ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

শাহবাগের ‘প্রজন্ম চত্বর’ ভাঙল সিটি কর্পোরেশন, দায় চাপল জামায়াতের ওপর

অনলাইন ডেস্ক
১৩ জুলাই, ২০২৫ ১৬:৪৬
অনলাইন ডেস্ক
শাহবাগের ‘প্রজন্ম চত্বর’ ভাঙল সিটি কর্পোরেশন, দায় চাপল জামায়াতের ওপর

রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থিত ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও যুদ্ধাপরাধীদের’ বিচারের দাবির প্রতীক ‘প্রজন্ম চত্বর’ স্থাপনাটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার দায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দিয়ে তাসফিয়া জান্নাত নামে একজন ফেসবুকে পোস্ট করায় বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

তবে শাহবাগ থানা থেকে জানানো হয়েছে, স্থাপনাটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর নতুন স্থাপনা নির্মাণ করার জন্য ভেঙেছে।

যদিও সিটি কর্পোরেশন ও গণপূর্ত থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, শাহবাগ পশ্চিম থানা জামায়াতে ইসলামী দলের বিরুদ্ধে তোলা এ অভিযোগ নাকচ করে বিষয়টিকে ‘অপপ্রচার’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

আজ রবিবার (১৩ জুলাই) ভোরে তাসফিয়া জান্নাত তার ফেসবুকের এক পোস্টে লেখেন, রাতের অন্ধকারে শাহবাগ চত্বর ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। জামাত শিবিরের যা মন চাইছে তাই করে চলছে। দেশে কি কোন সরকার নাই!?

তার পোস্টের কমেন্টে সাইয়্যেদ মাহবুব হাসান মামুন নামে একজন লেখেন, এখনি সময় এই ৭১-এর রাজাকার আলবদর আলসামস-এর সহদর জাশা’দের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। জহুরুল ইসলাম নামে একজন লেখেন, জামাত ১৯৭১ পরাজয়ের প্রতিশোধ নিচ্ছে।

তবে জানা গেছে, প্রজন্ম চত্বর ভাঙার সঙ্গে জামায়াত-শিবির জড়িত নয়। গত শনিবার দিবাগত রাতে এ স্থাপনাটি ভাঙা হয়। এসময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বুলডোজার ব্যবহার করা হয়েছে বলেও কেউ কেউ জানান।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এটা ভেঙেছে। তারা নতুন স্থাপনা নির্মাণ করবে। আর এ ব্যাপারে তারাই বিস্তারিত বলতে পারবে।

তবে এ বিষয়ে জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মোর্শেদ ইকবালকে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে তিনি জানেন না। তাছাড়া, এটা গণপূর্তের আওতাধীনও নয় বলে জানান তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা। কেউ আমাকে কিছু জানায়নি। আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে কল দিলেও তারা একই কথা জানান।

তাসফিয়া জান্নাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে শাহবাগ পশ্চিম থানা জামায়াতের মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক তানভীর আহমেদ বলেন, আমরা যতদূর জানি, স্থাপনাটি সিটি কর্পোরেশন ভেঙেছে। বিষয়টির সাথে আমাদের সংগঠনের কারো কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

সংগঠনটির শাহবাগ পশ্চিম থানা সেক্রেটারি এম. লোকমান হোসাইন বলেন, এ সকল কার্যক্রমের সঙ্গে জামায়াতের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কোন সংশ্লিষ্টতা অতীতে কখনো ছিল না, বর্তমানেও নেই।

এসব অপপ্রচার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ফ্যাসিবাদিদের পুরনো অভ্যাসের ধারাবাহিকতা। এগুলোর মাধ্যমে জুলাই অভ্যু্ত্থানের স্পিরিটকে বিভক্ত করার প্রচেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    যারা মব তৈরি করেছে, তাদের কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না : তারেক রহমান

    অনলাইন ডেস্ক
    ১২ জুলাই, ২০২৫ ২০:১৯
    অনলাইন ডেস্ক
    যারা মব তৈরি করেছে, তাদের কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না : তারেক রহমান

    পুরান ঢাকার মিটফোর্ডে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের সাম্প্রতিক সময়ের হত্যা নৈরাজ্যকারীদে সরকার প্রশ্রয় দিচ্ছে। যারা মব তৈরি করছে, তাদের কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    শনিবার (১২ জুলাই) গুলশানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

    সব ধরনের হত্যার বিচার যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়, তার সর্বোচ্চ উদ্যোগ বিএনপির থাকবে, এমন আশ্বাস দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে অদৃশ্য শক্তি। বিভিন্নভাবে যারা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, জনগণের বিপরীতে দাঁড়িয়েছে, আমরা সরকারকে বারবার বলেছি, আমরা তাদের প্রশ্রয় দেব না। এই অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে জগণের জানমাল হেফাজত করা।

    যারা মব তৈরি করছে, তাদের কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, পুরান ঢাকায় যে ঘটনাটি ঘটেছে, আমরা খুব আশ্চর্যের সঙ্গে লক্ষ করেছি, স্ক্রিনে যাকে দেখেছি হত্যা করতে, তাকে কেন সরকার এখন পর্যন্ত অ্যারেস্ট করেনি? আমরা কি তবে ধরে নেব যে যারা বিভিন্নভাবে মব সৃষ্টি করে একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে, সেখানে সরকারের কোনো প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় আছে? প্রশাসনের কোনো কারও কারও কোনো প্রশ্রয় আছে?

    তিনি বলেন, সরকার কেন ব্যর্থ হচ্ছে? এই সরকারের কাছে আমাদের সবার প্রশ্ন, তারা কেন প্রশ্রয় দিচ্ছে, আশ্রয় দিচ্ছে?

    অদৃশ্য শত্রু ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনের মধ্যে এখনো স্বৈরাচারের ভূত লুকিয়ে আছে। এখনো নতুন ভূত জন্ম হচ্ছে। সবাইকে বলব সচেতন হোন, না হয় দেশকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। ন্যায়কারী যেই হোক, কোনো প্রশ্রয় দেবে না বিএনপি।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়ে বলেন, আগামী দিনে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে মানুষের অধিকার রক্ষায় যারা প্রাণ দিয়েছেন, তার বিচার যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়, তার সর্বোচ্চ উদ্যোগ বিএনপির থাকবে।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডের মূল তিন আসামিকে বাদ দেওয়া রহস্যজনক

      অনলাইন ডেস্ক
      ১২ জুলাই, ২০২৫ ১৮:৪৪
      অনলাইন ডেস্ক
      মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডের মূল তিন আসামিকে বাদ দেওয়া রহস্যজনক

      পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে মাথা থেঁতলে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার মূল আসামিদের অদ্যাবধি গ্রেপ্তার না করা এবং মামলার এজাহার থেকে মূল তিন আসামিকে বাদ দেওয়া ‘রহস্যজনক’ বলে মনে করছে বিএনপির তিন অঙ্গ-সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল।

      শনিবার (১২ জুলাই) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির এই তিন অঙ্গ সংগঠন। তিন সংগঠনের পক্ষে যুবদলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

      এম মোনায়েম মুন্না বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। রাজধানীর চকবাজার থানার ব্যবসায়ী ও যুবদল কর্মী মোহাম্মদ সোহাগকে প্রকাশ্য দিবালোকে অত্যন্ত নৃশংস কায়দায় নির্মমভাবে পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছে। এই নৃশংস বর্বরতা প্রত্যক্ষ করে সমস্ত জাতি স্তম্ভিত। আমি এই নৃশংসতার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি। সভ্যতার এই যুগে এমন আদিম বর্বরতা আমরা কোনোভাবে মেনে নিতে পারি না।

      তিনি বলেন, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইন্ধনদাতা হিসেবে যাদের নাম এসেছে, মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে আমাদের তিন সংগঠনের পাঁচজনকে গতকাল আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছি অতি দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য। সাংগঠনিক দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার দিক থেকে যা কিছু প্রয়োজন আমরা সেই ব্যবস্থাগুলো নিয়েছি।

      মুন্না বলেন, কিন্তু এই ঘটনায় যারা সরাসরি সংশ্লিষ্ট, ভিডিও ফুটেজ ও সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে যাদের দেখা গেছে, রহস্যজনকভাবে তাদের মামলার প্রধান আসামি করা হয়নি। যারা প্রাণঘাতী আঘাতগুলো করেছে, তারা এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারও হয়নি। এর কারণ আমাদের বোধগম্য নয়।

      তিনি বলেন, গণমাধ্যমে এসেছে, বাদীর মেয়ে বলেছেন মামলার এজাহারে খুনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত তিনজনকে পুলিশ কৌশলে বাদ দিয়ে নিরপরাধ তিনজনকে আসামি করেছে। ঘটনার ৬০ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও খুনের প্রমাণাদি হাতে থাকা সত্ত্বেও অদ্যাবধি মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা গেল না। এটা একটি বিরাট প্রশ্ন ও রহস্য।

      মুন্না বলেন, আমরাও জানতে চাই, কারা কেন এই তিন আসামিকে বাদ দিয়ে নতুন করে অন্য কাউকে আসামি করল। আর ঘটনাটি বুধবারের। শুক্রবার এই ঘটনা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। দুই দিন আগের ঘটনা কেন দুই দিন পর প্রচার হলো, এর পেছনে কারা জড়িত সেটাও খুঁজে দেখা উচিত। দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে এই প্রশ্নটি দেখে এর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি।

      ‘অভিযোগ পেলে কাউকে ছাড় দিচ্ছি না’

      মুন্না বলেন, গত কয়েক মাসে সারা দেশের যেকোনো জায়গা থেকে যখনই আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, আমরা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেলেই চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। গত প্রায় এক বছরে আমরা আমাদের হাজারো নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছি।

      যুবদল সভাপতি বলেন, আমরা কোথাও দায় এড়ানোর রাজনীতি করিনি। বরং দায়গ্রহণ করে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি। কিন্তু আমরা যে হাজারো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছি, প্রশাসন কি তাদের বিষয়ে যথাযথ আইনি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে? না নিয়ে থাকলে কেন নেয়নি সেটা আপনাদের মাধ্যমে জানতে চাই।

      ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হতে হবে’

      মুন্না বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আমরা মনে করছি, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিকল্পে কার্যকর পদক্ষেপ নিন। এখানে আমাদের যদি কোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, আমরা তা করতে সর্বদা প্রস্তুত আছি।

      ‘রগকাটা রাজনীতি কারা করে আপনারা জানেন’

      মুন্না বলেন, গত প্রায় এক বছরেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়নি। আপনারা দেখেছেন, গতকাল খুলনায় যুবদলের একজন বহিষ্কৃত নেতাকে গুলি করে ও রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে। চাঁদপুরে খুতবা দেওয়ার সময় একজন ইমামের ওপর নারকীয় কায়দায় প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে।

      তিনি বলেন, রগ কেটে হত্যা করা একটি বিশেষ সংগঠনের দীর্ঘদিনের সহিংস রাজনীতির চর্চার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। গতকালের দুটি ঘটনায় কিন্তু তারা জড়িত ছিল। ইতোপূর্বে কুয়েটের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পেছনেও প্রত্যক্ষ ইন্ধন ছিল তাদের।

      তিনি বলেন, গত সাপ্তাহে কুমিল্লায় মব তৈরি করে একই পরিবারের তিনজনকে নৃশংস কায়দায় হত্যা করা হয়েছে। ইতোপূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল নামে এক যুবককে এবং পরবর্তী সময়ে ছাত্রদল নেতা সাম্যকে বর্বর কায়দায় হত্যা করা হয়। প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা পারভেজকে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামধারী স্থানীয় সন্ত্রাসীরা।

      ‘বিশেষ গোষ্ঠী নির্বাচন বিলম্বে ষড়যন্ত্র করছে’

      মুন্না অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিপর্যস্ত। কিন্তু একটি সুযোগসন্ধানী বিশেষ গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিলেক্টিভ প্রতিবাদ করে বিএনপি এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং তীব্র কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য বিবৃতি দেওয়া শুরু করেছে।

      যুবদল সভাপতি বলেন, বিএনপি ইতোমধ্যে দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সরকার ও প্রশাসনকে অসংখ্যবার অনুরোধ করেছে। কিন্তু সরকার ও প্রশাসন এক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। আমরা মনে করি, সরকার পরিকল্পনামাফিক প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছে যাতে দেশে অরাজক পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকে এবং এই অজুহাতে জাতির দীর্ঘ প্রত্যাশিত জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করা যায়। একটি বিশেষ গোষ্ঠী যারা নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে উত্তরণ চায় না তারা এই সুযোগটি গ্রহণ করে বিএনপি এবং এর শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উসকানি দিচ্ছে।

      মোনায়েম মুন্না বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের সমর্থনসহ নানা বিষয়ে তরুণদের মধ্যে পরিচালিত এক জরিপের ফলাফল গত সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে। এখানে দেখা গেছে, যারা নিজেদের তারুণ্যের একমাত্র স্টেকহোল্ডার হিসেবে দাবি করেন, জরিপে তাদের সেই দাবি বুমেরাং হয়েছে। এদেশের তরুণরা বরং বহু লড়াই ও সংগ্রামের পরীক্ষিত বাংলাদেশপন্থি শক্তি বিএনপিতেই তাদের আস্থা-বিশ্বাস রাখে বলে প্রতিভাত হয়েছে। আগামীতে বিএনপিকেই এদেশের অধিকাংশ তরুণেরা ক্ষমতায় দেখতে চায় বলে জরিপের ফলাফলে উঠে এসেছে।

      সংবাদ সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানি, সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করীম পল, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        রাজনৈতিক দলগুলোর অপকর্মের তথ্য সংরক্ষণে টিএসসিতে বসছে ‘খুনের স্কোরকার্ড’

        অনলাইন ডেস্ক
        ১২ জুলাই, ২০২৫ ১৮:৩০
        অনলাইন ডেস্ক
        রাজনৈতিক দলগুলোর অপকর্মের তথ্য সংরক্ষণে টিএসসিতে বসছে ‘খুনের স্কোরকার্ড’

        জুলাই অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ‘স্কোরবোর্ড’ বসানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। 

        শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিটফোর্ডে যুবদল নেতাকর্মীদের দ্বারা ব্যবসায়ীকে নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে এবং দেশব্যাপী অব্যাহত চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ছাত্র অধিকার পরিষদের মানববন্ধন থেকে এ ঘোষণা দেন সংগঠনটির সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা। 

        ছাত্র অধিকার পরিষদ সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘আমরা বিপ্লবী ছাত্রজনতার উদ্দেশ্যে ঘোষণা দিচ্ছি, আজকে থেকে টিএসসিতে একটা স্কোর বোর্ড করা হবে। ক্রিকেটে যেমন স্কোর লেখা থাকে তেমনি ৫ আগস্টের পর কোন রাজনৈতিক দল কতটি খুন করেছে সেটি স্কোরবোর্ডে লেখা থাকবে। বিপ্লবী ছাত্রজনতা দেখবে দিনে দিনে কত ঋণ বাড়ছে।’

        বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনারা বোধহয় ক্ষমতায় এসেছেন, ক্ষমতার একটা ভাব এসেছে আপনাদের গায়ে। গত ১৫ বছর আমরা আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগকে অনেক বার বলেছি নিজেদেরকে সংশোধন করুন, তারা সংশোধন করে নাই উল্টো আমাদেরকে মেরেছে আর হেসেছে। ফলে তারা আজ ভারতে পালিয়েছে। আপনারা হত্যা-ধর্ষনের দায় নেবেন না কিন্তু চাঁদার ভাগ নিবেন।’

        তিনি আরও  বলেন, ‘আমরা আপনাদের শত্রু না। বিএনপি ১০ মাসে শতাধিক হত্যা করেছে। বিয়ে না দেওয়ায় এক পিতাকেও হত্যা করেছে। ক্ষমতায় আসার আগে যদি আপনাদের এই ক্যারেক্টার হয় তাহলে ক্ষমতায় আসলে আপনারা কি করবেন? মিডিয়াকে কি চেপে ধরা হয়েছে? ঘটনার কয়েকদিন পরে আমরা জানতে পারি। আওয়ামী লীগের সময়ও একই অবস্থা ছিল। আমাদেরকে মারতো কিন্তু মিডিয়ায় প্রকাশ পেতো না। 

        ঢাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব বলেন, ‘জাহেলিয়াত কায়েম করে কোনো সরকার থাকতে পারেনি। ১৪শ বছর আগে আমরা জাহেলিয়াত দেখেছি, তারা টিকতে পারেনি, আওয়ামী জাহেলিয়াতও টিকতে পারেনি, এখন নব্য জাতীয়তাবাদী জাহেলিয়াতও টিকতে পারবে না। অনতিবিলম্বে এই হত্যার বিচার হতে হবে।’

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          খালি নির্বাচন নির্বাচন করেন, খুনি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলেন না কেন?

          অনলাইন ডেস্ক
          ১২ জুলাই, ২০২৫ ১৭:৩
          অনলাইন ডেস্ক
          খালি নির্বাচন নির্বাচন করেন, খুনি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলেন না কেন?

          বিএনপিকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন তুলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, আপনাদের তো শুধু নির্বাচন চাইতেই দেখি কিন্তু চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলেন না কেন? নির্বাচন চান অথচ মিটফোর্ডের খুনিদের নিয়ে কথা বলেন না কেন? আপনারা কি এখনো দলীয় সন্ত্রাসীদের চিন্তা-চেতনার ঊর্ধ্বে উঠতে পারেন নাই?

           তিনি বলেন, মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সারা দেশের মানুষকে অবাক করেছে। সোহাগের অপরাধ কি ছিল? শুনছি তিনি নাকি যুবদলেরই লোক ছিলেন। যে দলেরই হোক, মানুষ তো। তার অপরাধ, তার কাছে চাঁদা চেয়েছে, দেয়নি। এটা কোনো অপরাধ?

          মিটফোর্ডে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডসহ সারা দেশে খুন-ধর্ষণের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে শনিবার (১২ জুলাই) বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিলোত্তর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।

           রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশের সব শ্রেণিপেশার হাজার হাজার মানুষের জীবন, লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছিল। বাধ্য হয়ে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। মানুষ নিশ্চিন্ত হয়েছিল, আশ্বস্ত হয়েছিল সন্ত্রাসীদের কাছে আর জীবন দিতে হবে না, চাঁদা দিতে হবে না আর মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগের অবর্তমানে একটি দল বাংলাদেশের মালিক বনে গেছেন।

          দেশের নাগরিকদের সজাগ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সোহাগকে যখন হত্যা করা হয়, তখন বহু লোক আশপাশে ছিলেন, চাঁদাবাজ ছিলেন মাত্র কয়েকজন। জনগণ পায়ের জুতো খুলে মারলেই তো চাঁদাবাজরা মাটির সঙ্গে মিশে যেত। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারে, তাহলে এই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজরা আজকে সোহাগকে মেরেছে কাল আপনাকে আমাকে মারবে, পরে যাকে ইচ্ছে তাকে মারবে। আমরা এই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের হাতে বাংলাদেশের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারি না।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত