শিরোনাম
স্থায়ী কমিটির বৈঠক
উচ্চকক্ষ বাতিলেও রাজি, তবু পিআর মানবে না বিএনপি
সরকারপ্রধানকে পর্যাপ্ত ক্ষমতা দিতে হবে
দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও কোনোভাবেই সংখ্যানুপাতিক আসন বণ্টন বা পিআর পদ্ধতি চায় না বিএনপি। সংসদের নিম্নকক্ষের আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন চায় দলটি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আগামী সপ্তাহের সংলাপে দলের পক্ষ থেকে এ অবস্থানই তুলে ধরা হবে। গত বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, ঐকমত্য কমিশন যদি স্বপ্রণোদিত হয়ে উচ্চকক্ষ বাতিলের প্রস্তাব করে, তবে বিএনপি তার বিরোধিতা করবে না। কিন্তু ৩১ দফায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, আগামীতে ক্ষমতায় এলে সেই অঙ্গীকার রক্ষা করা হবে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তির সমন্বয়ে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।
বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি এতে সভাপতিত্ব করেন। সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য হয়। এ সময় সদস্য সংখ্যা ১০০ করার বিষয়েও প্রায় ঐকমত্যে পৌঁছায় দলগুলো। কিন্তু নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে একমত হতে পারেনি। পরে গত সোমবার ঐকমত্য কমিশন ৬৪ জেলা এবং ১২ সিটি করপোরেশন থেকে একজন করে নির্বাচিত সদস্য নিয়ে উচ্চকক্ষ গঠনের বিকল্প প্রস্তাব করলে তা সরাসরি নাকচ করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ অধিকাংশ দল। পরদিন কমিশনের সংলাপে বিএনপিসহ পাঁচটি দল প্রস্তাব করে, সংসদের নিম্নকক্ষের আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন হবে।
অন্যদিকে জামায়াত, এনসিপিসহ ২১টি দল ভোটের অনুপাতে (পিআর) উচ্চকক্ষের আসন বণ্টনের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে। কয়েকটি দল এমন প্রস্তাবও করেছে, উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন না হলে উচ্চকক্ষেরই দরকার নেই।
ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, আমরা আগে যে প্রস্তাব দিয়েছিলাম, সেই জায়গাতেই আছি। ৩১ দফার ভিত্তিতে আমরা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের বিষয়ে যা বলেছিলাম, তা হলো, যারা দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজন, যাদের জাতি গঠনে অবদান আছে এবং যারা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, তাদের প্রতিনিধি নিয়ে উচ্চকক্ষ হবে। জাতি যাতে সমৃদ্ধ হয়, সেই ভাবনা থেকে আমরা প্রস্তাবটি রেখেছিলাম। সেখানে আমরা উচ্চকক্ষে ১০০টি আসন রাখার জন্য বলেছিলাম।
অন্যদিকে বিদ্যমান সংরক্ষিত নারী আসন ৫০ থেকে ১০০-তে উন্নীত করার বিষয়েও রাজনৈতিক দলগুলো একমত। তবে সংসদের উচ্চকক্ষের মতো নারী সংসদ সদস্যদের নির্বাচন পদ্ধতি নিয়েও তারা একমতে পৌঁছাতে পারেনি। কমিশনের প্রথম প্রস্তাব ছিল, সংসদের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৪০০ করা হবে। ১০০ আসনে ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে শুধু নারীরা প্রার্থী হবেন। এতে ঐকমত্য না হওয়ায় গত সোমবার কমিশন প্রস্তাব করে, ২৫টির বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে– এমন দলগুলো অন্তত এক-তৃতীয়াংশ আসনে নারী প্রার্থী দেবে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ অধিকাংশ দল এ প্রস্তাব নাকচ করে।
বিএনপি আগের মতোই জানায়, নারী আসন ১০০ করতে একমত হলেও নির্বাচন হতে হবে বিদ্যমান পদ্ধতিতে। অর্থাৎ কোনো দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আসন সংখ্যার অনুপাতে। জামায়াত জানায়, পিআর পদ্ধতিতে আসন বণ্টন হলে তারা আসন বৃদ্ধিতে রাজি। এনসিপি নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের নতুন ফর্মুলা দেয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংসদে নারী সদস্যদের নির্বাচন পদ্ধতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নেতারা জানান, তারা নারীর ক্ষমতায় ও প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পক্ষে। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমানে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন সংখ্যা ১০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপি নতুন করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা ১০০টির মধ্যে ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত চাইবে। আর বাস্তবতার নিরিখে ধাপে ধাপে নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন চাইবে। এর অংশ হিসেবে আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ সংসদ সদস্যের মধ্যে ৫ শতাংশ অর্থাৎ ১৫টি আসনে সরাসরি নির্বাচন এবং চতুর্দশ সংসদ নির্বাচনে দ্বিগুণ ৩০টি আসনে সরাসরি নির্বাচন হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দলটি তাদের মধ্যে ক্ষমতার কিছু ভারসাম্য আনতে রাজি রয়েছে। তবে এমন ভারসাম্য চায় না, যেখানে সরকারপ্রধান তথা প্রধানমন্ত্রীর হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকবে না। স্থায়ী কমিটি মনে করে, সার্বিক বিবেচনায় রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন।
বিএনপি নেতারা অভিমত দেন, যদি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ব্যাপক বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে সংসদীয় গণতন্ত্র তেমন অর্থবহ থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা না থাকলে সেটা অকার্যকর হয়ে পড়বে। দলটি মনে করে, আগামীতে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার কিংবা সংসদীয় সরকার– যে পদ্ধতিই করা হোক, সরকারপ্রধানকে পর্যাপ্ত ক্ষমতা দিতে হবে। তা না হলে সরকারের স্থিতিশীলতা কিংবা ভারসাম্য রক্ষা হবে না। তবে আলোচনায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা নিয়ে আগামীতে আরও আলোচনা হবে।
বৈঠক বিষয়ে গতকাল শুক্রবার সালাহউদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, যারা পিআর পদ্ধতির নামে বাংলাদেশে নির্বাচনের দাবি তুলছে, তাদের অসৎ উদ্দেশ্য আছে। তারা নির্বাচনকে অনিশ্চিত করে দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে চায়।
জাতি বিভক্ত হলেই বহির্বিশ্ব হস্তক্ষেপের সুযোগ পায় : ইশরাক
বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, যখন একটি জাতি অভ্যন্তরীণভাবে বিভক্ত হয়ে যায়, তখনই বহির্বিশ্ব হস্তক্ষেপের সুযোগ পায়। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের গণহত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটের সঠিক ও কার্যকর বিচার হলে আজ জাতি এভাবে বিভক্ত হতো না। আজ শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি একথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, যেই আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত হয়েছে এবং গণহত্যার দায়ে বিচার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেই একই আইনের আওতায় ১৯৭১ সালের গণহত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটের সঠিক ও কার্যকর বিচার হওয়া জরুরি ছিল।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ঘটনা ছিল আরো ভয়াবহ ও বীভৎস। সেই সময়ে সংঘটিত অপরাধের বিচার একসময় রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করেন শেখ হাসিনা, যাতে প্রতিপক্ষকে দমন করা যায়। যদি সেই সময়ে নিরপেক্ষভাবে শহীদ ও ধর্ষিতাদের যথাযথ বিচার হতো, তবে আজ জাতি এভাবে বিভক্ত হতো না।
বিএনপি নেতা বলেন, এত বছর পরও যখন দেখা যায় ১৯৭১ সালের খুনি-ধর্ষকরা কিংবা তাদের উত্তরসূরিরা নির্লজ্জভাবে বলেন যে পাক হানাদারদের সঙ্গে রাজাকারি করে হত্যা ও ধর্ষণের সিদ্ধান্ত নাকি সঠিক ছিল— তখন বোঝা যায়, আমাদের দুর্ভাগ্যের সীমা কোথায় পৌঁছেছে।
আল্লাহ এদের বিচার করবেন— এই দুনিয়াতে না হোক, পরকালে নিশ্চয় করবেন।
তিনি বলেন, আমরা পিন্ডির দাসত্ব, দিল্লির অনুগত্য কিংবা আমেরিকা, রাশিয়া, চীনের মতো কোনো পরাশক্তির কাছে মাথা নত করব না। এমন কিছু লোক সব সময় থাকবে যারা দালালি পেশায় নিজেদের সুবিধা আদায় করে। এ এক নগ্ন ও ঘৃণ্য বাস্তবতা।
বহির্বিশ্ব তখনই হস্তক্ষেপের সুযোগ পায়, যখন একটি জাতি অভ্যন্তরীণভাবে বিভক্ত হয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, এই বিভাজন শত বছরেও আসতে দিতাম না— যদি আমরা জাতি হিসেবে আমাদের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে পারতাম। যদিও ছোটভাই নতুন রাজনৈতিক দল এবং তাদের চালক বড়ভাই রাজনৈতিক দল এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ মডেলের কৃতিত্ব ছিনতাই রাজনীতির পথেই হাঁটছে, জনগণ শেখ হাসিনার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল।
লক্ষ ছাত্র ও লক্ষ পরিবার, লক্ষ নেতাকর্মী ও তাদের পরিবার একত্রিত হয়ে হাসিনাকে পালাতে বাধ্য করেছিল উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন আরো বলেন, কিন্তু পরবর্তীকালে সেই আন্দোলনের আবেগ ও ত্যাগকে কিছু সমন্বয়কারী, উপদেষ্টা ও এনসিপির নেতা বিক্রি করতে শুরু করেন। এর ফলাফল কী হতে পারে— তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ নিজেই শেখ হাসিনা।
জামায়াতের জাতীয় সমাবেশ
ভ্যাপসা গরমে স্বস্তির খোঁজে রমনা পার্কে হাজার হাজার নেতাকর্মী
ভ্যাপসা গরমের হাত থেকে রক্ষা পেতে হাজার হাজার নেতাকর্মী রমনা পার্কে গাছের নিচে আশ্রয় নিচ্ছেন। কেউ কেউ বসে আছেন, আবার কেউ শুয়ে পড়েছেন। হাতের কাছে যা পাচ্ছেন তা দিয়েই বাতাস করছেন।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে আসা নেতারা মাঠে জায়গা না পেয়ে রমনা পার্কে আশ্রয় নিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে আসা নেতাকর্মীদের মধ্যে গরমের কারণে অস্বস্তি দেখা যায়। কেউ কেউ গরমে অসুস্থও হয়ে পড়ছেন। রমনা পার্কে প্রতিটি গাছের তলায় ছোট ছোট গ্রুপ করে বসে কিংবা শুয়ে থাকতে দেখা যায়। কেউ কেউ পাঞ্জাবি বা গেঞ্জি খুলে বসে আছেন শরীর শীতল করতে। ভ্যাপসা গরম থেকে বাঁচতে কাউকে কাউকে মাথায় ও গায়ে পানি দিতে দেখা যায়।

এদিকে সকাল পৌনে ১০টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হলেও তার আগেই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়।
জামায়াতে ইসলামীর দাবি এটি হবে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একক রাজনৈতিক জনসমাবেশ। প্রায় এক মাসের প্রস্তুতি শেষে আয়োজিত এই সমাবেশে ১০ লাখের বেশি মানুষের উপস্থিতির প্রত্যাশা করছে দলটি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এর আগে বিএনপির সঙ্গে যৌথভাবে জামায়াতের অংশগ্রহণ থাকলেও এককভাবে এটি তাদের প্রথম বড় জনসমাবেশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে দলটি ‘জাতীয় ঐক্য’ এবং ‘কল্যাণ রাষ্ট্র’ গঠনের আহ্বান জানাবে বলে জানা গেছে। আমির ডা. শফিকুর রহমান সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন এবং সাত দফা দাবির প্রেক্ষিতে একটি ঐক্যের ডাক দেবেন।
নিরাপত্তা ও জনসেবার অংশ হিসেবে সমাবেশস্থলে রাখা হয়েছে পাঁচ শতাধিক অস্থায়ী টয়লেট, এক হাজার পানির কল, ১৫টি মেডিকেল বুথ, ১৫টি পার্কিং স্পট এবং হাজারো চেয়ার। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে প্রায় ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। রাজধানীজুড়ে ৪০০টির বেশি মাইক বসানো হয়েছে এবং ৫০টিরও বেশি জায়ান্ট স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে।
এই সমাবেশে ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে বাস, ট্রেন, লঞ্চযোগে হাজার হাজার নেতাকর্মীর আগমন ঘটছে। যানজট বা সাময়িক ভোগান্তির জন্য নাগরিকদের কাছে আগাম দুঃখপ্রকাশ করেছে দলটি।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দিয়ে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশের প্রথম পর্ব শুরু
রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রথমবারের মতো জাতীয় সমাবেশ করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে জাতীয় সমাবেশের প্রথম পর্ব শুরু হয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন সাইফুল্লাহ মানসুর। সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করছে।
সাত দফা দাবিতে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে ইতোমধ্যে মানুষের ঢল নেমেছে। সমাবেশ শুরুর অনেক আগেই দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে প্রায় কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। উদ্যানের বাইরেও অবস্থান করছেন হাজার হাজার নেতাকর্মী।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে করে আসা নেতাকর্মীরা রাজধানীতে এসে মিছিল সহকারে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করছেন। নেতাকর্মীদের অনেকের হাতে তাদের দলীয় প্রতীক দাাঁড়িপাল্লা শোভা পাচ্ছে। দাঁড়িপাল্লা ও দলীয় মনোগ্রাম সম্বলিত টি-শার্ট ও পাঞ্জাবি পরে এসেছেন হাজারো নেতাকর্মী।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থেকে আসা জামায়াতকর্মী সোহেল হাসান বলেন, আমাদের উপজেলা থেকে ৪০টি বাসসহ বিভিন্নভাবে কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ এসেছি। সিরাজগঞ্জ থেকে আসা জামায়াতের কর্মী এরশাদ আলী বলেন, বাসে করে, ট্রেনে ৩০/৪০ হাজার নেতাকর্মী আমরা সিরাজগঞ্জ থেকে এসেছি। অনেকে রাত থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থান করছেন।
এদিকে জাতীয় সমাবেশ সফল করতে দায়িত্ব পালন করছেন ২০ হাজারের মতো স্বেচ্ছাসেবক। ভোর থেকে সমাবেশের আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিভিন্ন স্পটে স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন।
শনিবার ভোর থেকে হাইকোর্ট এলাকা, মৎস্য ভবন, শাহবাগ এলাকার বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখা গেছে, স্বেচ্ছাসেবকরা সবাই একই ধরনের ড্রেস পরে বিভিন্ন স্পটে অবস্থান নিয়েছেন। তারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করছেন। কোন অঞ্চলের মানুষ কোন গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন তা বুঝিয়ে দিচ্ছেন।
মৎস্য ভবন স্পটের স্বেচ্ছাসেবক টিমের প্রধান মাসুদুর রহমান বলেন, সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করাই আমাদের উদ্দেশ্য। পুরো রাজধানী জুড়ে আমাদের ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছে। শুধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশে ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে ভোর থেকে বিভিন্ন জায়গা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী প্রবেশ করতে দেখা গেছে জামায়াত নেতাকর্মীদের।
সাত দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশ। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, সব গণহত্যার বিচার, প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার, ‘জুলাই সনদ’ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন ও এক কোটির বেশি প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো এককভাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ করছে দলটি।
জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে
সমাবেশ শুরুর আগেই কানায় কানায় পূর্ণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। সমাবেশ আনুষ্ঠানিক শুরুর অনেক আগেই দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
সারাদেশ থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে করে আসা নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করছেন। তাদের হাতে জাতীয় পতাকা, দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা রয়েছে। উদ্যানের বাইরেও জামায়াতের হাজার হাজার নেতাকর্মী অবস্থান করছেন।
আজ শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে। দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা।
দলটির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, আজকের সমাবেশে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জনসমাগম ঘটবে। জামায়াতের উদ্দেশ্য— বড় ধরনের সমাবেশ করে রাজনীতির মাঠে নতুনভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করা। সমাবেশ থেকে নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। গণহত্যার বিচার ও সংস্কার শেষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার ভিত্তিতে জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা; এ দুই বিষয়ে দলের প্রধান দিকনির্দেশনামূলক বার্তা দেবেন। পাশাপাশি সমাবেশের মূল মঞ্চে জামায়াতের সমাবেশে জাতীয় নেতা, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, কর্মপরিষদ সদস্য, বিভিন্ন দলের নেতা এবং জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিরা থাকবেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য