শিরোনাম
ভিকারুননিসা নূন স্কুলে ৫৬ সহোদরা-জমজ শিশুকে ভর্তির আদেশ বহাল
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শ্রেণিতে ৫৬ সহোদর-জমজকে ভর্তির আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। সোমবার (৬ মার্চ) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। এই আদেশের ফলে এসব শিশুদের ভর্তি হতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শ্রেণিতে ৪১ সহোদরা/জমজকে ভর্তির নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের এবং বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। পরে পৃথক রিট আবেদনে আরও ১৫ জন শিশুর ক্ষেত্রে একই আদেশ দেওয়া হয়।
পরে হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে ভিকারুননিসা কর্তৃপক্ষ।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী, এবিএম আলতাফ হোসেন ও আইনজীবী জেসমিন সুলতানা।
একাদশের শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন শুরু, চলবে ২০ মার্চ পর্যন্ত
২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে একাদশে অনলাইনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার (৫ মার্চ) শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে আগামী ২০ মার্চ পর্যন্ত। রোববার ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্ব স্ব শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন দেশের সব উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভর্তি ওয়েবসাইট (www.xiclassadmission.gov.bd) এ (কলেজ লগ-ইন) প্যানেলে লগ-ইন করে আগামী ২০ মার্চ বিকেল ৫টার মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের তথ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত অনলাইনে পাঠিয়ে এ সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
আরো বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কলেজ অনলাইনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে উদ্ভূত জটিলতার জন্য শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।
একাদশে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ভর্তি সহায়তার অনলাইন আবেদন শুরু
দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ভর্তি সহায়তার অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে। রোববার (৫ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৩ সালে একাদশ শ্রেণির ভর্তি সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষ সহায়তার বিজ্ঞপ্তিতে সই করেছেন ট্রাস্টের উপবৃত্তি শাখার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সোহাগ।
শিক্ষা সহায়তা হিসাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ মাধ্যমিকে একাদশ শ্রেণিতে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিশ্চিতকরণে সহায়তা প্রদান করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ই-ভর্তি সহায়তা ব্যবহার নির্দেশিকা অনুসরণপূর্বক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করে আগামী ৩০ মার্চ ২০২৩ তারিখের মধ্যে সিস্টেম ব্যবহার করে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আবেদন করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
আবেদন করবেন যেভাবে
ভর্তি সহায়তা প্রাপ্তির জন্য একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে http://www.eservice.pmeat.gov.bd/admission-এ লিংকে প্রবেশ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডঃ ফলাফলে অসন্তুষ্টি ৩১ হাজার শিক্ষার্থীর
২০২২ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। সদ্য প্রকাশিত ওই এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সন্তুষ্ট হতে না পেরে শুধু মাত্র ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে খাতা চ্যালেঞ্জ আবেদন করেছেন ৩১ হাজার ৫৭৪ শিক্ষার্থী। তারা এক লাখ চার হাজার ৬৬৫টি বিষয়ের খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছেন। আগামী ১০ মার্চ এ ফলাফল দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসিতে মোট দুই লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৪ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে দুই লাখ ৪৩ হাজার ২২১ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।
এছাড়াও দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডেও খাতা চ্যালেঞ্জ করে বিপুল পরিমাণে আবেদন করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে অন্যান্য বোর্ডের আবেদনকারী সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।
শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছর ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেন লাখের ওপর শিক্ষার্থী। এর মধ্যে আবেদনের শীর্ষে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সংখ্যাটা তুলনামূলক বেশি। এক বছরে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। তাদের আবেদনের মোট বিষয়ের সংখ্যাই এক লাখ পাঁচ হাজারের মতো।
বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর খাতা পুনর্মূল্যায়নে রীতিমতো চাপের মুখে রয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডর কর্মকর্তারা। কয়েক দিন ধরে শিক্ষা বোর্ডে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা খাতা পুনর্মূল্যায়নের কাজ চলছে।
পুনর্মূল্যায়ন করা হয়ে যেভাবেঃ বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন হওয়া উত্তরপত্রের চারটি দিক দেখা হয়। এগুলো হলো- উত্তরপত্রের সব প্রশ্নের সঠিকভাবে নম্বর দেওয়া হয়েছে কিনা, প্রাপ্ত নম্বর গণনা ঠিক রয়েছে কিনা, প্রাপ্ত নম্বর ওএমআর শিটে উঠানো হয়েছে কিনা ও প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী ওএমআর শিটের বৃত্ত ভরাট করা হয়েছে কি-না। এসব পরীক্ষা করেই পুনর্নিরীক্ষার ফল দেওয়া হয়। তবে পরীক্ষক কোনো প্রশ্নের উত্তরের জন্য যে নম্বর দিয়ে থাকেন সেটি পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
মেয়েটা কচি মনে মারাত্মক আঘাত পেয়েছে, শুধুই কান্নাকাটি করছে
আমার মেয়ে এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় উপজেলায় ট্যালেন্টপুলে (মেধাতালিকা) বৃত্তি পায়। কিন্তু সংশোধিত ফলাফলে সাধারণ গ্রেডেও তার নাম নেই। আমার মেয়েটা শুধু কান্না করছে। কচি মনে মেয়েটা মারাত্মক আঘাত পেয়েছে। এখন আর সে পড়াশোনা করতে চাচ্ছে না। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের এ ধরনের খামখেয়ালিপনা মেনে নেওয়া যায় না।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা সদরের আঙ্গারপাড়া এলাকার বাসিন্দা রুহিদাস মালো। তিনি উপজেলা সদরের সিঙ্গাইর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পুণ্যলতা মালোর বাবা। রহিদাস বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের নরসিংদী শাখায় আঞ্চলিক নিরীক্ষক পদে কর্মরত। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সংশোধিত ফলাফলে ক্ষুব্ধ এই অভিভাবক আজ বিকেল চারটার দিকে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবে আসেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রও সঙ্গে নিয়ে আসেন।
কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় ছয়টি বিষয়ে পুণ্যলতা মালো গড়ে ৯৮ ভাগ নম্বর পেয়েছে। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় প্রথম যে ফলাফল ঘোষণা করা হয়, তাতে সিঙ্গাইর উপজেলায় সে মেধাতালিকায় প্রথম হয়। তবে সংশোধিত ফলাফলে মেধা ও সাধারণ গ্রেড তালিকাতেও তার রোল নম্বর নেই। এর অর্থ পুণ্যলতা বৃত্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে।
উপজেলায় শুধু পুণ্যলতাই নয়, প্রথম প্রকাশ করা মেধাতালিকায় যে ৫৪ পরীক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছিল, সংশোধিত ফলাফলে তাদের মধ্যে ২৩ জনের রোল নম্বর সংশোধিত তালিকায় নেই।
প্রথম ঘোষিত ফলাফলে যেসব শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছিল, সংশোধিত তালিকা নিয়ে তাদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
পুণ্যলতা মালোর বাবা রুহিদাস মালো ক্ষোভের সঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর দেখা যায়, উপজেলায় আমার মেয়ে ট্যালেন্টপুলে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। আনন্দে প্রতিবেশী-স্বজনদের মিষ্টি খাওয়াইছি। পরে সংশোধিত ফলাফলে দেখা গেল, সাধারণ কোটাতেও আমার মেয়ে বৃত্তি পায় নাই। এর পর থেকে আমার মেয়ে কোনো কিছু খাচ্ছে না, শুধুই কান্নাকাটি করছে। সে আর পড়াশোনা করবে না, স্কুলেও যাবে না বলে আমাদের বলছে।’
রুহিদাস মালো অভিযোগ করে বলেন, ‘শিশুদের এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ এ ধরনের খামখেয়ালিপনা-অবহেলা করেছে। আমি মেয়ের ফলাফল নিয়ে আইনের আশ্রয় নেব বলে ভাবছি।’
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য