ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

আ. লীগের কেন্দ্রীয় অফিস দখল, চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ

অনলাইন ডেস্ক
২৪ জুলাই, ২০২৫ ২১:৪৪
অনলাইন ডেস্ক
আ. লীগের কেন্দ্রীয় অফিস দখল, চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ

‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ নামে দুটি ব্যানার টাঙিয়ে গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় এক বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর গতকাল বুধবার থেকে ১০ তলা এই ভবন পরিষ্কার করা শুরু হয়।


আজ বৃহস্পতিবার দেখা যায়, ভবনের তৃতীয় তলায় জমে থাকা ইটের খোয়া ও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ পরিষ্কার করা হচ্ছে। দোতলায় জমে থাকা আবর্জনা ইতিমধ্যে পরিষ্কার করা হয়েছে।


এর আগে গতকাল সকাল থেকেই নিচতলা পরিষ্কার করা হয়। ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি ভবনটি পরিষ্কারের কাজ করছেন। তারা বলেছেন, পুরো ভবন তারা পরিষ্কার করবেন। ভবনটির সামনে প্লাস্টিকের চেয়ারে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে বসে থাকতে দেখা গেছে।


আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ নামের ব্যানার টানানোর বিষয়ে জানতে চাইলে সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিরা সাংবাদিকদের বলেন, পুরো ভবনটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এই ভবনে গত বছরের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের অফিস, শহীদ পরিবারের অফিস করা হবে।


ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সরকারি জমি দখল করে এই ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল, এমন দাবি করে তারা আরো বলেন, পুরো ভবনের কোন তলায় কী হবে, তা ছাত্র-জনতা ঠিক করে নেবে। সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিদের কেউ নিজেদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি।


এদিকে আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট নামের এই প্রতিষ্ঠান কে তৈরি করেছে, এর সঙ্গে কারা যুক্ত, কিভাবে এই নাম এসেছে—সেসব প্রশ্নে ওই ব্যক্তিরা কিছু বলতে রাজি হননি।


গুলিস্তান এলাকায় ১০ তলাবিশিষ্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি ২০১৮ সালের ২৩ জুন উদ্বোধন করেছিলেন দলের সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেখানে দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভবনটিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর আগস্ট মাসজুড়ে চলে লুটপাট।


তখন থেকে এই ভবন অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।


প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ভারত সরকারের অনাগ্রহ

    দিল্লিতে আ.লীগ নেতাদের সংবাদ সম্মেলন শেষ মুহূর্তে বাতিল

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৪ জুলাই, ২০২৫ ১৫:৪৩
    অনলাইন ডেস্ক
    দিল্লিতে আ.লীগ নেতাদের সংবাদ সম্মেলন শেষ মুহূর্তে বাতিল

    দিল্লির নীতিনির্ধারকদের অনাগ্রহের কারণে গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর কথিত নৃশংসতা ও জুলাই গণহত্যা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনটি শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। দিল্লির একাধিক কূটনৈতিক সূত্র বিষয়টি আমার দেশকে নিশ্চিত করেছেন। তবে আয়োজকরা জানিয়েছেন, মাইলস্টোন ট্র্যাডেজির কারণে তারা সংবাদ সম্মেলনটি স্থগিত করেছেন।


    বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (বিএইচআরডব্লিউ) নামে একটি অস্তিত্বহীন সংগঠনের ব্যানারে দিল্লি প্রেস ক্লাবে গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৫টায় সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের কথা ছিল। এর আয়োজক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী নিজেকে ওই সংগঠনের যুক্তরাষ্ট্র চ্যাপ্টারের মহাসচিব হিসেবে দাবি করেন।


    সংবাদ সম্মেলন উপলক্ষে দিল্লির সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে উল্লেখ করা হয়, সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী এবং নেতারা গোপালগঞ্জের সেনাবাহিনীর চালানো নৃশংসতা ও জুলাই গণহত্যা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।


    এ-ও প্রচার করা হয়, সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পতিত সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ দলের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রীরা এতে অংশ নেবেন।


    এসব নেতাদের কয়েকজন দিল্লিতে এসেছেন বলে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের অনলাইন ভার্সনের এক প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচিত এ সংবাদ সম্মেলন এবং ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনানুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুদেশের সম্পর্কোন্নয়নের চলমান পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরা হয়। দিল্লির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হিন্দুস্তান টাইমসকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ভারত বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট কোনো দলকে সমর্থন করে না। এটাই ভারতের অবস্থান।


    দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলোও একই ধরনের তথ্য জানায় আমার দেশকে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে আর যেন অবনতি না ঘটে সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন দিল্লির নীতিনির্ধারকরা। প্রাথমিকভাবে ওই সংবাদ সম্মেলনের ব্যাপারে দিল্লির সবুজ সংকেত থাকলেও শেষ মুহূর্তে এসে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।


    সংবাদ সম্মেলনটি কভার করতে আসা সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী বলেন, পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনটি হচ্ছে না। অন্য কোনো সময়ে এটি আবার আয়োজন করা হবে। তিনি দাবি করেন, ঢাকার মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় ৩৫ জনের বেশি (প্রকৃতপক্ষে ৩২ জন) মানুষ যাদের অধিকাংশ শিশু মারা যাওয়ার কারণে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে।


    অনুষ্ঠানের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী সেখানকার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি এক সময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। তবে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে ২০২০ সালে তিনি বহিষ্কার হন। এর আগেও তিনি একাধিকবার বহিষ্কারের মুখে পড়েন বলে জানা গেছে।


    খোঁজ নিয়ে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (বিএইচআরডব্লিউ) নামে কোনো সংগঠনের অস্তিত্ব বাংলাদেশে পাওয়া যায়নি। মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন বাংলাদেশের একাধিক সুপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, এ নামে কোনো সংগঠনের নাম তারা শোনেননি।


    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      এনসিপি’র কাজই হচ্ছে বিএনপি’র নামে বদনাম করা: ইশরাক হোসেন

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ২৪ জুলাই, ২০২৫ ১৪:৩৬
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      এনসিপি’র কাজই হচ্ছে বিএনপি’র নামে বদনাম করা: ইশরাক হোসেন
      ছবি: রাইজিং ক্যাম্পাস

      পদ যাত্রার নামে বিএনপির নামে বদনাম করা এনসিপির একটা এজেন্ডা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।


      বুধবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজ মাঠে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে কলেজ ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 


      ইশরাক হোসেন বলেন, একটি গোষ্ঠী জুলাই অভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব নেয়ার একটা ইজম চালু করেছে, তাদের রুখে দিতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থানে সামনে রেখে কেউ কেউ বিভিন্ন অপকর্ম ও দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে। 


      অন্তবর্তী সরকারের সমালোচনা করে ইশরাক বলেন, সংস্কার ও নির্বাচনের কথা থাকলেও গত এক বছরে দৃশ্যমান কোন বিচার করতে পারেনি সরকার। এই সরকারের দৃশ্যমান কোন বিচারের কর্মকান্ড আমরা এখনো দেখতে পাইনি। কেন একটা মাত্র ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, পাঁচটি করা হয়নি- এই প্রশ্ন করেন তিনি। 


      বর্তমান সরকার তার চারপাশে স্বৈরাচার নিয়ে সরকারের মধ্যে কাজ করছে মন্তব্য করে বিএনপির তরুণ এই নেতা বলেন, বর্তমান সরকারের চারপাশে বিগত আওয়ামী সরকারের বসে আছে। তাদের প্রতিহত করতে হবে।


      এসময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কবি নজরুল সরকারি কলেজের শহীদ চার শিক্ষার্থীর (ইকরাম হোসেন কাউসার, ওমর ফারুক, জিহাদ হোসেন এবং তৌহীদুল ইসলাম) স্মরণে শহীদ চত্বর করার ঘোষণা দেন ইশরাক।


      কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইরফান আহমদ ফাহিমের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নাজমুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন সহ কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ


      মন্তব্য

      স্থায়ী কমিটির অভিমত

      বিএনপিকে ‘বেঁধে ফেলতে’ নতুন সংস্কার প্রস্তাব

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৩ জুলাই, ২০২৫ ১৪:৩৮
      অনলাইন ডেস্ক
      বিএনপিকে ‘বেঁধে ফেলতে’ নতুন সংস্কার প্রস্তাব

      বিএনপিকে বেঁধে ফেলতে অন্তর্বর্তী সরকার তথা জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সংস্কারের নামে বিভিন্ন নতুন প্রস্তাব সামনে আনছে বলে মনে করে দলটি। বিএনপির অভিমত, গণতন্ত্রের ইতিহাসে দেশে দেশে যেগুলোর নিয়মিত অনুশীলন (রেগুলার প্র্যাকটিস), সেগুলোও কমিশন উপেক্ষা করতে চাচ্ছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ অনেক দেশে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী একই ব্যক্তি হওয়ার নজির রয়েছে। বাংলাদেশেও দলের প্রধানই সারাজীবন প্রধানমন্ত্রী হয়ে আসছেন। সুতরাং দলীয় প্রধানের প্রধানমন্ত্রী না হতে পারার প্রস্তাব বিএনপি মানবে না। কমিশন এমন সংস্কার প্রস্তাব করলে তারা জাতীয় সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেবে।


      সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয় বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। অবশ্য গতকাল মঙ্গলবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে ঐকমত্য কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, রাজনৈতিক দলের প্রধান ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। তবে এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে যারা একমত নন, তারা জাতীয় সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিতে পারবেন।


      বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে দলীয় প্রধানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারা না পারা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।


      বিএনপি নেতারা মনে করছেন, রাজনীতিতে ক্রিয়াশীল অন্য দলগুলো অনেক বড় দল নয়। নির্বাচন হলে তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। সেক্ষেত্রে ঐকমত্য কমিশনের সব প্রস্তাব মেনে নিলেও তাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু বিএনপির পক্ষে এ সিদ্ধান্ত (দলীয় প্রধানের প্রধানমন্ত্রী হতে না পারা) মেনে নেওয়া কঠিন। কারণ, বিএনপির একটা লিডারশিপ স্ট্রাকচার এবং সারা দেশে নেতৃত্বের একটা ‘চেইন অব কমান্ড’ আছে। তা ছাড়া নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলের সংসদীয় কমিটিই ঠিক করে থাকে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন? এখানে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতা দলের সংসদীয় কমিটি যদি মনে করে, তারা দলীয় প্রধানকেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করবে, তাহলে গণতান্ত্রিক এ প্রক্রিয়ার সুযোগ বন্ধ করা ঠিক হবে না।


      বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্য বলেন, বিএনপি বরাবরই সংস্কারের পক্ষে। সেজন্য তারাই প্রথম ২০২২ সালে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে। সুতরাং প্রয়োজনীয় ও যৌক্তিক সংস্কার তারা চান। তবে বর্তমানে অযৌক্তিক অনেক সংস্কার প্রস্তাব আনা হচ্ছে, যার উদ্দেশ্য বিএনপিকে বেঁধে ফেলা। কারণ, বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আগামীতে বিএনপিই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাবে, সম্প্রতি বিভিন্ন সংগঠনের জরিপেও সে তথ্য উঠে এসেছে। সুতরাং কোনো অযৌক্তিক সংস্কার প্রস্তাব বিএনপি মানবে না। তাদের যুক্তি, বিশ্বের গণতন্ত্রের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্যে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী একই ব্যক্তি হয়ে থাকেন। এ ছাড়া পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু এবং লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রধান হিসেবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন। আমাদের দেশেও দলীয় প্রধানরাই সারাজীবন প্রধানমন্ত্রী হয়ে আসছেন। তা ছাড়া বাংলাদেশে দলীয় প্রধানের পরিচয়েই মূলত সেই দলের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচনে বিজয়ের ক্ষেত্রেও দলীয় প্রধানের পরিচয়ই মুখ্য ভূমিকা রাখে।


      স্থায়ী কমিটির ওই দুই সদস্য আরও বলেন, আমরা বলেছি, নির্বাচনে বিজয়ী হলে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করব। এর অংশ হিসেবে মিত্রদের মধ্যে আগামী নির্বাচনে আমরা যাদের ধানের শীষের মনোনয়ন দেব, তারা তো বিএনপিপ্রধানের নেতৃত্ব মেনেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। সুতরাং দলীয় প্রধানের প্রধানমন্ত্রী হতে না পারার এমন ‘অযৌক্তিক’ প্রস্তাব মানার প্রশ্নই উঠে না।


      প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা এবং দলীয় প্রধান একই ব্যক্তি হবেন কিনা—এই সংস্কার প্রস্তাব বেশ কয়েকদিন ধরে ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে আলোচনায় ছিল। বিএনপি, এলডিপি, লেবার পার্টি, এনডিএম, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট এবং আম জনতার দল এ বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছে। তারা মনে করে, একজন ব্যক্তি একসঙ্গে দলীয় প্রধান, প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা হতে পারেন। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বেশিরভাগ দলই দলীয় প্রধানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়ার বিরোধিতা করে। এমন অবস্থায় গতকাল ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ঐকমত্য কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ের সংলাপের ১৭তম দিনে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ ঘোষণা দেন, রাজনৈতিক দলের প্রধান ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। তবে এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে যারা একমত নন, তারা জাতীয় সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিতে পারবেন।


      সংলাপে অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা এবং দলীয় প্রধান—একই ব্যক্তি হবেন কি না, এ বিষয়ে প্রায় সবাই একমত যে, একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা হতে পারেন, তবে দলীয় প্রধান হওয়া নিয়ে কিছু দলের দ্বিমত রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আগেই বলেছি, ৭০ অনুচ্ছেদে যেমন ভিন্নমত (ডিসেন্টিং ভয়েস) রাখার সুযোগ রেখেছি, এটিও সেভাবে রাখা যেতে পারে। আমাদের অবস্থান হলো, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না—এমন বিধান যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কোথাও নেই। এটা তার একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। পার্লামেন্টারিয়ানরা যাকে চাইবেন, তিনিই হবেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী হবেনই এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, আবার তাকে প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে বাদ দেওয়ারও কোনো যৌক্তিকতা নেই।


      স্থায়ী কমিটির গত বৈঠকের মতো এ বৈঠকেও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দলটি তাদের মধ্যে ক্ষমতার কিছু ভারসাম্য আনতে রাজি আছে। তবে এমন ভারসাম্য চায় না, যেখানে সরকারপ্রধান তথা প্রধানমন্ত্রীর হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকবে না। স্থায়ী কমিটি মনে করে, সার্বিক বিবেচনায় সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। বিএনপি নেতারা অভিমত দেন, রাষ্ট্রপতির কিছু ক্ষমতা অর্থাৎ স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দু-একটি বিষয়ে ক্ষমতা বাড়ানো যেতে পারে। তবে রাষ্ট্রপতিকে যদি ব্যাপকভাবে ক্ষমতায়িত করা হয়, তাহলে সংসদীয় গণতন্ত্র তো তেমন অর্থবহ থাকবে না। সেক্ষেত্রে সংসদেরই বা কী দরকার। প্রধানমন্ত্রীর হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা না থাকলে সংসদীয় গণতন্ত্র অকার্যকর হয়ে পড়বে। তবে এ আলোচনায় এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা নিয়ে আগামীতে আরও আলোচনা হবে।


      এদিকে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সোমবার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভেতরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে হতাহতের মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে সভায় শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। সভায় নিহত ছাত্রছাত্রী ও পাইলটের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, আহতদের আশু সুস্থতা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়।


      প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      মাইলস্টোনের দুর্ঘটনায় রাজশাহী কলেজ ছাত্রশিবিরের আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ২২ জুলাই, ২০২৫ ২১:০
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      মাইলস্টোনের দুর্ঘটনায় রাজশাহী কলেজ ছাত্রশিবিরের আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল

      রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক‍্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় রাজশাহী কলেজে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

      মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বাদ মাগরিব কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান মাসুমের সভাপতিত্বে কলেজের কেন্দ্রীয় মসজিদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলী, 

      প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন, রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি শামীম উদ্দিন। দোয়া পরিবেশন করেন উলামা মশায়েখ পরিষদের সভাপতি মাওলানা রুহুল আমিন। এছাড়াও সঞ্চালনা করেন কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো: মোশাররফ হোসেন মাহদী। 

      আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সামরিক খাত উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন। দীর্ঘদিন আগের কেনা সামরিক বিমান ব্যবহার যেমন দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তেমনি পাইলটদের জীবনের নিরাপত্তায় হুমকিস্বরূপ। এছাড়াও বাংলাদেশের সমসাময়িক প্রতিকূলতা মোকাবিলার সবাই কে সচেতন থাকার আহ্বান জানান বক্তারা। 

      উল্লেখ্য গতকাল সোমবার দুপুরে বিমান বাহিনীর এফ-৭ বিজেআই প্রশিক্ষণ বিমানটি উড্ডয়নের পর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় বিমানের পাইলটসহ সাধারণ অনেক শিক্ষার্থী নিহত হয় এবং আহতদের ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য
        সর্বশেষ সংবাদ
          সর্বাধিক পঠিত