শিরোনাম
যশোরে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের ভুয়া বিজ্ঞপ্তি, বোর্ডের সতর্কবার্তা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এইচএসসি বাংলা প্রথম পত্র স্থগিতের একটি ভুয়া (ফেক) বিজ্ঞপ্তি নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড।
২৬ জুন অনুষ্ঠেয় বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্ন অনিয়ম ও চুরি হয়েছে এমন শিরোনামে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কে বা কারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীক্ষা স্থগিতের অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এসব বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হতে পরীক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। রোববার (২২ জুন) বিকেলে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন এক বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানান।
বোর্ড কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা নিয়ে ভুয়া খবর ছড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
বোর্ড সংশ্লিষ্টরা জানান, সারাদেশের মতো যশোর শিক্ষা বোর্ডেও আগামী ২৬ জুন এইসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে বোর্ড সংশ্লিষ্টরা। এরমধ্যে শনিবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যশোর বোর্ডে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা স্থগিতের বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভুয়া বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের নাম উল্লেখ করে ভুয়া সাক্ষর করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্র বিষয়ের প্রশ্নপত্র অনিয়ম ও চুরি হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও পরীক্ষার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার লক্ষ্যে ২৬ জুনের অনুষ্ঠেয় বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষাটি স্থগিত করা হলো। পরবর্তীতে পরীক্ষার তারিখ জানানো হবে। ওই বিজ্ঞপ্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন বলেন, ‘কে বা কারা ভুয়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্ত ছড়াতে এই জালিয়াতি করেছে দুবৃর্ত্তরা। আমরা পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। জালিয়াতি চক্রদের ধরতে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানাতে অভিযোগ করেছি। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে যশোর কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক কাজী বাবুল হোসেন বলেন, বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একটি টিম কাজ শুরু করেছে।
গুচ্ছে নিকটস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ে করা যাবে প্রাথমিক ভর্তির নিশ্চয়ন, ভর্তি শুরু ২২জুন
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে দেশের ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক ভর্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামী ২২ জুন। চলবে ২৮ জুন পর্যন্ত। ইতোমধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রমসহ আবেদনের সময়সীমা শেষ হয়েছে গত ১২ জুন।
সোমবার (১৬ জুন) সকালে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের উপাচার্যদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল মিটিং শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গুচ্ছ ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ।
গুচ্ছের আহ্বায়ক আরো জানান , "গুচ্ছের প্রাথমিক ভর্তি (নন-প্রাকটিক্যাল বিষয়) শুরু হবে ২২ জুন এবং চলবে ২৮ জুন পর্যন্ত। অপরদিকে বিশেষায়িত বিষয়গুলির (চারুকলা, সংগীত, নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা, চলচ্চিত্র ও মিডিয়া এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান) প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা ও কোটার ভেরিফিকেশন শুরু ২১ জুন থেকে ২৮ জুনের মধ্যে।
ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে ৩০ জুনের মধ্যে। তিনি আরো বলেন, চূড়ান্ত ভর্তি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে ২৮ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত এবং ক্লাস শুরু করার সম্ভাব্য দিন নির্ধারিত হয়েছে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে।
এছাড়াও জানা যায়, এবার শিক্ষার্থীরা নিকটস্থ যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাথমিক ভর্তি নিশ্চয়ন করতে পারবেন। পরবর্তীতে কাগজ উঠিয়ে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হবেন যেখানে জমা দিতে হবে। এতে ভোগান্তি কমবে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের।
গুচ্ছ পদ্ধতির এই ভর্তি কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল, ভর্তি সংক্রান্ত নোটিশ এবং অন্যান্য নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ নিজ ওয়েবসাইটে ও গুচ্ছের অফিশিয়াল পোর্টালে প্রকাশ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, ভর্তি কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপ যাতে স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও জটিলতা-মুক্তভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে।
এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে যে নির্দেশনা দিল শিক্ষা বোর্ড
আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের ২০২৫ সালের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে ‘অতীব জরুরি’ নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা।
রোববার (১৫ জুন) ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এসএম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক স্মারকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কেন্দ্র সচিবদের উদ্দেশে জারি করা এই স্মারকে বলা হয়েছে, বিজি প্রেস থেকে পাঠানো ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নির্ধারিত স্টেটমেন্ট অনুযায়ী সঠিকভাবে এসেছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। যদি কোনো সেটে প্রশ্নপত্র কম বা বেশি থাকে, তবে আগামী ১৯ জুনের মধ্যে ই-মেইলের মাধ্যমে বোর্ডকে জানাতে হবে।
নির্দেশনাটি ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে কেন্দ্র সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে প্রকাশিত আরেকটি নির্দেশনায় প্রশ্নপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি পরীক্ষার তিন দিন আগেই ট্রেজারি অফিস থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে তা নির্ধারিত সেট অনুযায়ী সুরক্ষিত খামে রাখার কথা বলা হয়েছিল। পরীক্ষার দিন সকালে এসএমএসে প্রাপ্ত সেট অনুযায়ী খাম খুলে পরীক্ষার আয়োজন করতে হবে।
অব্যবহৃত সেট কোনো অবস্থাতেই খোলা যাবে না এবং তা অক্ষত অবস্থায় বোর্ডে ফেরত পাঠাতে হবে। এসব কাজের সময় সংশ্লিষ্ট থানার ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ২৬ জুন এবং শেষ হবে ১০ আগস্ট। ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১১ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত।
এইচএসসিতে আসন বিন্যাসে বাড়বে দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধিতেও থাকবে কড়াকড়ি
দেশে নতুন করে বাড়ছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। এরই মধ্যে সতর্কবার্তাও জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এদিকে ২৬ জুন থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এতে অংশ নেবেন সাড়ে ১২ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী।
এদিকে করোনা ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ায় পরীক্ষা পেছানোর দাবি তুলেছেন একদল পরীক্ষার্থী। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানান উপায়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
তবে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনা ও ডেঙ্গুর সংক্রমণের যে হার, তাতে পরীক্ষা পেছানোর মতো পরিস্থিতি হয়নি। কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাসময়ে পরীক্ষা নিতে চান তারা।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, করোনা সংক্রমণের হার এবং ডেঙ্গুর প্রকোপের দিকে নজর রাখছি আমরা। এটা সত্য যে, অভিভাবকদের পক্ষ থেকে উদ্বেগের কথা জানানো হচ্ছে। উদ্বিগ্ন হওয়াটাও স্বাভাবিক। তবে পরীক্ষা পেছানোর সুযোগও নেই। সামনে বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আসছে। তখন পরীক্ষা নেওয়াটা আরও কঠিন হবে।
তিনি বলেন, আমরা জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছি। পরীক্ষার্থী, কক্ষ পরিদর্শকসহ সবাইকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করা হবে। পরীক্ষার কক্ষে এক পরীক্ষার্থী থেকে আরেক শিক্ষার্থীকে ৩ ফুট দূরে আসন দেওয়া হয়। প্রয়োজনে সেটা আরও বাড়ানো হবে। করোনাকালে যেভাবে আসন বিন্যাসে দূরত্ব বাড়ানো হয়েছিল, সেভাবে আসন বিন্যাস করা হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও কেন্দ্রসচিবকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। সব প্রস্তুতি নিয়ে আগামী ২৬ জুনই এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করা হবে।
স্বাস্থ্যবিধি মানতে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থার কথা বলেছেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকীও। তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীদের মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে। পরীক্ষার কক্ষে আসন বণ্টন করা হবে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে। প্রয়োজনে সেটা আরও বাড়ানো হবে। এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে সব স্কুল-কলেজ খোলার সঙ্গে সঙ্গে পরিছন্নতা অভিযান চালাতে নির্দেশনা দেওয়া হবে। কোনোভাবেই ডেঙ্গুর বিস্তার হতে দেওয়া যাবে না।
এছাড়া ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক সফিউদ্দিন সেখ বলেন, পরীক্ষা নেওয়ার সব প্রস্তুতি শেষ। এখনও হাতে ১১ দিন সময় আছে। রোববার (১৫ জুন) অফিস খোলার পর আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বৈঠক হবে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরীক্ষাকেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি, আসনবিন্যাসের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সূত্র জানায়, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ফরম পূরণ করেছেন ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন পরীক্ষার্থী। এবার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন ও ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন।
গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৩ লাখ ৩২ হাজার ৯৯৩ জন পরীক্ষার্থী। সেই হিসাবে এ বছর পরীক্ষার্থী কমেছে ৮১ হাজার ৮৮২ জন।
চোখ রাঙাচ্ছে করোনা, এইচএসসি পরীক্ষা কি পেছাবে?
দেশে আবারও করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ভাইরাসের প্রভাবে সারা দেশে আবারও সংক্রমণ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী ২৬ জুন থেকে অনুষ্ঠেয় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা কি পেছাবে—সেই প্রশ্ন উঠেছে।
যদিও আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড জানিয়েছে, পরীক্ষা পেছানোর মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষা কেন্দ্রে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, 'করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরাও দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি। তবে পরীক্ষা পেছানোর মতো পরিস্থিতি হয়নি। পরীক্ষা পেছাবে না। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা শুরু হবে।
এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন ও ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন। গত বছর এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৩ লাখ ৩২ হাজার ৯৯৩ জন পরীক্ষার্থী। সে অনুযায়ী এ বছর পরীক্ষার্থী কমেছে ৮১ হাজার ৮৮২ জন।
পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশাবলি
পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল (সিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
ব্যবহারিক বিষয়-সংবলিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে ২৫ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ২৫ মিনিট এবং ৫০ নম্বরের সৃজনশীল পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট।
পরীক্ষা বিরতিহীনভাবে প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় পর্যন্ত চলবে। এমসিকিউ ও সিকিউ উভয় অংশের পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।
সকাল ১০টা থেকে অনুষ্ঠেয় পরীক্ষার ক্ষেত্রে সকাল সাড়ে ৯টায় অলিখিত উত্তরপত্র ও বহুনির্বাচনী ওএমআর শিট বিতরণ সকাল ১০টায় বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে।
সকাল সাড়ে ১০টায় বহুনির্বাচনী উত্তরপত্র সংগ্রহ ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে। (২৫ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষার ক্ষেত্রে এ সময় ১০.২৫ মিনিট)। আর দুপুর ২টা থেকে অনুষ্ঠেয় পরীক্ষার ক্ষেত্রে দুপুর দেড়টায় অলিখিত উত্তরপত্র ও বহুনির্বাচনী ওএমআর শিট বিতরণ। দুপুর ২টা বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে। দুপুর আড়াইটায় বহুনির্বাচনী উত্তরপত্র সংগ্রহ ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে। (২৫ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষার ক্ষেত্রে এ সময় ২.২৫ মিনিট)
প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে সংগ্রহ করবে।
প্রত্যেক পরীক্ষার্থী সরবরাহকৃত উত্তরপত্রে তার পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি ওএমআর ফরমে যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। কোনো অবস্থাতেই মার্জিনের মধ্যে লেখা কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে উত্তরপত্র ভাজ করা যাবে না।
পরীক্ষার্থীকে তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক অংশে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) পৃথকভাবে পাস করতে হবে।
প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশ পত্রে উল্লিখিত বিষয়/বিষয়সমূহের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই অন্য বিষয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
কোনো পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নিজ কলেজ/প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে না, পরীক্ষার্থী স্থানান্তরের মাধ্যমে আসন বিন্যাস করতে হবে।
পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য