শিরোনাম
এনসিপির সমাবেশ : দেখানো হচ্ছে জুলাই আন্দোলনের ভিডিও
নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার ঘোষণা করতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশের আয়োজন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সমাবেশকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছেন সমাবেশস্থলে।
রোববার (৩ আগস্ট) বিকেল ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ শুরু হবে।
সমাবেশস্থল ঘুরে দেখা গেছে, দলটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন জেলা থেকে আসতে শুরু করেছেন। তবে বিকেল ৪টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনও নেতাকর্মীদের তেমন ভিড় দেখা যায়নি। উপস্থিত আছেন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা।
সমাবেশস্থলে শহীদ মিনারের বেদীর দুই পাশে বড় দুটি প্রজেক্টর লাগানো হয়েছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি মনিটর লাগানো হয়েছে। এসব মনিটরে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন ভিডিও দেখানো হচ্ছে।
জয়পুরহাট থেকে আসা এনসিপিকর্মী হাসান বলেন, আজকে ঐতিহাসিক ইশতেহার দেবে এনসিপি। এই ইশতেহার নতুন বাংলাদেশের সূচনা করবে। আমাদের ইশতেহারে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও দেশের জনগণের কল্যাণ নিহিত থাকবে।
দলটির একটি সূত্র জানিয়েছে, শহীদ মিনারের এই সমাবেশে নতুন বাংলাদেশ কেমন হবে তার রূপরেখা তুলে ধরে ২৪টি পয়েন্ট বা ইশতেহার ঘোষণা করা হবে। যেখানে, পররাষ্ট্রনীতি, খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতির পলিসি, কীভাবে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে, প্রবাসীদের নিয়ে দলটির পরিকল্পনা, নগরায়ন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এই সবকিছু নিয়ে দলটির পরিকল্পনা ইশতেহারে তুলে ধরা হবে।
নির্বাচন কমিশন মেরুদণ্ডহীন, সংশোধনের সুযোগ দিচ্ছি: এনসিপি
নির্বাচন কমিশন মেরুদণ্ডহীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন একটি মেরুদণ্ডহীন প্রতিষ্ঠান এবং দলীয় উর্দি পরে একটি দলের হয়ে কাজ করছে। তারা সেটা তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছে। আমরা তাদেরকে এখনও সংশোধনের সুযোগ দিচ্ছি।’
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘গত ১৫ বছরে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। আর এখন কেউ ভোট দিতে চাইলেও সেটাকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ, এতদিন ভোট দেওয়ার অধিকার বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। আর এখন ভোট নেওয়ার অধিকার বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। আমরা যতই এই ইলেকশন কমিশনকে দেখতে পাচ্ছি ততই বুঝতে পারছি যে এটা মেরুদণ্ডহীন প্রতিষ্ঠান।’
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ‘যতটুকু এখন পর্যবেক্ষণ করছি, আরো ডে বাই ডে সেটাতে আমরা দেখতে পাচ্ছি- এটার (নির্বাচন) অধিকাংশ অঙ্গ জুড়ে হলো সামরিক উর্দি পরা পোশাকে এবং বাকি যতটুক তারা আছে সেটা আবার দলীয় পোশাকে আবৃত্ত।’
এই কমিশনের অধীনেই যদি ভোট হয় শেষ পর্যন্ত আপনারা ভোটে যাবেন কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা বলেছি যে, ভোট গত ১৫ বছরে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এখন জনগণ যদি আমাকে ভোট দিতে আসে, আর আমাকে যদি বাধাগ্রস্ত করা হয় ভোট নেওয়ার জন্য, সেখানে আমি বুঝবো আমাকে ভোট নিতে দেবে না। যদি আমাকে ভোট না দিতে দেয় তারা তাহলে আমি কেন অংশগ্রহণ করব?’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু এই প্রক্রিয়াটা এখনও এন্ডিং প্রসেসে আসেনি। আমরা প্রতিনিয়ত তাদের সঙ্গে দেখা করছি, কথা বলছি। তাদের যে ভুলগুলো দেখিয়ে দিচ্ছি। তাদের আমরা কারেকশনের সুযোগ দিচ্ছি। ইলেকশন কমিশন যদি সামরিক উর্দি পরে দলীয় উর্দি পরে তার মেরুদণ্ড বিকিয়ে দিতে চায় এবং ভোট না দিতে চায় তাহলে আমরা ফাইনালি হয়তোবা এই সিদ্ধান্তে যেতে বাধ্য হবো।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা তাদের এখনও সুযোগ দিচ্ছি, তাদের সে শুভোদয় হোক এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আসুক। ভোট নেওয়ার প্রসেস তারা শুরু করে, যেন বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা সচেষ্ট।’
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় সিইসির সঙ্গে এনসিপি প্রতিনিধি দলেট বৈঠক শুরু হয়। এক ঘণ্টার বৈঠকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ ও যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা।
বৈঠকে দলের নিবন্ধন আবেদনের ছোটোখাটো ত্রুটি সংশোধনে কাগজপত্র জমা দেন এনসিপি নেতারা। এসব কাগজপত্র জমা দেওয়ার আজই শেষ দিন।
এর আগে এনসিপিসহ ১৪৪টি নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আবেদন যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মধ্য জুলাইয়ে ইসির পক্ষে এ চিঠি দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধি দল ইসিতে আসেন।
এনসিপির নিবন্ধন আবেদনের প্রাথমিক যাচাই শেষে ইসি ছয়টি বিষয়ে তথ্য ঘাটতি বা ত্রুটি চিহ্নিত করে ৩ অগাস্টের মধ্যে তা পূরণ করতে বলে। এসব তথ্য ঘাটতি বা ত্রুটির মধ্যে রয়েছে- সব জেলা দপ্তরের তালিকা, দুটি জেলা দপ্তরের ভাড়া চুক্তি, ২৫ উপজেলার সদস্য তালিকা, তহবিলের পরিমাণ ও উৎস, কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্বাক্ষর, দলীয় গঠনতন্ত্র সংবিধান পরিপন্থি নয়- এমন প্রত্যয়ন এবং প্রার্থী মনোনয়নে প্যানেল করার বিধান।
ঢাকায় আ. লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ১৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রোববার (৩ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গতরাতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের ১৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের নামে বিভিন্ন স্থানে মামলা রয়েছে। কারও কারও নামে একাধিক মামলাও রয়েছে।
ছাত্রদলের সমাবেশ শুরুর আগে শাহবাগে জনস্রোত
ছাত্র সমাবেশে যোগ দিতে রাজধানীর শাহবাগে জড়ো হচ্ছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশ করছে সংগঠনটি।
বোরবার বেলা আড়াইটায় এ সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে আগেই সারা দেশ থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ঢাকায় আসার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।
আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেখা যায়, সমাবেশকে কেন্দ্র করে শাহবাগ মোড়ে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। মূল মঞ্চের কাজ শেষ হলেও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলমান আছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মী এসে জড়ো হচ্ছে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়ছে। খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে মিলছে সমাবেশস্থলে। থেমে থেমে নেতাকর্মীদের স্লোগান দিতে দেখা গেছে। কারো কারো হাতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা দেখা গেছে। অনেকে এদিক-সেদিক ঘুরাফেরা করছেন। শাহবাগ এলাকায় পাবলিক যান চলাচল বন্ধ থাকায় রাস্তার উপরে অনেকে বসে পড়েছেন।
প্রত্যন্ত জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীরা রাজধানীর গরম আর দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি ভুলে স্লোগানে নিজেদের উজ্জীবিত রাখছেন। ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’, ‘খালেদা জিয়া ভয় নাই’, ‘জিয়ার সৈনিক একমহও’, ‘রহমান, তারেক, রহমাম, তারেক’, ‘জিয়া আমার চেতনা, জিয়া আমার বিশ্বাস’—এমন সব স্লোগানে মুখরিত শাহবাগ মোড়।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, শাহবাগে আজ ছাত্রদলের ঐতিহাসিক ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। শাহবাগে অতীতে যতো রাজনৈতিক ও ছাত্র সমাবেশ হয়েছে, সবচেয়ে বড় ছাত্র সমাবেশ ছাত্রদল আজ উপহার দিবে।
তিনি বলেন, আজকের সমাবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে গত ১৭ বছর ব্যহত করা হয়েছিল। তরুণরা নিজেদের জীবনের বিনিময়ে খুনি শেখ হাসিনাকে বিতাড়িত করেছে। সেই তরুণদের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের মাধ্যমে আজকে সমাবেশকে সফল করবো। কয়েক লক্ষাধিক নেতাকর্মী এ সমাবেশে যোগ দিবেন। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের বৃহৎ অংশ এ সমাবেশে যোগ দিবেন বলে আশা প্রকাশ করেন নাছির।
লক্ষ্মীপুর পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বারাকাত সৌরভ নেতাকর্মীদের নিয়ে শাহবাগে উপস্থিত হয়েছেন। তার নেতৃত্বে আসা কর্মীরাও সক্রিয়ভাবে স্লোগানে অংশ নিচ্ছেন।
সৌরভ বলেন, আমরা অনেক দূর থেকে এসেছি। সমাবেশ শুরু না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা ধরে রাখতে একটানা স্লোগান দিয়ে যাচ্ছি। এই স্লোগানের ধারাবাহিকতা সমাবেশ শেষ পর্যন্ত বজায় থাকবে।
ছাত্রদলের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। সভাপতিত্ব করবেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সঞ্চালনা করবেন সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।
গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগরবাসীকে শাহবাগ এড়িয়ে বিকল্প পথে চলাচলের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
রাজধানীতে এনসিপি ও ছাত্রদলের সমাবেশ আজ
- শহিদ মিনার থেকে ‘জাতীয় ইশতেহার’ ঘোষণা করবে এনসিপি
- শাহবাগে বৃহৎ জমায়েতের টার্গেট ছাত্রদলের
- জুলাই সনদের ভিত্তিতে পরবর্তী নির্বাচন হতে হবে :নাহিদ ইসলাম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নানা কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ রাজধানীতে সমাবেশ করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে গঠিত দল এনসিপির দেশব্যাপী পদযাত্রা শেষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আয়োজিত আজকের সমাবেশ থেকে ‘জাতীয় ইশতেহার’ ঘোষণা করবে দলটি। বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদের দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে, দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে ‘ছাত্র সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর শাহবাগে। এদিকে সাইমুম শিল্পগোষ্ঠীর আয়োজনে চারদিন ব্যাপী ৩৬ জুলাই কালচারাল ফেস্ট ‘জুলাই জাগরণ’ অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিনের কর্মসূচি চলবে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।
আজকের সমাবেশের প্রস্তুতি জানাতে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেছে এনসিপি। সংবাদ সম্মেলনে দলটির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘জুলাই সনদের ভিত্তিতেই পরবর্তী নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচনী সংসদের হাতে সংস্কার কার্যক্রম ছেড়ে দিব না বরং জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংসদ বা গণপরিষদ গঠিত হবে। এই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই জুলাই সনদ কার্যকর করতে হবে।’ এছাড়া জুলাই ঘোষণাপত্রের সাংবিধানিক স্বীকৃতি থাকতে হবে বলে দাবি করেছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্রের সাংবিধানিক স্বীকৃতি থাকতে হবে এবং জুলাই সনদের ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচন ও সংসদ গঠিত হতে হবে।’ আজকের সমাবেশ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম জানান, শহীদ মিনারে আমাদের জুলাই পদযাত্রার পরিসমাপ্তি হবে। নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার হবে যেখানে এনসিপির পক্ষ থেকে আমরা রূপরেখা এবং কর্মসূচি ঘোষণা করব। সবাইকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য।
সমাবেশ উপলক্ষে সর্বসাধারণের ভোগান্তি প্রসঙ্গে এনসিপির আহবায়ক বলেন, ‘আগামীকাল এইচএসসি পরীক্ষা রয়েছে। দুই বেলা পরীক্ষার পাশাপাশি আরেকটি ছাত্র সংগঠনের সমাবেশ রয়েছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শহিদ মিনারে কর্মসূচি ছিল। আমাদের অনুরোধে তারা সেখান থেকে সরে এসে শাহবাগে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য আমরা তাদেরকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। যেহেতু দুইটি প্রোগ্রাম থাকবে সাথে পরীক্ষাও থাকবে সেজন্য যানজট হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমরা ঢাকাবাসীর কাছে অগ্রিম দুঃখ প্রকাশ করছি। ৩ আগস্ট ঐতিহাসিক দিন। না হলে আমরা বন্ধের দিনে আয়োজন করতাম। তারপরও আমাদের জায়গা থেকে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকব।’
জুলাই সনদ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ বলেন, ‘আমাদেরকে এখনো নতুন বাংলাদেশের লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে। জুলাই পদযাত্রা মূলত বিচার, সংস্কার এবং নতুন সংবিধানের দাবিতে ছিল। পাশাপাশি আমরা জুলাই সনদের কথাও বলেছিলাম। আমরা জানতে পেরেছি সরকার আগামী ৫ আগস্ট জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে যাচ্ছে। আমরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। পাশাপাশি আমাদের দাবি ছিল ৫ আগস্টের মধ্যে যাতে জুলাই সনদের সুরাহা হয়। এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে কিছুকিছু জায়গায় দ্বিমত রয়েছে। যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে সেসব বিষয়ে এখনও ঐকমত্য কমিশনের পরিকল্পনা জানানো হয়নি। আমরা ঐকমত্য কমিশনে যে প্রশ্নটি তুলেছি এটার বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে তবে সেটি নিয়ে কমিশন কোনো কথা বলেনি। বাস্তবায়ন পদ্ধতির সুরাহা হলে সকল দল এতে স্বাক্ষর করবে। তিনি আরও বলেন, ‘এক বছরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল তার পূর্ণতা পায়নি। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল। জুলাই সনদের মাধ্যমে হয়তো এর আংশিক প্রাপ্তি পাওয়া যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’
শাহবাগে বৃহৎ জমায়েতের টার্গেট ছাত্রদলের
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আজকের সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। গঠন করা হয়েছে প্রায় ৯০টি সাংগঠনিক টিম। দেশের সব জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীদের এতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারের সদস্য ও আহতদেরও এই সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এ সমাবেশে সারা দেশে থেকে নেতাকর্মীদের সমাগম ঘটিয়ে শক্তিমত্তা প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির। তবে গতানুগতিক কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে এবারের ছাত্র সমাবেশ কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে করতে চান নেতারা। এজন্য সমাবেশে অংশগ্রহণ নিয়ে নেতাকর্মীদের প্রতি ছয় দফা বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ছাত্রদল। এর মধ্যে রয়েছে সমাবেশে কোনো ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে আসা যাবে না। সমাবেশের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক ইউনিটকে থাকতে হবে। কাঁটাবন মোড় থেকে আজিজ সুপার মার্কেট ও পিজি হাসপাতালের মাঝের গলি দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত পরিবহনকে চলাচলে সার্বিক সহায়তা করতে হবে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীকে বহনকারী কোনো ইউনিটের গাড়ি কোনো অবস্থাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। ব্যক্তিগত শোডাউন ও মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসা যাবে না। সমাবেশ শেষে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের নির্ধারিত স্থান পরিষ্কার করে যেতে হবে।
সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ইত্তেফাককে বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদল রাজপথের ভ্যানগার্ড হিসাবে কাজ করেছে। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনেও ছিল অগ্রণী ভূমিকা। ওই আন্দোলনে শুধু ছাত্রদলেরই ১৪২ নেতাকর্মী শহিদ হয়েছেন। আমরা এই সমাবেশ থেকে জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগ করা জাতির বীর সন্তানদের স্মরণ করব। এছাড়া এই সমাবেশ থেকে দেশ গঠনে ছাত্রসমাজকে সম্পৃক্ত করতে আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বিগত দিনের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার গণতান্ত্রিক দাবিও উঠে আসবে বলে জানান ছাত্রদল সভাপতি।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য