শিরোনাম
৩৬ জুলাই স্মরণে ‘জুলাই জাগরণ’
গণঅভ্যুত্থানের বার্তা নিয়ে সোহরাওয়ার্দীতে ৪ দিনের সাংস্কৃতিক উৎসব
২০২৪ সালের ছাত্রজনতার ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চার দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব– ‘৩৬ জুলাই কালচারাল ফেস্ট : জুলাই জাগরণ’ আয়োজন করতে যাচ্ছে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী।
১ থেকে ৪ আগস্ট প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ উৎসব হবে। এতে থাকবে চলচ্চিত্র, মঞ্চনাটক, প্রামাণ্যচিত্র, স্মৃতিচারণ, গ্রাফিতি প্রদর্শনী ও শিল্পীদের পরিবেশনা।
বুধবার (৩০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জুলাই জাগরণ’ আয়োজনের ঘোষণা দেয় সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী। সংবাদ সম্মেলনে সাইমুমের কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের নেতারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আয়োজক কমিটির পরিচালক আবু মুসা এবং সংগঠনের বর্তমান পরিচালক শিল্পী জাহিদুল ইসলাম।
এসময় জাহিদুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সাইমুম শুধু গানের দল হিসেবে নয়, বরং এক ‘কণ্ঠযোদ্ধা’ হিসেবে সক্রিয় ছিল। আমরা মাঠে থেকেছি, মঞ্চে থেকেছি, গ্রাফিতিতে থেকেছি, দেয়াল লিখনে থেকেছি। আমাদের অনেক শিল্পী আহত হয়েছেন, অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি রংপুর অঞ্চলে জাগরণ আন্দোলনের সহ পরিচালক আব্দুল্লাহ আল তাহির শহীদ হয়েছেন। এ আমাদের জন্য যেমন গর্বের, তেমন কষ্টেরও।
আয়োজক কমিটির পরিচালক আবু মুসা বলেন, এ উৎসব একদিক থেকে আন্দোলনের কণ্ঠস্বর, অন্যদিকে ইতিহাসের দলিল। এখানে শুধুই উৎসব নয়, আছে শ্রদ্ধা, স্মরণ ও শিক্ষা। আমরা চাই, তরুণ প্রজন্ম জানুক এবং শিখুক সংস্কৃতিই একটি জাতির প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার হতে পারে।
তিনি জানান, ‘জুলাই জাগরণ’ আয়োজনে প্রতিদিন তিনটি পৃথক অধিবেশনে চলবে নানা কর্মসূচি। প্রথম অধিবেশন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত, যেখানে দেখানো হবে জুলাই আন্দোলন ভিত্তিক চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও ডকুমেন্টারি। দ্বিতীয় অধিবেশন বিকেল ২টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত, যাতে থাকবে শহীদ পরিবার, আহত আন্দোলনকারী এবং বিশিষ্ট অতিথিদের স্মৃতিচারণ ও কথোপকথন। তৃতীয় ও সর্বশেষ অধিবেশন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে থাকবে শিল্পীদের পরিবেশনা, আবৃত্তি, নাটক, সংগীত এবং নাট্যদলগুলোর পরিবেশনা।
উৎসবের বিশেষ আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আয়নাঘর’, একটি ধারণা ভিত্তিক প্রদর্শনী যেখানে দর্শনার্থীরা আয়নার মাধ্যমে প্রতিবাদের বহুমাত্রিকতা অনুভব করতে পারবেন। থাকবে শিশুদের জন্য কিডস জোন, যেখানে থাকবে চিত্রাঙ্কন, মিনি থিয়েটার, গল্প পাঠ ও খেলার আয়োজন। একইসঙ্গে প্রদর্শিত হবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আঁকা আন্দোলনকালীন গ্রাফিতিগুলো, যা হবে সৃজনশীল প্রতিবাদের এক অনন্য দলিল।
আরও থাকবে ‘শহীদ মানচিত্র’ –বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের প্রতীকী চিত্রায়নে তৈরি বিশাল ক্যানভাস, যাতে ফুটে উঠবে বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো। দর্শনার্থীরা এখানে শুধু ইতিহাস দেখবেন না, সেই ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠবেন। এ ছাড়া উৎসবে থাকবে খাদ্য কর্নার, সাংস্কৃতিক স্মারক বিক্রয় কেন্দ্র, ফটোগ্যালারি এবং প্রকাশিত আন্দোলনভিত্তিক বইয়ের স্টল।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, এ আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন সরকারের উপদেষ্টা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, অভিনেতা, রাজনীতিবিদ, আলেম সমাজ, সাংবাদিক, নাট্যজন, সমাজকর্মী ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি। বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে শহীদ পরিবার ও আহতদের, যাতে এ উৎসব তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের উপলক্ষ্য হয়ে ওঠে।
আয়োজকরা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ছোট-বড় অনেক আয়োজন হচ্ছে কিন্তু সাইমুমের এই উৎসব হবে সবচেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ ও নান্দনিক। এ আয়োজন হবে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের এক অভিন্ন মঞ্চ।
২০২৪ সালে জাতীয় পার্টির আয় ২ কেটি ৬৪ লাখ টাকা
জাতীয় পার্টি ২০২৪ সালে আয় করেছে ২ কেটি ৬৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৮ টাকা। একই বছরে দলটি ব্যয় দেখিয়েছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার ৪৪ টাকা।
আজ বুধবার সকালে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদের কাছে ২০২৪ সালের অডিট রিপোর্ট জমা দেন।
ইসিতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে জাপা বলছে, ২০২৪ সালে ব্যয়ের পর দলটির কাছে এখন ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯৪ টাকা আছে। দলের মনোনয়ন ফরম বিক্রি, সদস্যের ফি, প্রকাশনা বিক্রি ইত্যাদি থেকে দলটি আয় করে থাকে। অন্যদিকে ব্যয় হয় প্রচার কার্যক্রম, অফিস কর্মচারীদের বেতন ইত্যাদি খাতে।
প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিবন্ধিত দলগুলোর আগের পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ইসিতে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে।
এর আগে ২০২৩ সালে জাপা আয় করে দুই কোটি ২২ লাখ দুই হাজার ৪০৫ টাকা। সে বছর দলটি ব্যয় করে এক কোটি ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫২৫ টাকা।
২০২২ সালে তাদের আয় হয় ২ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৯৬৮ টাকা। ব্যয় হয়েছিল ১ কোটি ২৮ লাখ ৩৭ হাজার ৫৪২ টাকা। ব্যাংকে স্থিতি ছিল ১ কোটি ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৬ টাকা।
২০২১ সালে ব্যাংক জমাসহ ২ কোটি ৯ লাখ ৮৫ হাজার ১৫৪ টাকা আয় দেখিয়েছিল জাতীয় পার্টি। আর ব্যয় দেখানো হয়েছিল ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ১৩৪ টাকা। বছর শেষে দলটির স্থিতি ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ ১৭ হাজার ২০ টাকা।
২০২০ সালে জাপার ব্যয় ছিল ৭৬ লাখ ৪ হাজার ১২০ টাকা। উদ্বৃত্ত ছিল ৫১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫৭ টাকা ৫৪ পয়সা।
২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রথা চালুর পর থেকে প্রতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বীকৃত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করে ইসিতে জমা দেয় রাজনৈতিক দলগুলো।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে বিএনপি, জামায়াত, জাপাসহ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে ৫০টি।
প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় অডিট রিপোর্ট দেওয়ার বাইরে রয়েছে দলটি।
ছাত্রদলকে ধন্যবাদ জানালেন সারজিস
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বঘোষিত সমাবেশের স্থান পরিবর্তন করায় বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে এনসিপি।
বুধবার (৩০ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়টি জানান এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
তিনি লেখেন, আমাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বঘোষিত সমাবেশের স্থান পরিবর্তন করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ।
সারজিস আরও লেখেন, আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে এভাবেই আগামীর বাংলাদেশে জনগণের কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের উত্তরণ ঘটবে।
এর আগে, বুধবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব সমাবেশের স্থান পরিবর্তনের ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে ছাত্র সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল ছাত্রদল। পরে একই দিনে একই স্থানে সমাবেশ করতে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এনসিপির পক্ষে থেকে ছাত্রদল ও বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাবেশ স্থান পরিবর্তনের অনুরোধ জানানো হয়। তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা শাহবাগে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
রাকিব বলেন, তবে আমাদের কর্মসূচি ঘোষণার কয়েকদিনের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টিও একই দিনে একই স্থানে সমাবেশ করার কথা আমরা প্রথমে গণমাধ্যম মারফত জানতে পারি। পরে নাগরিক পার্টির নেতারা ব্যক্তিগতভাবে বারবার আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করে সমাবেশের স্থান পরিবর্তনের অনুরোধ জানান। বিষয়টি নিয়ে আমাদের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের একটি কর্মসূচি ঘোষণা করার পর, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর কর্মসূচিটি ভিন্ন কোনো স্থানে সরিয়ে নেওয়া খুবই বিব্রতকর ও কষ্টসাধ্য একটি কাজ। কর্মদিবসে আমাদের কর্মসূচির কারণে যেন কোনো জনভোগান্তি তৈরি না হয়, সমাবেশটি শহীদ মিনারে করতে চাওয়ার এটিও ছিল একটি অন্যতম কারণ। তা ছাড়া আমরাই যেহেতু কর্মসূচিটি প্রথমে ঘোষণা করি এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নেই, তাই ওই স্থানে সমাবেশ করার আমরাই একমাত্র বৈধ দাবিদার। তার পরও একটি উদার, গণতান্ত্রিক, সহাবস্থানে বিশ্বাসী, পরমতসহিষ্ণু, গ্রহণযোগ্য সব মত ও পথের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সংগঠন হিসেবে আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টির অনুরোধকে বিবেচনায় নিয়ে আমাদের ছাত্র সমাবেশের স্থানটি পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
নতুন স্থানের ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, আমাদের ৩ আগস্টের সমাবেশটি সেদিন শহীদ মিনারের পরিবর্তে শাহবাগে অনুষ্ঠিত হবে। একান্তই উদারনৈতিক রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে এই স্থান পরিবর্তনের কারণে রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে যদি কোনো ভোগান্তি তৈরি হয়, এই অনিচ্ছাকৃত সমস্যার জন্য আমরা নগরবাসীর কাছে অগ্রিম দুঃখ প্রকাশ করছি। আশা করছি, তারা এই দিনটির তাৎপর্য ও আমাদের স্থান পরিবর্তনের উদারতাকে অবশ্যই তাদের বিবেচনায় রাখবেন।
সমাবেশের স্থান পরিবর্তন করল ছাত্রদল
সমাবেশের স্থান পরিবর্তন করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অনুরোধে শহীদ মিনার ছেড়ে দিয়ে আগামী রোববার (৩ আগস্ট) শাহবাগে ছাত্র সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
বুধবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে ছাত্র সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল ছাত্রদল। পরে একই দিনে একই স্থানে সমাবেশ করতে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এনসিপির পক্ষে থেকে ছাত্রদল ও বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাবেশ স্থান পরিবর্তনের অনুরোধ জানানো হয়। তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা শাহবাগে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
রাকিব বলেন, তবে আমাদের কর্মসূচি ঘোষণার কয়েকদিনের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টিও একই দিনে একই স্থানে সমাবেশ করার কথা আমরা প্রথমে গণমাধ্যম মারফত জানতে পারি। পরে নাগরিক পার্টির নেতারা ব্যক্তিগতভাবে বারবার আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করে সমাবেশের স্থান পরিবর্তনের অনুরোধ জানান। বিষয়টি নিয়ে আমাদের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের একটি কর্মসূচি ঘোষণা করার পর, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর কর্মসূচিটি ভিন্ন কোনো স্থানে সরিয়ে নেওয়া খুবই বিব্রতকর ও কষ্টসাধ্য একটি কাজ। কর্মদিবসে আমাদের কর্মসূচির কারণে যেন কোনো জনভোগান্তি তৈরি না হয়, সমাবেশটি শহীদ মিনারে করতে চাওয়ার এটিও ছিল একটি অন্যতম কারণ। তা ছাড়া আমরাই যেহেতু কর্মসূচিটি প্রথমে ঘোষণা করি এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নেই, তাই ওই স্থানে সমাবেশ করার আমরাই একমাত্র বৈধ দাবিদার। তার পরও একটি উদার, গণতান্ত্রিক, সহাবস্থানে বিশ্বাসী, পরমতসহিষ্ণু, গ্রহণযোগ্য সব মত ও পথের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সংগঠন হিসেবে আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টির অনুরোধকে বিবেচনায় নিয়ে আমাদের ছাত্র সমাবেশের স্থানটি পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
নতুন স্থানের ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, আমাদের ৩ আগস্টের সমাবেশটি সেদিন শহীদ মিনারের পরিবর্তে শাহবাগে অনুষ্ঠিত হবে। একান্তই উদারনৈতিক রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে এই স্থান পরিবর্তনের কারণে রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে যদি কোনো ভোগান্তি তৈরি হয়, এই অনিচ্ছাকৃত সমস্যার জন্য আমরা নগরবাসীর কাছে অগ্রিম দুঃখ প্রকাশ করছি। আশা করছি, তারা এই দিনটির তাৎপর্য ও আমাদের স্থান পরিবর্তনের উদারতাকে অবশ্যই তাদের বিবেচনায় রাখবেন।
জুলাই সনদের খসড়া অসম্পূর্ণ, কিছু অংশ বিপজ্জনক: জামায়াত
জুলাই সনদের খসড়াকে অসম্পূর্ণ বলে মনে করে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে নির্বাচিত সরকারকে দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রস্তাব বিপজ্জনক বলেও মনে করে দলটি।
জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, সনদ অসম্পূর্ণ এবং কিছু অংশ বিপজ্জনক। তবে কমিশন বলছে, খসড়া একটি নমুনা মাত্র। তবে যদি সেটাই গ্রহণ করা হয়, তাহলে প্রস্তাবিত সনদ গ্রহণ করা যাবে না।
মঙ্গলবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে দ্বিতীয় ধাপের ২১ দিনের সংলাপের বিরতিতে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি জানান, জামায়াত সনদের খসড়া করে কমিশনকে দেবে। সংলাপে যেসব বিষয়ে একমত হচ্ছি, সেগুলো বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। সনদ বাস্তবায়নের দুটি পথ থাকতে হবে, ১. অধ্যাদেশের মাধ্যমে একটি আইনি কাঠামো গঠন করে পরে নির্বাচিত সংসদে অনুমোদন। ২. গণভোটের মাধ্যমে জনগণের চূড়ান্ত অনুমোদন নেওয়া।
সৈয়দ তাহের বলেন, যেকোনো একটি পদ্ধতিতে সনদের বৈধতা দিতে চাই। অন্যথায় দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ‘অনিশ্চয়তার দিকে’ চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে চলমান সংলাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়ে সৈয়দ তাহের বলেন, প্রায় সবাই একমত, একমাত্র বিএনপি কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার (বিরোধী দলের) এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের একজন প্রতিনিধি ওই কমিটিতে থাকবে। তারা ১২ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্য থেকে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন করবেন। যদি একমত না হয়, তাহলে প্রথমে সর্বসম্মতভাবে, পরবর্তী সময়ে ভোট, তারপর প্রয়োজনে র্যাংক চয়েস ভোটিং পদ্ধতির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে। এই পদ্ধতিতে ভোটার হবেন মোট সাতজন। উপরে উল্লিখিত পাঁচ সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের একজন করে বিচারপতি থাকবেন।
তাহের বলেন, বিচারপতি দুজন যুক্ত করা হয়েছে যেন এককভাবে তৃতীয় দল বা অন্য কেউ ডিসাইডিং ফ্যাক্টর না হয়ে যায়। আমরা আশা করি বিচারপতিরা নিরপেক্ষ থাকবেন এবং হর্স ট্রেডিংয়ের আশঙ্কা কমবে।
তাহের জানান, বিএনপি চায় ঐকমত্য না হলে বিষয়টি সংসদে পাঠানো হোক। তবে জামায়াতসহ অধিকাংশ দল মনে করে, সংসদে পাঠালে তা আর সিদ্ধান্ত হবে না। সংসদে পাঁচ-ছয়টা দল আছে, অথচ সংলাপে ৩০টির বেশি দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য