ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

রাজধানীতে ব্যবসায়ীকে পাথর মেরে হত্যার ভিডিও ভাইরাল, সমালোচনার ঝড়

অনলাইন ডেস্ক
১১ জুলাই, ২০২৫ ২০:৩১
অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীতে ব্যবসায়ীকে পাথর মেরে হত্যার ভিডিও ভাইরাল, সমালোচনার ঝড়

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের সামনে সম্প্রতি মো. সোহাগ নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাথর মেরে হত্যার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেটা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এ ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, সবাই খারাপ কিন্তু উনি ভালো, বাংলাদেশে এই নাটক আর চলবে না।

আপনার দলের নেতাকর্মী নামক কতিপয় নরপিশাচকে সামলান, জনাব তারেক রহমান। যে নিয়মে আওয়ামী লীগের করা হত্যার দায় খুনি হাসিনার উপর বর্তায়, সেই একই নিয়মে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের করা খু-নের দায় আপনার উপরেও বর্তায়।

মিডফোর্ড হাসপাতালের পাশে চাঁদা না দেওয়ায় একজন ব্যবসায়ীকে উলঙ্গ করে, পাথর মেরে, হত্যা করে তার লাশ ঘিরে চলছে যুবদলের কর্মীদের বুনো উল্লাস। এই দৃশ্য আইয়ামে জাহেলিয়া যুগের বর্বরতার কথা স্মরণ করায়।

এজন্য বাংলাদেশের মানুষ জুলাই বিপ্লব করে নাই।

আগের দিন আর নাই, জনাব। এই প্রজন্ম ছাড় দিতে পারে তবে ছেড়ে দিবে না।

 

 

ঢাকার আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের (IIUC) সহযোগী অধ্যাপক মোখতার আহমাদ তার ফেসবুকে লিখেছেন, পুরান ঢাকায় পাথর দিয়ে শরীর ও মাথা থেতলে দিয়ে একজন জীবন্ত মানুষকে হত্যার ভয়ানক নৃশংসতা জাহেলি যুগকেও হার মানিয়েছে। দীর্ঘদিন আমরা এই দৃশ্য ভুলতে পারবো কিনা জানিনা। আমি শিহরিত হয়ে উঠছি বারবার, চোখ থেকে দৃশ্য সরছে না কোনোভাবেই।

ওল্লাহি, আমি কেঁদেছি, ঠুকরে ঠুকরে...

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস এম ফরহাদ ফেসবুকে বলেছেন, আবারও কোনো এক 'ছত্রিশে জুলাই' হয়তো এই দেশটাকে বাঁচাতে আসবে!

গতকাল যুগান্তর-এর এক প্রতিবেদনে ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুবদল নেতার সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসার পর অনলাইনে কিছুটা ভিন্ন প্রেক্ষাপট ও মৃদু আলাপ শুরু হয়। আর আজকে দেশব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়ার মূল কারণ—ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া। ভিডিওটি না এলে, হয়তো এটিও অন্যান্য ‘স্বাভাবিক’ খুনের মতো মানুষের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যেত।

লতিফুল ইসলাম নামে একজন ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করে লেখেন, ‘ভিডিওটা বীভৎস, শেয়ার করার মতো না।’ নাজমুল ইসলাম নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লেখেন, ‘মিডফোর্টের ভিডিওটা দেখলাম। পাথর দিয়ে একটা মানুষকে কিভাবে জনসম্মুখে মাথা থেতলিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সুস্থ স্বাভাবিক কেউ ভিডিওটা দেখার সাহস করবে না। এ কোন জাহেলিয়াতে আছি আমরা? কাদের হাতে আমাদের দেশের ভবিষ্যত?।’

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়। নিহত মো. সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিটফোর্ড এলাকার ৪ নম্বর রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারির ব্যবসা করতেন।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    সচিবালয়, যমুনা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল নিষিদ্ধ : ডিএমপি

    অনলাইন ডেস্ক
    ৮ জুলাই, ২০২৫ ১৭:৫৬
    অনলাইন ডেস্ক
    সচিবালয়, যমুনা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল নিষিদ্ধ : ডিএমপি

    বাংলাদেশ সচিবালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

    মঙ্গলবার (৮ জুলাই) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ারের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়েছে।

    নির্দেশনাটি আগামীকাল বুধবার (৯ জুলাই) থেকে কার্যকর হবে।

    গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সে অর্পিত ক্ষমতাবলে ৯ জুলাই থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ সচিবালয়, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় (হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, কাকরাইল মসজিদ মোড়, অফিসার্স ক্লাব মোড় ও মিন্টো রোড) যেকোনো সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হলো।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ঢাকার ৩ এলাকায় চলবে বুয়েটের নকশায় তৈরি ই-রিকশা

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৮ জুন, ২০২৫ ১৯:৬
      অনলাইন ডেস্ক
      ঢাকার ৩ এলাকায় চলবে বুয়েটের নকশায় তৈরি ই-রিকশা

      রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নকশায় তৈরি ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে ঢাকায়। প্রাথমিকভাবে তিনটি রুটে চালু হবে এই রিকশা। যা আগামী আগস্ট থেকেই ঢাকার রাস্তায় দেখা যাবে।

      আজ শনিবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নগর ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমনটি জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ডিএনসিসির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নতুন রিকশার চালকদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

      যেখানে জানানো হয়, রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে পরীক্ষামূলকভাবে পল্টন, ধানমন্ডি ও উত্তরা এলাকায় বুয়েটের নকশায় তৈরি ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে।

      আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিতভাবে যেমন রিকশা চলে, তেমনটি থাকবে না। প্রতিটি এলাকার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক রিকশা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, চালকেরা যেন কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা হয়রানির শিকার না হন।’

      অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ জানান, নতুন নকশার এই রিকশাগুলো আগামী আগস্টের শুরু থেকেই রাস্তায় নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।

      তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগের আওতায় এক লাখ অটোরিকশা চালককে প্রশিক্ষণ দিয়ে লাইসেন্স দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি।’

      এসব রিকশার জন্য নির্ধারিত চার্জিং স্টেশন তৈরির কাজ চলছে। শুধু অনুমোদিত পয়েন্ট থেকেই যেন রিকশাগুলো চার্জ দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান মোহাম্মদ এজাজ।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        অতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায়, আব্দুল্লাহপুরে গ্রেফতার ২

        অনলাইন ডেস্ক
        ৪ জুন, ২০২৫ ১৪:৩৭
        অনলাইন ডেস্ক
        অতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায়, আব্দুল্লাহপুরে গ্রেফতার ২

        রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনী। পরে তাদের উত্তরা পশ্চিম থানায় হস্তান্তর করা হয়।

        মঙ্গলবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

        গ্রেফতার হলেন– আমিরুজ্জামান লিমন (৩২) ও বোরহান উদ্দিন (৩০)।

        সেনাবাহিনী জানায়, মঙ্গলবার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সময় দুজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের উত্তরা পশ্চিম থানায় হস্তান্তর করা হয়।

        আইনশৃঙ্খলা বহির্ভূত কর্মকাণ্ড রোধ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানায় সেনাবাহিনী।

        মন্তব্য

        জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে

        ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে’ আহতদের সাথে কর্মচারীদের মারামারি, ভয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন অধিকাংশ চিকিৎসক-নার্স

        অনলাইন ডেস্ক
        ২৮ মে, ২০২৫ ১৭:৩৭
        অনলাইন ডেস্ক
        ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে’ আহতদের সাথে কর্মচারীদের মারামারি, ভয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন অধিকাংশ চিকিৎসক-নার্স

        চিকিৎসক-নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে’ আহতদের একাংশের হামলার ঘটনায় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে টানা চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর নিরাপত্তাহীনতায় পড়া অধিকাংশ চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীই দুপুরের দিকে হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন। এরফলে জরুরি বিভাগ ব্যাতিত হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে হাসপাতালটিতে এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দুর্ভোগে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী।

        বুধবার (২৮) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আহতের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেও সমাধান হয়নি। উত্তপ্ত পরিস্থিতি থামাতে লাঠিচার্জ করতে দেখা গেছে সেনবাহিনীকে।

        হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গতকাল চক্ষু বিজ্ঞান পরিচালকের গায়ে হাত তুলেছে একদল জুলাই আহত ব্যক্তিরা। এমনকি তারা হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপরও হামলা করে রুম ভাঙচুর করে। এরই ধারাবাহিকতায় চিকিৎসক-নার্সসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারিরা মিলে আজ (২৮ মে) সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন শুরু করে। এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি এবং দুই পক্ষের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সকাল ১১টা থেকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আবারও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

        dhakapost

        চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারী আহতদের একাংশ হাসপাতালের কর্মীদের মারধর করেছেন, রুমে ভাঙচুর করেছেন এবং এমনকি পরিচালকের গায়েও হাত তুলেছেন। এই ঘটনার পর তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন এবং কর্মবিরতি ঘোষণা করেন। কিন্তু কোনোরকম উস্কানি ছাড়াই আজ আবারও তারা হামলা চালায়, যাতে অন্তত দশজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীও রয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় থমথমে অবস্থা হাসপাতালে। বন্ধ হয়ে গেছে সেবা।

        ঘটনার শুরু : বিষপানের হুমকি থেকে উত্তেজনা

        ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেলে। জানা গেছে, গত বছর জুলাইয়ে চোখ হারানো চার আন্দোলনকারী—শিমুল, সাগর, মারুফ ও আবু তাহের—হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে বৈঠকে বসে। চিকিৎসাসেবায় অবহেলা ও বিদেশে রেফার না করা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা আচমকা পকেট থেকে বিষের শিশি বের করে গলায় ঢালার চেষ্টা করেন। তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

        পরদিন সকাল থেকেই হাসপাতালের স্টাফদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। তারা অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীরা শুধু বিষপানেই ক্ষান্ত হননি, তারা পরিচালকের কক্ষে ভাঙচুর করেছেন, গায়ে হাত তুলেছেন এবং কর্মীদের হুমকি দিয়েছেন।

        চিকিৎসকদের প্রতিক্রিয়া: নিরাপত্তাহীনতায় কর্মবিরতি

        হাসপাতালের চিকিৎসক নুরে আলম বাবু বলেন, "আমাদের পরিচালকের গায়ে হাত তোলা হয়েছে, অফিস রুম ভাঙচুর করা হয়েছে। তাই আমরা চিকিৎসক-নার্স-কর্মচারীরা কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে কর্মবিরতিতে গিয়েছি। কেউ সংক্ষুব্ধ হলেই গায়ে হাত তোলার এই সংস্কৃতি আর মেনে নেওয়া যায় না।"

        একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিনিয়র নার্স বলেন, "তাদের তো আমরা ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা করেছি। এখন তারাই আমাদের মারছে, জোর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দিয়েছে।"

        আহতদের পাল্টা অভিযোগ: চিকিৎসা নয়, নির্যাতন পেয়েছি

        অন্যদিকে আন্দোলনকারী আহতদের ভাষ্য একেবারে বিপরীত। তারা দাবি করছেন, সকালে নাস্তা করতে নামার সময় কয়েকজনকে মারধর করেন হাসপাতালের কর্মীরা। পরে সেই খবর ছড়িয়ে পড়লে আহতরাও প্রতিক্রিয়া দেখান।

        চিকিৎসাধীন ইব্রাহিম বলেন, "আমরা কারো গায়ে হাত দেইনি। সেনাবাহিনী পর্যন্ত আমাদের ওপর চড়াও হয়েছে। চিকিৎসা না পেয়ে আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। ১০ মাস ধরে হাসপাতালের বেডে পড়ে আছি, রেফার করা হয়নি।"

        বিষপানকারী আবু তাহের বলেন, "পরিচালকের সঙ্গে আমাদের বরাদ্দের অর্থ নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। তিনি কথা না শুনে চলে যান। বাইরে যাওয়ার কথা বললেই চোখে ইনফেকশন হয়, আবার হাসপাতালে ফিরতে হয়। চিকিৎসা তো হচ্ছে না, বরং টাকা আত্মসাৎ করছে একটি সিন্ডিকেট।"

        সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ও জরুরি বিভাগ ব্যতীত সব বন্ধ

        পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আনসার, পুলিশ ও নৌবাহিনী ব্যর্থ হলে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট হাসপাতালে প্রবেশ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আহতদের ওপর লাঠিচার্জ করতে দেখা গেছে। এরপর আহতরা পিছু হটে যায়।

        এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ছাড়া সব চিকিৎসা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। রোগীরা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সেবা পাচ্ছেন না। অনেকের অপারেশন ছিল আজকের নির্ধারিত শিডিউলে, সেটিও বাতিল হয়েছে।

        dhakapost

        বাবুল মিয়া নামের একজন অস্ত্রোপচারের রোগী বলেন, আজকে আমার অস্ত্রোপচারের তারিখ ছিল। কিন্তু আন্দোলন এবং হামলার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এখন পরবর্তী ডেট আবার কবে বলতে পারছি না।

        পরিচালক বলছেন, ‘জিম্মি’ চিকিৎসক-নার্সরা

        হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, "সব জানেন আপনি। আমার চিকিৎসক-নার্সরা এখনো জিম্মি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত। বিকেলে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক রয়েছে, সেখানেই করণীয় ঠিক হবে।"

        তিনি আরও জানান, গতকালের একটি অনভিপ্রেত ঘটনার কারণে স্টাফরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। যার কারণে তারা কর্মবিরতিতে গেছেন বলে আমি জানি। তবে আমি ছুটিতে, আমার পরিবর্তে আরেকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত