শিরোনাম
রাজধানীতে এনসিপি ও ছাত্রদলের সমাবেশ আজ
- শহিদ মিনার থেকে ‘জাতীয় ইশতেহার’ ঘোষণা করবে এনসিপি
- শাহবাগে বৃহৎ জমায়েতের টার্গেট ছাত্রদলের
- জুলাই সনদের ভিত্তিতে পরবর্তী নির্বাচন হতে হবে :নাহিদ ইসলাম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নানা কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ রাজধানীতে সমাবেশ করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে গঠিত দল এনসিপির দেশব্যাপী পদযাত্রা শেষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আয়োজিত আজকের সমাবেশ থেকে ‘জাতীয় ইশতেহার’ ঘোষণা করবে দলটি। বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদের দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে, দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে ‘ছাত্র সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর শাহবাগে। এদিকে সাইমুম শিল্পগোষ্ঠীর আয়োজনে চারদিন ব্যাপী ৩৬ জুলাই কালচারাল ফেস্ট ‘জুলাই জাগরণ’ অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিনের কর্মসূচি চলবে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।
আজকের সমাবেশের প্রস্তুতি জানাতে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেছে এনসিপি। সংবাদ সম্মেলনে দলটির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘জুলাই সনদের ভিত্তিতেই পরবর্তী নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচনী সংসদের হাতে সংস্কার কার্যক্রম ছেড়ে দিব না বরং জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংসদ বা গণপরিষদ গঠিত হবে। এই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই জুলাই সনদ কার্যকর করতে হবে।’ এছাড়া জুলাই ঘোষণাপত্রের সাংবিধানিক স্বীকৃতি থাকতে হবে বলে দাবি করেছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্রের সাংবিধানিক স্বীকৃতি থাকতে হবে এবং জুলাই সনদের ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচন ও সংসদ গঠিত হতে হবে।’ আজকের সমাবেশ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম জানান, শহীদ মিনারে আমাদের জুলাই পদযাত্রার পরিসমাপ্তি হবে। নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার হবে যেখানে এনসিপির পক্ষ থেকে আমরা রূপরেখা এবং কর্মসূচি ঘোষণা করব। সবাইকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য।
সমাবেশ উপলক্ষে সর্বসাধারণের ভোগান্তি প্রসঙ্গে এনসিপির আহবায়ক বলেন, ‘আগামীকাল এইচএসসি পরীক্ষা রয়েছে। দুই বেলা পরীক্ষার পাশাপাশি আরেকটি ছাত্র সংগঠনের সমাবেশ রয়েছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শহিদ মিনারে কর্মসূচি ছিল। আমাদের অনুরোধে তারা সেখান থেকে সরে এসে শাহবাগে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য আমরা তাদেরকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। যেহেতু দুইটি প্রোগ্রাম থাকবে সাথে পরীক্ষাও থাকবে সেজন্য যানজট হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমরা ঢাকাবাসীর কাছে অগ্রিম দুঃখ প্রকাশ করছি। ৩ আগস্ট ঐতিহাসিক দিন। না হলে আমরা বন্ধের দিনে আয়োজন করতাম। তারপরও আমাদের জায়গা থেকে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকব।’
জুলাই সনদ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ বলেন, ‘আমাদেরকে এখনো নতুন বাংলাদেশের লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে। জুলাই পদযাত্রা মূলত বিচার, সংস্কার এবং নতুন সংবিধানের দাবিতে ছিল। পাশাপাশি আমরা জুলাই সনদের কথাও বলেছিলাম। আমরা জানতে পেরেছি সরকার আগামী ৫ আগস্ট জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে যাচ্ছে। আমরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। পাশাপাশি আমাদের দাবি ছিল ৫ আগস্টের মধ্যে যাতে জুলাই সনদের সুরাহা হয়। এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে কিছুকিছু জায়গায় দ্বিমত রয়েছে। যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে সেসব বিষয়ে এখনও ঐকমত্য কমিশনের পরিকল্পনা জানানো হয়নি। আমরা ঐকমত্য কমিশনে যে প্রশ্নটি তুলেছি এটার বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে তবে সেটি নিয়ে কমিশন কোনো কথা বলেনি। বাস্তবায়ন পদ্ধতির সুরাহা হলে সকল দল এতে স্বাক্ষর করবে। তিনি আরও বলেন, ‘এক বছরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল তার পূর্ণতা পায়নি। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল। জুলাই সনদের মাধ্যমে হয়তো এর আংশিক প্রাপ্তি পাওয়া যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’
শাহবাগে বৃহৎ জমায়েতের টার্গেট ছাত্রদলের
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আজকের সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। গঠন করা হয়েছে প্রায় ৯০টি সাংগঠনিক টিম। দেশের সব জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীদের এতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারের সদস্য ও আহতদেরও এই সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এ সমাবেশে সারা দেশে থেকে নেতাকর্মীদের সমাগম ঘটিয়ে শক্তিমত্তা প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির। তবে গতানুগতিক কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে এবারের ছাত্র সমাবেশ কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে করতে চান নেতারা। এজন্য সমাবেশে অংশগ্রহণ নিয়ে নেতাকর্মীদের প্রতি ছয় দফা বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ছাত্রদল। এর মধ্যে রয়েছে সমাবেশে কোনো ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে আসা যাবে না। সমাবেশের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক ইউনিটকে থাকতে হবে। কাঁটাবন মোড় থেকে আজিজ সুপার মার্কেট ও পিজি হাসপাতালের মাঝের গলি দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত পরিবহনকে চলাচলে সার্বিক সহায়তা করতে হবে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীকে বহনকারী কোনো ইউনিটের গাড়ি কোনো অবস্থাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। ব্যক্তিগত শোডাউন ও মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসা যাবে না। সমাবেশ শেষে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের নির্ধারিত স্থান পরিষ্কার করে যেতে হবে।
সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ইত্তেফাককে বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদল রাজপথের ভ্যানগার্ড হিসাবে কাজ করেছে। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনেও ছিল অগ্রণী ভূমিকা। ওই আন্দোলনে শুধু ছাত্রদলেরই ১৪২ নেতাকর্মী শহিদ হয়েছেন। আমরা এই সমাবেশ থেকে জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগ করা জাতির বীর সন্তানদের স্মরণ করব। এছাড়া এই সমাবেশ থেকে দেশ গঠনে ছাত্রসমাজকে সম্পৃক্ত করতে আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বিগত দিনের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার গণতান্ত্রিক দাবিও উঠে আসবে বলে জানান ছাত্রদল সভাপতি।
ছাত্রদল ও এনসিপির সমাবেশ
রোববার শাহবাগ এলাকায় যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে পুলিশ
আগামীকাল রোববার রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে ‘ছাত্র সমাবেশ’ করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদের’ দাবিতে সমাবেশ করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘জুলাই জাগরণ’ অনুষ্ঠান করবে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী।
এ তিন কর্মসূচি ঘিরে শাহবাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিপুল জনসমাগম হতে পারে, এমন ধারণা থেকে এদিন শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ কারণে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সময় নিয়ে কেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
শনিবার (২ আগস্ট) ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রোববার সভা-সমাবেশ ও অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে শাহবাগ, শহীদ মিনার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় প্রচুর জনসমাগম ঘটবে। ফলে ওই এলাকা বিশেষ করে শাহবাগ ক্রসিং দিয়ে যানচলাচল করানো সম্ভব হবে না। এমতাবস্থায় ঢাকাবাসীকে ডাইভারশন মেনে বিকল্প পথে চলাচলের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, রোববার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শাহবাগ মোড়ে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে ‘ছাত্র সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হবে।
বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদের’ দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির জনসমাবেশ।
এ ছাড়া সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (১-৪ অগস্ট) প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কালচারাল ফেস্ট ‘জুলাই জাগরণ’ চলমান রয়েছে।
ডাইভারশন পয়েন্ট এবং বিকল্প সড়ক
হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় : সোনারগাঁও সিগন্যাল/বাংলামোটর ক্রসিং হয়ে উত্তর দিক থেকে আগত যানবাহনগুলো হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং এ সোজা শাহবাগের দিকে না গিয়ে বামে মোড় নিয়ে হেয়ার রোড/মিন্টু রোড হয়ে যাতায়াত করবে।
কাটাবন মোড় : সায়েন্সল্যাব ক্রসিং হয়ে পশ্চিম দিক থেকে আগত যানবাহনগুলো কাটাবন মোড় থেকে শাহবাগের দিকে না গিয়ে ডানে মোড় নিয়ে নীলক্ষেত/পলাশী হয়ে অথবা কাটাবন মোড় থেকে বামে মোড় নিয়ে সোনারগাঁও (হাতিরপুল) রোড হয়ে বাংলামোটর লিংক রোড দিয়ে চলাচল করবে।
মৎস্য ভবন মোড় : হাইকোর্ট/কদম ফোয়ারা ক্রসিং হয়ে আগত যানবাহনগুলো মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগের দিকে না গিয়ে সোজা হেয়ার রোড/শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণি (মগবাজার রোড) হয়ে চলাচল করবে।
অপরদিকে কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং হয়ে উত্তর দিক থেকে আগত যানবাহন মৎস্যভবন ক্রসিং থেকে শাহবাগের দিকে না গিয়ে সোজা হাইকোর্ট হয়ে গুলিস্তান/ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে চলাচল করবে।
টিএসসি/রাজু ভাস্কর্য : নীলক্ষেত ক্রসিং/দোয়েল চত্বর ক্রসিং থেকে আসা যানবাহন টিএসটি/রাজু ভাস্কর্য ক্রসিংয়ে এসে শাহবাগের দিকে না গিয়ে দোয়েল চত্বর/নীলক্ষেত ক্রসিং হয়ে চলাচল করবে।
এছাড়া শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়ক এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশ পথ যথাসম্ভব পরিহার করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।
এ কারণে ঢাকাবাসীকে বিশেষ করে এইচএসসি ও বিসিএস পরীক্ষার্থীদের যথেষ্ট সময় নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে গণবিজ্ঞপ্তিতে।
ঢাকাবাসীর প্রতি ছাত্রদলের অগ্রিম দুঃখ প্রকাশ
রাজধানীর শাহবাগে ছাত্রদলের ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে রোববার (৩ আগস্ট)। এ সমাবেশকে ঘিরে সৃষ্টি হতে যাওয়া জনদুর্ভোগের জন্য রাজধানীবাসীর প্রতি অগ্রিম দুঃখ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
এক বিবৃতিতে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির জানান, গত জুন মাসে আমরা আমাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণায় শুরুতে ৩ আগস্টে জাতীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করি। কিন্তু পরে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে তাদের সমাবেশ করার বিষয়ে আমাদের নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে একাধিকবার যোগাযোগ ও অনুরোধ করেন। শহীদ মিনারের সমাবেশের বিষয়ে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস থেকে অনুমতিও গ্রহণ করেছিলাম। এই দিনে শহীদ মিনারে সমাবেশ করার বিষয়ে আমরাই ছিলাম একমাত্র বৈধ দাবিদার। কিন্তু পরে একটি উদার, গণতান্ত্রিক, পরমতসহিঞ্চু, সব মত ও পথের সহাবস্থানে বিশ্বাসী ছাত্রসংগঠন হিসেবে আমরা শহীদ মিনারে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে শাহবাগে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।
তিনি আরও বলেন, ব্যস্ত রাজধানীতে কর্মদিবসে সমাবেশের জনভোগান্তি সম্পর্কে আমরা অবগত। এতদসত্ত্বেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই গুরুত্বপূর্ণ স্মরণীয় দিনটিতে আমাদেরকে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির বৃহৎ ঐক্যের স্বার্থে বৃহত্তম ছাত্রসংগঠন হিসেবে দায়িত্বশীলতা ও উদারতার জায়গা থেকে সমাবেশের স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে।
আমরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আগামীকালের যেকোনো ধরনের জনদুর্ভোগের জন্য অগ্রিম দুঃখ প্রকাশ করছি। প্রত্যাশা করছি, সম্মানিত নগরবাসী বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করবেন। একটি দায়িত্বশীল ছাত্রসংগঠন হিসেবে ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আমরা আরও অধিকতর সচেতন থাকবো।
লন্ডনে লোকাল বাসের অপেক্ষায় তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুক্রবার লন্ডনে সাধারণ যাত্রীদের মতো লোকাল বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
গতকাল (১ আগস্ট) ঘটনাটির কিছু স্থিরচিত্র বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
সেখানে ক্যাপশনে বলা হয়েছে, আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে বসবাসকালে কোনো ভিআইপি সুবিধা গ্রহণ না করে সাধারণ মানুষের মতো লোকাল বাসে চলাচল করেন—যা তার বিনয়, সাধারণ জীবনযাপন এবং জনগণের সঙ্গে আত্মিক সংযোগের প্রকৃত প্রতিফলন।
বিস্তারিত পড়ুনছবিগুলো ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই তারেক রহমানের সাধারণ জীবনযাপনকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
ছাত্রদল ট্রেনের ভাড়া পরিশোধ করবে যেভাবে
রাজধানীর শাহবাগে আগামীকাল রোববার (৩ আগস্ট) ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। চট্টগ্রাম থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সমাবেশে অংশ নিতে আসবেন। এ লক্ষ্যে সংগঠনটি রেলওয়ের কাছে ২০ কোচবিশিষ্ট একটি বিশেষ ট্রেনের আবেদন জানায় এবং রেল কর্তৃপক্ষ সেই ট্রেন অনুমোদন দেয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয় থেকে এক জরুরি বার্তায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপককে ট্রেন পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম মহানগরের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে পিএইচটি টাইপ কোচ দিয়ে একজোড়া স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করা হবে। ট্রেনে মোট কোচ থাকবে ২০টি। এসব কোচে মোট আসন থাকবে এক হাজার ১২৬টি। ট্রেনটি ৩ আগস্ট সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে এবং ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৭টায় ছেড়ে ট্রেনটি আবার চট্টগ্রাম পৌঁছাবে ৪ আগস্ট রাত ১টায়।
ট্রেন ভাড়া পরিশোধের বিষয় নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সাইফুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, ঢাকায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সমাবেশে যোগ দিতে আমরা বাসের পাশাপাশি একটি ট্রেন চেয়ে রেলওয়ের কাছে আবেদন করি। রেলওয়ের পক্ষ থেকে একটি ট্রেন ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এর ভাড়া আমরা নিজেরা এবং আমাদের বড় ভাইদের সহযোগিতায় পরিশোধ করছি।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেন পরিচালনার আগে চট্টগ্রামের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা রেলওয়ে বিধি অনুযায়ী ভাড়া ও অন্যান্য চার্জ আদায়ের ব্যবস্থা করবেন।
একইসঙ্গে, ট্রেনের সময়সূচি অনুযায়ী রেক গঠন, ইঞ্জিন ও ক্রু সরবরাহ, পাওয়ার কার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ট্রেন পরিচর্যা, যাত্রীদের নিরাপত্তায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আরএনবি মোতায়েন করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক সমাবেশে গণপরিবহন ব্যবস্থার ব্যবহার ও তার আর্থিক দায়িত্ব নিজ উদ্যোগে নেওয়ার এই পদক্ষেপ ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানা গেছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য