ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

এখন বিএনপির নির্বাচন দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণ হচ্ছে : মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক
৩১ জুলাই, ২০২৫ ১৯:৩১
অনলাইন ডেস্ক
এখন বিএনপির নির্বাচন দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণ হচ্ছে : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গত বছরের ৭ আগস্ট সমাবেশ থেকে তিন-মাসের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছিলাম, তখন সমালোচনা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন বিএনপির নির্বাচন দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণ হচ্ছে।


আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনাসভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব বলেন।


মৌলিক সংস্কার করে লন্ডন বৈঠকের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হলে দ্বিধা কেটে যাবে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।


তিনি বলেন, ‘ম্যাজিকাল দেশ তৈরি করতে চায় সরকার, কিন্তু তা জনগণের মধ্য থেকে আসুক। কিন্তু সরকারের মধ্যে তা দেখতে পাচ্ছি না।’


সংস্কার নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এত সমস্যার মধ্যেও ১২টাতে ঐকমত্য হয়েছে। বাকিগুলোও আশাবাদী।


রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া না হলে তিক্ততা তৈরি হবে। লিমিট থাকা উচিত সবার কথা বলার সময়।’


মন্তব্য

হাসপাতালে ভর্তি জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক
৩১ জুলাই, ২০২৫ ১৯:১৩
অনলাইন ডেস্ক
হাসপাতালে ভর্তি জামায়াত আমির

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বাইপাস সার্জারির জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বৃহস্পতিবার জামায়াত আমিরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক অ্যাডমিন পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


পোস্টে বলা হয়েছে, জামায়াত আমিরের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পেয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফোন করে তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার সামগ্রিক খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি ডা. শফিকুর রহমানের আশু রোগমুক্তি কামনা করেন।


এ জন্য প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। মহান আল্লাহ প্রধান উপদেষ্টাকে উত্তম জাযা দান করুন। আমিন। (এডমিন)


জামায়াত আমির সম্প্রতি সমাবেশে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরে তার ফলোআপ চিকিৎসার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে এনজিওগ্রাম করা হয়।

চিকিৎসকরা তার হার্টে তিনটি প্রধান রক্তনালিতে ব্লক ধরা পড়ার কথা জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তার এ অবস্থায় বাইপাস সার্জারি করানোই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।


প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

এক দিনেই বহিষ্কার ২০ নেতা

বিতর্কিত নেতাকর্মীদের পুলিশে দেবে বিএনপি

অনলাইন ডেস্ক
৩১ জুলাই, ২০২৫ ১৮:১
অনলাইন ডেস্ক
বিতর্কিত নেতাকর্মীদের পুলিশে দেবে বিএনপি

দলীয় বিশৃঙ্খলা রোধ ও সাংগঠনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার আরও কঠোর ও কৌশলী অবস্থান নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। চাঁদাবাজি-দখল ও বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে দলটি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। এ পর্যায়ে বিতর্কিত নেতাকর্মীদের প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হবে।


এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা চরমভাবে লঙ্ঘন, সংঘাত-হানাহানি সৃষ্টি, দলীয় এবং চাঁদাবাজি, দখলদারি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত থাকার অভিযোগে গত মঙ্গলবার এক দিনেই ২০ নেতাকে বহিষ্কার ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। মূলত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন জেলায় সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, তদবির বাণিজ্য ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন। দলটি প্রথমে কারণ দর্শাও নোটিশ, ক্ষেত্রবিশেষে বহিষ্কার কিংবা পদ স্থগিতের মতো কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। পাশাপাশি বিশৃঙ্খল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিএনপির পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। যাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হাইব্রিড নেতাকর্মীদের এ বিশৃঙ্খলা বন্ধ করা যায়, সেজন্য দলীয় হাইকমান্ড নানা কৌশলে বিরামহীনভাবে কাজ করছে বলে জানা গেছে।


মূলত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। যেসব নেতাকর্মী অপরাধ-বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে দলের ইমেজ নষ্ট করতে চায়, তা পর্যবেক্ষণে দলের কজন সিনিয়র নেতা ছাড়াও বিভিন্ন মাধ্যমে তারেক রহমান খোঁজ নিচ্ছেন। যে কারণে অভিযোগ উত্থাপনের সঙ্গে সঙ্গেই বিশৃঙ্খলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। এককথায় দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আরও কঠোর তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—চাঁদাবাজ ও উচ্ছৃঙ্খল নেতাদের কোনো ছাড় নেই। দল দুর্নীতিবাজদের আশ্রয়স্থল হতে পারে না। প্রয়োজনে বহিষ্কার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হবে। এ ছাড়া কৌশলের অংশ হিসেবে কোনো শাখার কোনো নেতাকর্মী দখল-চাঁদাবাজি কিংবা বিশৃঙ্খলা করলে ওই ইউনিট কমিটিও বিলুপ্ত করা হবে। এরই মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ দলীয় কোন্দলের জেরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে যেসব নেতাকর্মী অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি ও বেপরোয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের সাংগঠনিকভাবে তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে।


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি একটি বড় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেকেই অনেকভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবে—এটিই স্বাভাবিক। দলের কোনো কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নভাবে বিশৃঙ্খলা-অপরাধের অভিযোগ আসছে। তবে অভিযোগ প্রমাণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। অপরাধ করে কেউ পার পাচ্ছেন না। দলের নাম ভাঙিয়ে যারাই কোনো অপকর্মে জড়িত হচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর তারেক রহমান ও নীতিনির্ধারকদের কঠোরতা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন স্থানে দখল, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠছে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের বেশকিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত তদন্ত করে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্যমতে, আধিপত্য বিস্তার, নেতৃত্বের রেষারেষি ও বিরোধ, মূল সংগঠনের সঙ্গে অঙ্গসংগঠনের মতভিন্নতা, স্বার্থের দ্বন্দ্বে গত বছরের ৭ আগস্ট থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ১১ মাসে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৪৭৮টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮০ জনের বেশি নেতাকর্মী নিহত ও কয়েক হাজার আহত হয়েছেন। অন্যদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ১০ মাসে ৬৮ জন নেতাকর্মী খুন হয়েছেন।


বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত নানা অভিযোগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৩ হাজার ২৪৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলও পৃথকভাবে নিজ নিজ সংগঠনের বেপরোয়া নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। শাস্তির তালিকায় মূল দল বিএনপির নেতাকর্মী রয়েছেন ১ হাজার ৮০০ জন। তাদের মধ্যে ৮০০ জনকে বহিষ্কার, ৫০ জনের পদ স্থগিত, অন্তত ৭০০ জনকে কারণ দর্শানো নোটিশ, ১০০ জনকে সতর্ক এবং ১৫০ জনকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এ কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন গোলাম আকবর খন্দকার। ওই ঘটনায় দলীয় পদ হারান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস কাদের চৌধুরীও। পৃথক চিঠিতে তার প্রাথমিক সদস্য পদসহ ভাইস চেয়ারম্যান পদ স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া একই দিনে দলের ভেতরে সংঘাত ও হানাহানি সৃষ্টি করে দলীয় শৃঙ্খলা চরমভাবে লঙ্ঘন করায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, বারৈয়ারহাট পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম মিয়াজী, যুবদল নেতা সিরাজুল ইসলাম ও কামাল উদ্দিনকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া গত ১২ জুলাই ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির কাউন্সিলকে ঘিরে হানাহানি ও সংঘাতের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সৈয়দ আলম এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ড. টিএম মাহবুবুর রহমান এ ধরনের হিংসাত্মক ও অশোভন আচরণের সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদের বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে গতকাল বহিষ্কার করা হয়েছে।


চাঁদাবাজি, দখলদারি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা ধরনের অপকর্মে লিপ্ত থাকার অভিযোগে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ইমাম হোসেন গাজী, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল মান্নান লস্কর, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া এবং কুমিল্লার লাকসাম পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিউল্লাহকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই দিনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) আট সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। ড্যাবসহ দল ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যসহ কোনো পর্যায়ের পদে আট চিকিৎসকের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকবে না বলে জানিয়েছে বিএনপি। বহিষ্কৃত আট চিকিৎসক হলেন ডা. খায়রুল ইসলাম, ডা. রফিকুল কবির লাবু, ডা. মো. ফারুক হোসেন, ডা. মাহবুব আরেফীন রেজানুর রঞ্জু, ডা. এমএ কামাল, ডা. সৈয়দ ইমতিয়াজ উদ্দিন সাজিদ, ডা. শাওন বিন রহমান ও ডা. রাকিব উজ জামান। বিএনপির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই আট চিকিৎসকের কোনো সংগঠন অন্তর্ভুক্ত করলে সেসব সংগঠনের দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মূলত ড্যাবের আসন্ন কাউন্সিল ঘিরে ড্যাবের সদস্যপদ ইস্যুতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এই আট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল বিএনপি।


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেননি, এখন পর্যন্ত চার হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছেন। বিএনপি বৃহৎ পরিবার, বিভিন্ন জায়গায় অনেকে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্মের চেষ্টা করছে, তবে এসব জানার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছেন তারেক রহমান। দলের নামে যে কেউ কোনো ধরনের অনৈতিক, অবৈধ, সন্ত্রাসী ও সহিংসতামূলক কর্মকাণ্ড করবে, সে রেহাই পাবে না। একই সঙ্গে কোনো উসকানির মুখে প্রতিক্রিয়া না দেখাতে নেতাকর্মীদের প্রতি তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।


আলাপকালে বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থাকায় মামলা-হামলাসহ বিভিন্নভাবে তৎকালীন সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়। অনেকে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বছরের পর বছর ছিলেন ছন্নছাড়া। একপর্যায়ে গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পালা বদলের পর দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। আর এ সুযোগে বিচ্ছিন্নভাবে দলের কিছু নেতাকর্মী বিশৃঙ্খলায় জড়াচ্ছেন। অবশ্য দলের কেন্দ্রীয় হাতে গোনা কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ থাকলেও মূলত তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।


বিএনপির সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা দলের যে স্তরের নেতাকর্মীই হোক না কেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের কারণে দেশব্যাপী যাতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরতে না হয়, সে জন্যই বিএনপির হাইকমান্ড আগেভাগেই সাংগঠনিক শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। যত বড় ত্যাগী নেতাই হোন না কেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ-বিশৃঙ্খলায় জড়িত হলে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে। অন্যদিকে প্রায় ১৬শ জন বহিষ্কৃত নেতাকর্মী তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। তবে এ মুহূর্তে বহিষ্কারাদেশ ব্যাপকভাবে প্রত্যাহার না হলেও নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানা গেছে।


প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

এবার ঢাকা দখলের চেষ্টায় আ.লীগ

অনলাইন ডেস্ক
৩১ জুলাই, ২০২৫ ১৭:২৭
অনলাইন ডেস্ক
এবার ঢাকা দখলের চেষ্টায় আ.লীগ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকেই দেশে চলছিল একের পর এক ষড়যন্ত্র। নানামুখী অপতৎপরতার মাধ্যমে নতুন সরকারকে ব্যর্থ করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছিল পরাজিত শক্তি। সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এবার রাজধানী ঢাকা দখলের চেষ্টা করছেন আওয়ামী লীগ। এই পরিকল্পনাকে সামনে রেখে বেশকিছু নেতাকর্মী রীতিমতো গেরিলা প্রশিক্ষণও নিয়েছেন।


প্রশিক্ষণ নেওয়া গেরিলা বাহিনীর প্রধান উদ্দেশ্য দেশের মধ্যে বড় ধরনের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা এবং হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর ঢাকা দখলে নেওয়া। এজন্য মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসাবে তালিকাভুক্ত হাজার হাজার নেতাকর্মী দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে কোর গ্রুপের একটি বড় অংশ প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষ করেছে।


সম্প্রতি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া এ চক্রের কয়েকজন সদস্যের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর এমন অনেক তথ্য বেরিয়ে আসছে। সরকারের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


সূত্র জানায়, অবাক হওয়ার বিষয় হলো—যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে তাদের একটি অংশ অবসরে যাওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি। যারা এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া প্রশিক্ষণ নিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বেশকিছু নেতাকর্মীও। প্রশিক্ষণ হয়েছে দিল্লি, কলকাতা ছাড়াও রাজধানী ঢাকা এবং গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। 


চূড়ান্ত সফলতা অর্জনের আগ পর্যন্ত এ প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এরই অংশ হিসাবে ৮ জুলাই রাজধানীর একটি কনভেনশন হলে ৪০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ওই প্রশিক্ষণ চলাকালে কনভেনশন সেন্টারে দেওয়া হয় সরকারবিরোধী নানা স্লোগান।


সূত্র জানায়, কনভেনশন হলে প্রশিক্ষণের তথ্য পেয়ে ১৩ জুলাই রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় অভিযান চালায় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার বিভিন্ন ইউনিট। ওই অভিযানে গ্রেফতার করা হয় দুজনকে। এরা হলেন-সোহেল রানা (৪৮) ও শামীমা নাসরিন শম্পা (৪৬)। সোহেল রানার বাবার নাম আব্দুস সোবহান গোলন্দাজ। বাড়ি বরগুনার তালতলী থানার মৌপাড়া গ্রামে। রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে ১৮ নম্বর রোডে তার বাসা। গ্রেফতারকৃত শম্পার স্বামী আহাদুজ্জামান একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার বড়াশুর গ্রামে। বাবার বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানার বাজরা গ্রামে।


প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কী ধরনের আলোচনা হয়েছে-জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃতরা এ বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। এসব তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তারা জানিয়েছে, ঢাকা দখল করাই ছিল তাদের প্রধান টার্গেট। এজন্য তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের অপেক্ষায় ছিলেন। পরিকল্পনা মোতাবেক শেখ হাসিনার নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশ থেকে তালিকাভুক্ত হাজার হাজার নেতাকর্মী একযোগে ঢাকা চলে আসবেন। সবাই সমবেত হবেন রাজধানীর শাহবাগে। 


শাহবাগ মোড় দখল করে জনমনে আতঙ্ক তৈরিসহ জনগণকে জানান দেওয়া হবে যে-আওয়ামী লীগের কয়েক লাখ লোক ঢাকা দখলে নিয়ে ফেলেছে। প্রশাসনও তাদের সঙ্গে আছে। তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রভাব পড়বে সারা দেশে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আওয়ামী অধ্যুষিত কয়েকটি জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজনও মাঠে নামার সাহস দেখাবে। 


এমন পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সংঘাত ও অরাজক পরিস্থিতি বেগবান করার সব প্রস্তুতি আগে থেকে ছক করা থাকবে। এভাবে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে সক্ষম হলে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসাবে শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ওই সময় পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট বুঝে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) কামরুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, ‘এটি একটি অনেক বড় কর্মযজ্ঞ। তদন্তের স্বার্থেই এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। একটু গুছিয়ে নিই। পরে বলব।’ তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় শুধু ডিবি নয়, আরও কয়েকটি সংস্থা কাজ করছে।’


অপর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় আওয়ামী লীগ তার স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তন করেছে। তবে আওয়ামী লীগের এহেন রাষ্ট্রবিরোধী ও সরকারকে ফেলে দেওয়ার নানামুখী চক্রান্তের বিষয় সরকার জানার পর জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশি কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। প্রথমত, পুরো বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বিশ্বস্ত টিম দিয়ে ফেস করা। দ্বিতীয়ত, জড়িতদের কেউ যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য পুরো চক্রকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত বিষয়টি গোপন রাখা।


এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য: বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, ‘দেশে কোনো নাশকতার শঙ্কা নেই। নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের হুমকিও নেই। সবকিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ইস্যু করা চিঠিতে ২৯ জুলাই হতে ৮ আগস্ট পর্যন্ত ১১ দিনের বিশেষ অভিযান প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা পুরো বাংলাদেশের অভিযান নয়, ডিএমপি তাদের মতো করে অভিযান চালাচ্ছে।’


প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    নাহিদের পোস্ট

    ফখরুলের বক্তব্য সত্য নয়, জাতীয় সরকারের প্রস্তাবে রাজি হননি তারেক রহমান

    অনলাইন ডেস্ক
    ৩১ জুলাই, ২০২৫ ১৪:১৮
    অনলাইন ডেস্ক
    ফখরুলের বক্তব্য সত্য নয়, জাতীয় সরকারের প্রস্তাবে রাজি হননি তারেক রহমান

    জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাতে ‘সম্মত হননি’ বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।


    ছাত্রদের কাছ থেকে জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব না পাওয়ার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য ‘সত্য নয়’ দাবি করে নাহিদ বলেন, বিএনপি মহাসচিব সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন জাতীয় সরকারের কোনো প্রস্তাবনা ছাত্রদের পক্ষ থেকে তাদের দেওয়া হয় নাই। তারা অন্য মাধ্যমে এ প্রস্তাবনা পেয়েছিল। এ বক্তব্যটি সত্য নয়।


    বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক। তার স্ট্যাটাসটি ইত্তেফাক ডিজিটালের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-


    নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, ‘বিএনপি মহাসচিব জনাব মির্জা ফখরুল সম্প্রতি একটা সাক্ষাৎকারে বলেছেন জাতীয় সরকারের কোনো প্রস্তাবনা ছাত্রদের পক্ষ থেকে তাদের দেওয়া হয় নাই। তারা অন্য মাধ্যমে এ প্রস্তাবনা পেয়েছিল। এই বক্তব্যটি সত্য নয়। ৫ আগস্ট রাতের প্রেস ব্রিফিংয়ে আমরা বলেছিলাম আমরা অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকার করতে চাই। সেই প্রেস ব্রিফিংয়ের পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সাথে আমাদের ভার্চুয়াল মিটিং হয়, সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে জাতীয় সরকার ও নতুন সংবিধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তারেক রহমান এ প্রস্তাবে সম্মত হননি এবং নাগরিক সমাজের সদস্যদের দিয়ে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সাজেশন দেন। আমরা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কথা বলি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে।

    1


    ৭ আগস্ট ভোরবেলা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বাসায় আমরা উনার সাথে অন্তর্বর্তী সরকার ও উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে আলোচনা করি। উপদেষ্টা পরিষদ শপথ নেবার আগে জনাব তারেক রহমানের সাথে আরেকটি মিটিংয়ে প্রস্তাবিত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ নিয়ে আলোচনা/পর্যালোচনা হয়।’


    নাহিদ বলেন, ‘শিবির নেতা সাদিক কায়েম সম্প্রতি একটা টকশোতে বলেছেন ছাত্রশক্তির গঠনপ্রক্রিয়ায় শিবির যুক্ত ছিল, শিবিরের ইনস্ট্রাকশনে আমরা কাজ করতাম। এটা মিথ্যাচার। গুরুবার আড্ডা পাঠচক্রের সাথে জড়িত একটা অংশ এবং ঢাবি ছাত্র অধিকার থেকে পদত্যাগ করা একটা অংশ মিলে ছাত্রশক্তি গঠিত হয়। সাথে জাবির একটা স্টাডি সার্কেলও যুক্ত হয়। একটা নতুন ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুবার আড্ডা পাঠচক্রে দীর্ঘসময় ধরে কাজ করা হয়েছে। আমরা ক্যাম্পাসে আট বছর রাজনীতি করছি। ফলে প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য সব সংগঠন ও নেতৃত্বকে আমরা চিনতাম এবং সকল পক্ষের সাথেই আমাদের যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছিল। সেই কারণে ঢাবি শিবিরের সাথেও যোগাযোগ ছিল। যোগাযোগ, সম্পর্ক বা কখনো সহোযোগিতা করা মানে এই না যে তারা আমাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল।’


    সাদিক কায়েম বৈষম্যেবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো সমন্বয়ক ছিলনা উল্লেখ করে ফেসবুকে নাহিদ জানান, ৫ অগাস্ট থেকে সমন্বয়ক পরিচয় সে ব্যবহার করেছে। নাহিদ বলেন, ‘অভ্যুত্থানে শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে সাদিক কাইয়ুমকে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বসার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সাদিক কাইয়ুমরা অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ঢালাও প্রচারণা করেছে এই অভ্যুত্থান ঢাবি শিবিরই নেতৃত্ব দিসে, আমরা সামনে শুধু পোস্টার ছিলাম। অভ্যুত্থানে শিবিরের ভূমিকা কেউ অস্বীকার করে নাই। কিন্তু এই অভ্যুত্থান শিবিরের একক নয়, শিবিরের ইনস্ট্রাকশন বা ডিরেকশনও হয় নাই। আমরা সব পক্ষের সাথে যোগাযোগ করেই সিদ্ধান্ত নিতাম। আর কারা ক্ষমতার ভাগ বাঁটোয়ারা করতে চাইছে, গোষ্ঠী স্বার্থ রক্ষা করতে চাইছে সে বিষয়ে অন্যদিন বলবো।’


    ২০২৪ সালের ২ আগস্ট রাতে জুলকারনাইন সায়েররা একটা আর্মি ক্যু করে সামরিক বাহিনীর এক অংশের হাতে ক্ষমতা দিতে চেয়েছিল বলেও জানান এনসিপির এই নেতা। নাহিদ বলেন, ‘এ উদ্দেশ্যে কথিত সেইফ হাউজে থাকা ছাত্র সমন্বয়কদের চাপ প্রয়োগ করা হয়, থ্রেইট করা হয় যাতে সে রাতে ফেসবুকে তারা সরকার পতনের একদফা ঘোষণা করে আর আমাদের সাথে যাতে আর কোনো যোগাযোগ না রাখে। রিফাতদের বিভিন্ন লেখায় এ বিষয়ে বলা হয়েছে। আমাদের বক্তব্য ছিল একদফার ঘোষণা মাঠ থেকে জনগণের মধ্য থেকে দিতে হবে। আর যারা এভাবে চাপ প্রয়োগ করছে তাদের উদ্দেশ্য সন্দেহজনক। আমাদের ভিতর প্রথম থেকে এটা স্পষ্ট ছিল যে ক্ষমতা কোনোভাবে সেনাবাহিনী বা সেনাবাহিনী সমর্থিত কোনো গ্রুপের কাছে দেওয়া যাবে না। এতে আরেকটা এক-এগারো হবে এবং আওয়ামী লীগ ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হবে এবং আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটাকে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থান হিসেবে সফল করতে হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে সামনে আগাতে হবে। ৫ই অগাস্ট থেকে আমরা এ অবস্থান ব্যক্ত করে গিয়েছি।’


    2


    নাহিদ অভিযোগ করে বলেন, ‘সায়েরগং ৫ অগাস্টের পর বারবার চেষ্টা করেছে আমাদের বিরুদ্ধে পাল্টা নেতৃত্ব দাঁড় করাতে। সেক্ষেত্রে সাদিক কায়েমদের ব্যবহার করেছে এবং তারা ব্যবহৃতও হয়েছে। সায়ের গংদের এ চেষ্টা অব্যাহত আছে। কল রেকর্ড ফাঁস, সার্ভাইলেন্স, চরিত্রহনন, অপপ্রচার, প্রোপাগান্ডা হেন কোনো কাজ নাই হচ্ছে না। বাংলাদেশে সিটিং মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে যত অপপ্রচার হচ্ছে এ দেশের ইতিহাসে এরকম কখনো হইছে কিনা জানা নাই। কিন্তু মিথ্যার উপর দিয়ে বেশিদিন টিকা যায় না। এরাও টিকবে না।’




    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য
      সর্বশেষ সংবাদ
        সর্বাধিক পঠিত