শিরোনাম
সোহরাওয়ার্দী কলেজ ক্যাম্পাসে 'মব' সৃষ্টি করে বৈষম্যবিরোধী আহ্বায়কের ওপর ছাত্রদলের হামলা
রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক "লিখন হোসেনের" ওপর ‘মব’ সৃষ্টি করে হামলা চালিয়েছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
আজ ২৮ মে, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও চিত্রে এই ঘটনা সনাক্ত করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জসীম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেলের নেতৃত্বে তাকে মারধর করা হয়। পরে কয়েকজন শিক্ষক এসে ওই নেতা (লিখন ইসলাম-কে) উদ্ধার করে অধ্যক্ষের রুমে নিয়ে যায়।
ঘটনা বিশ্লেষণে জানা যায়, কলেজের পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলায় লিখন হোসেন অধ্যক্ষের রুমে প্রবেশ করলে তাকে অনুসরণ করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞাতনামা কাউকে ফোন করলে ততক্ষণাৎ কলেজ শাখা ছাত্রদলের বেশ কিছু নেতাকর্মী অধ্যক্ষের রুমে এসে জড়ো হয়। এর কিছু সময় পরেই তারা দলবদ্ধ হয়ে অধ্যক্ষের রুমে প্রবেশ করেন এবং লিখন ইসলামকে মারতে মারতে অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে বের করে নিয়ে আসেন। সেখানে লিখন হোসেনকে আঘাত করেন ছাত্রদলের সভাপতি জসীম উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, রাকিব মোল্লাসহ অজ্ঞাত আরও কিছু নেতাকর্মী। তবে ততক্ষণাৎ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ইসলামীক স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক তরীকুল ইসলাম এবং কলেজের অধ্যক্ষ কাকলী মুখোপাধ্যয় উপস্থিত হয়ে লিখনকে তাদের থেকে ছিনিয়ে অধ্যক্ষের রুমে নিতে সক্ষম হয়।
এ বিষয়ে হামলার স্বীকার হওয়া বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখার আহবায়ক লিখন ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন - তারা আমার উপর রাজনৈতিক প্রতিপন্নতার কারণে হামলা চালায়।প্রশাসনের কাছে আমরা আইনানুগ বিচার চাইবো এবং কলেজ প্রশাসনের কাছে হামলাকারীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার দাবি জানাবো।
তবে প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত কলেজ প্রশাসনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে আলাপ করার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অপরদিকে কলেজের অফিসার্স কাউন্সিলর সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যাস্ততার অজুহাতে ফোন কেঁটে দেন।
অযত্নে তালাবদ্ধ রাজশাহী কলেজের শতবর্ষী জাদুঘর
রাজশাহী কলেজ ঊনবিংশ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। এই কলেজের সাথে জড়িয়ে আছে নানা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিদর্শন। যার একটি ঐতিহাসিক সম্পদ ছিল জাদুঘর বা সংগ্রহশালা, যা বর্তমানে অযত্ন, অবহেলা আর অবমূল্যায়নে শতবর্ষ ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। বর্তমান সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গৌরবময় অতীতকে সামনে আনার বদলে তা চাপা পড়ে আছে ধুঁলো ও মাকড়সার জালে।
ঐতিহাসিক জাদুঘরটি রয়েছে কলেজে মিলনায়তনের একটি এককক্ষবিশিষ্ট ঘরে যা অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে আজও অজানা। একাধিকবার সাংবাদিকদের আবেদনের ভিত্তিতে দশ থেকে বারো দিন অপেক্ষার পর এক দুপুরে খোলা হয় এই রহস্যময় জাদুঘরের কক্ষের তালা। ধারণা করা হয়, এতোদিন কক্ষের তালা খুলতে দেরি করিয়ে জাদুঘর খোলার আগেই কর্তৃপক্ষ সেটি পরিষ্কার করেছে। তবুও অবমূল্যায়নের ছাপটি রয়েই গেছে জাদুঘরের প্রতিটি কোণে।
সরেজমিনে ঘরে ঢুকতেই দেখা যায়, দেয়ালে নামহীন, সালবিহীন ধুলোমাখা ছবি। যেখানে সেখানে পড়ে আছে ফাইলে বন্দি পুরনো নথি পত্র, বই। জাদুঘরটিতে রয়েছে দেশি বিদেশি মনীষীদের প্রতিকৃতি যা অনেক কাল ছিল শিক্ষার্থীদের অজানা। রয়েছে কাঠের আলমারি, ব্রিটিশ আমলের টেবিল ফ্যান, ধুঁলোমাখা বিভিন্ন প্রকারের মাইক্রোস্কোপ, প্রাচীন ঘড়ি, রেডিও, আয়না, ঝাড়বাতি, এমনকি একটি প্রিন্টিং মেশিনের মতো মূল্যবান বস্তু পড়ে আছে যেন অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো বস্তু হিসেবে।
জাদুঘরে থাকা উল্লেখযোগ্য নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে, ব্রিটিশ আমলের ৮টি ঘড়ি, ৩টি রেডিও ও আয়না, ২টি পুরস্কার মেডেল, ৩৪টি কাঠের ওপর ছাপা ঐতিহ্যের ছবি, ২টি মাইক্রোস্কোপ ও ৬টি বিজ্ঞান যন্ত্র প্রাচীন বই, প্রিন্টিং অলমেট ও শিক্ষকদের ওনারবোর্ড। কিন্তু এসব ঐতিহাসিক সম্পদের সংরক্ষণের নেই কোনো সঠিক উদ্যোগ। কলেজের লাইব্রেরিয়ান পর্যন্ত জানেন না জাদুঘরের অস্তিত্ব সম্পর্কে।
জাদুঘর সম্পর্কে কলেজ শিক্ষার্থী সামিয়া ফেরদৌসের কাছে জানতে চাইলে তিনি এক রাশি বিস্ময় ও কৌতূহল নিয়ে প্রশ্ন করেন, রাজশাহী কলেজে কি জাদুঘর আছে ? তিনি জানান জাদুঘর সম্পর্কে তিনি একেবারেই অজানা।
রাজশাহী কলেজের এই জাদুঘরের বিষয়ে শিক্ষার্থীরাও অবগত নয়। রাজশাহী কলেজের আরেক শিক্ষার্থী আব্দুস সামাদ বলেন, কলেজের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকলেও আমাদেরকে তা জানানো হয়নি। শিক্ষকদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে যে শ্রেণিকক্ষে ইতিহাসচর্চা তেমন হয় না, যদিও লাইব্রেরিতে এ সংক্রান্ত বইপত্র রয়েছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, রাজশাহী কলেজের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে এই জাদুঘরকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে আধুনিক সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।
এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থী বায়জিদ সরকার কলেজের জাদুঘরটি অনতিবিলম্বে সংস্কার করে সকলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান। অন্যথায় শতবর্ষী এই নিদর্শনগুলোর অবলুপ্তি আমাদের সংস্কৃতির দেউলিয়ার এক অনিবার্য দলিল হয়ে থাকবে।
একটি ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহশালা বছরের পর বছর তালাবদ্ধ ও অবহেলিত থাকা কেবল দুঃখজনক নয়, তা প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক গাফিলতির স্পষ্ট উদাহরণ। সংরক্ষণের অভাবে ঐতিহ্যের এ মূল্যবান দলিলগুলো আজ ধ্বংসের মুখে।
সাংস্কৃতিক কর্মী অলিউর রহমান বাবু এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের নিকট প্রশ্ন রাখেন, রাজশাহী কলেজের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী কলেজের জাদুঘর কেন অবহেলায় পরে থাকবে এবং কেনোই বা এই জাদুঘরটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের থেকে বন্ধ রেখেছে কলেজ প্রশাসন? তিনি বলেন, কলেজের জাদুঘর কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য, জাদুঘর এই কলেজের একটি ঐতিহ্য এটাকে অবমূল্যায়ন করে প্রশাসন তাদের চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যুহুর আলি বলেন, জাদুঘরের উন্নয়ন বিষয়ে আমাদের এখন পর্যন্ত কোনো কার্যক্রম নেওয়া হয়নি। বর্তমানে জাদুঘরের গুরুত্ব সম্পর্কে যারা অবহিত তাদের ও সরকারের সহায়তা থাকলে জাদুঘরের উন্নয়ন করা সম্ভব।
সাত কলেজের সাথে ইউজিসির বৈঠক ফলপ্রসু; আগামীকাল আসতে পারে ভর্তি পরিক্ষার রোডম্যাপ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল এবং কলেজগুলো নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের লক্ষ্যে ঘোষিত অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৭শে মে) ইউজিসির সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সদ্য ঘোষিত সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রধান ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস, বাকি ছয় কলেজের অধ্যক্ষবৃন্দ, ইউজিসি প্রতিনিধি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির প্রতিনিধি।
বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিষয়গুলো হলো–
১) নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ।
২) মাস্টাররোলে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা।
৩)সাত কলেজের প্রশাসনিক কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কার্যপ্রণালী নির্ধারণ।
সভায় প্রথমত: ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিপরীক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, এবং ভর্তিপরীক্ষায় বেশ কিছু পরিবর্তন সাধনের প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো,
ক. সেকেন্ড টাইম তথা দ্বিতীয়বার ভর্তি পরিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ।
খ. পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং সংযুক্ত করা তথা ভুল উত্তরের জন্য ঋণাত্মক নম্বর প্রদানের নিয়ম।
গ. আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা।
দ্বিতীয়ত: ইউজিসি কর্তৃক সাত কলেজে কর্মরত মাস্টাররোলে নিয়োগপ্রাপ্ত সকল কর্মকর্তা–কর্মচারীর তথ্য আহবান করা হয়েছে, কর্মরত কোনো কর্মকর্তা– কর্মচারীর ভয় ভীতি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
তৃতীয়ত: নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত সাত কলেজের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ইউজিসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যাক্ত করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য প্রশাসনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) কর্তৃক এক(০১) জন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার দপ্তর কর্তৃক এক(০১) জন, পরিক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর কর্তৃক এক(০১) জন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক এক(০১) জন করে প্রতিনিধির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন কিংবা অন্তর্বর্তী প্রশাসকের কার্যালয়ে জটলা না সৃষ্টি না করে সাত কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে প্রতিটি কলেজের অধ্যক্ষ'র কার্যালয়ে হেল্প ডেস্ক বসানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে উক্ত সভায়।
আগামীকাল (২৮শে মে) সাত কলেজের অধ্যক্ষবৃন্দের আরো একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। উক্ত সভায় আসন্ন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের আসন সংখ্যা কমানো, ভর্তি পরিক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং ভর্তি পরিক্ষা আয়োজনের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষায় রাজশাহী কলেজে ৪,২৪০ আসনে লড়বে ১৫,৮৫৭ পরিক্ষার্থী
দীর্ঘদিন পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তার ভর্তি কার্যক্রমে ভর্তি পরিক্ষা চালু করেছে।
আগামী ৩১ মে (শনিবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৪-২০২৫ সেশনের অনার্স ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। সেই ধারাবাহিকতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেশসেরা রাজশাহী কলেজে ২৪ টি বিভাগের ৪,২৪০টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন করেছেন ১৫,৮৫৭ জন শিক্ষার্থী।
১৫,৮৫৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান বিষয়ে (পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা, গণিত) ৮৮০টি আসনের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে ৮,৮৪২ জন শিক্ষার্থী।
মানবিক বিষয়ে (বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃত, দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, মনোবিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিবেশ, আরবী, ইসলামিক স্টাডিজ) ২,৪৫৫টি আসনের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে ৫,৬৯৫ জন শিক্ষার্থী।
ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে (হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, ফিন্যান্স, মার্কেটিং, পরিসংখ্যান) ৯০৫টি আসনের বিপরীতে ১,৩২০
জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করবে।
রাজশাহী কলেজে ২৪টি বিভাগের একক আসন সংখ্যা:
বাংলা-১৯০টি, ইংরেজি-১৯৫টি, ইতিহাস- ২৩৫টি, ইস: ইতিহাস ও সংস্কৃতি-২৩৫টি, দর্শন-১৯০টি, সংস্কৃত-৫০টি, আরবী-৯০টি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২৩৫টি, সমাজবিজ্ঞান-২৩৫টি, সমাজকর্ম-১৯০টি, অর্থনীতি-২৩৫টি, উদ্ভিদবিজ্ঞান-১৮৫টি, প্রাণিবিজ্ঞান-১৮৫টি, পদার্থবিজ্ঞান-১৫৫টি, রসায়ন-১৫৫টি, গণিত-২০০টি, পরিসংখ্যান-১৫৫টি, মনোবিজ্ঞান-১৯০টি, ভূগোল ও পরিবেশ- ১৮৫টি, হিসাববিজ্ঞান-২৩৫টি, ব্যবস্থাপনা-২৩৫টি, ফিন্যান্স-১৪০টি, মার্কেটিং-১৪০টি।
এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের অনার্স ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও রাজশাহী কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর ড. মো: সেরাজ উদ্দীন বলেন, শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতে জন্য আমরা প্রশাসনিক ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় আমরা নগরীর ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। যার আওতায় রাজশাহী কলেজে পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হবে মানবিক বিভাগের, শাহ মখদুম কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ এবং বাকি কেন্দ্রগুলোতে বিজ্ঞান বিভাগের পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি এড়াতে আজ থেকেই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মোবাইল নাম্বারে মেসেজের মাধ্যমে কেন্দ্রের সিট প্লেন সংক্রান্ত তথ্য পাঠানো আরম্ভ করেছি। এছাড়াও যদি কারো কাছে মেসেজ না পৌঁছায় তাদের জন্য আমরা বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে দুইদিন আগেই কলেজে আলাদা ভাবে সিট প্লেনের তালিকা বোর্ডে প্রকাশের ব্যবস্থা রাখবো। তাছাড়াও প্রতিটি কেন্দ্রের বাহিরে আলাদা ভাবে সিট প্লেন রাখা পাশাপাশি আমাদের বিএনসিসি, রোভার দল শিক্ষার্থীদের সহায়তায় সার্বিকভাবে সবসময় সহায়তা প্রদান করবে।
আজ থেকে শুরু হচ্ছে সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কার্যক্রম
রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পৃথকীকরণ এবং কলেজগুলোর সমন্বয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার (২৭ মে) থেকে শুরু হচ্ছে।
সোমবার (২৬ মে) রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রধান ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম ইলিয়াস।
তিনি বলেন, “আগামীকাল(আজ) সকাল ১০টায় ইউজিসির সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম সভার মাধ্যমে সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কার্যক্রম শুরু হবে। এ সভায় ইউজিসির নীতিনির্ধারক কর্মকর্তা ,সাত কলেজের অধ্যক্ষবৃন্দ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।”
সভার কার্যপরিধির বিষয়ে তিনি বলেন, “এ সভায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। এই সভা থেকে একটি পজিটিভ রেজাল্ট আসবে, পরবর্তীতে নতুনভাবে প্রজ্ঞাপন দিয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকনিক্যাল সহযোগিতা নিয়ে আমরা এবার ভর্তি কার্যক্রমের কাজগুলো করবো। তাদের ছাড়া আমরা তো কাজ এগিয়ে নিতে পারবো না। তারা বলেছে আমাদের দ্ব্যর্থহীনভাবে সহযোগিতা করবে। কারণ আমাদের হাতে এমন কোন ম্যাকানিজম নাই যার মাধ্যমে আমরা ভর্তি পরীক্ষার কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারবো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অধীনে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।”
নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরিক্ষা আয়োজনের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা যত দ্রুত সম্ভব ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে চিন্তা করছি। আমরা চেষ্টা করছি দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে যেন ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করা যায়। রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন হবে না।”
উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত থাকা রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজ নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নামে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ব্যাপারে ইউজিসি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কলেজগুলোর অধিভুক্তি বাতিল ও নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সহজীকরণের লক্ষ্যে সম্প্রতি ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম ইলিয়াসকে প্রধান করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠন করা হয়েছে। কলেজসমূহ হলো- ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য