শিরোনাম
এইচএসসির খাতা মূল্যায়নের সময় বাড়লো
এ বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষকদের উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় বাড়ানো হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা আশা করছেন, সময় বৃদ্ধির কারণে প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষকেরা উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে সামর্থ্য হবেন। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ডের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠিটি এইচএসসি পরীক্ষার প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষকদের পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৫-এর উত্তরপত্র এরই মধ্যে প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উত্তরপত্র নির্ভুলভাবে মূল্যায়নের জন্য প্রধান পরীক্ষক এবং পরীক্ষকদের যে সময় দেওয়া হয়েছে তা থেকে আরও দুই দিন বেশি সময় বাড়ানো হলো।
এর আগে চলতি বছরের চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২৬ জুন থেকে। তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষে ব্যবহারিক পরীক্ষা ২১ আগস্ট পর্যন্ত চলেছে।
তদন্তে ঘটনার সত্যতা মেলেনি
পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না সেই আনিসা
- সব মিলিয়ে ২২ হাজার ৩৯১ জন এবার পরীক্ষা দিতে আসেনি
বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না রাজধানীর বাঙলা কলেজ কেন্দ্রের আলোচিত এইচএসসি পরীক্ষার্থী আনিসা আহমেদ। গত ২৬ জুন পরীক্ষার প্রথম দিনে ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এই ছাত্রী এক ঘণ্টা বিলম্বে পরীক্ষা কেন্দ্রে যান। সে সময় সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয় তাঁর কান্নার ছবি। বলা হয়, স্ট্রোক করা মাকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার কারণে আনিসা যথাসময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেননি।
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার জানিয়েছিলেন এই শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আনিসা আহমেদের বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই।
বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে, তা পুরোপুরি সঠিক নয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঢাকা বোর্ডের দুটি টিম আলাদা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে আনিসার দাবির প্রমাণ মেলেনি।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। যে বিষয়ের পরীক্ষা দিতে পারেনি, সেই পত্রে যদি ৬৬ নম্বর পায়, তাহলেই সে পাস করবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আনিসার ব্যবহৃত নাম্বারে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, ২৬ জুন পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে কেন্দ্রের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন আনিসা। সামাজিক মাধ্যমে বলা হয়, তার বাবা নেই, আর সেদিন সকালে মা মেজর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরিবারের একমাত্র দায়িত্বশীল সদস্য হওয়ায় মাকে হাসপাতালে নেওয়ার দায়িত্বও তাকেই পালন করতে হয়, ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হয় এবং তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ
২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় একযোগে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ হয়। শিক্ষার্থীরা রোল নম্বর দিয়ে অনলাইনে ফল দেখতে পারছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবিরের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফল প্রকাশের পরপরই অনেক শিক্ষার্থী ওয়েবসাইট ডাউন থাকার অভিযোগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একসঙ্গে অতিরিক্ত প্রবেশের কারণে সাময়িক সমস্যা হয়েছিল, যা দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ফল দেখা যাবে www.dhakaeducationboard.gov.bd,
কুমিল্লা বোর্ডের ফল www.comillaboard.gov.bd,
চট্টগ্রাম বোর্ডের ফল www.bise-ctg.gov.bd,
রাজশাহী বোর্ডের ফল www.rajshahiboard.gov.bd,
যশোর বোর্ডের ফল www.jessoreboard.gov.bd,
বরিশাল বোর্ডের ফল www.barisalboard.gov.bd,
সিলেট বোর্ডের ফল www.sylhetboard.gov.bd,
দিনাজপুর বোর্ডের ফল www.dinajpureducationboard.gov.bd,
ময়মনসিংহ বোর্ডের ফল www.mymensingheducationboard.gov.bd,
মাদ্রাসা বোর্ডের ফল www.bmeb.gov.bd এবং
কারিগরি বোর্ডের ফল www.bteb.gov.bd ওয়েবসাইটে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, এবার ৯২ হাজার ৮৬৩ জন শিক্ষার্থী মোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৬৬৪টি খাতার পুনঃমূল্যায়নের আবেদন করেছে। যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি—আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২১ হাজার এবং চ্যালেঞ্জ হওয়া খাতার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪০ হাজার।
সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে গণিতে—৪২ হাজার ৯৩৬টি খাতা। এরপর ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে ১৯ হাজার ৬৮৮টি করে, পদার্থবিজ্ঞানে ১৬ হাজার ২৩৩টি এবং বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে ১৩ হাজার ৫৫৮টি খাতার পুনঃনিরীক্ষণ হয়েছে। সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে চারু ও কারুকলা বিষয়ে—মাত্র ৬টি।
বোর্ড জানিয়েছে, পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় খাতা নতুন করে মূল্যায়ন করা হয় না। বরং নম্বর সঠিকভাবে যোগ হয়েছে কি না, কোনো প্রশ্নের নম্বর বাদ পড়েছে কি না, এবং ওএমআর শিটে নম্বর সঠিকভাবে উঠেছে কি না—এসব যাচাই করা হয় ও প্রয়োজনে সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হয়।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশের ৯টি সাধারণ বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৬ লাখ ৬৬০ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭১৬ জন এবং ছাত্রী ২ লাখ ৭৫ হাজার ৯৪৪ জন।
এসএসসির পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ রোববার; দেখবেন যেভাবে
২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফল রোববার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ঢাকা বোর্ডের আওতাধীন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যারা ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিলেন, তারা রোববার সকাল ১০টা থেকে ফলাফল দেখতে পারবেন। আর ফলাফল প্রকাশিত হবে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে (www.dhakaeducationboard.gov.bd)। শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নিজের রোল নম্বর ব্যবহার করে ফলাফল জানতে পারবে।
এর আগে পুনঃনিরীক্ষার আবেদন গ্রহণ করা হয় ১১ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত। আবেদনকারীরা টেলিটক মোবাইল অপারেটরের নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রতি বিষয়ে ১৫০ টাকা ফি দিয়ে আবেদন করেছেন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, এবারের পুনঃমূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বোর্ডটিতে রেকর্ডসংখ্যক ৯২ হাজার ৮৬৩ জন শিক্ষার্থী মোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৬৬৪টি খাতার জন্য আবেদন করেছে। এই সংখ্যাটি গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। আবেদনকারী বেড়েছে প্রায় ২১ হাজার এবং চ্যালেঞ্জ হওয়া খাতার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪০ হাজার।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সর্বাধিক আবেদন পড়েছে গণিত বিষয়ের খাতায়—সংখ্যাটি ৪২ হাজার ৯৩৬টি। এরপর ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে ১৯ হাজার ৬৮৮টি করে, পদার্থবিজ্ঞানে ১৬ হাজার ২৩৩টি এবং বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে ১৩ হাজার ৫৫৮টি খাতার পুনঃমূল্যায়নের আবেদন জমা পড়েছে। সবচেয়ে কম আবেদন পড়েছে চারু ও কারুকলা বিষয়ে, মাত্র ৬টি।
তবে, ‘পুনঃনিরীক্ষণ’ মানে খাতা নতুন করে মূল্যায়ন নয়। এ প্রক্রিয়ায় সাধারণত উত্তরপত্রে প্রাপ্ত নম্বর সঠিকভাবে যোগ হয়েছে কি না, কোনো প্রশ্নের নম্বর বাদ পড়েছে কি না, ওএমআর শিটে নম্বর উঠেছে কি না বা ভুলভাবে বৃত্ত ভরাট হয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়। সেসব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নম্বর সংশোধন করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন করা হয়।
এদিকে, শিক্ষা বোর্ডগুলোর সর্বশেষ তথ্য বলছে, সারাদেশের ৯টি সাধারণ বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ৬ লাখ ৬৬০ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭১৬ জন এবং ছাত্রী ২ লাখ ৭৫ হাজার ৯৪৪ জন।
এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে দুই বিষয়ে ফেল করেছে জিৎ
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় এক শিক্ষার্থী এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে দুই বিষয়ে ফেল করেছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর এমন ঘটনা ঘটেছে।
এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে প্রকাশিত ফলাফলে দুই বিষয়ে ফেল দেখানো ওই শিক্ষার্থীর নাম জিৎ চন্দ্র মহন্ত। সে চলতি বছর শ্রীকর্ণদীঘি উচ্চ বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার ফার্ম মেশিনারি ট্রেডে অনিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে গণিত বিষয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জিৎ চন্দ্র মহন্ত ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে কারিগরি শাখায় নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ওই বছর ১৪টি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে শুধুমাত্র গণিতে ফেল করে। চলতি বছর শুধুমাত্র গণিত বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষায় দেয়। গত বৃহস্পতিবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। তার ফলাফলে গণিত ও কৃষি বিষয়ে ফেল করেছে বলে রেজাল্ট আসে। অথচ তার প্রবেশপত্রে শুধু গণিত বিষয় উল্লেখ রয়েছে।
শিক্ষার্থী জিৎ চন্দ্র মহন্ত বলে, আমি ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় শুধু গণিতে ফেল করেছিলাম। সেই অনুযায়ী এবার শুধু গণিত বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছি। কিন্তু এখন ফলাফলে দেখছি আমাকে কৃষি বিষয়েও ফেল দেখানো হয়েছে। কৃষি বিষয় আমার পরীক্ষার মধ্যে ছিলই না। এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে দুই বিষয়ে ফেল দেখে বিস্মিত হয়েছি।
শ্রীকর্ণদীঘি উচ্চ বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার সহকারী শিক্ষক ওরম ফারুক বলেন, বোর্ডের কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে এমন ফলাফল আসতে পারে। নম্বরপত্র দেওয়ার সময় এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা করছি।
বিজ্ঞাপন
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি এবং খোঁজ নিয়েছি। আর এ বিষয়টি বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য