শিরোনাম
যেভাবে সবার আগে জানা যাবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল
২০২৫ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই)। ওই দিন দুপুর ২টায় একযোগে অনলাইনে ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ফল জানা যাবে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল দেখার পদ্ধতি জানিয়েছেন।
এতে বলা হয়েছে, পরীক্ষার্থীরা ওয়েবসাইট ও এসএমএস—এই দুই পদ্ধতিতে সহজেই ফল জানতে পারবে। একইসঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রতিষ্ঠানের ফলাফল অনলাইনে ডাউনলোড করতে পারবে। এরমধ্যে, ফল জানার প্রথম পদ্ধতি হলো, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইট (www.dhakaeducationboard.gov.bd)। এই ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘রেজাল্ট কর্নার’-এ ক্লিক করে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তাদের ইআইআইএন (EIIN) নম্বর ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ফলাফল ডাউনলোড করতে পারবেন।
আর দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট (www.educationboardresults.gov.bd)-এ প্রবেশ করে নিজেদের রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ব্যক্তিগত ফল জানতে পারবে।
তৃতীয়ত, ফল জানার জন্য এসএমএস পদ্ধতিও চালু থাকবে। মোবাইল ফোনে লিখতে হবে: SSC [বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর] [রোল নম্বর] [সাল] এবং তা পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।
উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একজন পরীক্ষার্থী যদি তার রোল নম্বর ১২৩৪৫৬ হয়, তবে এসএমএসটি হবে — SSC Dha 123456 2025 এটি পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।
ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্র সচিব ও প্রতিষ্ঠান প্রধানরা বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল সংগ্রহ করবেন এবং প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১৪ লাখ ৯০ হাজার ১৪২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ১ হাজার ৫৩৮ জন এবং ছাত্রী ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৪ জন। ২ হাজার ২৯১টি কেন্দ্রে ১৮ হাজার ৮৪টি প্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।
এসএসসি পরীক্ষার ফল: ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে মেয়েরা
বাংলাদেশের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় গত কয়েক বছর ধরে মেয়েরা ধারাবাহিকভাবে ছেলেদের চেয়ে ভালো ফল করছে। পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তি— উভয় সূচকেই ছাত্রীরা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে চলেছে। যা দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ প্রবণতা নারীশিক্ষার অগ্রগতি এবং সামগ্রিক সামাজিক পরিবর্তনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ধারাবাহিক সাফল্যের চিত্র
২০২৪: পাসের হার ও জিপিএ, দুদিকেই এগিয়ে মেয়েরা
গত বছর (২০২৪ সাল) মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে ছিলেন।
১১টি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বসেছিলেন ২০ লাখ ১৩ হাজার ৫১৭ শিক্ষার্থী। দেশের তিন হাজার ৭৯৯ কেন্দ্রে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষা শুরু হয়। ১২ মার্চ শেষ হয় লিখিত পরীক্ষা।
পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ছিলেন ১০ লাখ ২৪ হাজার ৮০৩ জন, ছাত্র নয় লাখ ৮৮ হাজার ৭৯৪ জন। তাদের মধ্যে আট লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ জন ছাত্রী ও আট লাখ ছয় হাজার ৫৫৩ জন ছাত্র পাস করেছিলেন।
এ হিসাবে ছাত্রীদের পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং ছাত্রদের পাসের হার ৮১ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯৮ হাজার ৭৭৬ জন ছাত্রী এবং ৮৩ হাজার ৩৫৩ জন ছাত্র ছিলেন। এবার ছাত্রদের চেয়ে ১৫ হাজার ৪২৩ জন বেশি ছাত্রী পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পান।
২০২৩: সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে মেয়েরা
২০২৩ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দিক দিয়ে এগিয়ে ছিলেন মেয়েরা। পাসের হার এবং ফলাফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক দিয়েও ছাত্রদের পেছনে ফেলেন তারা।
পরীক্ষার ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর পরীক্ষায় মোট ২০ লাখ ৪১ হাজার ৪৫০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ছাত্রী ছিলেন ১০ লাখ ৩১ হাজার ৬৪৭ জন এবং ছাত্র ১০ লাখ ৯ হাজার ৮০৩ জন। মোট পাস করেন ১৬ লাখ ৪১ হাজার ১৪০ জন। এর মধ্যে ছাত্রী আট লাখ ৪৪ হাজার ৭৩৬ জন এবং ছাত্র সাত লাখ ৯৬ হাজার ৪০৪ জন। অর্থাৎ ৪৮ হাজার ৩৩২ জন ছাত্রী বেশি পাস করেন।
মোট জিপিএ-৫ পান এক লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন। এর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৯৮ হাজার ৬১৪, আর জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্রের সংখ্যা ৮৪ হাজার ৯৬৪। অর্থাৎ ছাত্রদের চেয়ে ১৩ হাজার ৬৫০ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পান।
২০২২: এবারও পাসের হার ও জিপিএ, এগিয়ে মেয়েরা
করোনা ও বন্যার কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২০ লাখের বেশি। তিন হাজার ৭৯০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে শুধু সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল প্রায় ১৬ লাখ।
নয়টি সাধারণ বোর্ডে ৮৮ দশমিক ১০ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ডে ৮২ দশমিক ২২ শতাংশ এবং কারিগরি বোর্ডে ৮৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেন।
ওইবারও পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যার দিক দিয়ে এগিয়ে ছিলেন মেয়েরা। ছাত্রদের পাসের হার যেখানে ৮৭ দশমিক ১৬ শতাংশ, সেখানে ছাত্রীদের মধ্যে ৮৭ দশমিক ৭১ শতাংশ পাস করেন। জিপিএ-৫ পান দুই লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছেলে শিক্ষার্থী এক লাখ ২১ হাজার ১৫৬ জন ও মেয়ে শিক্ষার্থী এক লাখ ৪৮ হাজার ৪৪৬ জন।
২০২১: জিপিএ-৫ বেশি পান মেয়ে শিক্ষার্থীরা
২০২১ সালের এসএসসি-সমমানের পরীক্ষায় ২২ লাখ ৪০ হাজার ৩৯৫ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ছেলে শিক্ষার্থী ছিলেন ১১ লাখ ৪২ হাজার ৩৯৪ জন এবং মেয়ে শিক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৯৯ হাজার ৩০১ জন। পাস করেছিলেন ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৪৬ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছেলে শিক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৬২৮ জন এবং মেয়ে শিক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৯১৮ জন।
ওই বছর এক লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পান। তাদের মধ্যে ৭৯ হাজার ৭৬২ জন ছেলে শিক্ষার্থী এবং এক লাখ তিন হাজার ৫৭৮ জন মেয়ে শিক্ষার্থী ছিলেন।
করোনাভাইরাস অতিমারীর মধ্যে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে হওয়া ২০২১ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল সর্বোচ্চ।

২০২০: এবারও এগিয়ে মেয়েরা
২০২০ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সম্মিলিত পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৮৭। মোট জিপিএ-৫ পান এক লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন শিক্ষার্থী।
পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মোট ২০ লাখ ৪০ হাজার ২৮ জন শিক্ষার্থী। যার মধ্যে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৫২৩ জন শিক্ষার্থী পাস করেছিলেন।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৩৪ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৯০ দশমিক ৩৭ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৮৫ দশমিক ২২ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৮৭ দশমিক ৩১ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৮৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৭৯ দশমিক ৭০ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৭৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৮২ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ছিল ৮০ দশমিক ১৩ শতাংশ।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ছিল ৭২ দশমিক ৭০ শতাংশ।
ওই বছর ছাত্রদের পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ছিল ৮৪ দশমিক ১০ শতাংশ।
সাফল্যের পেছনের কারণ
শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মেয়েদের এ ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে বেশকিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন। সেগুলো হলো-
অধ্যবসায় ও মনোযোগ: সাধারণত মেয়েরা পড়াশোনায় ছেলেদের চেয়ে বেশি মনোযোগী ও অধ্যবসায়ী হয়। তারা নিয়মিত পড়াশোনায় বেশি সময় ব্যয় করে।
পারিবারিক সহায়তা ও সচেতনতা: নারীশিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে পরিবারগুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাল্যবিবাহ রোধ কর্মসূচি এবং মেয়েদের জন্য উপবৃত্তির মতো সরকারি উদ্যোগগুলো মেয়েদের শিক্ষাজীবন চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মেয়েদের পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।
লক্ষ্য নির্ধারণ: মেয়েরা নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে পড়াশোনা করে।

২০০১-২০১৯ সাল পর্যন্ত সার্বিক চিত্র
২০০১: মোট পরীক্ষার্থী ছিল সাত লাখ ৮৬ হাজার ২২০ জন। পাসের হার ছিল ৩৫.২২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পান ৭৬ জন শিক্ষার্থী। এ বছর প্রতি এক লাখে ১০ জন শিক্ষার্থী অর্জন করে সর্বোচ্চ পয়েন্ট জিপিএ-৫। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর .০০৯৬৬৬৫% জিপিএ-৫ পান।
২০০২: মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১০ লাখ ৫ হাজার ৯৩৭ জন। ৪০.৬৬ শতাংশ ছিল পাসের হার। জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৩২৭ জন। যা মোট পরীক্ষার্থীর .০৩ শতাংশ।
২০০৩: মোট পরীক্ষার্থী নয় লাখ ২১ হাজার ২৪ জন। পাসের হার ৩৫.৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৩৮৯ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর .১৫ শতাংশ।
২০০৪: চতুর্থ বিষয়সহ নম্বর বণ্টন করা হয়। যে কারণে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাফেই বেড়ে যায় প্রায় আট গুণ। ওই বছর পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল সাত লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৭ জন। পাস করেছিল ৪৮.০৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ অর্জন করেছিল আট হাজার ৫৯৭ জন। যা মোট পরীক্ষার্থীর ১.১ শতাংশ।
২০০৫: মোট পরীক্ষার্থী সাত লাখ ৫১ হাজার ৪২১ জন। পাসের হার ৫২.৫৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১৫ হাজার ৬৩১ জন। যা মোট পরীক্ষার্থীর ১.৬ শতাংশ।
২০০৬: মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সাত লাখ ৮৪ হাজার ৮১৫ জন। পাসের হার ৫৯.৪৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ২৪ হাজার ৩৮৪ জন। যা মোট পরীক্ষার্থীর ৩.১২ শতাংশ।
২০০৭: মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সাত লাখ ৯২ হাজার ১৬৫ জন। পাসের হার ৫৭.৩৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ২৫ হাজার ৭৩২ জন। যা মোট পরীক্ষার্থীর ৩.২৪ শতাংশ।
২০০৮: মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সাত লাখ ৪৩ হাজার ৬০৯ জন। পাসের হার ৭০.৮১ শতাংশ। জিপিএ-৫ অর্জন করেন ৪১ হাজার ৯১৭ জন। যা মোট পরীক্ষার্থীর ৫.৬ শতাংশ।
২০০৯: মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সাত লাখ ৯৭ হাজার ৮৯১ জন। পাসের হার ৬৭.৪১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পান ৪৫ হাজার ৯৩৪ জন। যা মোট পরীক্ষার্থীর ৫.৭৫ শতাংশ।
২০১০: মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা নয় লাখ ১২ হাজার ৫৭৭ জন। পাসের হার ৭৮.৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পান ৬২ হাজার ১৩৪ জন। যা মোট পরীক্ষার্থীর ৬.৮ শতাংশ।
২০১১: মোট পরীক্ষার্থী নয় লাখ ৮৬ হাজার ৬৫০ জন। পাসের হার ৮২.১৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পান ৬২ হাজার ২৮৮ জন। যা মোট পরীক্ষার্থীর ৬.৪ শতাংশ।
২০১২: পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ লাখ ৪৮ হাজার ১৪৪ জনে। পাসের হার ৮৬.৩২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পান ৬৫ হাজার ২৫২ জন। যা মোট পরীক্ষার্থীর ৬.২৩ শতাংশ।
২০১৩: মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৪ জন। পাসের হার ৮৯.০৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পান ৯১ হাজার ২২৬ জন। যা মোট পরীক্ষার্থীর ৭ শতাংশ।
২০১৪: মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৩২ হাজার ৭২৭ জন। পাসের হার ৯১.৩৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পান এক লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন। দেশে গ্রেডিং পদ্ধতিতে নম্বর দেওয়ার প্রচলন শুরু হওয়ার পর থেকে ২০১৪ সালেই সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেন। যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১০ শতাংশ।
এছাড়া ২০১৫ সালে জিপিএ-৫ পান এক লাখ ১১ হাজার ৯০১ জন, ২০১৬ সালে জিপিএ-৫ পান এক লাখ নয় হাজার ৭৬১ জন, ২০১৭ সালে জিপিএ-৫ পান এক লাখ চার হাজার ৭৬১ জন, ২০১৮ সালে জিপিএ-৫ পান এক লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন।
২০১৯ সালে এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৯৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পান। যা মোট পরীক্ষার্থীর ৪.৯৬ শতাংশ। ২০২০ সালে জিপিএ-৫ পান এক লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন শিক্ষার্থী। যা মোট পরীক্ষার্থীর ৫ শতাংশ।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে জানা যাবে
চলতি বছরের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে আজ। দুপুর ২টায় দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট সব পরীক্ষা কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এসএমএসের মাধ্যমে এই ফল প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফল ১০ জুলাই দুপুর ২টায় শিক্ষা বোর্ডসমূহের ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট সব পরীক্ষা কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এসএমএসের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
এ ছাড়া ফল প্রকাশ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হবে।
কোনো বাগাড়ম্বর ছাড়াই ফল প্রকাশ : শিক্ষা উপদেষ্টা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সিআর আবরার বলেছেন, দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যেই কোনো বাহুল্য ছাড়া সব বোর্ডের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে। অনাড়ম্বরভাবে প্রকাশ হবে এই ফল। গত সাড়ে ১৫ বছর ফল প্রকাশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যদের যে ধরনের আনুষ্ঠানিকতা বা বাগাড়ম্বর থাকত, এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফল হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তেমন কোনো আনুষ্ঠানিকতা থাকছে না। যাদের দায়িত্ব তারাই তথা ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড নিজেদের মতো করে ফল প্রকাশ করবে।
গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৫-এর ফল প্রকাশ নিয়ে এক আলোচনায় উপদেষ্টা এমন মন্তব্য করেন।
এ সময় শিক্ষা উপদেষ্টা আমার দেশকে আরো বলেন, দুই মাসের মধ্যেই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের অঙ্গীকার করেছিলাম। সে অনুযায়ী পাঁচদিন আগেই এই ফল প্রকাশ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিকতার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এবার খাতা দেখার ক্ষেত্রে মেধার যথাযথ মূল্যায়নের নির্দেশনা ছিল। কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়।
গত ১০ এপ্রিল ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। গত ১৩ মে পরীক্ষা শেষ হয়েছিল। এতে ১৯ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
যেভাবে ফল পাওয়া যাবে
বোর্ডগুলোর মাধ্যমে প্রকাশিত ফল ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট সব পরীক্ষা কেন্দ্র/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে www.dhakaeducationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফল ডাউনলোড করে প্রকাশ করার জন্য www.educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটের রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএনের মাধ্যমে ফল ডাউনলোড করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইআইআইন এন্ট্রি করে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান রেজাল্ট শিট ডাউনলোড করতে পারবে। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফল স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডসমূহের ওয়েবসাইট ঠিকানা www.educationboardresults.gov.bd এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফল সংগ্রহ করতে পারবে।
এছাড়া এসএমএসের মাধ্যমে এসএসসির ফল জানা যাবে। এ ক্ষেত্রে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে SSC লিখে স্পেস দিয়ে ইংরেজিতে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর দিতে হবে। এরপর স্পেস দিয়ে পরীক্ষার বছর লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। (উদাহরণ: SSC Dha ROLL YEAR)। ফিরতি মেসেজে ফলাফল জানিয়ে দেয়া হবে।
মাদ্রাসা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের ফলাফল জানাতে হলে প্রিরেজিস্ট্রেশন করতে হবে। প্রিরেজিস্ট্রেশনের নিয়ম হলো: Dakhil লিখে স্পেস দিয়ে MAD লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর ও সাল লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। উদাহরণ: Dakhil MAD 123456 2025। ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই প্রিরেজিস্ট্রেশন করা নম্বরে ফলাফল পৌঁছে যাবে।
কারিগরি বোর্ডের ফলাফল জানতে হলে টাইপ করতে হবে: SSC TEC রোল নম্বর 2025 এবং পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে।
শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা পত্রিকা অফিসে ফল পাওয়া যাবে না।
পুনঃনিরীক্ষণ
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য এসএমএসের মাধ্যমে ১১ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদন পদ্ধতি শিক্ষা বোর্ডসমূহের ওয়েবসাইট এবং টেলিটকের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যাবে।
তিন বোর্ডে বৃহস্পতিবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত
বন্যা পরিস্থিতির কারণে তিন বোর্ডের অধীনে বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) অনুষ্ঠাতব্য এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অধীন ৬টি জেলায়, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে সারাদেশে আলিম পরীক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের আওতায় সারাদেশে এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
আজ বুধবার (৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার পর শিক্ষাবোর্ডগুলো থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পরীক্ষার পরবর্তী তারিখ পরে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলো জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে ফেনী ও নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের আগামী ১০ জুলাই বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠাতব্য এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হলো।এছাড়াও কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সময়সূচি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে। ১৩ হতে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী অন্যান্য পরীক্ষা যথারীতি চলবে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
বৃহস্পতিবার এসএসসির ফল প্রকাশ: শিক্ষা উপদেষ্টা
দুই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের সব বোর্ডের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৫ এর ফলাফল প্রকাশ হচ্ছে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার। তিনি জানান এবারে অনারম্বরভাবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৫ এর ফলাফল প্রকাশ হবে। তাই এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোন আনুষ্ঠানিকতা থাকছেনা।
দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৫ এর ফলাফল নিজেদের মতো করে প্রকাশ করবে। বুধবার (০৯ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের অফিস কক্ষে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-২০২৫ এর ফলাফল প্রকাশ নিয়ে এক আলোচনায় উপদেষ্টা এসএসসির ফল প্রকাশের বিষয়ে এসব তথ্য জানান।
প্রসঙ্গত, ১০ এপ্রিল ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। গত ১৩ মে পরীক্ষা শেষ হয়েছিল। ১৯ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।
আরও পড়ুন: বিবিসির অনুসন্ধানে ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে পুলিশি হত্যাকাণ্ডের যে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠলো
প্রতিবারের মতো এবারেও শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই অনলাইনে ফল জানতে পারবে www.educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে। সেক্ষেত্রে পরীক্ষার নাম, বোর্ড, রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও সাল উল্লেখ করে ফলাফল পাওয়া যাবে। পাশাপাশি প্রতিটি বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও ফল প্রকাশ করা হবে।
যেসব শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফল জানতে চায়, তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রধান EIIN নম্বর ব্যবহার করে বোর্ডের ওয়েবসাইটের ‘রেজাল্ট কর্নার’ থেকে ফলাফল ডাউনলোড করতে পারবেন। শিক্ষার্থীরা চাইলে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করতে পারবে। এছাড়া ফলাফল মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমেও জানা যাবে। এজন্য নির্দিষ্ট ফরম্যাটে বার্তা লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। তবে এই পদ্ধতির বিস্তারিত নির্দেশনা ফল প্রকাশের দিন সকালে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের পক্ষ থেকে জানানো হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য