শিরোনাম
এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে দুই বিষয়ে ফেল করেছে জিৎ
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় এক শিক্ষার্থী এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে দুই বিষয়ে ফেল করেছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর এমন ঘটনা ঘটেছে।
এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে প্রকাশিত ফলাফলে দুই বিষয়ে ফেল দেখানো ওই শিক্ষার্থীর নাম জিৎ চন্দ্র মহন্ত। সে চলতি বছর শ্রীকর্ণদীঘি উচ্চ বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার ফার্ম মেশিনারি ট্রেডে অনিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে গণিত বিষয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জিৎ চন্দ্র মহন্ত ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে কারিগরি শাখায় নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ওই বছর ১৪টি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে শুধুমাত্র গণিতে ফেল করে। চলতি বছর শুধুমাত্র গণিত বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষায় দেয়। গত বৃহস্পতিবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। তার ফলাফলে গণিত ও কৃষি বিষয়ে ফেল করেছে বলে রেজাল্ট আসে। অথচ তার প্রবেশপত্রে শুধু গণিত বিষয় উল্লেখ রয়েছে।
শিক্ষার্থী জিৎ চন্দ্র মহন্ত বলে, আমি ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় শুধু গণিতে ফেল করেছিলাম। সেই অনুযায়ী এবার শুধু গণিত বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছি। কিন্তু এখন ফলাফলে দেখছি আমাকে কৃষি বিষয়েও ফেল দেখানো হয়েছে। কৃষি বিষয় আমার পরীক্ষার মধ্যে ছিলই না। এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে দুই বিষয়ে ফেল দেখে বিস্মিত হয়েছি।
শ্রীকর্ণদীঘি উচ্চ বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার সহকারী শিক্ষক ওরম ফারুক বলেন, বোর্ডের কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে এমন ফলাফল আসতে পারে। নম্বরপত্র দেওয়ার সময় এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা করছি।
বিজ্ঞাপন
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি এবং খোঁজ নিয়েছি। আর এ বিষয়টি বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা দিয়েও দেশসেরা বাগমারার শামীমা আক্তার
এক মাসের কন্যা সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা দিয়েও ডিগ্রি পরীক্ষায় গোটা দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন শামীমা আক্তার। জাতীয় বিশ্ববিদ্যায়ের অধীনে চলতি বছর অনুষ্ঠিত ডিগ্রি পরীক্ষায় শামীমা আক্তার বাগমারার হাটগাঙ্গোপাড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে বিএসসি শাখায় পরীক্ষা দিয়ে এ সাফল্য অর্জন করেছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
শামীমা আক্তার আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী এবং বাইগাছা গ্রামের সাহাদুল ইসলাম ও হাজেরা বিবির প্রথম সন্তান।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২০২২ শিক্ষাবর্ষে চলতি বছরে অনুষ্ঠিত ডিগ্রি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শামীমা আক্তার সর্বোচ্চ নম্বর ও সর্বোচ্চ জিপিএ অর্জনসহ পরীক্ষার সার্বিক ফলাফলে দেশসেরা নির্বাচিত হয়েছেন।
শামীমা আক্তার এর আগেও বাইগাছা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি এবং এসএসসিতে গোল্ডেন প্লাস অর্জন করেন। তিনি ভবিষ্যতে ম্যাজিস্ট্রেট হতে ইচ্ছুক। স্বামীর সংসারে থেকেও নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও মনোবল তার এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে জানান তিনি।
এদিকে শামীমা আক্তার হাটগাঙ্গোপাড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে ডিগ্রি পরীক্ষায় বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করায় বৃহস্পতিবার কলেজের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ এসএম মাহবুবুর রহমান বলেন, শামীমা আক্তার আমাদের কলেজকে গৌরবান্বিত করেছে। তার এই সাফল্য দেশব্যাপী কলেজের সুনাম আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
জিপিএ-৫ পেল বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী তানিশা
এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী জাইমা জারনাস তানিশা। মুখে কথা বলতে না পারলেও অধ্যবসায়ের ফলে এই সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি। তার এই ফলে মুগ্ধ পরিবার ও এলাকাবাসী।
জাইমা জারনাস তানিশা ঘাটাইল সালেহা ইউসুফজাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়। সে ঘাটাইল সদর ইউনিয়নের কমলাপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীন এবং মাফুজুন নাহার বিউটি দম্পতির সন্তান তানিশা। তার বাবা জামালপুর দেওয়ানগঞ্জের উপজেলা প্রকৌশলী এবং মা কমলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
জানা গেছে, তানিশা ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্টে প্রতিবন্ধী ও অটিজম শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান প্রয়াসে শিশু শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। এখন এসএসসি পরীক্ষায় মেয়েটির এ সাফল্য বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের আনন্দিত করেছে।
শিক্ষার্থীর মা মাফুজুন নাহার বিউটি বলেন, ‘আমার মেয়ে কথা বলতে ও শুনতে না পারলেও আমাদের ইশারা বুঝতে পারে। ছোটবেলা থেকেই সে মেধাবী। প্রতিবন্ধকতা জয় করে আগামীতে সে আরও সাফল্য অর্জন করে প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা চাই সে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত ও আলোকিত মানুষ হোক।’
জিপিএ-৫ পেল বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী তানিশা
বিয়ের ৩১ বছর পর দাখিল পাস করলেন সাংবাদিক দম্পতি
এ বিষয়ে ঘাটাইল সালেহা ইউসুফজাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ‘তানিশা খুবই নম্র-ভদ্র। তার অনেক চেষ্টা সাধনা ছিল, আমরাও আন্তরিক ছিলাম। প্রত্যাশাও ছিল তার প্রতি। আমরা তার এমন ফলাফলে খুবই আনন্দিত।’
এসএসসির ফল রিভিউ আবেদন শুরু আজ , যেভাবে করবেন
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই)। ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য আজ শুক্রবার (১১ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন। এই আবেদন কার্যক্রম চলবে আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির অধীনে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরাই এই আবেদন করতে পারবেন। পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে হলে টেলিটক মোবাইল অপারেটরের সংযোগ ব্যবহার করতে হবে।
প্রতিটি বিষয়ের জন্য আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। শিক্ষার্থীরা মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করতে হবে—RSC <স্পেস> বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর <স্পেস> রোল নম্বর <স্পেস> বিষয় কোড এবং পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।
একাধিক বিষয়ের কোড লিখতে হলে কমা (,) দিয়ে আলাদা করে লিখতে হবে। যেমন— RSC DHA 123456 ১০১,১০২।
টেলিটকের ডিজিটাল সার্ভিসেস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার সালেহ মো. ফজলে রাব্বী বলেন, রিভিউয়ের জন্য শুধুমাত্র টেলিটক মোবাইল নম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদনকারীদের এসএমএস পাঠানোর পর একটি কনফার্মেশন মেসেজ আসবে, তাতে ফি কেটে নেওয়ার তথ্য থাকবে।
টেলিটকের ওয়েবসাইট (www.teletalk.com.bd) এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে আবেদন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকবে।
ফল রিভিউয়ে কী দেখা হবে?
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পুনঃনিরীক্ষণ বলতে প্রশ্নপত্র নতুন করে মূল্যায়ন নয়। বরং, উত্তরপত্রে নম্বর যোগে ভুল হয়েছে কি না, কোনো উত্তর বাদ পড়েছে কি না—সেসব বিষয় যাচাই করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় সারাদেশে একযোগে প্রকাশ করা হয়েছে। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে ৬ লাখ ৬৬০ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭১৬ জন ছাত্র এবং ২ লাখ ৭৫ হাজার ৯৪৪ জন ছাত্রী রয়েছে।
৩৫ বছর পর পরীক্ষা দিয়ে ইংরেজিতে ফেল করেছেন নাটোরের দুলু
তিন দশকের বেশি সময় আগে রাগ-অভিমান আর এক অনাকাঙ্খিত ঘটনার কারণে পড়াশোনার ইতি টেনেছিলেন নাটোররে দেলোয়ার হোসনে দুলু। এবার দীর্ঘ ৩৫ বছর পর তিনি কারিগরি বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। ইংরেজিতে কৃতকার্য হতে না পারায় এ বছরও পাস করতে পারেননি তিনি। তবে, আগামী পরীক্ষায় আবারও অংশ নিয়ে কৃতকার্য হওয়ার আশা তার।
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগড় ইউনিয়নের করমদোশী পশ্চিমপাড়ার এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন দুলু বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য। বয়স ৫২ হলেও শিক্ষা অর্জনের তীব্র ইচ্ছা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। চলতি বছর রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার উমরগাড়ী দারুল খায়ের সুন্নাহ দাখিল মাদরাসা কেন্দ্র থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে, এবারও তার স্বপ্নের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ালো ইংরেজিতে পাস করতে না পারা।
স্থানীয়রা জানানা, ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন দেলোয়ার। ১৯৮৫ সালে প্রাথমিক বৃত্তি এবং ১৯৮৮ সালে জুনিয়র বৃত্তি অর্জন করেন। ১৯৯০ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিলেও এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে বহিষ্কার করেন। এরপর মানসিক আঘাত, রাগ-ক্ষোভে পড়াশোনা ছেড়ে দেন তিনি।
তবে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং নিজের সন্তানদের পড়াশোনায় উৎসাহ দিতে গিয়ে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন দেলোয়ার। সবার অগোচরে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু একটা ঘটনা জন্য সব থেমে গিয়েছিল। আবার সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে চাই। সমাজের কটু কথাকে পাশ কাটিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলাম। কিন্তু ইংরেজিতে পাস করতে পারিনি। তবে, আমার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে । আশা করি আগামীতে পাস করতে পারব।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য