শিরোনাম
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় নকল করে বহিষ্কার ৭২১ শিক্ষার্থী
২০২৫ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় নকলসহ বিভিন্ন অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে সারা দেশে ৭২১ শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছে। তবে এই সংখ্যা গত ছয় বছরের তুলনায় সবচেয়ে কম। ২০২০ সালে যেখানে ১ হাজার ১৫৫ জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছিল, সেখানে চলতি বছর এই সংখ্যা কমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত ফলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
এতে দেখা গেছে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ২০২০ সালে সর্বোচ্চ ১৪৩ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়। প্রতি বছর এই সংখ্যা কমতে কমতে ২০২৫ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে। একই ধারা কুমিল্লা বোর্ডেও লক্ষ্য করা যায়। ২০২০ সালে যেখানে ৭৭ জন বহিষ্কার হয়েছিল, চলতি বছর সেখানে বহিষ্কৃত হয়েছে ৪৮ জন। বরিশাল বোর্ডে ২০২০ সালের তুলনায় এখন বহিষ্কারের হার অনেকটাই কমে এসেছে—১০২ থেকে ২৮ জনে নেমে এসেছে সংখ্যা। দিনাজপুর বোর্ডেও ১০৫ থেকে কমে ৫৯ জনে ঠেকেছে বহিষ্কারের হার।
ময়মনসিংহ বোর্ডে যদিও ২০২৩ সালে বহিষ্কারের সংখ্যা ছিল ৮১ জন, চলতি বছর তা কমে ৬৪ জন হয়েছে। রাজশাহী বোর্ডে এ বছর মাত্র ৭ জন বহিষ্কৃত হয়েছে, যা অন্যান্য বোর্ডের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম। যশোর বোর্ডে বহিষ্কৃত হয়েছে ১৫ জন, আর সিলেট বোর্ডে মাত্র ২ জন। চট্টগ্রাম বোর্ডে সর্বনিম্ন বহিষ্কার হয়েছে—শুধু ১ জন।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে এ বছর বহিষ্কৃত হয়েছে ৩২৫ জন শিক্ষার্থী। যদিও ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩৬১ জন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এ বছর বহিষ্কৃত হয়েছে ১৩১ জন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮৬ জন, তবে ২০২০ সালে যা ছিল ২২৯ জন।
৬ বছরের তুলনামূলক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২০ সালে মোট ১ হাজার ১৫৫ জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছিল। ২০২১ সালে করোনার কারণে সংক্ষিপ্ত আকারে পরীক্ষা নেওয়ায় বহিষ্কারের সংখ্যা নেমে আসে ১২৩-এ। এরপর ২০২২ সালে তা দাঁড়ায় ৫৫৫, ২০২৩ সালে ৭৯৬, ২০২৪ সালে ৭৪৭ এবং চলতি বছর তা নেমেছে ৭২১-এ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষার সময় অসদুপায় রোধে কেন্দ্রভিত্তিক কঠোর নজরদারি, জেলা প্রশাসনের তৎপরতা, কেন্দ্র পরিদর্শকদের কড়াকড়ি এবং শিক্ষার্থীদের সচেতন করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, এসব উদ্যোগের কারণে বহিষ্কারের সংখ্যা কমেছে। তবে এখনো কয়েকটি বোর্ডে বহিষ্কৃতের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেশি, যা মোকাবিলায় আরও সচেতনতা ও কৌশল দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এরমধ্যে ছাত্রী ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৯ জন এবং ছাত্র ৯ লাখ ৬১ হাজার ২৩১ জন। সারা দেশের ৩ হাজার ৭১৫টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অবশ্য এর আগে ২০২৪ সালে পরীক্ষার্থী ছিল ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৯২ জন। সে তুলনায় ২০২৫ সালে পরীক্ষার্থী কমেছে প্রায় এক লাখ। আর ২০২৪ সালে তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ৪৮ হাজার পরীক্ষার্থী কমেছিল।
পাসের হার ও জিপিএ ৫ কমার কারণ জানালেন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কাউকে গ্রেস মার্কস বা বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির।
তিনি বলেন, যে ফলাফল আমরা প্রকাশ করলাম, এটি প্রকৃত ফল। এবার কোনো ধরনের বাড়তি নম্বর বা গ্রেস মার্কস কাউকে দেওয়া হয়নি। মেধার প্রকৃত মূল্যায়নের শতভাগ প্রচেষ্টা করা হয়েছে। পরীক্ষকদেরও সেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ফলে এটিই প্রকৃত ও সত্য ফলাফল। এ নিয়ে সন্দেহ-সংশয় ও ক্ষোভের সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে ঢাকা বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ফলাফল তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, আগে কী হয়েছে সেটি আমরা বলব না। তবে, এখন যে তথ্য দিয়েছি সেটিই প্রকৃত। যা হয়েছে সেটি উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে আমাদের কোনো হাত নেই। আমাদের ওপর মহল থেকে কোনো ধরনের চাপ ছিল না। আমাদের বলা হয়েছে, রেজাল্ট হবে সেটিই দিতে হবে। আমরাও পরীক্ষকদের এ অনুরোধ জানিয়েছি। তাদের যথার্থভাবে খাতা মূল্যায়ন করার জন্য বলা হয়েছে।
বিশেষ কোনো নির্দেশনা ছিল না জানিয়ে খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, শিক্ষার্থীরা খাতায় যা লিখেছে, সে অনুসারে নম্বর পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের খাতার প্রাপ্ত নম্বরই যথাযথভাবে আমরা কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রকাশ করেছি। কোনো নির্দিষ্ট নম্বর পাওয়ার পর বিশেষ নম্বর দিয়ে ভালো গ্রেড করে দেওয়া হয়নি। ফলাফল তৈরিতে কোনো উদারনীতিও অবলম্বন করা হয়নি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার জিপিএ ৫ ও পাশের হার দুটোই কমেছে।
ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারে এবার পাশের হার ৬৮ দশমিক ৪৫। গত বছর পাশের হার ছিল ৮৩ দশমিক শূন্য চার।
এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ শিক্ষার্থী। গত বছর জিপিএ ৫ পেয়েছিল এক লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন। তথা গতবারের চেয়ে এবার জিপিএ ৫ কমেছে ৪৩০৯৭। আর পাশ কমেছে ১৫ শতাংশ।
এবার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকতা রাখা হয়নি। শিক্ষা বোর্ড গুলো আলাদা আলাদা ভাবে ফল প্রকাশ করছে।
উল্লেখ, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে বসেছিলেন ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬জন শিক্ষার্থী। তিন হাজার ৭১৪ কেন্দ্রে ১০ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় ১৩ মে।
এসব পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ছিলেন ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩৮৯ জন, ছাত্র নয় লাখ ৫১ হাজার ৬৯৭ জন। তাদের মধ্যে ছয় লাখ ৭৬ হাজার ৪৪৫ জন ছাত্রী ও ছয় লাখ ২৬ হাজার ৯৮১ জন ছাত্র পাস করেছে।
এক নজরে এসএসসি পরীক্ষার ফল
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৯ লাখ ২৮ হাজার ১৮১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ শিক্ষার্থী পাশ করেছেন। এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাশের হার ৬৮.৪৫ শতাংশ। যা গত বছর ছিল ৮৩.০৪ শতাংশ।
এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন। অর্থাৎ এবার পাশের হার ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে। এর মধ্যে জিপিএ-৫ কমেছে ৪৩ হাজার ৯৭টি।
চলতি বছরের ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হয় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এতে ৩০ হাজার ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৯ লাখ ২৮ হাজার ১৮১ জন শিক্ষার্থী ৩ হাজার ৭১৪টি কেন্দ্রে অংশ নেয়।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এদিন দুপুর ২টায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রতিটি শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশ করা হয়।
দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হারের দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে রাজশাহী বোর্ড। এ বোর্ডে পাশের হার ৭৭.৬৩ শতাংশ। আর সবচেয়ে পিছিয়ে আছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাশের হার ৫৬.৩৮ শতাংশ।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় গড় পাশের হার ৬৮.০৪ শতাংশ।
এদিকে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় ১ লাখ ৯৫ হাজার ১১৫ জন শিক্ষার্থী পাশ করেছে। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬ জন। দাখিলে ৬৮.০৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। গতবার এই হার ছিল ৭৯.৬৬ শতাংশ। এবার দাখিলে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৬৬ জন। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৪ হাজার ২০৬ পরীক্ষার্থী। এবার দাখিলে পাশের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে।
অন্যদিকে এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল শাখায় পাশের হার ৭৩.৬৩ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩ জন। গতবার এই পাশের হার ছিল ৮১.৩৮ শতাংশ। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৯৪৮ জন।
গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৪ হাজার ৭৮ জন পরীক্ষার্থী। অর্থাৎ এবার এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল শাখায় পাশের হার কমেছে, তবে জিপিএ-৫ বেড়েছে।
এদিকে,
ঢাকা বোর্ডে পাশের হার ৬৭.৫১ শতাংশ। এবার এ বোর্ডের মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার ৬৮ শিক্ষার্থী। গতবার এই বোর্ডে পাশের হার ছিল ৮৩.৯২ শতাংশ। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪৯ হাজার ২৯০ পরীক্ষার্থী। অর্থাৎ এবার ঢাকা বোর্ডে পাশের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা কমেছে।
কুমিল্লা বোর্ডে পাশের হার ৬৩.৬০ শতাংশ। গতবার এই হার ছিল ৭৯.২৩ শতাংশ। এই বোর্ডে এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৯০২ জন। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১২ হাজার ১০০ জন। অর্থাৎ কুমিল্লা বোর্ডেও পাশের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা কমেছে।
চট্টগ্রাম বোর্ডে এবার পাশের হার ৭২.০৭ শতাংশ। গতবার এই হার ছিল ৮২.৮০ শতাংশ। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৮৪৩ জন। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১০ হাজার ৮২৪ জন পরীক্ষার্থী। অর্থাৎ চট্টগ্রাম বোর্ডে পাশের হার কমেছে। তবে জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও বেড়েছে।
দিনাজপুর বোর্ডে এবার পাশের হার ৬৭.০৩ শতাংশ। গতবার এই হার ছিল ৭৮.৪৩ শতাংশ। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ৬২ জন। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৮ হাজার ১০৫ জন পরীক্ষার্থী। অর্থাৎ দিনাজপুর বোর্ডে পাশ ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা কমেছে।
বরিশাল বোর্ডে পাশের হার ৬৭.০৩ শতাংশ। গতবার এই হার ছিল ৮৯.১৩ শতাংশ। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ১১৪ জন। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ১৪৫ জন পরীক্ষার্থী। অর্থাৎ বরিশাল বোর্ডে পাশের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা কমেছে।
ময়মনসিংহ বোর্ডে এবার পাশের হার ৫৮.২২ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৮৪.৯৭ শতাংশ। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৬৭৮ জন। গতবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৩ হাজার ১৭৫ জন জন। অর্থাৎ ময়মনসিংহ বোর্ডে পাশের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে।
যশোর বোর্ডে এবার পাশের হার ৭৩.৬৯ শতাংশ। গতবার এই হার ছিল ৯২.৩৩ শতাংশ। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ৪১০ জন। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২০ হাজার ৭৬২ জন। অর্থাৎ যশোর বোর্ডেও পাশের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা কমেছে।
রাজশাহী বোর্ডে এবার পাশের হার ৭৭.৬৩ শতাংশ। গতবার এই হার ছিল ৮৯.২৫ শতাংশ। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ হাজার ৩২৭ জন। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৮ হাজার ৭৪ জন পরীক্ষার্থী। অর্থাৎ রাজশাহী বোর্ডে পাশের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা কমেছে।
সিলেট বোর্ডে এবার পাশের হার ৬৮.৫৭ শতাংশ। গতবার এই হার ছিল ৭৩.০৪ শতাংশ। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৬১৪ জন। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৪৭১ জন পরীক্ষার্থী। অর্থাৎ সিলেট বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা উভয়ই কমেছে।
দাখিলে পাশের হার ৬৮.০৯, জিপিএ-৫ পেলেন ৯০৬৬ জন
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় পাশের হার ৬৮ দশমিক ০৯ শতাংশ। এ বোর্ডে সারা দেশে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ হাজার ৬৬ জন।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে এ ফল প্রকাশ করা হয়।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাশের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। গত বছর অর্থাৎ, ২০২৪ সালে গড় পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। সে হিসাবে পাশের হার অনেক কমেছে।
তার মধ্যে ছাত্রীদের পাশের হার ৭১.০৩ শতাংশ এবং ছাত্রদের পাসের হার ৬৫.৮৮ শতাংশ। সেই হিসাবে এবারও পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। এ নিয়ে টানা ১০ বছর এসএসসিতে পাসের হারে এগিয়ে ছাত্রীরা।
এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে সারা দেশে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন এক লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন। সেই হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ব্যাপক হারে কমেছে।
মাদ্রাসার ‘দাখিল’ পরীক্ষার ফল দেখা যাবে যেভাবে
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষার পরীক্ষার ফল দেখা যাবে অনলাইন ও এসএমএস— উভয় মাধ্যমেই।
শিক্ষার্থীরা www.bmeb.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘অনলাইন সেবা-১’ কর্নার থেকে ‘দাখিল পরীক্ষা ২০২৫’ অপশনে ক্লিক করে জেলা ও কেন্দ্রভিত্তিক ফল দেখতে পারবে।
এ ছাড়া www.educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটেও রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ব্যক্তিগত ফল জানা যাবে।
আবার, ফল জানতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা চাইলে মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে প্রি-রেজিস্ট্রেশন করে রাখতে পারবে। এজন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করতে হবে— Dakhil MAD রোল নম্বর 2025— এবং তা পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। যেমন : Dakhil MAD 123456 2025। প্রি-রেজিস্ট্রেশন করা থাকলে ফল প্রকাশের পর সঙ্গে সঙ্গে ফল মোবাইলে পৌঁছে যাবে।
শুধু শিক্ষার্থী নয়, প্রতিষ্ঠানের ফল জানার জন্যও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফল জানতে https://eboardresults.com/v2/home ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Institution Result’ সিলেক্ট করে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন (EIIN) নম্বর ব্যবহার করে পুরো ফল ডাউনলোড করা যাবে।
মুখ দিয়ে লিখে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেল লিতুন জিরা
হাত-পা ছাড়া জন্ম নেওয়া সেই অদম্য মেধাবী লিতুন জিরা এসএসসির ফলাফলেও চমক দেখিয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে।
লিতুন জিরা যশোরের মণিরামপুর উপজেলার সাতনল খানপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান ও জাহানারা বেগম দম্পতির মেয়ে। উপজেলার গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় সে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে ফলাফল প্রকাশের পর উচ্ছ্বসিত লিতুন জিরার পরিবার। ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে লিতুন জিরা জানান, সে আরও ভালোভাবে লেখাপড়া করে চিকিৎসক হতে চায়।
অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে বলীয়ান লিতুন জিরা একের পর এক পরীক্ষায় মেধা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। ভবিষ্যতে এই মেধাবী ও লড়াকু সন্তান সমাজের পিছিয়ে পড়া ও আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
হাবিবুর রহমান ও জাহানারা বেগম দম্পতির দুই ছেলে-মেয়ের মধ্যে ছোট লিতুন জিরা। বড় ছেলে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। লিতুন জিরা পিইসি (প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা) ও জেএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর, প্রাথমিকে বৃত্তি লাভ, শ্রেণির সেরা শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চায়ও রেখেছে চমক জাগানো অবদান। তার একাগ্রতা আর অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে হার মেনেছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটি বা পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রমেও স্বীকৃতি পেয়েছে সে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য