শিরোনাম
ব্লকেড সরিয়ে যে কর্মসূচি দিল এনসিপি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ব্লকেড সরিয়ে সবাইকে রাজপথের একপাশে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার এনসিপি উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ব্লকেড সরিয়ে নিন। রাজপথের একপাশে অবস্থান করুন। লড়াই চলবে। -নাহিদ
এর আগে গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সারা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ব্লকেড কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
ফ্যাসিবাদের শিকড় উপড়ে ফেলা পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে: শিবির
ফ্যাসিবাদের শিকড় উপড়ে ফেলা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
বুধবার সংগঠনের ভেরিফায়েড ফেসবুকে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, গোপালগঞ্জের ঘটনা প্রমাণ করে ফ্যাসিবাদ এখনো নির্মূল হয়নি। আমাদের জুলাই সহযোদ্ধাদের ওপর হামলা কখনোই মেনে নিব না।
আমাদের লড়াই ফ্যাসিবাদের শিকড় উপড়ে ফেলা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।
সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোপালগঞ্জ। পুলিশ, ইউএনওর গাড়ি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে ও নেতাদের গাড়ি বহরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। এর পর সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বর্তমানে সেখানে বিরাজ করছে উত্তপ্ত পরিস্থিতি।
লড়াই চলবে
ব্লকেড সরিয়ে নিন, রাজপথের একপাশে অবস্থান করুন : নাহিদ
দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ছাত্র-জনতাকে সারা দেশে ব্লকেড সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বুধবার (১৬ জুলাই) নাহিদের বরাতে এ কথা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
বিকেলে এক ফেসবুক পোস্টে সারজিস লিখেছেন, ব্লকেড সরিয়ে নিন। রাজপথের একপাশে অবস্থান করুন। লড়াই চলবে। -নাহিদ
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী আরেক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ব্লকেড উঠিয়ে নিন। রাজপথে অবস্থান নিন।
দলটির নেতারা বলছেন, এনসিপি শান্তিপূর্ণভাবে গোপালগঞ্জ অভিমুখে পদযাত্রা করলে পরিকল্পিত হামলার মাধ্যমে তা দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে নেতাকর্মীরা রাজপথ ছাড়বে না, রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত থাকবে।
প্রসঙ্গত, জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মাসব্যাপী এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ গোপালগঞ্জে পদযাত্রা ছিল দলটির। গতকাল মঙ্গলবার দলের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এই কর্মসূচিকে ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ নাম দেওয়া হয়।
এই কর্মসূচি ঘিরে গোপালগঞ্জ সদরে আজ সকালে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। কাছাকাছি সময়ে হামলা করা হয় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি বহরেও। এ দুই ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে জানায় গোপালগঞ্জ পুলিশ।
দুপুর ১টা ৩৫ মনিটের দিকে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় এনসিপির সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তারা মঞ্চে থাকা সাউন্ড বক্স, মাইক ও চেয়ার ভাঙচুর করেন এবং উপস্থিত এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এনসিপির নেতাকর্মীরা পুলিশের সহায়তায় সেখান থেকে সরে যান।
এ ঘটনার আধা ঘণ্টা পরে ওই সমাবেশ স্থলেই পুলিশি নিরপত্তায় সমাবেশ করে এনসিপি। সেখানে নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম ও আখতার হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশ শেষ হওয়ার পর এনসিপির নেতারা যখন গাড়ি বহর নিয়ে মাদারীপুর রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন আবার ছাত্রলীগের কয়েকশ নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশও পিছু হটে। এনসিপির নেতাকর্মীরা পালিয়ে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা এনসিপির সমাবেশ মঞ্চ এবং আশপাশের বিভিন্ন স্থানে চেয়ার-টেবিল ও আসবাবপত্রে অঅগুন ধরিয়ে দেন। এতে শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর থেকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। গোপালগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় বিজিবি। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও বাড়তি জনবল নিয়োজিত করা হয়। বিকেলের দিকে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে হামলা ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়। এরপর সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ একযোগে হামলাকারীদের সরাতে অভিযান শুরু করে।
সেনা-পুলিশ পাহারায় গোপালগঞ্জ ছাড়লেন এনসিপি নেতারা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা গোপলগঞ্জ ছেড়ে গেছেন। সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় তারা গোপালগঞ্জ ছাড়েন।
এই তথ্য নিশ্চিত করে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহিন জানিয়েছেন, তারা বিকাল ৫টা পরে গোপালগঞ্জ ছেড়ে বের হয়ে যান। খবর বিবিসি বাংলার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কড়াপাহাড়ায় তাদের ১৫ থেকে ১৬টি গাড়ির বহর গোপালগঞ্জ ছাড়েন। এই বহরে এনসিপি নেতাদের মধ্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতারা রয়েছেন।
এদিকে এনসিপির সমাবেশ শেষ হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
এর আগে পুলিশ ও ইউএনওর গাড়ি এবং সমাবেশ মঞ্চে হামলার পর এনসিপি গাড়ি বহরে হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে এ হামলা চালানো হয়। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।
জানা যায়, এনসিপির নেতারা সমাবেশস্থলে যাওয়ার পথে আগে থেকেই গাছ কেটে রাস্তা অবরোধ করে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। এসব প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে এদিন দুপুর ২টায় সমাবেশ মঞ্চে উঠেন এনসিপি নেতারা। সমাবেশ শেষ করে যাওয়া পথে ফের গাড়ি বহরে হামলা চালায় তারা।
জাতীয় নেতাদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, তারা করবে নির্বাচন: হান্নান মাসউদ
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ। বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে এক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
হুঁশিয়ারি দিয়ে স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, এর জন্যে তোদের চরম মূল্য দিতে হবে, এই গভর্নমেন্টকেও। একটা জেলায় জাতীয় নেতাদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, তারা করবে নির্বাচন! এসময় আগে দেশ নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বানও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, এদিন দুপুরে প্রথমে গোপালগঞ্জ শহরের যে স্থানে এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশ হবার কথা ছিল, সেখানে অতর্কিত হামলা চালায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী। তারা হঠাৎ হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে পাল্টা ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায়।
এর কিছুক্ষণ পরই সমাবেশ শেষে চলে যাবার মুহূর্তে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি এনসিপির নেতা-কর্মীদের ঘিরে হামলার চেষ্টা করে। তারা চারদিক থেকে এনসিপির নেতা-কর্মী ও পুলিশের গাড়ি আটকে দেয়। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এনসিপির নেতা-কর্মীরা অন্য দিক দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এর আগে, সকালে সদর উপজেলার গান্ধীয়াশুর এলাকায় ঘোনাপাড়া-টেকেরহাট আঞ্চলিক সড়কে গাছ কেটে সড়ক অবরোধ করে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে ইউএনওর গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটে।
তারও আগে গোপালগঞ্জ সদরের উলপুরে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। তাতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য