩ জনকে। একই দিন পুলিশের দায়ের করা মামলা তিনটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
      ২০২১ সালের ২৭ জুন আদালত ১৫ আসামির বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরুর আদেশ দেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালত।

      কিন্তু করোনা মহামারির কারণে আদালতের বিচার কার্যক্রম স্থগিত থাকায় ধার্য দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়নি। পরে ২০২১ সালের ২৩ আগস্ট থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮৩ জনের মধ্যে ৬৫ জন এ মামলায় সাক্ষ্য দেন। ২০২২ সালের ৯ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মামলার উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর ৩১ জানুয়ারি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে বরখাস্ত ওসি প্রদীপ ও এসআই লিয়াকতকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আর ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়ে বাকিদের খালাস দেন বিচারিক আদালত।

      কোনো মামলায় বিচারিক আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুসারে সে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত। বিচারিক আদালতের রায়ের সাত দিনের মাথায় ২০২২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার যাবতীয় নথিসহ ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়। আর বিচারিক আদালতের রায়ের দুই সপ্তাহের মাথায় খালাসের পাশাপাশি রায় বাতিল ও রদ চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন প্রদীপ-লিয়াকত। পরে যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশ পাওয়া দণ্ডিতরাও আপিল করেন। গত ২৩ এপ্রিল ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        নগদে আতিকের স্ত্রীর নিয়োগে অনিয়ম পেয়েছে দুদক

        অনলাইন ডেস্ক
        ১ জুন, ২০২৫ ১৭:৫৪
        অনলাইন ডেস্ক
        নগদে আতিকের স্ত্রীর নিয়োগে অনিয়ম পেয়েছে দুদক

        মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান নগদের দুর্নীতি অনুসন্ধানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আতিক মোর্শেদের স্ত্রীর নিয়োগে প্রাথমিকভাবে অনিয়মের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

        রবিবার (১ জুন) সংস্থাটির কর্মকর্তারা নগদের গুলশান অফিসে অভিযান পরিচালনা করেন। পরে দুদকের সহকারী পরিচালক ইকরাম হোসেন জানান, নগদে অভিযান চালিয়ে প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তার স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে অসঙ্গতির তথ্য মিলেছে।

        এ ছাড়া নগদের গত দুই মাসের বিল ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

        এ দিকে গত ৩০ মে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আতিক মোর্শেদ ভুয়া বিল-ভাউচারে নগদ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন। পাশাপাশি ওই পোস্টে তার স্ত্রীর নগদে মেধা ও যোগ্যতার বলে চাকরি পেয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

        শনিবার (৩১ মে) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব লিখেন, আমার ব্যক্তিগত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট এবং স্বজন প্রীতির অভিযোগ এসেছে। কাজটা ঠিক হয়নি—এটা আমি বিনাবাক্যে স্বীকার করছি।

        তাকে প্রচণ্ডরকম বকাবকিও করেছি। উনার বউকে চাকরি দেওয়ার বিষয়টি আমি তদন্তের ব্যবস্থা করেছি, নির্দেশনা দিয়েছি।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত