শিরোনাম
রাজনৈতিক দলগুলোর অপকর্মের তথ্য সংরক্ষণে টিএসসিতে বসছে ‘খুনের স্কোরকার্ড’
জুলাই অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ‘স্কোরবোর্ড’ বসানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।
শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিটফোর্ডে যুবদল নেতাকর্মীদের দ্বারা ব্যবসায়ীকে নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে এবং দেশব্যাপী অব্যাহত চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ছাত্র অধিকার পরিষদের মানববন্ধন থেকে এ ঘোষণা দেন সংগঠনটির সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা।
ছাত্র অধিকার পরিষদ সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘আমরা বিপ্লবী ছাত্রজনতার উদ্দেশ্যে ঘোষণা দিচ্ছি, আজকে থেকে টিএসসিতে একটা স্কোর বোর্ড করা হবে। ক্রিকেটে যেমন স্কোর লেখা থাকে তেমনি ৫ আগস্টের পর কোন রাজনৈতিক দল কতটি খুন করেছে সেটি স্কোরবোর্ডে লেখা থাকবে। বিপ্লবী ছাত্রজনতা দেখবে দিনে দিনে কত ঋণ বাড়ছে।’
বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনারা বোধহয় ক্ষমতায় এসেছেন, ক্ষমতার একটা ভাব এসেছে আপনাদের গায়ে। গত ১৫ বছর আমরা আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগকে অনেক বার বলেছি নিজেদেরকে সংশোধন করুন, তারা সংশোধন করে নাই উল্টো আমাদেরকে মেরেছে আর হেসেছে। ফলে তারা আজ ভারতে পালিয়েছে। আপনারা হত্যা-ধর্ষনের দায় নেবেন না কিন্তু চাঁদার ভাগ নিবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আপনাদের শত্রু না। বিএনপি ১০ মাসে শতাধিক হত্যা করেছে। বিয়ে না দেওয়ায় এক পিতাকেও হত্যা করেছে। ক্ষমতায় আসার আগে যদি আপনাদের এই ক্যারেক্টার হয় তাহলে ক্ষমতায় আসলে আপনারা কি করবেন? মিডিয়াকে কি চেপে ধরা হয়েছে? ঘটনার কয়েকদিন পরে আমরা জানতে পারি। আওয়ামী লীগের সময়ও একই অবস্থা ছিল। আমাদেরকে মারতো কিন্তু মিডিয়ায় প্রকাশ পেতো না।
ঢাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব বলেন, ‘জাহেলিয়াত কায়েম করে কোনো সরকার থাকতে পারেনি। ১৪শ বছর আগে আমরা জাহেলিয়াত দেখেছি, তারা টিকতে পারেনি, আওয়ামী জাহেলিয়াতও টিকতে পারেনি, এখন নব্য জাতীয়তাবাদী জাহেলিয়াতও টিকতে পারবে না। অনতিবিলম্বে এই হত্যার বিচার হতে হবে।’
খালি নির্বাচন নির্বাচন করেন, খুনি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলেন না কেন?
বিএনপিকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন তুলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, আপনাদের তো শুধু নির্বাচন চাইতেই দেখি কিন্তু চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলেন না কেন? নির্বাচন চান অথচ মিটফোর্ডের খুনিদের নিয়ে কথা বলেন না কেন? আপনারা কি এখনো দলীয় সন্ত্রাসীদের চিন্তা-চেতনার ঊর্ধ্বে উঠতে পারেন নাই?
তিনি বলেন, মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সারা দেশের মানুষকে অবাক করেছে। সোহাগের অপরাধ কি ছিল? শুনছি তিনি নাকি যুবদলেরই লোক ছিলেন। যে দলেরই হোক, মানুষ তো। তার অপরাধ, তার কাছে চাঁদা চেয়েছে, দেয়নি। এটা কোনো অপরাধ?
মিটফোর্ডে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডসহ সারা দেশে খুন-ধর্ষণের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে শনিবার (১২ জুলাই) বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিলোত্তর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশের সব শ্রেণিপেশার হাজার হাজার মানুষের জীবন, লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছিল। বাধ্য হয়ে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। মানুষ নিশ্চিন্ত হয়েছিল, আশ্বস্ত হয়েছিল সন্ত্রাসীদের কাছে আর জীবন দিতে হবে না, চাঁদা দিতে হবে না আর মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগের অবর্তমানে একটি দল বাংলাদেশের মালিক বনে গেছেন।
দেশের নাগরিকদের সজাগ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সোহাগকে যখন হত্যা করা হয়, তখন বহু লোক আশপাশে ছিলেন, চাঁদাবাজ ছিলেন মাত্র কয়েকজন। জনগণ পায়ের জুতো খুলে মারলেই তো চাঁদাবাজরা মাটির সঙ্গে মিশে যেত। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারে, তাহলে এই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজরা আজকে সোহাগকে মেরেছে কাল আপনাকে আমাকে মারবে, পরে যাকে ইচ্ছে তাকে মারবে। আমরা এই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের হাতে বাংলাদেশের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারি না।
ব্যবসায়ী হত্যা
যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ৫ নেতা আজীবন বহিষ্কার
ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকে নিজ নিজ সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় বহিষ্কৃতরা আসামি।
সংগঠন তিনটি জানিয়েছে, বহিষ্কৃত নেতাদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কোনোরূপ শৈথিল্য না দেখিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠন তিনটি।
যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার সই করা গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক রজ্জব আলী পন্টু ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবাহ করিম লাকিকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
ছাত্রদলের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ছাত্রদলের মহানগর দক্ষিণ শাখার অধীনস্থ চকবাজার থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব অপু দাসকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে ।
এ ছাড়া মাহমুদুল হাসান মাহিন ২০১৮ সালের আগে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে জড়িত থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের কার্যক্রমে জড়িত নেই। মাহিনকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে ।
স্বেচ্ছাসেবক দল প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কালু ওরফে স্বেচ্ছাসেবক কালু-কে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।
ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিএনপি ছাড়লেন আলোচিত অ্যাক্টিভিস্ট ড. ফয়জুল হক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলের মালয়েশিয়া কমিটির সহ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও আলোচিত অ্যাক্টিভিস্ট ড. ফয়জুল হক। শনিবার (১২ জুলাই) ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর দলীয় মতাদর্শে বিরোধের কারণে তিনি দল থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঝালকাঠী-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
ড. ফয়জুল হক জানান, ২০১৫ সাল থেকে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দেশের ভিতরে ও বাইরে ইসলামপন্থী ও সমাজকেন্দ্রিক রাজনীতির পক্ষে কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে ঝালকাঠী-১ ও ঝালকাঠী-২ আসনে দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশী ছিলেন বলেও জানান তিনি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন এবং ৫ আগস্টের ঘটনার পর বামঘেঁষা মতাদর্শের দিকে ঝুঁকির বিষয়টি তাকে হতাশ করেছে। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে দলের কিছু বক্তব্য আওয়ামী লীগের বক্তব্যের সঙ্গে বিস্ময়করভাবে মিলে যাচ্ছে। এতে একজন ডানপন্থী রাজনীতিক হিসেবে নিজেকে কোণঠাসা অনুভব করছি।
তিনি আরও বলেন, আমি পাথর দিয়ে মানুষ হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি কোনোটিকেই সমর্থন করি না। আমি চেয়েছি একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবতাকেন্দ্রিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন রাজনীতি করতে। দলীয় স্বার্থ নয় দেশ ও সাধারণ মানুষের অধিকারই আমার রাজনীতির মূলমন্ত্র।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের প্রতি তিনি সম্মান জানিয়ে বলেন, তাঁদের অবদানের কথা আমি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবো।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে ড. ফয়জুল হক বলেন, আমি ইনশাআল্লাহ ঝালকাঠী-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবো। ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবতা ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই হবে আমার প্রতিশ্রুতি।
তিনি দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আজ থেকে আমি আর কোনো দলীয় পরিচয়ের ছায়ায় নয়, একজন স্বাধীনচেতা দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে ভালোকে ভালো ও মন্দকে মন্দ বলার সাহস নিয়ে পথ চলবো।
এনসিপিকে কোটি কোটি লোকের ভয় দেখাবেন না: নাহিদ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একটি দল তাদের কোটি কোটি লোক আছে বলে জাহির করে। এনসিপিকে লোকের ভয় দেখাবেন না। এনসিপি জনগণের সঙ্গে ইনসাফ করা লোক চায়। আমাদের আগামীর আন্দোলন দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকেলে যশোরে পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ বলেন, দুর্নীতি যারাই করবে এনসিপি তাদের ছাড় দেবে না। যদি এনসিপির নেতাকর্মীরাও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয় দল তাদের বিরুদ্ধেও মাঠে নামবে।
শহরের জজকোর্ট ঈদগাহ মোড়ে এনসিপি যশোর জেলা শাখা আয়োজিত এ পথসভায় দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, সংস্কারের আলাপ টেবিলে আছে, রাজপথে নামাতে বাধ্য করবেন না। বাংলাদেশের মানুষ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়, কিন্তু তাদের দাদাগিরি আমরা মেনে নেব না।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন- এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, ডাক্তার তাসনিম জারাসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
এর আগে দিনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে শহরের রেলরোডস্থ চার খাম্বার মোড়ে একটি অভিজাত হোটেলে দুপুর ১২টার দিকে যশোরের জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে স্থানীয় মডেল মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে পদযাত্রায় মিলিত হন নেতারা। পদযাত্রাটি মুজিব সড়ক হয়ে পথসভাস্থলে এসে শেষ হয়।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত



মন্তব্য