ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যুক্তরাজ্যের মেডিকেল টিম এভারকেয়ারে

অনলাইন ডেস্ক
৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১১:২০
অনলাইন ডেস্ক
বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যুক্তরাজ্যের মেডিকেল টিম এভারকেয়ারে
ছবি: সংগৃহীত

বেগম জিয়ার চিকিৎসা সহায়তায় যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের প্রধান ডা. রিচার্ড বিলি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছেছেন।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকায় পৌঁছান তিনি। এর পর তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আল মামুন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।


বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও তার উন্নত ও সার্বিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং চলমান মেডিকেল ব্যবস্থাপনার আরও গভীর মূল্যায়নের জন্য হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ মতামতের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই যুক্তরাজ্য ও চীন থেকে দুটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
 
বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান, বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের অংশগ্রহণে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় নতুন দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এরইমধ্যে এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড বিদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় মেডিকেল রিপোর্ট ও সাম্প্রতিক পরীক্ষার তথ্য-উপাত্ত শেয়ার করেছে, যাতে তারা প্রাথমিক পর্যায় থেকেই সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং চিকিৎসায় সর্বোত্তম ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
 
 
প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    রাজশাহীতে সাংবাদিকদের আটকে রাখার হুমকি দেওয়া যুবশক্তির দুই নেতাকে অব্যাহতি

    অনলাইন ডেস্ক
    ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১১:১
    অনলাইন ডেস্ক
    রাজশাহীতে সাংবাদিকদের আটকে রাখার হুমকি দেওয়া যুবশক্তির দুই নেতাকে অব্যাহতি
    ছবি : সংগৃহীত

    রাজশাহীতে সাংবাদিকদের তালাবদ্ধ করে রাখার হুমকি দেওয়া জাতীয় যুবশক্তির দুই নেতাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার ( ২ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে সংগঠনের যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) আসাদুর রহমান এই তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি জানান, গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় যুবশক্তির রাজশাহী মহানগর শাখার মুখ্য সংগঠক মেহেদী হাসান ফারাবি এবং যুগ্ম সদস্যসচিব সোয়াইব আহমেদকে কমিটির সকল দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    একই সঙ্গে শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত কর্মকাণ্ডের দায়ে এই দুজনকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী দুই দিনের মধ্যে লিখিত এবং সশরীর উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব ডা. জাহেদুল ইসলাম নির্দেশ দিয়েছেন।

    আসাদুর রহমান আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়া না হলে সংগঠনের নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    সোমবার রাজশাহী পর্যটন মোটেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন জেলা কমিটির পরিচিতি সভা ছিল। সে সভা পণ্ড করতে যান মেহেদী হাসান ফারাবি ও সোয়াইব আহমেদসহ এনসিপির কয়েকজন নেতা-কর্মী।

    তারা অভিযোগ তোলেন, এনসিপির জেলা কমিটির নতুন আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম আওয়ামী লীগের দোসর। তারা তার পদত্যাগ চান।

    এ অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকেরা মোটেলের সম্মেলনকক্ষে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলছিলেন। প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালে সম্মেলনকক্ষের ভেতরে প্রবেশ করেন সোয়েব আহমেদ ও মেহেদী হাসান ফারাবি।

    ঢুকেই সোয়েব বলেন, ‘ভাই, সাংবাদিক যারা আছেন, এইটা যদি এখনই বন্ধ না করেন, আপনাদেরসহ আমরা তালা মেরে দেব। আপনারা পায়খানা-প্রস্রাব সব এইখানে করতে হবে।’

    পাশ থেকে ফারাবি বলেন, ‘এত লোক সব বাইরে বসে আছে। আপনারা ফাইজলামি করছেন এখানে, নাকি?’ সাংবাদিকেরা কিছু না বললে ফারাবি আবার বলেন, ‘ভাই চিল্লাচ্ছি, কানে যাচ্ছে না কথা?’

    এরপর সোয়েব তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘এখনই যদি বন্ধ না করেন এটা, আপনাদের সাংবাদিকদেরসহ কিন্তু আমরা তালা মেরে দেব।’

    এরপরই সাংবাদিকেরা এসে এর প্রতিবাদ করেন। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

    সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে রাতেই বিবৃতি দেয় রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী শাখা।

    এ ছাড়া মঙ্গলবার রাজশাহী এডিটরস ফোরাম বিবৃতি দিয়ে এর নিন্দা জানায়।

    সাংবাদিক সংগঠনগুলো এই ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি হুমকি এবং জুলাইয়ের চেতনাবিরোধী উল্লেখ করে অবিলম্বে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      দেশে ফিরতে তারেক রহমান এখনো ট্রাভেল পাস চাননি: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

      অনলাইন ডেস্ক
      ২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২০:৪৭
      অনলাইন ডেস্ক
      দেশে ফিরতে তারেক রহমান এখনো ট্রাভেল পাস চাননি: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

      দেশে ফেরার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন পর্যন্ত কোনো ট্রাভেল পাসের আবেদন করেননি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। 

      মঙ্গলবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবানে তিনি এ কথা জাানান।

      উপদেষ্টা বলেন, তিনি (তারেক রহমান) যদি ট্রাভেল পাস চান তাহলে তা ইস্যু করা হবে।

      তারেক রহমানের দেশে আসা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই বলে জানান তৌহিদ হোসেন।

      পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রস্তুতি আছে সরকারের। যদি চিকিৎসকেরা সেটা মনে করেন, দলের সিদ্ধান্ত হয়, তবে সে অনুযায়ী তা করা হবে।

      বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা এ মুহূর্তে তুঙ্গে রয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নভেম্বরে শেষের দিয়ে দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছিলেন বিএনপি নেতারা। এর মধ্যে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি হলে তারেক রহমানের দেশে ফেরার আলোচনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

      এখন পর্যন্ত তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন তা নিশ্চিত নয় । তিনি নিজেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়েছেন যে, তার দেশে ফেরার বিষয়টিতে 'সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়'।

      সরকারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে দেশে ফিরলে সব ধরনের নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

      এদিকে তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে নতুন তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব লের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন,‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর তারেক রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে শিগগিরই দেশে ফিরবেন তিনি।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        টক অব দ্য কান্ট্রি : তারেক রহমানের দেশে ফেরা

        অনলাইন ডেস্ক
        ২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২০:২১
        অনলাইন ডেস্ক
        টক অব দ্য কান্ট্রি : তারেক রহমানের দেশে ফেরা

        লন্ডনে অবস্থাসরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা এ মুহূর্তে তুঙ্গে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে ঘরেবাইরে চায়ের টেবিলে সর্বত্রই এই আলোচনা, কবে দেশে ফিরবেন তিনি।।

        দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নভেম্বরের শেষের দিয়ে দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছিলেন বিএনপি নেতারা। এর মধ্যে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি হলে তারেক রহমানের দেশে ফেরার আলোচনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

        এখন পর্যন্ত তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি । তিনি নিজেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়েছেন যে, তার দেশে ফেরার বিষয়টিতে 'সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়'।

        সরকারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে দেশে ফিরলে সব ধরনের নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন একাধিক উপদেষ্টা।

        মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে দেশে ফিরে আসার পর তারেক রহমানের নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে কারও জন্য কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি নেই। সরকার সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

        পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, দেশে ফেরার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানএখন পর্যন্ত কোনো ট্রাভেল পাসের আবেদন করেননি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। উপদেষ্টা বলেন, তিনি (তারেক রহমান) যদি ট্রাভেল পাস চান তাহলে তা ইস্যু করা হবে।

        তারেক রহমানের দেশে আসা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই বলেও জানান তৌহিদ হোসেন।

        পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, তারেক রহমানের মতো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জন্য ট্রাভেল পাস আসলে একধরনের আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।  এটা কেবল ‘স্বাক্ষর আর সিলের’ ব্যাপার। সর্বোচ্চ এক ঘণ্টায় তার ট্রাভেল পাস ইস্যু করা সম্ভব।

        এর আগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে লেখেন, তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা বা আপত্তি নেই।

        এদিকে তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে নতুন তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব লের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

        গণমাধ্যমকে তিনি বলেন,‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর তারেক রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে শিগগিরই দেশে ফিরবেন তিনি।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন: জামায়াত আমির

          জেলা প্রতিনিধি
          ১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২১:৪৭
          জেলা প্রতিনিধি
          ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন: জামায়াত আমির

          ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে নগরীর শিববাড়ী চত্বরে (বাবরী চত্বর) জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনসহ ৫দফা দাবিতে ইসলামপন্থী ৮ দলের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

          জামায়াত আমির বলেন, ‘ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন। প্রশাসনিক ক্যু করার চেষ্টা করছে। আগামী নির্বাচনে ছলেবলে কৌশলে কেউ কেউ বিভিন্ন জায়গায় বসে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। জনগণ ভোট দিক বা না দিক ক্ষমতায় আমাদের যেতেই হবে। কিন্তু বেলা শেষ, দিনও শেষ ওই সূর্যও ডুবে গেছে। এ দেশে এটা আর হবে না। এটা আর আমরা হতে দেব না ইনশাল্লাহ। আজ চাঁদাবাজদের দৌরাত্মে সমাজজীবন অতিষ্ট, তটস্থ, ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। বিনিয়োগকারী শিল্পপতি ব্যবসায়ী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কেউ শান্তিতে নাই। আগের চেয়ে চাঁদার রেট বেড়ে গেছে বলে সবাই বিষাক্ত নিশ্বাস ফেলে।’

          ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটা দেশকে সভ্য দেশ হতে হলে সেই দেশটাকে দুর্নীতিমুক্ত হতে হয়। আজ কিছু দল এবং ব্যক্তি বাংলাদেশকে দফায় দফায় তারা দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করে বিশ্বের দরবারে অপমানিত করেছে। এদেশের সবার অতীতের রেকর্ড বাংলাদেশের জনগণের হাতে আছে।’

          তিনি আরও বলেন, ‘দু:খের বিষয় সব ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি, বৈষম্য, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের বিপ্লব অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বিপ্লবের পরের দিন থেকেই একটি গোষ্ঠী নিজেদের কপাল কিসমত গড়ার জন্য বাংলাদেশের জনগণের ওপর ঝাপিয়ে পড়েছে। তারা বলেন, আগেও ভালো ছিলাম না, এখন আরও খারাপ। কোনো ইসলামী দলের নামে চাঁদাবাজি তাদের কপালে জুড়ে দেওয়া হয়নি। কোনো দেশপ্রেমিক দল ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজ হয়ে আবির্ভূত হয়নি। যারা আবির্ভূত হয়েছিলেন দায় ও দরদ নিয়ে তাদের সঙ্গে বসেছিলাম। তাদেরকে বলেছিলাম, এটি শহিদদের রক্তের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা। এটা বন্ধ করতে হবে। যদি বন্ধ করা না হয়, বিপ্লবী জনগণ, তরুণ জনতা, ফুলের মতো বাচ্চা নিয়ে ওই মায়েরা যারা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন তারা আমাদের ক্ষমা করবে না। বন্ধ করা হয়নি চাঁদাবাজি, চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে। দুর্নীতি অব্যাহত রয়েছে।’

          জামায়াত আমির তরুণ-যুবকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা তরুণ যুবকদেরকে জিজ্ঞেস করতে চাই যাদের বয়স ৩৫ বা তার নিচে একটা ভোট দিতে পারো নাই। আগামীতে ভোট নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলুক, কেউ চুরি করুক, কেউ ভোট হাইজ্যাক করুক, তোমরা কি তা বরদাস্ত করবে? আমরা তোমাদেরকে কথা দিচ্ছি, তোমাদের ভোটের পাহারাদারি করার জন্য আমরা যুবক হয়ে সেদিন তোমাদের সঙ্গে একইভাবে লড়ব ইনশাল্লাহ।’

          তিনি আরও বলেন, ‘এখন থেকে আমরা সারাদেশে জনগণের ব্যাপক ভালোবাসা দেখতে পাচ্ছি। এই ভালোবাসায় ঈর্ষান্বিত হয়ে মনের জ্বালায় কেউ আমাদের ব্যানার, ফেস্টুন, প্লাকার্ড, পোস্টারগুলো ছিঁড়ে খান খান করে ফেলছে। বন্ধুগণ টের পান নাই, জনগণ আজকাল পোস্টার, লাইট পোস্টার, রাস্তায় টানানো পোস্টার দেখে সিদ্ধান্ত নেয় না। আজকে তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে যাদেরকে তারা ভালোবেসেছে, তাদের বুকের ভেতরে তার পোস্টার স্থায়ীভাবে স্থাপন করেছে। রাস্তার পোস্টার ছিঁড়তে পারবা, বুকের পোস্টার ছিড়তে পারবা না। অতএব ওই পোস্টার ছেঁড়াছিঁড়ি করে কোনো লাভ নেই।’

          ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দিশাহারা হয়ে, হতাশ হয়ে ক্ষব্ধ হয়ে চোরাগলিতে কেউ যদি হাঁটার চিন্তা করেন, তাহলে প্রয়োজনে আরেকটা ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ইনশাল্লাহ। যেই ৫ আগস্ট সন্ত্রাসকে, ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়ে দিয়েছিল, সেই ৫ আগস্ট প্রয়োজনে রুখে দেবে ইনশাল্লাহ।’

          তিনি আরও বলেন, ‘এখন থেকে ছাত্র-জনতা, শ্রমিক জনতা, ব্যবসায়ী জনতা, আপামর জনতা, শিশু থেকে বৃদ্ধ সমস্ত মানবতার ঐক্য আমাদেরকে গড়ে তুলতে হবে ইনশাল্লাহ। এই ঐক্যই আগামী দিনের জাতীয় সংসদে যাবে বিজীয়র বেশে ইনশাল্লাহ। এই বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। কারণ আমরা আছি মজলুমের পক্ষে, আমরা আছি অপশাসনের বিরুদ্ধে, আমরা আছি বৈষম্যের বিরুদ্ধে, আমরা আছি ন্যায়ের পক্ষে, আমরা আছি কোরআনের বিধানের পক্ষে। এ বিজয় আমাদের হবেই ইনশাল্লাহ।’

          জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘কেউ কেউ জাতির মধ্যে হিংসা সৃষ্টি করে জাতিকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করতে চায়, চিংড়ি মাছের মতো কেউ কেউ পেছনে দৌড়াতে চান, আপনারা চিংড়ির মাছের চাষের অঞ্চলের মানুষ, চিংড়ি যখন দৌড়ায় সামনের দিকে পথ খুঁজে পায় না। শুধু পেছন দিকে যায়। কেউ কেউ ৭২’র সংবিধান নিয়ে কামড় দিয়ে পড়ে থাকতে চান, আমাদের বন্ধুদের নিয়ে দীর্ঘদিন একসঙ্গে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম লড়াই করেছি তাদের কাউকে কাউকে সে কথা বলতে শুনি। মনে রাখবেন, বাংলাদেশে প্রথম দুঃশাসনের পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে ওই সংবিধানের আমূল পরিবর্তন করেছিলেন। এখন যদি কেউ ৭২’র সংবিধানের পক্ষে কথা বলেন, কার্যত তিনি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন। ৭২’র সংবিধানের কথা আজ যিনি সংকটজনক অবস্থায় আছেন, জাতির এক শ্রদ্ধার কেন্দ্রবিন্দুতে যার অবস্থান সেই খালেদা জিয়াও ৭২’র সংবিধানের পক্ষে কথা বলেননি। আমরা আশা করব, যারা এই দুইজনকে ভালোবাসেন তারা ভুলেও আর ৭২’র ফ্যাসিবাদী সংবিধানের কথা বলবেন না।’

          ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ৮ দলের বিজয় চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই, আমরা কোনো দল বিশেষের বিজয় চাই না আমরা মজলুম জনগণের বিজয় চাই। আমরা আল্লাহর কোরআনের বিজয় চাই। সেই বিজয়ের মিছিলে আপনার সবাই লড়াই করে যেতে রাজি আছেন। আমরা যে ৫ দফার লড়াই করছি, সেই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।’

          দুপুর ১২ টায় অর্থসহ পবিত্র কুরআন তেল্ওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও পির সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করীম। এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, খেলাফত মসজিলেসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ড. হামিদুর রহমান আজাদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সিনিয়র সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদেক হাক্কানি বক্তব্য দেন।

          এ সময় জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহানগরী সহ-সভাপতি শেখ মো. নাসির উদ্দিনের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন খেলাফত আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন, মসজিদ মিশনের সেক্রেটারি মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শোয়াইব হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মোস্তফা কামাল, খুলনা মহানগরী আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, খুলনা জেলা আমির মাওলানা মুহা. এমরান হুসাইন, সাতক্ষীরা জেলা আমির উপাধ্যক্ষ মো. শহীদুল ইসলাম মুকুল, বাগেরহাট জেলা আমীর মাওলানা মো. রেজাউল করিম প্রমুখ।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত