ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

জামায়াত আমিরের বাইপাস সার্জারি শনিবার

অনলাইন ডেস্ক
১ আগস্ট, ২০২৫ ১৩:৫৫
অনলাইন ডেস্ক
জামায়াত আমিরের বাইপাস সার্জারি শনিবার

আগামীকাল শনিবার ২ আগস্ট বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাইপাস সার্জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।


জামায়াত আমিরের দ্রুত সুস্থতা এবং সফল অস্ত্রোপচারের জন্য দেশ-বিদেশে অবস্থানরত দলীয় নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের জনগণের নিকট দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।


বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাতে এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা জানান।


অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রিয় রাহবারের সফল অস্ত্রোপচার ও দ্রুত সুস্থতা কামনায় সবাই যার যার অবস্থান থেকে নফল ইবাদতের মাধ্যমে—নফল সালাত, নফল রোজা ও আল্লাহর রাস্তায় দান-সদকার মাধ্যমে দোয়া করুন।’


তিনি আরও বলেন, ‘আসন্ন জুমার দিনে মসজিদে-মসজিদে দ্বিনি ভাইদের সঙ্গে নিয়ে আমরা দোয়া করতে পারি, যাতে আল্লাহ তা’য়ালা প্রিয় আমিরকে পূর্ণ সুস্থতা ও শক্তি দান করে আবারও দ্বিনের ময়দানে ফিরিয়ে আনেন।’


ডা. শফিকুর রহমানের হৃৎপিণ্ডের তিনটি প্রধান রক্তনালিতে জটিলতা ধরা পড়ায় চিকিৎসকরা বাইপাস সার্জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমিরের জন্য সবার আন্তরিক দোয়া কামনা করা হয়েছে।


গত মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে এনজিওগ্রাম করা হয় ডা. শফিকুর রহমানের। চিকিৎসকরা তার হার্টে তিনটি প্রধান রক্তনালিতে ব্লক ধরা পড়ার কথা জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তার এ অবস্থায় বাইপাস সার্জারি করানোই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।


এর আগে গত ১৯ জুলাই জাতীয় সমাবেশে হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে জামায়াত আমিরকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এনজিওগ্রাম ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার হার্টে গুরুতর ব্লক ধরা পড়ে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    সমাবেশে যোগ দিতে ২০ কোচের ট্রেন ভাড়া করেছে ছাত্রদল

    অনলাইন ডেস্ক
    ১ আগস্ট, ২০২৫ ১২:৪৬
    অনলাইন ডেস্ক
    সমাবেশে যোগ দিতে ২০ কোচের ট্রেন ভাড়া করেছে ছাত্রদল

    রাজধানীর শাহবাগে আগামী ৩ আগস্ট শনিবার ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সমাবেশে চট্টগ্রাম থেকে ছাত্রদের আনতে ২০ কোচের একটি বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছে ছাত্রদল। ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে সমাবেশ শুরুর আগে ঢাকায় এসে আবার সমাবেশ শেষে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাবে।


    বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে একটি জরুরি তারবার্তায় বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার ঢাকা ও চট্টগ্রামকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


    ওই তারবার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম মহানগরের চাহিদার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে পিএইচটি টাইপ কোচ দিয়ে একজোড়া স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করা হবে।


    আরও বলা হয়, ট্রেনে মোট কোচ থাকবে ২০টি। এসব কোচে মোট আসন থাকবে এক হাজার ১২৬টি।


    ট্রেনটি ৩ আগস্ট সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে দুপুর একটা ১৫ মিনিটে। এবং ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৭টায় ছেড়ে ট্রেনটির আবার চট্টগ্রাম পৌঁছাবে ৪ আগস্ট রাত ১টায়।


    তারবার্তায় আরও বলা হয়, বিশেষ ট্রেন পরিচালনার আগে বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা চট্টগ্রাম রেলওয়ের বিধি মোতাবেক ভাড়া ও আনুষঙ্গিক সকল চার্জ আদায়ের ব্যবস্থা করবেন। বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম সময়সূচী অনুযায়ী রেক গঠন ও ট্রেন পরিচালনার ব্যবস্থা করবেন।


    এছাড়া ট্রেনের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও যাবতীয় পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে; ইঞ্জিন ও ক্রু সরবরাহের ব্যবস্থা করতে; ট্রেনের পাওয়ার কার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবস্থা করতে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আরএনবির ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

    প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    এখন বিএনপির নির্বাচন দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণ হচ্ছে : মির্জা ফখরুল

    অনলাইন ডেস্ক
    ৩১ জুলাই, ২০২৫ ১৯:৩১
    অনলাইন ডেস্ক
    এখন বিএনপির নির্বাচন দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণ হচ্ছে : মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গত বছরের ৭ আগস্ট সমাবেশ থেকে তিন-মাসের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছিলাম, তখন সমালোচনা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন বিএনপির নির্বাচন দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণ হচ্ছে।


    আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনাসভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব বলেন।


    মৌলিক সংস্কার করে লন্ডন বৈঠকের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হলে দ্বিধা কেটে যাবে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।


    তিনি বলেন, ‘ম্যাজিকাল দেশ তৈরি করতে চায় সরকার, কিন্তু তা জনগণের মধ্য থেকে আসুক। কিন্তু সরকারের মধ্যে তা দেখতে পাচ্ছি না।’


    সংস্কার নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এত সমস্যার মধ্যেও ১২টাতে ঐকমত্য হয়েছে। বাকিগুলোও আশাবাদী।


    রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া না হলে তিক্ততা তৈরি হবে। লিমিট থাকা উচিত সবার কথা বলার সময়।’


    মন্তব্য

    হাসপাতালে ভর্তি জামায়াত আমির

    অনলাইন ডেস্ক
    ৩১ জুলাই, ২০২৫ ১৯:১৩
    অনলাইন ডেস্ক
    হাসপাতালে ভর্তি জামায়াত আমির

    জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বাইপাস সার্জারির জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বৃহস্পতিবার জামায়াত আমিরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক অ্যাডমিন পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


    পোস্টে বলা হয়েছে, জামায়াত আমিরের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পেয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফোন করে তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার সামগ্রিক খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি ডা. শফিকুর রহমানের আশু রোগমুক্তি কামনা করেন।


    এ জন্য প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। মহান আল্লাহ প্রধান উপদেষ্টাকে উত্তম জাযা দান করুন। আমিন। (এডমিন)


    জামায়াত আমির সম্প্রতি সমাবেশে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরে তার ফলোআপ চিকিৎসার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে এনজিওগ্রাম করা হয়।

    চিকিৎসকরা তার হার্টে তিনটি প্রধান রক্তনালিতে ব্লক ধরা পড়ার কথা জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তার এ অবস্থায় বাইপাস সার্জারি করানোই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।


    প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    এক দিনেই বহিষ্কার ২০ নেতা

    বিতর্কিত নেতাকর্মীদের পুলিশে দেবে বিএনপি

    অনলাইন ডেস্ক
    ৩১ জুলাই, ২০২৫ ১৮:১
    অনলাইন ডেস্ক
    বিতর্কিত নেতাকর্মীদের পুলিশে দেবে বিএনপি

    দলীয় বিশৃঙ্খলা রোধ ও সাংগঠনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার আরও কঠোর ও কৌশলী অবস্থান নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। চাঁদাবাজি-দখল ও বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে দলটি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। এ পর্যায়ে বিতর্কিত নেতাকর্মীদের প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হবে।


    এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা চরমভাবে লঙ্ঘন, সংঘাত-হানাহানি সৃষ্টি, দলীয় এবং চাঁদাবাজি, দখলদারি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত থাকার অভিযোগে গত মঙ্গলবার এক দিনেই ২০ নেতাকে বহিষ্কার ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। মূলত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন জেলায় সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, তদবির বাণিজ্য ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন। দলটি প্রথমে কারণ দর্শাও নোটিশ, ক্ষেত্রবিশেষে বহিষ্কার কিংবা পদ স্থগিতের মতো কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। পাশাপাশি বিশৃঙ্খল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিএনপির পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। যাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হাইব্রিড নেতাকর্মীদের এ বিশৃঙ্খলা বন্ধ করা যায়, সেজন্য দলীয় হাইকমান্ড নানা কৌশলে বিরামহীনভাবে কাজ করছে বলে জানা গেছে।


    মূলত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। যেসব নেতাকর্মী অপরাধ-বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে দলের ইমেজ নষ্ট করতে চায়, তা পর্যবেক্ষণে দলের কজন সিনিয়র নেতা ছাড়াও বিভিন্ন মাধ্যমে তারেক রহমান খোঁজ নিচ্ছেন। যে কারণে অভিযোগ উত্থাপনের সঙ্গে সঙ্গেই বিশৃঙ্খলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। এককথায় দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আরও কঠোর তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—চাঁদাবাজ ও উচ্ছৃঙ্খল নেতাদের কোনো ছাড় নেই। দল দুর্নীতিবাজদের আশ্রয়স্থল হতে পারে না। প্রয়োজনে বহিষ্কার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হবে। এ ছাড়া কৌশলের অংশ হিসেবে কোনো শাখার কোনো নেতাকর্মী দখল-চাঁদাবাজি কিংবা বিশৃঙ্খলা করলে ওই ইউনিট কমিটিও বিলুপ্ত করা হবে। এরই মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ দলীয় কোন্দলের জেরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে যেসব নেতাকর্মী অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি ও বেপরোয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের সাংগঠনিকভাবে তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে।


    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি একটি বড় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেকেই অনেকভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবে—এটিই স্বাভাবিক। দলের কোনো কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নভাবে বিশৃঙ্খলা-অপরাধের অভিযোগ আসছে। তবে অভিযোগ প্রমাণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। অপরাধ করে কেউ পার পাচ্ছেন না। দলের নাম ভাঙিয়ে যারাই কোনো অপকর্মে জড়িত হচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


    জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর তারেক রহমান ও নীতিনির্ধারকদের কঠোরতা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন স্থানে দখল, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠছে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের বেশকিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত তদন্ত করে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্যমতে, আধিপত্য বিস্তার, নেতৃত্বের রেষারেষি ও বিরোধ, মূল সংগঠনের সঙ্গে অঙ্গসংগঠনের মতভিন্নতা, স্বার্থের দ্বন্দ্বে গত বছরের ৭ আগস্ট থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ১১ মাসে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৪৭৮টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮০ জনের বেশি নেতাকর্মী নিহত ও কয়েক হাজার আহত হয়েছেন। অন্যদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ১০ মাসে ৬৮ জন নেতাকর্মী খুন হয়েছেন।


    বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত নানা অভিযোগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৩ হাজার ২৪৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলও পৃথকভাবে নিজ নিজ সংগঠনের বেপরোয়া নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। শাস্তির তালিকায় মূল দল বিএনপির নেতাকর্মী রয়েছেন ১ হাজার ৮০০ জন। তাদের মধ্যে ৮০০ জনকে বহিষ্কার, ৫০ জনের পদ স্থগিত, অন্তত ৭০০ জনকে কারণ দর্শানো নোটিশ, ১০০ জনকে সতর্ক এবং ১৫০ জনকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।


    সর্বশেষ গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এ কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন গোলাম আকবর খন্দকার। ওই ঘটনায় দলীয় পদ হারান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস কাদের চৌধুরীও। পৃথক চিঠিতে তার প্রাথমিক সদস্য পদসহ ভাইস চেয়ারম্যান পদ স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া একই দিনে দলের ভেতরে সংঘাত ও হানাহানি সৃষ্টি করে দলীয় শৃঙ্খলা চরমভাবে লঙ্ঘন করায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, বারৈয়ারহাট পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম মিয়াজী, যুবদল নেতা সিরাজুল ইসলাম ও কামাল উদ্দিনকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া গত ১২ জুলাই ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির কাউন্সিলকে ঘিরে হানাহানি ও সংঘাতের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সৈয়দ আলম এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ড. টিএম মাহবুবুর রহমান এ ধরনের হিংসাত্মক ও অশোভন আচরণের সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদের বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে গতকাল বহিষ্কার করা হয়েছে।


    চাঁদাবাজি, দখলদারি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা ধরনের অপকর্মে লিপ্ত থাকার অভিযোগে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ইমাম হোসেন গাজী, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল মান্নান লস্কর, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া এবং কুমিল্লার লাকসাম পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিউল্লাহকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই দিনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) আট সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। ড্যাবসহ দল ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যসহ কোনো পর্যায়ের পদে আট চিকিৎসকের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকবে না বলে জানিয়েছে বিএনপি। বহিষ্কৃত আট চিকিৎসক হলেন ডা. খায়রুল ইসলাম, ডা. রফিকুল কবির লাবু, ডা. মো. ফারুক হোসেন, ডা. মাহবুব আরেফীন রেজানুর রঞ্জু, ডা. এমএ কামাল, ডা. সৈয়দ ইমতিয়াজ উদ্দিন সাজিদ, ডা. শাওন বিন রহমান ও ডা. রাকিব উজ জামান। বিএনপির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই আট চিকিৎসকের কোনো সংগঠন অন্তর্ভুক্ত করলে সেসব সংগঠনের দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মূলত ড্যাবের আসন্ন কাউন্সিল ঘিরে ড্যাবের সদস্যপদ ইস্যুতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এই আট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল বিএনপি।


    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেননি, এখন পর্যন্ত চার হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছেন। বিএনপি বৃহৎ পরিবার, বিভিন্ন জায়গায় অনেকে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্মের চেষ্টা করছে, তবে এসব জানার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছেন তারেক রহমান। দলের নামে যে কেউ কোনো ধরনের অনৈতিক, অবৈধ, সন্ত্রাসী ও সহিংসতামূলক কর্মকাণ্ড করবে, সে রেহাই পাবে না। একই সঙ্গে কোনো উসকানির মুখে প্রতিক্রিয়া না দেখাতে নেতাকর্মীদের প্রতি তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।


    আলাপকালে বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থাকায় মামলা-হামলাসহ বিভিন্নভাবে তৎকালীন সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়। অনেকে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বছরের পর বছর ছিলেন ছন্নছাড়া। একপর্যায়ে গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পালা বদলের পর দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। আর এ সুযোগে বিচ্ছিন্নভাবে দলের কিছু নেতাকর্মী বিশৃঙ্খলায় জড়াচ্ছেন। অবশ্য দলের কেন্দ্রীয় হাতে গোনা কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ থাকলেও মূলত তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।


    বিএনপির সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা দলের যে স্তরের নেতাকর্মীই হোক না কেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের কারণে দেশব্যাপী যাতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরতে না হয়, সে জন্যই বিএনপির হাইকমান্ড আগেভাগেই সাংগঠনিক শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। যত বড় ত্যাগী নেতাই হোন না কেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ-বিশৃঙ্খলায় জড়িত হলে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে। অন্যদিকে প্রায় ১৬শ জন বহিষ্কৃত নেতাকর্মী তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। তবে এ মুহূর্তে বহিষ্কারাদেশ ব্যাপকভাবে প্রত্যাহার না হলেও নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানা গেছে।


    প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য
    সর্বশেষ সংবাদ
      সর্বাধিক পঠিত