শিরোনাম
দেশের মানুষ অপেক্ষায়, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হতে হবে: ফখরুল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেব্রুয়ারি মাসেই হবে। দেশের মানুষ ভোটের অপেক্ষায়। লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আলোচনা করে এ সময় নির্ধারণ করেছেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার বেলা সোয়া ৩টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ‘ছাত্র সমাবেশে’ বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সামনে এখন লড়াই হলো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা; আমরা সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেব লন্ডনে বসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন যে ফেব্রুয়ারি মাসেই নির্বাচন হবে। গোটা দেশের মানুষ অপেক্ষা করে আছে ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে। তার আগে গোটা দেশের মানুষ অপেক্ষা করে আছেন তারেক রহমান সাহেব কবে দেশে ফিরে আসবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু ৩৬ দিন নয়; গত ১৫ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য প্রাণ দিয়েছে ছাত্র-জনতা। তাদের প্রাণ দেওয়ার লক্ষ্য একটাই—সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণ।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভাপতিত্ব করছেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
শেখ হাসিনাকে এই দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেবো না : মির্জা ফখরুল
শেখ হাসিনাকে এদেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আজকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অনেক চেষ্টা করা হচ্ছে বাংলাদেশে বিভক্তি সৃষ্টি করার।
তিনি বলেন, আমাদের পাশের দেশে ভারতবর্ষে ফ্যাসিস্ট হাসিনা আশ্রয় নিয়েছে তার লোকবল নিয়ে। সেখান থেকে মাঝেমধ্যে হুমকি দিচ্ছে তারা বাংলাদেশে আক্রমণ করবে। শুধু তাই নয়, এখানে তারা গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আজকের এই সমাবেশ থেকে শপথ নিতে হবে, আমরা কোনোদিনই ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে এই দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেবো না। আমরা কারও কাছে কোনোদিন মাথানত করবো না। আমাদের দেশকে আমরা নেতারা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে গড়ে তুলবো। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান।
রোববার (৩ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে শাহবাগে ছাত্রদল আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, গোটা বাংলাদেশের মানুষ অপেক্ষা করে আছে ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন হবে। আর অপেক্ষা করে আছে তার আগে তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবেন। তিনি আসবেন, আমাদের নেতৃত্ব দেবেন। তিনি আমাদের পথ দেখাবেন।
তিনি বলেন, নতুন একটা সূর্য উঠেছে। এই সূর্য আলোকিত করবে আমাদের সবাইকে। প্রিয় ছাত্র ভাই ও বোনেরা, আমাদের সামনে একটা সুযোগ এসেছে নতুন করে বাংলাদেশকে নির্মাণ করার।
বিএনপির এই বর্ষীয়াণ নেতা বলেন, আজ আমাদের অনেক আনন্দের দিন। আবার একইসঙ্গে কষ্টের দিন। এক বছর আগে এইদিনে আমরা অনেক ছাত্র ভাই-বোনকে হারিয়েছি। শুধু ৩৬ দিন নয়, এর আগেও অনেকে প্রাণ দিয়েছেন, সংগ্রাম করেছেন। এই যে প্রাণ দেওয়া, এই যে ত্যাগ-এর উদ্দেশ্য একটাই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সবাইকে শপথ নিতে হবে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার লোকজন যেন আর কখনও দেশটাকে ধ্বংস না করতে পারে। জুলাই আন্দোলনে রংপুরের আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের ওয়াসিমসহ শত শত ছাত্র প্রাণ দিয়েছে। গত ১৫ বছরেও অনেকে প্রাণ দিয়েছে। আমাদের ছাত্ররা প্রাণ দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আমাদের ছাত্ররা সুশাসন চায়, স্বাধীনতা চায়, কর্মসংস্থান চায়।
ছাত্র সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া বিএনপির সিনিয়র নেতারা ছাত্রসমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
এনসিপির সমাবেশ শুরু
জুলাই বিপ্লবে শহীদ ইমাম হাসান তায়েবের ভাই রবিউল আউয়ালের আবেগঘন বক্তব্যের মাধ্যমে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণার সমাবেশ শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
রোববার (৩ আগস্ট) বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ সমাবেশ শুরু হয়।
শহীদ ইমাম হাসানের ভাই রবিউল আউয়াল বলেন, আমার ভাই জীবনের বিনিময়ে যে স্বপ্ন দেখেছিল, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আজকের এই সমাবেশ। আমি চাই, এভাবে আর কোনো ভাই তার আদরের টুকরা ভাইকে না হারাক, কোনো মায়ের বুক খালি না হোক, বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে মাথা তুলে দাঁড়াক।
এদিকে সমাবেশস্থলে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে স্থাপিত বড় আকারের কয়েকটি স্ক্রিনে প্রদর্শিত হচ্ছে জুলাই আন্দোলনের নানা গুরুত্বপূর্ণ ভিডিওচিত্র, যা আন্দোলনের ইতিহাস ও প্রেক্ষাপটকে জীবন্ত করে তুলছে।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাবেশে তারা ২৪ দফা বিশিষ্ট ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করবেন। এই ইশতেহারে দেশ পরিচালনার নীতি, পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, প্রবাসনীতি এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পাবে।
নেতাকর্মীরা বলছেন, এই সমাবেশ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়- এটি শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দৃঢ় শপথ ও ঐক্যের প্রতীক।
চবিতে নতুন সংগঠন বিপ্লবী ছাত্র ঐক্যের আত্মপ্রকাশ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে নতুন অরাজনৈতিক সংগঠন 'বিপ্লবী ছাত্র ঐক্য'র আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।
রোববার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ভবনের সামনে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে।
কমিটির অন্যান্যদের মধ্যে সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক জোবায়ের হোসেন সোহাগ, যুগ্ন আহ্বায়ক(দপ্তর) নুরুন্নবী সোহান, যুগ্ন সদস্য সচিব এস এইচ সোহেল, মুখ্য সংগঠক মশিউর রহমান সোহাগ।
এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আমরা সবসময় সোচ্চার ছিলাম। কিন্তু আমরা গভীরভাবে উপলব্ধি করি যে, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের জন্য কোনো অরাজনৈতিক প্লাটফর্ম নেই। তাই আমরা শিক্ষার্থীদের অধিকার কেন্দ্রীক একটি অরাজনৈতিক প্লাটফর্ম থাকা জরুরী মনে করছি। সেই লক্ষ্যে একটি নতুন সংগঠন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। যার নাম হবে 'বিপ্লবী ছাত্র ঐক্য'।
বিপ্লবী ছাত্র ঐক্য শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, শোষণ ও বৈষম্যর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায় ভিত্তিক অধিকার আদায়ে কাজ করবে।
এসময় তারা সংগঠনটির ৫টি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সেগুলো হল - বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সেমিনার, পাঠ চক্র, শিক্ষার্থীদের ন্যায় ভিত্তিক দাবী আদায়ে পদক্ষেপ, পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি ও কর্মসূচি।
শহীদ মিনারে জড়ো হচ্ছেন এনসিপি নেতা-কর্মীরা, প্রস্তুত মঞ্চ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে গত বছরের ৩ আগস্ট রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাবেশে সরকার পতন ও ফ্যাসিবাদ বিলোপের এক দফা দাবি ঘোষণা করা হয়েছিল। সে দিনটির বর্ষপূর্তিতে রোববার (৩ আগস্ট) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিকেল ৪ টায় সমাবেশটি শুরু হবে। সমাবেশ থেকে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করা হবে।
রোববার (৩ আগস্ট) বেলা আড়াইটায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, শহীদ মিনারে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দলটি। ইতিমধ্যে প্রস্তুত হয়ে গেছে মঞ্চ। মঞ্চের চারপাশে লাগানো ডিজিটাল পর্দায় জুলাইয়ের উপর বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হচ্ছে।
সমাবেশস্থলে এরই মধ্যে কিছু নেতাকর্মীর উপস্থিত হয়েছে। তবে সময়ের সাথে সাথে উপস্থিতি বাড়ছে। এখন পর্যন্ত দলের শীর্ষ কোনো নেতাকে সমাবেশস্থলে দেখা যায়নি।
এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর অঞ্চলের তত্ত্ববধায়ক ও সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) মোস্তাক আহমেদ শিশির বলেন, ‘জুলাইয়ের অসম্পূর্ণ কাজের উপর আমাদের নেতারা কথা বলবেন। সমাবেশে লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি। ঢাকা মহানগর উত্তর থেকে আমাদের ১০ থেকে ১৫ হাজার নেতাকর্মী আসবে।’
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য