ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

“মুসলিমদের পতন, আমেরিকার উত্থান: এক হাজার বছরের ইতিহাস”

টিআরসি রিপোর্ট
২৩ অক্টোবর, ২০২৫ ২২:৯
টিআরসি রিপোর্ট

কিভাবে খোলাফায়ে রাশেদার হাত ধরে গড়ে ওঠা হাজার বছরের প্রাচীণ, শক্তিশালী মুসলিম সাম্রাজ্যের এক নিদারুন করুন পরিণতি হলো? আর কিভাবেই বা আমেরিকা—একটি অজানা ভূখণ্ড, যাকে কিনা বিশ্ব চিনেছে মাত্র ৫০০ বছর আগে—আজ তারাই পৃথিবীর একচ্ছত্র সুপার পাওয়ারে পরিণত হলো?

আজকের এই ভিডিওতে আমরা মুসলিম সাম্রাজ্যের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের পাশাপাশি আমেরিকার উত্থানের সেই অবিশ্বাস্য কাহিনী বিশ্লেষণ করবো। এই ভিডিওটি আপনার চোখ খুলে দেবে। শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন।

প্রিয় দর্শক, পবিত্র কোরআনের সূরা আর-রূম নাযিল হয়েছিল তৎকালীন পরাশক্তি রোমান সাম্রাজ্যকে নিয়ে। কোরআন প্রতিটি যুগের পরাশক্তিদের নিয়ে আলোচনা করেছে। সেখানে যেমন আছে রোমের কথা আছে ফেরাউন, নমরুদ, জুলকারনাইনের মতো শক্তিমানদের আলোচনা। মুসলিমদের তা থেকে শিক্ষা নিতেও উৎসাহ দেওয়া হয়েছ। কারণ এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে উত্থান-পতনের সূত্র।

আমাদের বর্তমান যুগের পরাশক্তি হলো-আমেরিকা। আসুন, ইতিহাসের পাতা থেকে খুঁজে বের করি কিভাবে কারবালার প্রান্ত থেকে শক্তির ভর কেন্দ্র মুসলমানদের থেকে আমেরিকায় চলে গেল।

রাসূল (সাঃ)-এর ইন্তেকালের পর, চার খলিফার হাত ধরে মুসলিম বিশ্ব প্রথমবারের মতো পরাশক্তিতে পরিণত হয়। খোলাফায়ে রাশেদার সেই স্বর্ণযুগ মাত্র ৩০ বছরেই শেষ হয় নানা বিবাদের মধ্য দিয়ে। এরপর ক্ষমতা চলে যায় বনু উমাইয়াদের হাতে। তারা মুসলিম সাম্রাজ্যকে আরও প্রসারিত করে এবং সেখানে একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তোলে।

কিন্তু উমাইয়া খলিফা ইয়াজিদ ঘটিয়ে বসে এক হৃদয় বিদারক ঘটনা। কারবালার প্রান্তরে ইয়াজিদের সৈন্যরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশের বহু সদস্যকে অত্যন্ত নির্মমভাবে শহীদ করে। যা মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি নাগরিকের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করে। সৃষ্টি করে এক গভীর বিভেদ।

তাছাড়া উমাইয়া শাসকরা আরবদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব এবং অনারব মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণও তাদেরকে জনসাধারণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। মানুষের মনে ক্ষোভের জন্ম হতে থাকে। এই জমে থাকা ক্ষোভকে কাজে লাগায় আরেকটি বংশ—আব্বাসীয়রা।

তারা কারবালার ঘটনাকে সামনে এনে জনমত তৈরি করতে থাকে যা পরবর্তীতে উমাইয়াদের বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহের সূচনা করে। পতন ঘটে উমাইয়াদের। আব্বাসীয়রা ক্ষমতায় এসে উমাইয়া বংশের লোকদের হত্যার নির্দেশ দেয়। খুজে-খুজে তখন বনু উমাইয়াদের হত্যা করা হয়। এইসবের পরেও আব্বাসীয়দের রাগ একটুও কমেনি! এরপর আব্বাসীয়রা সরাসরি বনু উমাইয়াদের রাজধানীর দিকে রওনা দেয়। কারণ উমাইয়াদের রাজধানী দামেস্কে বনু উমাইয়াদের সকল শাসকের কবর ছিল। আব্বাসীয়রা সেই শাসকদের মৃতদেহ কবর থেকে তুলে আনে এবং তাদের মৃতদেহকে চাবুক পেটা করে এমনকি তাতে আগুনও লাগিয়ে দেয়।

শুধুমাত্র বনু উমাইয়াদের একজন খলিফা- ওমর বিন আব্দুল আজিজ ছাড়া কাউকে তারা ছাড় দেয়নি। খলিফা ওমর বিন আব্দুল আজিজকে আব্বাসীয়রা অনেক সম্মান করতো এবং তার ইজ্জত আজ পর্যন্ত বহাল আছে মুসলমাদের হৃদয়ে।

বনু উমাইয়া বংশের যারা বেঁচে ছিল তারা এই নতুন সাম্রাজ্য ছেড়ে পশ্চিমা দেশগুলোর দিকে পালাতে শুরু করে। বনু উমাইয়ারা প্রথমে মিশরের দিকে যায়, তারপর সেখান থেকে লিবিয়া, আলজেরিয়া এবং অবশেষে মরক্কো পর্যন্ত পৌঁছায়। কিন্তু সেখানেও আব্বাসীয়রা তাদের পিছু ছাড়েনি। উমাইয়া বংশের লোকেদের কাছে পালানোর আর কোন রাস্তা ছিল না। তাই তারা বাধ্য হয়ে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে স্পেনে প্রবেশ করে।

স্পেন কয়েক বছর আগেই মুসলমানরা তারেক বিন জিয়াদের নেতৃত্বে জয় করেছিল। বনু উমাইয়ারা সেখানকার মুসলমানদের কাছ থেকে পুনরায় স্পেন জয় করে। এবং পুনরায় সেখানে তাদের বংশের একটি নতুন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। সেখানে তারা এক নতুন ও শক্তিশালী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে, যা আন্দালুস নামে পরিচিত ছিল।

আর এভাবেই প্রথমবারের মতো মুসলিম বিশ্ব দুটি সাম্রাজ্যে বিভক্ত হয়ে যায়। একদিকে আব্বাসীয় খিলাফত, অন্যদিকে স্পেনের উমাইয়া সাম্রাজ্য। যদিও জ্ঞান-বিজ্ঞানে উভয় সাম্রাজ্যই তখন বিশ্বের সেরা ছিল, কিন্তু তাদের অভ্যন্তরীণ বিভেদ ধীরে ধীরে তাদেরকে দুর্বল করে দিচ্ছিল।

স্পেনে মুসলিমদের ৮০০ বছরের গৌরবময় শাসনের পতন ঘনিয়ে আসে যখন দুটি খ্রিস্টান সাম্রাজ্য—ক্যাস্টিল ও আরাগন—রাজা ফার্ডিনান্ড এবং রানী ইসাবেলার বিবাহের মাধ্যমে একত্রিত হয়। তারা সম্মিলিতভাবে স্পেন আক্রমণ করে এবং লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে হত্যা করে। অবশেষে 1492 সালে খ্রিস্টানরা মুসলমানদেরকে স্পেন থেকে চিরতরে বের করে দেন।

তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের প্রধান শক্তি, উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় বায়েজিদ তাঁর নৌবাহিনী পাঠিয়ে বহু মুসলমানদের উদ্ধার করে নিজের সাম্রাজ্যে আশ্রয় দেন। ভ্রাতৃ হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তিনি ইউরোপীয় বণিকদের জন্য এশিয়া ও ইউরোপের সকল বাণিজ্যিক পথ বন্ধ করে দেন। ফলে ইউরোপের অর্থনীতি প্রায় ভেঙে পড়ে। ভারতের মসলা ছাড়া তাদের চলছিলই না। কারণ ভারতের মসলা যেমন দারুচিনি গোলমরিচ এবং লবঙ্গ বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলোর মধ্যে গণ্য করা হতো। এটা শুধুমাত্র তাদের স্বাদের কারণেই নয় বরং এই মসলাগুলি সেই সময়ে ভেসজ ঔষধেও ব্যবহৃত হতো। মানে মেডিকেল ইন্ডাস্ট্রিতেও ভারতের এই সকল মসলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু উসমানীয়দের কারণে আফ্রিকা ঘুরে ভারতে পৌঁছানো ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

আপনারা হয়তো ভাবছেন এইসবের সাথে আমেরিকার কি সম্পর্ক? দাঁড়ান বলছি! এইসবের সাথে আমেরিকার গভীর সম্পর্ক আছে। ১৪৯২ সালে যখন মুসলমানদেরকে স্পেন থেকে বিতারড়ন করা হয় ঠিক তখনই, ১৪৯২ সালে একজন ইতালিয়ান নাবিক, যার নাম ক্রিস্টোফার কলম্বাস। তিনি এক যুগান্তকারী প্রস্তাব নিয়ে স্পেনের রাজদরবারে হাজির হন। তার প্রস্তাব ছিল—তিনি পশ্চিম দিকে যাত্রা করে ভারতে পৌঁছানোর একটি নতুন এবং সংক্ষিপ্ত রাস্তা খুঁজে বের করবেন।

রাজা ও রানী তার প্রস্তাবে রাজি হলেন। আর এখান থেকেই শুরু হয় আমেরিকার সুপার পাওয়ার হয়ে ওঠার গল্প।

দীর্ঘ ৩৬ দিনের যাত্রা শেষে কলম্বাস একটি দ্বীপে পৌঁছান। তিনি ভেবেছিলেন ভারতে পৌঁছে গেছেন! তাই সেখানকার আদিবাসীদের নামকরণ করেন 'ইন্ডিয়ান'। যদিও পরে অভিযাত্রী Amerigo প্রমাণ করেন যে এটি একটি নতুন মহাদেশ, এবং তার নামানুসারেই এই অঞ্চলের নাম হয় 'আমেরিকা'।

এই আবিষ্কারের পর স্পেন, ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং পর্তুগাল থেকে দলে দলে মানুষ আমেরিকায় এসে এখানকার আদিবাসীদের হত্যা করে নিজেদের উপনিবেশ স্থাপন করতে শুরু করে।

আমেরিকার উর্বর জমি চাষ করার জন্য প্রয়োজন ছিল সস্তা শ্রমিকের। ইউরোপীয়দের তখন নজর পড়ে দরিদ্র আফ্রিকার দিকে। ব্রিটিশরা লক্ষ-লক্ষ আফ্রিকানকে অপহরণ করে ক্রীতদাস হিসেবে আমেরিকায় নিয়ে আসে। যার আনুমানিক সংখ্যা ছিল ৩০ থেকে ৫০ লাখ। এই অমানবিক দাসপ্রথাই হয়ে ওঠে আমেরিকার অর্থনীতির মূল ভিত্তি। এই ক্রীতদাসদের শ্রম আর ঘামেই আমেরিকার সম্পদ বাড়তে থাকে।

আমেরিকায় বসবাসকারী ব্রিটিশ এবং ব্রিটেনের ব্রিটিশদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয় মূলত অর্থনৈতিক কারণে। আমেরিকা থেকে অর্জিত লাভের অংশ লন্ডনে পাঠাতে অস্বীকার করলে ব্রিটিশরা আমেরিকান পণ্যের উপর বিপুল পরিমাণ ট্যাক্স আরোপ করে।

এর ফলে জর্জ ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে আমেরিকায় স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হয়। একই সময়ে, ব্রিটিশদের আরেকটি কলোনি ভারতেও চলছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতি। মহীশূরের বাঘ নামে খ্যাত টিপু সুলতান স্বাধীনতার জন্য লড়ছিলেন। তখন ব্রিটিশরা ভারতকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করায় তাদের মূল শক্তি সেখানেই নিয়োগ করে। কারণ আমেরিকা হারানোর পর, ব্রিটিশরা ভারতীয় নেতা টিপু সুলতানকে হত্যা করে পুরো ভারতের উপর তাদের শাসন প্রতিষ্ঠা করে। এসব কিছুই আজ থেকে ২৫০ বছর আগে ঘটেছিল। এই সুযোগে জর্জ ওয়াশিংটন যুদ্ধে জয়ী হন এবং আমেরিকা একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

আমেরিকায় রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ২৫০ বছর পূর্বে যখন একদিকে পুরো বিশ্বে রাজ-বাদশা এবং রানীদের শাসন ছিল তখন আমেরিকাতে তাদের প্রথম রাষ্ট্রপতি জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্বে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতি পদ্ধতি তৈরি করলেন। যা ছিল সম্পূর্ণ মেধার উপর নির্ভরশীল। যা আমেরিকাকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে। কিন্তু দেশটির অর্থনীতি তখনও চলছিল ক্রীতদাসদের উপর।

রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিংকন দাসপ্রথা বিলুপ্তির ঘোষণা দিলে আমেরিকায় ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। লিংকন এই যুদ্ধে জয়ী হন। এই যুদ্ধে আমেরিকার কয়েক মিলিয়ন লোক মারা গেল। কিন্তু এতে একটা অনেক বড় লাভও হলো। আর তা-এই যে, আমেরিকা এই যুদ্ধ জেতার জন্য এত বেশি বন্দুক আর অস্ত্র তৈরি করেছিল যে, এখন আমেরিকার কাছে পুরো বিশ্ব থেকে বেশি অস্ত্র জমা হয়ে গেল। মানে পুরো বিশ্বের কাছে যা অস্ত্র আছে তার থেকে বেশি অস্ত্র আমেরিকার কাছেই আছে। যুদ্ধের পর আমেরিকা পেল একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র। একই সাথে, টেলিফোন, বিদ্যুৎ এবং বিমানের মতো একের পর এক যুগান্তকারী সব আবিষ্কার আমেরিকাকে বিশ্বের সবচেয়ে উদ্ভাবনী দেশে পরিণত করে।

আমেরিকা একটি শক্তিশালী দেশ হয়ে উঠলেও তখনও সুপার পাওয়ার ছিল না। সেই স্থানটি ছিল ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং উসমানীয় সাম্রাজ্যের দখলে। আমেরিকাকে শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজন ছিল এমন একটি ঘটনা, যা এই পুরনো পরাশক্তিগুলোকে ধ্বংস করে দেবে। আর ঠিক তাই-ই হলো।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপের পুরনো পরাশক্তিগুলো যখন একে অপরকে ধ্বংস করতে ব্যস্ত, আমেরিকা তখন নিরপেক্ষ থেকে দুই পক্ষকেই অস্ত্র বিক্রি করে নিজের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছিল। যুদ্ধ শেষে বিধ্বস্ত ইউরোপ যখন আমেরিকার ঋণের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ল, তখন থেকেই ক্ষমতার ভরকেন্দ্র ইউরোপ থেকে আমেরিকার দিকে সরতে শুরু করে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর 'দ্য গ্রেট ডিপ্রেশন' আমেরিকাকে বেশ দুর্বল করে দেয়। এটা এতটাই ভয়ঙ্কর ধ্বস ছিল যে, কিছুদিনের মধ্যে হঠাৎ করে আমেরিকার সবচেয়ে ধনী লোকেরা খাবারের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভিক্ষা চাইতে লাগলো। আর এই ধ্বসে প্রায় ২৩ হাজার আমেরিকান তাদের নিজেদের হাতে নিজেদের প্রাণ হরণ করে।
আর এই সুযোগে জার্মানিতে হিটলারের উত্থান ঘটে। হিটলারের ইহুদি বিদ্বেষের কারণে আলবার্ট আইনস্টাইনের মতো বিজ্ঞানীরা জার্মানি ছেড়ে আমেরিকায় চলে আসেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে আইনস্টাইন আমেরিকার রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লিখে পারমাণবিক বোমা তৈরির অনুরোধ করেন, কারণ তিনি আশঙ্কা করছিলেন হিটলার এটি আগে তৈরি করে ফেলবে। অবশ্য এই চিঠি লেখার পর আইনস্টাইন তার এই কাজের জন্য মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অপরাধ বোধে ভোগেন।

প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট আইনস্টাইনের এই চিঠি পড়ার পর এর উপর পুরোপুরি অ্যাকশন নিলেন।  আমেরিকা একটা সাধারণ ফুটবল স্টেডিয়ামের নিচে অ্যাটম বোমা তৈরি করার কারখানা তৈরি করতে লাগলো। যখন আমেরিকান বিজ্ঞানীরা এটম বোমা নিয়ে কাজ করছিল।

এরই মধ্যে হঠাৎ করে আমেরিকার একটি পোর্টে যার নাম পার্ল হারবার হামলা করে বসলো জাপান। যেখানে 2500 আমেরিকান আর্মি মারা গিয়েছিল এবং আমেরিকার অনেক জাহাজ ও নৌজান ধ্বংস হয়েছিল। বাধ্য হয়ে আমেরিকা, যারা এতদিন এই যুদ্ধ থেকে দূরে ছিল- অবশেষে তারা এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। আমেরিকা তাদের পুরো সেনাদল অর্থাৎ এক কোটি সন্য নিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।

জার্মানির পরাজয়ের পরও জাপান যখন আত্মসমর্পণ করছিল না। এমন সময় আমেরিকার নতুন রাষ্ট্রপতি হ্যারি ট্রুমেন তার অফিসে একটি মিটিং ডাকলেন। যেখানে আমেরিকান রাষ্ট্রপতি তার আর্মি জেনারেলের কাছে জানতে চাইলেন যে, আমরা কিভাবে জাপানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারি? তখন তার জেনারেলরা বললেন যে জাপানিরা খুবই বিপদজনক একটি জাতি। তারা এত সহজে আত্মসমর্পণ করবে না। যার ফলে অবশেষে সেই বৈঠকে সবাই মিলে জাপানে বিশ্বের প্রথম অ্যাটম বোমা ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়। আমেরিকা জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে দুটি অ্যাটম বোমা ফেলে।

হিরোশিমায় তখন ঠিক সকাল 8:15 । সেই সময় শহরের সব বাচ্চারা তাদের স্কুল এবং বড়রা তাদের কাজের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল এবং ঠিক এই সময় পাইলট একটি বোতাম টিপলেন এবং অ্যাটম বোমাটিকে ফেলে দিলেন তার উড়োজাহাজ থেকে। পরক্ষনেই  আকাশে একটি তীব্র উজ্জ্বল আলো দেখা গেল এবং মাত্র এক সেকেন্ডের মধ্যে 70 হাজার মানুষের জীবন শেষ হয়ে গেল। জাপান যখন মাত্র বুঝতে চেষ্টা করছিল যে, তার সাথে আসলে কি করা হয়েছে! তখন, এই ঘটনার মাত্র তিনদিন পরে আমেরিকা জাপানের দ্বিতীয় শহর নাগাসাকিতেও আরেকটি অ্যাটম বোমা ফেলে। যাতে 40000 মানুষ মারা গেল। এই বিস্ফোরণের পর মার্কিন রাষ্ট্রপতি আবারো জাপানের সম্রাটকে সতর্ক করলেন যে, তোমরা আত্মসমর্পণ করো না হলে আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হবে টোকিও। ফলে বাধ্য হয়ে জাপানের সম্রাট আত্মসমর্পণ করলেন।

এই দুটি বোমাই যেন গোটা বিশ্বকে জানিয়ে দিল, পৃথিবীতে নতুন একচ্ছত্র অধিপতির আগমন ঘটেছে।

এই বিস্ফোরণের পর আমেরিকাতে একটি খুব মজার জরিপ করা হয়েছিল! যেখানে আমেরিকানদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে আমেরিকা জাপানে এই অ্যাটমবো বোমা ফেলে ঠিক করেছে, নাকি ভুল করেছে? যার মধ্যে 85% লোক বলেছিল যে আমেরিকান রাষ্ট্রপতি একেবারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু ধীরে ধীরে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনমত বাড়তে থাকে এবং এই সংখ্যা 85 থেকে 50% নেমে আসে। কারণ লোকেরা বুঝতে পারে যে এই হামলা মূলত আমেরিকা জাপানের একেবারে সাধারণ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের উপর করেছে। সেনাবাহিনীর তেমন কোন সদস্য এতে মারা যায়নি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পুরো বিশ্ব দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে যায়—আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন। শুরু হয় স্নায়ুযুদ্ধ বা Cold War। এটি ছিল অস্ত্র, অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং আদর্শের লড়াই। সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম মহাকাশে মানুষ পাঠালে, আমেরিকা তার জবাবে চাঁদে মানুষ পাঠিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে।

অবশেষে, আমেরিকার শক্তিশালী অর্থনীতির সামনে সোভিয়েত ইউনিয়ন টিকতে পারেনি। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্বে একমাত্র সুপার পাওয়ার হিসেবে টিকে থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা।

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিশ্বে ছিল একাধিক পরাশক্তি—ব্রিটিশ, ফরাসি, জার্মান, উসমানীয় এবং রুশ। কিন্তু শতাব্দীর শেষে টিকে রইল শুধু আমেরিকা।

অভ্যন্তরীণ কোন্দল, দূরদৃষ্টির অভাব এবং সময়ের সাথে নিজেদের পরিবর্তন করতে না পারায় একসময়ের প্রতাপশালী মুসলিম সাম্রাজ্যগুলো ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেছে। অন্যদিকে, সঠিক সুযোগের ব্যবহার, উদ্ভাবনী শক্তি এবং প্রয়োজনে চূড়ান্ত শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে আমেরিকা বিশ্বের শীর্ষে আরোহণ করেছে।

তবে ইতিহাস আমাদের এটাই শেখায় যে, কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। বর্তমানে অর্থনৈতিক উন্নতিতে চীন কয়েক দশকের মধ্যে অনেক জায়ান্ট ইউরোপীয় দেশগুলোকে পেছনে ফেলেছে বহু আগেই। তারা আজ আমেরিকার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। পরাশক্তির এই খেলা চলতেই থাকবে। ভবিষ্যৎই বলে দেবে, এই মঞ্চে নতুন কোনো খেলোয়াড়ের আগমন ঘটবে কি না।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    এবার ভারতকে চরম জবাব দেওয়ার হুমকি পাকিস্তানের!

    অনলাইন ডেস্ক
    ৯ অক্টোবর, ২০২৫ ২০:২২
    অনলাইন ডেস্ক

    এবার ভারতকে চরম জবাব দেওয়ার হুমকি পাকিস্তানের!

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      'জিম্মিদের মুক্তির জন্য ইসরায়েলকে অবশ্যই বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে'

      অনলাইন ডেস্ক
      ৫ অক্টোবর, ২০২৫ ২৩:৮
      অনলাইন ডেস্ক

      গাজায় হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে ইসরায়েলকে অবশ্যই বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। রোববার (৫ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের টকশো ‘ফেস দ্য নেশন’ এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানান তিনি।

      রুবিও বলেন, আমার মনে হয়, ইসরায়েলসহ সবাই একমত যে বোমা হামলার মধ্যেই জিম্মি মুক্তি সম্ভব নয়। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এমন কিছু সম্ভব হবে না। তাই হামলা বন্ধ করতেই হবে।

      একই দিনে সিএনএনের এক প্রতিবেদকের সঙ্গে টেক্সট বার্তায় আলাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধের ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        কবুতরের দুধ? বাস্তব নাকি কল্পনা?

        অনলাইন ডেস্ক
        ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৩:৫৬
        অনলাইন ডেস্ক

        কবুতর স্তন্যপায়ী না হলেও "কবুতরের দুধ" বা পিজিয়ন মিল্ক নামে পরিচিত একটি পুষ্টিকর খাবার তৈরি করে, যা তাদের খাদ্যথলি (crop) থেকে নিঃসৃত হয়। এই দুধ আসলে চর্বিযুক্ত কোষের একটি সাসপেনশন, যা স্তন্যপায়ী প্রাণীদের দুধের মতো নয়, তবে এটি কবুতরের বাচ্চাদের জন্য একটি আদর্শ, প্রোটিন ও ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার।  

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          বন্ধ হচ্ছে আওয়ামী লীগের সাইবার জগতের সকল পেজ

          অনলাইন ডেস্ক
          ১৩ মে, ২০২৫ ১৭:৮
          অনলাইন ডেস্ক

          বিচারের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও এর নেতাকর্মীদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। গতকাল শনিবার রাতে উপদেষ্টা পরিষদের এক বিশেষ বৈঠকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

          সাইবার স্পেসেও আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত