শিরোনাম
মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডের মূল তিন আসামিকে বাদ দেওয়া রহস্যজনক
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে মাথা থেঁতলে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার মূল আসামিদের অদ্যাবধি গ্রেপ্তার না করা এবং মামলার এজাহার থেকে মূল তিন আসামিকে বাদ দেওয়া ‘রহস্যজনক’ বলে মনে করছে বিএনপির তিন অঙ্গ-সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল।
শনিবার (১২ জুলাই) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির এই তিন অঙ্গ সংগঠন। তিন সংগঠনের পক্ষে যুবদলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।
এম মোনায়েম মুন্না বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। রাজধানীর চকবাজার থানার ব্যবসায়ী ও যুবদল কর্মী মোহাম্মদ সোহাগকে প্রকাশ্য দিবালোকে অত্যন্ত নৃশংস কায়দায় নির্মমভাবে পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছে। এই নৃশংস বর্বরতা প্রত্যক্ষ করে সমস্ত জাতি স্তম্ভিত। আমি এই নৃশংসতার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি। সভ্যতার এই যুগে এমন আদিম বর্বরতা আমরা কোনোভাবে মেনে নিতে পারি না।
তিনি বলেন, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইন্ধনদাতা হিসেবে যাদের নাম এসেছে, মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে আমাদের তিন সংগঠনের পাঁচজনকে গতকাল আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছি অতি দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য। সাংগঠনিক দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার দিক থেকে যা কিছু প্রয়োজন আমরা সেই ব্যবস্থাগুলো নিয়েছি।
মুন্না বলেন, কিন্তু এই ঘটনায় যারা সরাসরি সংশ্লিষ্ট, ভিডিও ফুটেজ ও সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে যাদের দেখা গেছে, রহস্যজনকভাবে তাদের মামলার প্রধান আসামি করা হয়নি। যারা প্রাণঘাতী আঘাতগুলো করেছে, তারা এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারও হয়নি। এর কারণ আমাদের বোধগম্য নয়।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমে এসেছে, বাদীর মেয়ে বলেছেন মামলার এজাহারে খুনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত তিনজনকে পুলিশ কৌশলে বাদ দিয়ে নিরপরাধ তিনজনকে আসামি করেছে। ঘটনার ৬০ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও খুনের প্রমাণাদি হাতে থাকা সত্ত্বেও অদ্যাবধি মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা গেল না। এটা একটি বিরাট প্রশ্ন ও রহস্য।
মুন্না বলেন, আমরাও জানতে চাই, কারা কেন এই তিন আসামিকে বাদ দিয়ে নতুন করে অন্য কাউকে আসামি করল। আর ঘটনাটি বুধবারের। শুক্রবার এই ঘটনা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। দুই দিন আগের ঘটনা কেন দুই দিন পর প্রচার হলো, এর পেছনে কারা জড়িত সেটাও খুঁজে দেখা উচিত। দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে এই প্রশ্নটি দেখে এর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি।
‘অভিযোগ পেলে কাউকে ছাড় দিচ্ছি না’
মুন্না বলেন, গত কয়েক মাসে সারা দেশের যেকোনো জায়গা থেকে যখনই আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, আমরা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেলেই চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। গত প্রায় এক বছরে আমরা আমাদের হাজারো নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছি।
যুবদল সভাপতি বলেন, আমরা কোথাও দায় এড়ানোর রাজনীতি করিনি। বরং দায়গ্রহণ করে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি। কিন্তু আমরা যে হাজারো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছি, প্রশাসন কি তাদের বিষয়ে যথাযথ আইনি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে? না নিয়ে থাকলে কেন নেয়নি সেটা আপনাদের মাধ্যমে জানতে চাই।
‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হতে হবে’
মুন্না বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আমরা মনে করছি, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিকল্পে কার্যকর পদক্ষেপ নিন। এখানে আমাদের যদি কোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, আমরা তা করতে সর্বদা প্রস্তুত আছি।
‘রগকাটা রাজনীতি কারা করে আপনারা জানেন’
মুন্না বলেন, গত প্রায় এক বছরেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়নি। আপনারা দেখেছেন, গতকাল খুলনায় যুবদলের একজন বহিষ্কৃত নেতাকে গুলি করে ও রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে। চাঁদপুরে খুতবা দেওয়ার সময় একজন ইমামের ওপর নারকীয় কায়দায় প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রগ কেটে হত্যা করা একটি বিশেষ সংগঠনের দীর্ঘদিনের সহিংস রাজনীতির চর্চার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। গতকালের দুটি ঘটনায় কিন্তু তারা জড়িত ছিল। ইতোপূর্বে কুয়েটের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পেছনেও প্রত্যক্ষ ইন্ধন ছিল তাদের।
তিনি বলেন, গত সাপ্তাহে কুমিল্লায় মব তৈরি করে একই পরিবারের তিনজনকে নৃশংস কায়দায় হত্যা করা হয়েছে। ইতোপূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল নামে এক যুবককে এবং পরবর্তী সময়ে ছাত্রদল নেতা সাম্যকে বর্বর কায়দায় হত্যা করা হয়। প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা পারভেজকে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামধারী স্থানীয় সন্ত্রাসীরা।
‘বিশেষ গোষ্ঠী নির্বাচন বিলম্বে ষড়যন্ত্র করছে’
মুন্না অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিপর্যস্ত। কিন্তু একটি সুযোগসন্ধানী বিশেষ গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিলেক্টিভ প্রতিবাদ করে বিএনপি এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং তীব্র কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য বিবৃতি দেওয়া শুরু করেছে।
যুবদল সভাপতি বলেন, বিএনপি ইতোমধ্যে দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সরকার ও প্রশাসনকে অসংখ্যবার অনুরোধ করেছে। কিন্তু সরকার ও প্রশাসন এক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। আমরা মনে করি, সরকার পরিকল্পনামাফিক প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছে যাতে দেশে অরাজক পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকে এবং এই অজুহাতে জাতির দীর্ঘ প্রত্যাশিত জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করা যায়। একটি বিশেষ গোষ্ঠী যারা নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে উত্তরণ চায় না তারা এই সুযোগটি গ্রহণ করে বিএনপি এবং এর শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উসকানি দিচ্ছে।
মোনায়েম মুন্না বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের সমর্থনসহ নানা বিষয়ে তরুণদের মধ্যে পরিচালিত এক জরিপের ফলাফল গত সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে। এখানে দেখা গেছে, যারা নিজেদের তারুণ্যের একমাত্র স্টেকহোল্ডার হিসেবে দাবি করেন, জরিপে তাদের সেই দাবি বুমেরাং হয়েছে। এদেশের তরুণরা বরং বহু লড়াই ও সংগ্রামের পরীক্ষিত বাংলাদেশপন্থি শক্তি বিএনপিতেই তাদের আস্থা-বিশ্বাস রাখে বলে প্রতিভাত হয়েছে। আগামীতে বিএনপিকেই এদেশের অধিকাংশ তরুণেরা ক্ষমতায় দেখতে চায় বলে জরিপের ফলাফলে উঠে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানি, সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করীম পল, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর অপকর্মের তথ্য সংরক্ষণে টিএসসিতে বসছে ‘খুনের স্কোরকার্ড’
জুলাই অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ‘স্কোরবোর্ড’ বসানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।
শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিটফোর্ডে যুবদল নেতাকর্মীদের দ্বারা ব্যবসায়ীকে নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে এবং দেশব্যাপী অব্যাহত চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ছাত্র অধিকার পরিষদের মানববন্ধন থেকে এ ঘোষণা দেন সংগঠনটির সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা।
ছাত্র অধিকার পরিষদ সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘আমরা বিপ্লবী ছাত্রজনতার উদ্দেশ্যে ঘোষণা দিচ্ছি, আজকে থেকে টিএসসিতে একটা স্কোর বোর্ড করা হবে। ক্রিকেটে যেমন স্কোর লেখা থাকে তেমনি ৫ আগস্টের পর কোন রাজনৈতিক দল কতটি খুন করেছে সেটি স্কোরবোর্ডে লেখা থাকবে। বিপ্লবী ছাত্রজনতা দেখবে দিনে দিনে কত ঋণ বাড়ছে।’
বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনারা বোধহয় ক্ষমতায় এসেছেন, ক্ষমতার একটা ভাব এসেছে আপনাদের গায়ে। গত ১৫ বছর আমরা আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগকে অনেক বার বলেছি নিজেদেরকে সংশোধন করুন, তারা সংশোধন করে নাই উল্টো আমাদেরকে মেরেছে আর হেসেছে। ফলে তারা আজ ভারতে পালিয়েছে। আপনারা হত্যা-ধর্ষনের দায় নেবেন না কিন্তু চাঁদার ভাগ নিবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আপনাদের শত্রু না। বিএনপি ১০ মাসে শতাধিক হত্যা করেছে। বিয়ে না দেওয়ায় এক পিতাকেও হত্যা করেছে। ক্ষমতায় আসার আগে যদি আপনাদের এই ক্যারেক্টার হয় তাহলে ক্ষমতায় আসলে আপনারা কি করবেন? মিডিয়াকে কি চেপে ধরা হয়েছে? ঘটনার কয়েকদিন পরে আমরা জানতে পারি। আওয়ামী লীগের সময়ও একই অবস্থা ছিল। আমাদেরকে মারতো কিন্তু মিডিয়ায় প্রকাশ পেতো না।
ঢাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব বলেন, ‘জাহেলিয়াত কায়েম করে কোনো সরকার থাকতে পারেনি। ১৪শ বছর আগে আমরা জাহেলিয়াত দেখেছি, তারা টিকতে পারেনি, আওয়ামী জাহেলিয়াতও টিকতে পারেনি, এখন নব্য জাতীয়তাবাদী জাহেলিয়াতও টিকতে পারবে না। অনতিবিলম্বে এই হত্যার বিচার হতে হবে।’
খালি নির্বাচন নির্বাচন করেন, খুনি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলেন না কেন?
বিএনপিকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন তুলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, আপনাদের তো শুধু নির্বাচন চাইতেই দেখি কিন্তু চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলেন না কেন? নির্বাচন চান অথচ মিটফোর্ডের খুনিদের নিয়ে কথা বলেন না কেন? আপনারা কি এখনো দলীয় সন্ত্রাসীদের চিন্তা-চেতনার ঊর্ধ্বে উঠতে পারেন নাই?
তিনি বলেন, মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সারা দেশের মানুষকে অবাক করেছে। সোহাগের অপরাধ কি ছিল? শুনছি তিনি নাকি যুবদলেরই লোক ছিলেন। যে দলেরই হোক, মানুষ তো। তার অপরাধ, তার কাছে চাঁদা চেয়েছে, দেয়নি। এটা কোনো অপরাধ?
মিটফোর্ডে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডসহ সারা দেশে খুন-ধর্ষণের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে শনিবার (১২ জুলাই) বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিলোত্তর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশের সব শ্রেণিপেশার হাজার হাজার মানুষের জীবন, লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছিল। বাধ্য হয়ে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। মানুষ নিশ্চিন্ত হয়েছিল, আশ্বস্ত হয়েছিল সন্ত্রাসীদের কাছে আর জীবন দিতে হবে না, চাঁদা দিতে হবে না আর মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগের অবর্তমানে একটি দল বাংলাদেশের মালিক বনে গেছেন।
দেশের নাগরিকদের সজাগ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সোহাগকে যখন হত্যা করা হয়, তখন বহু লোক আশপাশে ছিলেন, চাঁদাবাজ ছিলেন মাত্র কয়েকজন। জনগণ পায়ের জুতো খুলে মারলেই তো চাঁদাবাজরা মাটির সঙ্গে মিশে যেত। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারে, তাহলে এই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজরা আজকে সোহাগকে মেরেছে কাল আপনাকে আমাকে মারবে, পরে যাকে ইচ্ছে তাকে মারবে। আমরা এই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের হাতে বাংলাদেশের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারি না।
ব্যবসায়ী হত্যা
যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ৫ নেতা আজীবন বহিষ্কার
ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকে নিজ নিজ সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় বহিষ্কৃতরা আসামি।
সংগঠন তিনটি জানিয়েছে, বহিষ্কৃত নেতাদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কোনোরূপ শৈথিল্য না দেখিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠন তিনটি।
যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার সই করা গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক রজ্জব আলী পন্টু ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবাহ করিম লাকিকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
ছাত্রদলের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ছাত্রদলের মহানগর দক্ষিণ শাখার অধীনস্থ চকবাজার থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব অপু দাসকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে ।
এ ছাড়া মাহমুদুল হাসান মাহিন ২০১৮ সালের আগে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে জড়িত থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের কার্যক্রমে জড়িত নেই। মাহিনকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে ।
স্বেচ্ছাসেবক দল প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কালু ওরফে স্বেচ্ছাসেবক কালু-কে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।
ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিএনপি ছাড়লেন আলোচিত অ্যাক্টিভিস্ট ড. ফয়জুল হক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলের মালয়েশিয়া কমিটির সহ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও আলোচিত অ্যাক্টিভিস্ট ড. ফয়জুল হক। শনিবার (১২ জুলাই) ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর দলীয় মতাদর্শে বিরোধের কারণে তিনি দল থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঝালকাঠী-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
ড. ফয়জুল হক জানান, ২০১৫ সাল থেকে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দেশের ভিতরে ও বাইরে ইসলামপন্থী ও সমাজকেন্দ্রিক রাজনীতির পক্ষে কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে ঝালকাঠী-১ ও ঝালকাঠী-২ আসনে দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশী ছিলেন বলেও জানান তিনি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন এবং ৫ আগস্টের ঘটনার পর বামঘেঁষা মতাদর্শের দিকে ঝুঁকির বিষয়টি তাকে হতাশ করেছে। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে দলের কিছু বক্তব্য আওয়ামী লীগের বক্তব্যের সঙ্গে বিস্ময়করভাবে মিলে যাচ্ছে। এতে একজন ডানপন্থী রাজনীতিক হিসেবে নিজেকে কোণঠাসা অনুভব করছি।
তিনি আরও বলেন, আমি পাথর দিয়ে মানুষ হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি কোনোটিকেই সমর্থন করি না। আমি চেয়েছি একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবতাকেন্দ্রিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন রাজনীতি করতে। দলীয় স্বার্থ নয় দেশ ও সাধারণ মানুষের অধিকারই আমার রাজনীতির মূলমন্ত্র।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের প্রতি তিনি সম্মান জানিয়ে বলেন, তাঁদের অবদানের কথা আমি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবো।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে ড. ফয়জুল হক বলেন, আমি ইনশাআল্লাহ ঝালকাঠী-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবো। ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবতা ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই হবে আমার প্রতিশ্রুতি।
তিনি দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আজ থেকে আমি আর কোনো দলীয় পরিচয়ের ছায়ায় নয়, একজন স্বাধীনচেতা দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে ভালোকে ভালো ও মন্দকে মন্দ বলার সাহস নিয়ে পথ চলবো।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত



মন্তব্য