ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

বিএনপির জনসমর্থন ক্ষুণ্ণ করতে ষড়যন্ত্র করছে দুই একটি ইসলামি দল : রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
১৪ জুলাই, ২০২৫ ১৭:৫৬
অনলাইন ডেস্ক
বিএনপির জনসমর্থন ক্ষুণ্ণ করতে ষড়যন্ত্র করছে দুই একটি ইসলামি দল : রিজভী

বিএনপির জনসমর্থন ক্ষুণ্ণ করতে দুই একটি ইসলামি দল ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার (১৪ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ অভিযোগ করেন তিনি।

দেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির সঙ্গে বিএনপিকে জড়িয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে- এমন অভিযোগ করে রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দু নারী ধর্ষণ থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাম্য হত্যা ও মিটফোর্ডের ঘটনায় এমন শক্তি জড়িত, যারা ‘তাবেদার শক্তির এ দেশীয় ধারক ও বাহক’। বিএনপির প্রতি জনগণের সমর্থন ক্ষুণ্ণ করার জন্য এগুলো আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র এবং তাতে যুক্ত হয়েছে দুই একটি ইসলামিক দল।

তিনি বলেন, এর মধ্যে একটি ইসলামি দল আমরা জানি যে, তারা যুগ যুগ ধরে আওয়ামীপন্থি ও পার্শ্ববর্তী দেশেরপন্থি। তারাই সবচেয়ে বেশি ষড়যন্ত্র করছে। কারা এসব করছেন তাদের পরিচয় আমরা জানি।

রিজভী বলেন, রাষ্ট্রের ভেতর ও বাহির থেকে গভীর চক্রান্ত চলছে এবং টার্গেট করা হয়েছে তারেক রহমানকে। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দুর্বল করার লক্ষ্যেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একটি গুপ্ত সংগঠন কর্তৃক অপপ্রচার ও অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতিবাদে ড্যাব ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীমের সভাপতিত্বে তুমুল বৃষ্টির মধ্যে সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও ড্যাবের সদ্য সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, তারেক রহমান টার্গেট হওয়ার কারণ হলো- তিনি ১০ হাজার মাইল দূরে থেকে বিগত ৫-৬ বছর দেশের মানুষকে সংগঠিত করছেন। গ্রামাঞ্চল থেকে শহর এবং শহরাঞ্চল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত তিনি মানুষকে সংগঠিত করেছেন। এ জন্যই কয়েকটি রাজনৈতিক দলের যত প্রতিহিংসা। তারেক রহমান কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেননি, এখন পর্যন্ত ৫ থেকে ৬ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছেন। বিএনপি বৃহৎ পরিবার, বিভিন্ন জায়গায় অনেকে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্মের চেষ্টা করছে, তবে এসব জানার সাথে সাথে ব্যবস্থা নিচ্ছেন তারেক রহমান। নেতাকর্মীদের প্রতি কোনো উসকানির মুখে প্রতিক্রিয়া না দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে সমস্ত অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র আমরা সামাল দিতে পারব, কারণ জনগণ আমাদের সাথে আছে। শাসকগোষ্ঠী জনগণকে ভয় পাচ্ছে। যদি জনগণ তাদের সঙ্গে থাকত, তাহলে তারা কখনোই নির্বাচন পেছানোর কথা বা পিআরের কথা বলত না। তারা ধোঁয়াশা তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, আধিপত্যবাদী শক্তি জাতীয়তাবাদী শক্তিকে কখনোই পছন্দ করে না। কারণ, তারা জানে জাতীয়তাবাদী শক্তি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের প্রশ্নে কোনো আপোস করবে না। এই কারণেই একের পর এক সংঘাতমূলক ও সহিংস ঘটনা এবং রক্তপাত ঘটানো হচ্ছে।

রিজভী আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন প্রোপাগান্ডা ওতৈ কন্টেন্ট রি করে ফেসবুকে ছড়াচ্ছে। কুমিল্লার মুরাদনগরে এক হিন্দু মেয়ে ধর্ষণের ঘটনায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যুবদলকে দায়ী করা হয়েছে। যদিও ভুক্তভোগীর স্বামী নিজেই বলেছেন, এতে বিএনপির কেউ জড়িত ছিল না; বরং স্থানীয় এক উপদেষ্টার লোকজন জড়িত ছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোবাইল চুরির দায়ে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে পিটিয়ে হত্যা এবং ছাত্রদলের সাম্যকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে রিজভী প্রশ্ন তোলেন, এগুলো কিসের আলামত? তিনি বলেন, লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠক ও একটি যুক্ত বিবৃতি প্রকাশের পর থেকেই বাংলাদেশে পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি শুরু হয়েছে। এর উদ্দেশ্য এখন পরিষ্কার।

মিটফোর্ডের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, এ ঘটনা দুই দিন পরে ভাইরাল হলো কেনো? ভিডিওতে যাদের ছবি দেখা গেছে তাদের অনেকের নাম মামলায় নেই তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ, তারা যেন সত্য তথ্য উদঘাটন করে।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আধিপত্যবাদী শক্তি এবং আধিপত্যবাদী শক্তির দালালরা গভীর চক্রান্ত করছে। তাদের পাতানো ষড়যন্ত্রের জালে আমাদের নেতাকর্মী বা আমাদের পক্ষের সমর্থক, পেশাজীবী সংগঠন কাউকে পা দেওয়া যাবে না।

ড্যাবের সদ্য সাবেক সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. মো. মেহেদী হাসান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডা. নিয়াজ শহীদ রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন ড্যাব নেতা ডা. এম এ সেলিম, ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ডাম্বেল, ডা. মোস্তাক রহিম স্বপ্নন, ডা. সফিউল্লাহ ঝিন্টু, ডা. মুজিবুল হক দোয়েল, ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, ডা. শেখ ফরহাদ, ডা. আদনান হাসান মাসুদ, ডা. হাসনুল শামীম, ডা. মো. সামছুল আলম, ডা. শহিদুল হাসান বাবুল, ডা. জাফর ইকবাল, ডা. সায়িদ মেহবুব কাদির, ডা. আতিকুর রহমান সুজন, ডা. ইমতিয়াজ হোসেন সাজিদ, ডা. শহিদুল হক রাহাত, ডা. এনামুল হক এনাম, ডা. আশফাক কনক, ডা. আরেফিন সুমন, ডা. জাহিদ ইকবাল, ডা. জালাল উদ্দিন রুমী, ডা. রুস্তম আলী মধু, ডা. মাহমুদুল আলম তারেক, ডা. আল আমিন, ডা. শাওন বিন রহমান, ডা. জাহানারা লাইজু, ডা. রাকিবুজজামান, ডা. নুরুল্লাহ মাসুদ, ডা. সালাহউদ্দিন আল আজাদ সোহাগ, ডা. আতিক, ডা. শাকিল, ডা. মারুফ, ডা. গালিব হাসান, ডা. লাবিদ রহমান, ডা. ইব্রাহিম রহমান বাবু, ডা. সাইফ, ডা. ইরাজ, ডা. বাসেদুর রহমান সোহেল, ডা. রাকিবুল ইসলাম আকাশ, ডা. আমিরুল ইসলাম পাভেল, ডা. মীর রাসেখ অভি, ডা. মাসুম, ডা. রুদ্র, ডা. মনজুর রশীদ, কামরুল ইসলাম, ডা. মোহাম্মদুল হক জনি, ডা. শেখ মাহাবুব, ডা. মোতাহার, নার্স নেত্রী বিলকিস জাহান চৌধুরী, এ্যামট্যাবের মহাসচিব বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব সহ কয়েক শ’ চিকিৎসক।

মন্তব্য

নয়াপল্টন থেকে শাহবাগ অভিমুখে ছাত্রদলের বিক্ষোভ শুরু

অনলাইন ডেস্ক
১৪ জুলাই, ২০২৫ ১৬:৫৮
অনলাইন ডেস্ক
নয়াপল্টন থেকে শাহবাগ অভিমুখে ছাত্রদলের বিক্ষোভ শুরু

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুর ৩টা ২৫ মিনিটে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি কাকরাইল ও মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

মিছিলে নেতৃত্ব দেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই নয়াপল্টন এলাকায় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি ছিল। ব্যানার, ফেস্টুন, স্লোগানে মুখর ছিল কার্যালয়ের সামনের এলাকা। বিভিন্ন ইউনিট থেকে আসা নেতাকর্মীদের চোখেমুখে ছিল ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ছাপ।

এসময় এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, একটি ‘গুপ্ত সংগঠন’ দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও তারা দাবি জানান।

ছাত্রদল বলছে, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই এ কর্মসূচি। বিক্ষোভের মাধ্যমে তারা তাদের দাবির পক্ষে জোরালো বার্তা দিতে চায়।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    মিটফোর্ডের ঘটনা তদন্ত-অনুসন্ধানে কমিটি করবে বিএনপি

    অনলাইন ডেস্ক
    ১৪ জুলাই, ২০২৫ ১২:৪০
    অনলাইন ডেস্ক
    মিটফোর্ডের ঘটনা তদন্ত-অনুসন্ধানে কমিটি করবে বিএনপি

    মিটফোর্ডের নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের অন্তর্নিহিত কারণ অনুসন্ধানের জন্য আমরা উপযুক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি ‘তদন্ত ও তথ্যানুসন্ধানী কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এই ঘটনায় তারা প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করবেন এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কোনো রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার হচ্ছে কিনা এবং এর মাধ্যমে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করার জন্য বিশেষ কোনো মহলের প্ররোচনায় এই ধরনের ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সন্দেহ করার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে।

    তিনি বলেন, কুমিল্লার মুরাদনগরে সংঘটিত তিনটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড, কুমিল্লায় মসজিদের ইমাম হত্যা, খুলনায় যুবদল নেতা মাহবুব মোল্লাকে হত্যা ও রগকাটা; এমন হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে সকলের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর সমমানের ছিল কিনা সে প্রশ্নও তোলা যেতেই পারে।

    তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য মিটফোর্ডের হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে অসংখ্য মানুষের সামনে, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নিকটবর্তী অবস্থান থাকা সত্ত্বেও এই রূপ ঘটনার কোনো প্রতিরোধ না হওয়ায় পুরো ঘটনাটি সম্পর্কে জনমনে প্রশ্ন উদ্রেকের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      বিএনপিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না : মির্জা ফখরুল

      অনলাইন ডেস্ক
      ১৩ জুলাই, ২০২৫ ২১:৩০
      অনলাইন ডেস্ক
      বিএনপিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না : মির্জা ফখরুল
      বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

      বিএনপিকে নিয়ে এখন যে অপপ্রচার হচ্ছে, এর পেছনে সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত রয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে এত সহজে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।’

      আজ রবিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘তারেক রহমান : দ্য হোপ অব বাংলাদেশ’ নামের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

      মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি বারবার প্রমাণ করেছে, ধ্বংসস্তূপের মাঝ থেকে জেগে উঠতে পারে।

      প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পরে অনেকেই ভেবেছিল বিএনপি শেষ। বিএনপিকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু সেই বিএনপি আবারও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ছাত্রনেতা, যুবনেতাদের সঙ্গে নিয়ে জেগে উঠেছে।’

      তিনি আরো বলেন, ‘তিনি বলেন, আজকে যে অপপ্রচার হচ্ছে, এর পেছনে কিন্তু একেবারে সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত রয়েছে।

      সেই চক্রান্ত হলো বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করে দেওয়া। তারেক রহমানের নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। এটা কিন্তু মনে রাখতে হবে, বিএনপিকে এত সহজে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।’

      প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতার পাশাপাশি পড়াশোনার মাধ্যমে সব বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

       

      মন্তব্য

      জাতি চাতক পাখির মতো জামায়াতের দিকে তাকিয়ে আছে : গোলাম পরওয়ার

      অনলাইন ডেস্ক
      ১৩ জুলাই, ২০২৫ ২১:১৩
      অনলাইন ডেস্ক
      জাতি চাতক পাখির মতো জামায়াতের দিকে তাকিয়ে আছে : গোলাম পরওয়ার

      চাতক পাখির মতো জাতি জামায়াতে ইসলামীর দিকে তাকিয়ে আছে উল্লেখ করে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ হচ্ছে সৎ, যোগ্য, দক্ষ, আদর্শ, নৈতিক ও মানবিক নেতৃত্ব। যারা চাঁদাবাজি করে, সন্ত্রাসী, দুর্নীতি, খুন, লুটপাট করে তাদের ওপর জাতি আস্থা রাখতে পারে না। জামায়াতে ইসলামীতে রয়েছে সৎ, যোগ্য, দক্ষ, আদর্শ, নৈতিক ও মানবিক নেতৃত্ব।

      তিনি বলেন, জাতি জামায়াতে ইসলামীর প্রতি আস্থা রাখতে চায়। কিন্তু এটা কেউ কেউ বুঝতে পেরে নতুন করে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, অপপ্রচার চালাচ্ছে। যত ষড়যন্ত্র আর অপপ্রচারই চালানো হক, জনগণ সকল অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র রুখে দিবে।

      শনিবার (১২ জুলাই) রাতে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের পেশাজীবী প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

      অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, পাথর দিয়ে মানুষ হত্যা করে পুরো জাতিকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। সারাদেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, ধর্ষকদের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এতে কারো কারো গায়ে লাগে! কিন্তু তারা যদি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, ধর্ষকের পক্ষের না হয় তাহলে তাদের গায়ে কেন লাগে?

      তিনি বলেন, তাদের রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে উচিত ছিল জামায়াতে ইসলামীকে অনুসরণ করে তারাও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, ধর্ষকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। প্রশাসনকে সহযোগিতা করা। উল্টো দেখা গেছে পুলিশ অপরাধীদের আটক করে আনলে একটি দলের নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করে, থানা ভাঙচুর করে, পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে অপরাধীদের থানা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, ধর্ষকদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া পরিহার করে দেশ গড়তে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে তিনি সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান।

      বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, যারা বলে নির্বাচন দিলেই পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে তাদের বক্তব্যে প্রমাণ হয়, তারা সংস্কার ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত না করেই যেনতেন একটি নির্বাচনের জন্য নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে! তারা নিজেদেরকে বড় দল দাবি করে। কিন্তু তারা জানে না ৩৫ শতাংশ তরুণ ভোটাররা কোন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, টেন্ডারবাজ, খুনি, ধর্ষকের দলকে ভোট দিবে না।

      তিনি বলেন, যেনতেন একটি নির্বাচন করে আগামীতে কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবে না। আগামী নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র পাহারা দিবে এদেশের তরুণ প্রজন্ম। তারা তাদের ভোটের হিস্যা বুঝে নিবে। তাই কোন সন্ত্রাসী আর চাঁদাবাজ দিয়ে জবরদখলের স্বপ্ন পরিহার করে গণতান্ত্রিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতার রাজনীতি করতে তিনি সকল দলের প্রতি আহ্বান জানান।

      তিনি আরও বলেন, মিটফোর্ডের ঘটনা চাঁদা নয়, ব্যবসায়িক বিরোধে সংগঠিত বলে ডিএমপি কমিশনার চরম মিথ্যাচার করেছে জাতির সঙ্গে। অথচ হত্যার শিকার সোহাগের পরিবার পরিষ্কার বলেছে, সোহাগের কাছে মাসে ২ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করেছে চাঁদাবাজরা। কিন্তু সোহাগ সেই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তাকে পৈশাচিক কায়দায় পাথর দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

      কোন দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়ে মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে শিক্ষা নিতে হবে। নয়তো জনগণ রাস্তায় নামলে কে কত বড় দল, কে কত বড় ক্ষমতাধর সেই অস্তিত্বও থাকবে না। তিনি উপস্থিত পেশাজীবী প্রতিনিধিদের ১৯ জুলাইয়ে জাতীয় সমাবেশ দেশপ্রেমিক জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

      কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ আল-আমিন, ঢাকা বারের সাবেক সহ-সভাপতি, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি মো. আব্দুস সালাম প্রমুখ। এছাড়াও সম্মেলনে মহানগরীর নেতৃবৃন্দসহ পেশাজীবী বিভাগের দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

      সভাপতির বক্তব্যে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যেই অমানবিক পরিস্থিতি এই পরিস্থিতি থেকে উত্তোলনের জন্যই আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী একটি মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। যেখানে প্রতিটি নাগরিক স্বাধীন ও নিরাপদে বসবাস করার নিশ্চয়তা পাবে। জামায়াতে ইসলামী শুধু মুখে বলে না, বাস্তবেও করে দেখায়।

      তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদ ৩টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে প্রমাণ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে কোন দুর্নীতি নাই, চাঁদাবাজি নাই, সন্ত্রাসী নাই, দখলদারিত্ব কিংবা টেন্ডারবাজি নাই। জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে রাষ্ট্র গড়ার জন্য মানুষ গড়তে হবে। সেজন্য জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির প্রশিক্ষিত মানুষ গড়েছে। এজন্যই জামায়াতে ইসলামী দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারে, জামায়াতে ইসলামীতে রয়েছে সৎ, যোগ্য, দক্ষ, আদর্শিক ও নৈতিক মানবিক নেতৃত্ব।

      তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী কেন সমাবেশের ডাক দিয়েছে? কারণ, গণমানুষের ৭ দফা দাবি আদায়ের জন্য জামায়াতে ইসলামী জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দাবি আদায় করা যৌক্তিক এবং গণতান্ত্রিক ধারা বলে মনে করে। বিগত ১৭ বছরের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার, রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার, জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন, শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন, প্রবাসীদের ভোট প্রদানের ব্যবস্থা এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিরকরণের এই ৭ দফা দাবি আদায় হলেই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে।

      এসময় তিনি উপস্থিত পেশাজীবী প্রতিনিধিদের ৭ দফা দাবি আদায়ে আগামী ১৯ জুলাইয়ের সমাবেশে জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে যোগদানের আহ্বান জানান।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য
        সর্বশেষ সংবাদ
          সর্বাধিক পঠিত